JustPaste.it

মহিমান্বিত রাত (লাইলাতুল কদর) সিরিজ, লাইলাতুল কদরের জন্য ১২ টি সহজ আমল এবং ইতিকাফের গুরুত্ব, ফজিলত, উদ্দেশ্য, আমল। (Nusus)

 

 

মহিমান্বিত রাত (লাইলাতুল কদর) সিরিজের সকল পর্বের লিংক

.

 

প্রথম পর্ব: কদরের রাতটি কতোটা গুরুত্বপূর্ণ? কীভাবে গুরুত্ব দেবো?
.
দ্বিতীয় পর্ব: কদরের সম্ভাব্য রাতগুলোতে হায়েজা নারীদের আমল
.
তৃতীয় পর্ব: কদরের রাতের জন্য সহজ ১৩ টি গুরুত্বপূর্ণ আমল
.
চতুর্থ পর্ব: ২১ তম রাত সম্ভাবনাময়
.
পঞ্চম পর্ব: জোড় রাতগুলোতেও কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
.
ষষ্ঠ পর্ব: ২৩ তম রাতটি সম্ভাবনাময়
.
সপ্তম পর্ব: কদরের রাত কি নির্দিষ্ট দিনেই হয় নাকি স্থানান্তরিত হয়?
.
অষ্টম পর্ব: ৭ টি যিকর ও তাসবিহ
.
নবম পর্ব: ফজিলতপূর্ণ কিছু সুরা ও আয়াত, যেগুলো কদরে পড়তে পারি
.
দশম পর্ব: ২৭ তম রাতের সম্ভাবনা
.
একাদশ পর্ব: কদরের নামাজ
.
দ্বাদশ ও শেষ পর্ব: কদরের রাত চেনার আলামত ও বৈশিষ্ট্যগুলো
.

.

#Nusus
Page link- https://www.facebook.com/FromNusus

.
পুরুষদের রামাদান রুটিন
.
নারীদের রমাদানের রুটিন
.
----------------------------------------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (প্রথম পর্ব)

আজ থেকে ধারাবাহিকভাবে আমাদের শবে কদর সিরিজ চলবে। প্রথম পর্ব পড়ুন।
.
লাইলাতুল কদর ও শেষ দশককে আমাদের কীভাবে ও কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া দরকার?
▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬
রামাদানের শেষ দশ রাতের কোনো এক রাতে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হয়।
.
❑ নবিজি যা করতেন:
.
আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমাদানের) শেষ দশকে যে পরিমাণ আমল করতেন, অন্য কোনো সময়ে সে পরিমাণ আমল করতেন না।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৮]
.
❑ পরিবারকেও জাগিয়ে দেওয়া এবং নিজেও উত্তমভাবে ইবাদতে মগ্ন হওয়া:
.
আয়িশা (রা.) আরো বলেন, ‘যখন রামাদানের শেষ দশক আসতো, তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিধেয় বস্ত্রকে শক্ত করে বাঁধতেন, রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২৪]
.
সুতরাং, শুধু নিজে ইবাদত করবেন না, পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতে শামিল করবেন। তাদেরকে জাগিয়ে দেবেন। তারা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন এবং অন্যান্য ইবাদত করবেন।
.
❑ ইতিকাফ: কদরের রাতটি পেতেই হবে!
.
শেষ দশ দিনের ইতিকাফের অন্যতম একটি কারণ হলো, লাইলাতুল কদর তালাশ করা। কারণ, যে ব্যক্তি রামাদানের শেষ দশটি দিন ও দশটি রাত উত্তমভাবে মসজিদের নির্জন পরিবেশে আল্লাহর সান্নিধ্যে কাটাবে, সে ইনশাআল্লাহ্ সহজেই মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য লাভ করতে পারবে।
.
এই প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে—
.
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমি (রমাদানের) প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করে এ মহান রাতটি খুঁজলাম, এরপর দ্বিতীয় ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। অতঃপর আমাকে বলা হলো, এ রাতটি শেষ ১০ দিনের (রাতের) মাঝে রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬১]
.
আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তিকাল পর্যন্ত প্রতি বছর রামাদানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাঁর (ইন্তিকালের) পর তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করতেন।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৪]
.
যাদের পক্ষে সম্ভব হবে, তারা অবশ্যই ইতিকাফ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। কারণ ইতিকাফ করলে লাইলাতুল কদর নসিব হওয়ার প্রায় শতভাগ সম্ভাবনা থাকে। আর, জীবনে যদি কদরের একটি রাতও সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে এটি নিজের আমলনামার জন্য মহাসৌভাগ্যের সোপান হবে, ইনশাআল্লাহ্।
.
❑ ভাগ্যরজনী: লাইলাতুল কদর
.
প্রতি কদরের রাতে আগামী এক বছরের যাবতীয় সিদ্ধান্ত হয়। তাই, এটিকে ‘ভাগ্যরজনী’ বলা হয়। যদিও সমাজে ভুল প্রচলন রয়েছে যে, শবে বরাত ভাগ্যরজনী।
.
আল্লাহ্ বলেন, ‘‘লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে। শান্তিময় সে রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত।’’ [সুরা ক্বাদর, আয়াত: ৩-৫]
.
কুরআনের অন্যত্র আল্লাহ্ বলেছেন, ‘‘এতে (এই রাতে) প্রত্যেক বিষয় স্থিরকৃত (সিদ্ধান্ত) হয়।’’ [সুরা দুখান, আয়াত: ০৪]
.
❑ কদর থেকে বঞ্চিত হওয়া:
.
আনাস (রা.) বলেন, রামাদান শুরু হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘রামাদান মাস তোমাদের মাঝে উপস্থিত। এ মাসে রয়েছে এমন এক রাত, যা হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি এ (রাত) থেকে বঞ্চিত হলো; সে সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। শুধু বঞ্চিতরাই এ রাতের কল্যাণ লাভ হতে বঞ্চিত থাকে।’’ [ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৬৪৪; হাদিসটি হাসান সহিহ]
.
মিনহাজুল কাসিদিন কিতাবে এসেছে, ‘মর্যাদাপূর্ণ দিন ও রাতগুলো থেকে উদাসীন থাকা উচিত নয়, কেননা ব্যবসায়ী যদি লাভের মৌসুমেই উদাসীন থাকে, তাহলে সে কখন লাভবান হবে?’ [ইমাম ইবনুল জাওযি, মিনহাজুল কাসিদিন: ১/৩৪৩]
.
--------------------------------------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (দ্বিতীয় পর্ব)

পিরিয়ডে (হায়েজ অবস্থায়) থাকা নারীরা লাইলাতুল কদরে যেসব আমল করতে পারেন
▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬
❑ দু‘আ করা:
.
পিরিয়ডকালে দু‘আ করতে কোনো অসুবিধা নেই। সুতরাং, উত্তম হবে—অজু করে লাইলাতুল কদরের মহান রজনীতে আন্তরিকভাবে দু‘আয় মনোনিবেশ করা। এই রাতে দু‘আ কবুল হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। হাদিসে এসেছে, ‘‘দু‘আই ইবাদত।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৭৯; হাদিসটি সহিহ]
.
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।’’ [সুরা মুমিন, আয়াত: ৬০]
.
কোনো বিশেষ নিয়ম নয়, স্বাভাবিকভাবে দু‘আর বিভিন্ন আদব ও নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে দু‘আ করবেন।
.
❑ তাওবাহ-ইস্তিগফার পড়া:
.
এই রাতের গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হলো, আল্লাহর নিকট তাওবাহ্ ও ইস্তিগফার পড়া। ইস্তিগফারের যত বাক্য মুখস্থ আছে, সবই পড়বেন। ইস্তিগফারের জন্য নিচের বাক্যটি খুব সহজ।
.
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে আর কাউকে এটি অধিক পরিমাণে পড়তে দেখিনি—
.
أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتوبُ إِلَيْهِ
[আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি]
.
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ্ করছি। [ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯২৮, হাদিসটি সহিহ]
.
পাশাপাশি আরেকটি সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফার বেশি বেশি পড়তে পারেন।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগে এই ইস্তিগফারটি খুব বেশি পড়তেন—
.
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
.
[সুব‘হানাল্লাহি ওয়া বি‘হামদিহি, আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি]
.
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ করছি। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৯৭৫]
.
যাদের পক্ষে সম্ভব, তারা সায়্যিদুল ইস্তিগফার পড়বেন বেশি বেশি। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩০৬]
.
এর পাশাপাশি তাওবাহর শর্তগুলো পূরণ করে অবশ্যই নিজের সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবাহ্ করবেন। তাওবাহর তিনটি শর্ত হলো: কৃত গুনাহ স্বীকার করে সেসব আগে ছেড়ে দিতে হবে, নিজ অপরাধের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে এবং ভবিষ্যতে এসব গুনাহ আর না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করতে হবে। [ইমাম নববি, রিয়াদুস সলিহিন]
.
❑ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করা:
.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, ১০ টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার জন্য ১০ টি স্তর উন্নীত করবেন।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯৭; ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯০৪; হাদিসটি সহিহ]
.
নামাজের শেষ বৈঠকে যে দরুদটি আমরা পড়ি, সেটি সর্বোত্তম দরুদ। এটি পড়াই উত্তম। তবে, এটি ছাড়া অন্য দরুদও পড়া যাবে।
.
নিচের দরুদটিও পড়া যায়।
.
اللهم صل على محمدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ، وَصَلِّ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ
.
[আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ‘আবদিকা ওয়া রাসূলিকা, ওয়া সল্লি ‘আলাল মুমিনী-না ওয়াল মুমিনা-ত, ওয়াল মুসলিমী-না ওয়াল মুসলিমা-ত]
.
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন। আরো রহমত প্রেরণ করুন সকল মুমিন নারী-পুরুষ ও সকল মুসলিম নারী-পুরুষের উপর।
.
হাদিসে এসেছে, যে-মুসলমানের দান-সাদাকাহ করার মতো কিছু নেই, সে যেন দু‘আ করার সময় এটি বলে। এটি তার জন্য জাকাতস্বরূপ। [ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯০৩; ইমাম আবু ইয়ালা, আল-মুসনাদ: ১৩৯৭; ইমাম হাকিম ও যাহাবি (রাহ.) হাদিসটি সহিহ বলেছেন আর হাইসামি (রাহ.) হাসান বলেছেন]
.
❑ সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ও আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার পড়া।
.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হানি (রা.)-কে বলেন—
◉ তুমি ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যু[দ্ধে]র জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু[জা]হিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে, এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে। [শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩; হাদিসটি হাসান]
.
❑ সহজ দুটো যিকর পাঠ করা:
.
হাদিসে নিচের বাক্যটিকে বলা হয়েছে জান্নাতের রত্নভাণ্ডার। এটি বেশি বেশি পড়তে পারেন—
.
ﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
.
লা হাউলা ওয়ালা ক্বুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ
.
অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো (গুনাহ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় নেই এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি নেই। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩৮৪]
.
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৮৩; হাদিসটি হাসান]
.
❑ জীবিত ও মৃত সকল মুমিনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা:
.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তার আমলনামায় প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি করে সওয়াব লিখে দেন।” [শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ৬০২৬; হাদিসটি হাসান]
.
এই দু‘আটি পড়তে পারেন—
.
ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻮَﺍﻟِﺪَﻱَّ ﻭَﻟِﻠْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﻘُﻮﻡُ ﺍﻟْﺤِﺴَﺎﺏُ
.
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল ঈমানদারকে তুমি সেদিন ক্ষমা করে দিও, যেইদিন হিসাব কায়েম করা হবে। [সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১]
.
অন্য বর্ণনায় এসেছে, কোনো অনুপস্থিত মুসলিমের জন্য দু‘আ করলে, ফেরেশতারা বলেন, ‘তোমার জন্যও অনুরূপ হোক!’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৮২০]
.
❑ কদরের রাতে পড়ার বিশেষ দু‘আটি বেশি বেশি পড়া:
.
আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি বুঝতে পারি, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তাহলে ওই রাতে কী বলব?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো—
.
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
.
[আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা‘অ্ফু ‘আন্নী]
.
অর্থ: হে আল্লাহ্! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে পছন্দ করো। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ]
.
❑ কিছু সাদাকাহ করা।
.
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “প্রত্যেক ব্যক্তি (হাশরের মাঠে) তার সদাকার ছায়াতলে থাকবে, যতক্ষণে লোকদের মাঝে ফয়সালা শেষ না হবে।” [শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ৪৫১০; হাদিসটি সহিহ]
.
যদি সম্ভব হয়, তবে রাতেই সাদাকাহ করুন। এটাই উত্তম। এক টাকা দান করলে হাজার মাস (৮৩ বছর) ধরে এক টাকা দান করার নেকি পাবেন। এই রাতের প্রতিটি আমল এভাবেই বৃদ্ধি পাবে। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘কদরের রাতটি (মর্যাদার দিক থেকে) হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা ক্বাদর, আয়াত: ০৩]
.
যদি রাতে দিতে না পারেন, তবে রাতেই কিছু টাকা সাদাকাহ করার জন্য আলাদা করে রেখে দিন। এগুলো দিনের বেলা গরিবদেরকে দিয়ে দিন।
.
এছাড়াও ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদি সুবহানাল্লাহিল আযীম, দু‘আ ইউনুস, ‘সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বিহামদিহ’ ইত্যাদি সব রকমের যিকর বেশি বেশি পড়তে থাকবেন।
.
-----------------------------------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (তৃতীয় পর্ব)

লাইলাতুল কদরের জন্য ১৩ টি সহজ আমল, যেগুলো তুলনামূলক অনেক সহজ
(আজ রাত থেকেই কদর তালাশ করা হবে)
▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬
প্রথমেই জেনে খুশি হোন: আল্লাহ সূরা কদরে বলেছেন, কদরের রাতটি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। তাই এই রাতে একটি নেক আমল করা মানে হাজার মাস যাবত এই নেক আমলটি করা। সুবহানাল্লাহ্! রামাদানের শেষ দশ দিনে কদর তালাশ করতে বলেছেন নবিজি। তাই, আমরা শেষ দশ দিন নিচের এই আমলগুলো করতে পারি।
.
❖ (এক.) তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা (বিশেষত শেষ রাতে তাহাজ্জুদ আর রাতের প্রথম প্রহরে নিচের বাকি আমলগুলো করা যায়)
.
লাইলাতুল কদরের প্রধান আমল হলো, কিয়াম তথা নামাজে দণ্ডায়মান হওয়া। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৪]
.
সম্ভব হলে ৮/১০ রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা যায়। এরপর আন্তরিকতার সাথে সময় নিয়ে দু‘আ করুন।
.
❖ (দুই.) সুরা ইখলাস পাঠ করা
.
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যাঁর হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম করে বলছি, নিশ্চয়ই এই সুরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০১৩]
.
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস ১০ বার শেষ করবে, তার জন্য জান্নাতে আল্লাহ্ একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।’’ [শায়খ আলবানি, সিলসিলা সহিহাহ: ৫৮৯; হাদিসটি সহিহ]
.
তাই, আমরা শেষ দশকের প্রতিটি রাতে ২০/৩০ বার বা আরও বেশি সুরা ইখলাস পড়তে পারি।
.
এছাড়া সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, সুরা মুলক ও বাকি তিন কুল পড়তে পারি।
.
❖ (তিন.) সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ও আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে মোট ৪০০ বার পড়া।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হানি (রা.)-কে বলেন—
◉ তুমি ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যু[দ্ধে]র জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু[জা]হিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে, এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে। [শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩; হাদিসটি হাসান]
.
❖ (চার.) একটি গুরুত্বপূর্ণ তাসবিহ কমপক্ষে ১০০ বার পড়ার চেষ্টা করা।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার পড়বে—
.
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ
.
[মোটামুটি উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর]
এটি বিশুদ্ধ উচ্চারণে শিখতে শুনুন: https:// www.youtube.com/watch?v=wIqccjmjoeE
.
অর্থ: আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা কেবল তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
.
◉ সে ১০টি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাবে;
◉ তার জন্য ১০০ সওয়াব লেখা হবে;
◉ তার ১০০ গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে;
◉ ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং (সন্ধ্যায় বা রাতে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে)
◉ ওই দিনের হিসেবে কেউ তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে বেশি পড়বে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৩২৯৩; ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৭]
.
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি প্রত্যেকটি দশবার করে বলবে, সে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকি পাবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭৩৭]
.
❖ (পাঁচ.) কদরের রাতের বিশেষ দু‘আটি মনোযোগের সাথে পড়া।
.
আয়িশা (রা.) বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি বুঝতে পারি, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, তাহলে ওই রাতে কী বলবো?’ নবিজি বলেন, তুমি বলো—
.
اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
.
[আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ-উন, তু‘হিব্বুল ‘আফওয়া ফা’ফু ‘আন্নী]
.
অর্থ: হে আল্লাহ্! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে পছন্দ করো। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ]
.
এই দু‘আটি রামাদানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতে প্রচুর পরিমাণে পড়তে চেষ্টা করবো।
.
❖ (ছয়.) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্তিগফার ও তাওবার যিকরটি বেশ কয়েকবার পড়া।
.
ইবনু মাস‘উদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি এই দু‘আ পড়বে, তার গুনাহ্ ক্ষমা করে দেওয়া হবে—যদিও সে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়নকারী হয়।’’
.
ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﻠّٰﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻻَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻰُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮْﻡُ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
.
[আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল ‘হাইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি]
.
অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই—তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী—এবং আমি তাঁর নিকট তাওবাহ্ করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৫১৭; হাদিসটি সহিহ]
.
❖ (সাত.) বেশি বেশি সাইয়িদুল ইসতিগফার পড়া। সাইয়িদুল ইস্তিগফার অর্থ ‘ইস্তিগফারের নেতা’।
.
ﺍَﻟﻠّٰﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲْ ﻟﺎَ ﺇِﻟٰﻪَ ﺇِﻟﺎَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲْ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ ﺃَﻋُﻮْﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ ﺃَﺑُﻮْﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃَﺑُﻮْﺀُ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟﺎَ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟﺎَّ ﺃَﻧْﺖَ
.
[আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহ্দিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতা ত’তু আ‘উযুবিকা মিন শাররি মা সনা’তু আবূ-উ লাকা বিনি’মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূ-উ বিযানবী, ফাগফিরলি ফা ইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা]
.
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই আমার রব। আপনি ছাড়া কোনো সার্বভৌম সত্তা নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন আর আমি আপনারই গোলাম। আপনি আমার কাছ থেকে যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন, সাধ্যানুযায়ী আমি তার ওপর চলবো। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আপনি আমার প্রতি আপনার যে নিয়ামত দিয়েছেন তা স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে মাফ করে দিন। কারন আপনি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দিনের বেলায় এ দু‘আটি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে পড়বে, অতঃপর সেদিন সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এটি পড়বে, অতঃপর সকাল হওয়ার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩০৬]
.
❖ (আট.) নিজের জন্য, বাবা-মার জন্য এবং যেকোনো জীবিত ও মৃত মুসলিমের জন্য দু‘আ করা।
.
মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর চমৎকার দু‘আ (ইসতিগফার)। এর মাধ্যমে একই সাথে নিজের জন্য, বাবা-মার জন্য এবং সকল জীবিত ও মৃত ঈমানদারের জন্য দু‘আ করা হয়। খুবই গুরুত্বপূর্ণ দু‘আ।
.
رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ
.
‘‘হে আমাদের রর! যেদিন হিসাব কায়েম হবে, সেদিন আপনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে ও মুমিনদেরকে ক্ষমা করে দিয়েন।’’ [সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৪১]
.
হাদিসে এসেছে, কোনো অনুপস্থিত মুসলিমের জন্য দু‘আ করলে, ফেরেশতারা বলেন, ‘তোমার জন্যও অনুরূপ হোক!’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৮২০]
.
❖ (নয়.) গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপক অর্থবোধক একটি দু‘আ বেশি করে পড়া।
.
​​​​​​​اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
.
[আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাহ।]
.
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৪; হাদিসটি সহিহ]
.
❖ (দশ.) দ্বীনের উপর টিকে থাকার দু‘আ, এটিও বেশি করে পড়া উচিত কদরের রাতে।
.
উম্মু সালামাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দু‘আটি সবচেয়ে বেশি পড়তেন, তা হলো–
.
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلٰي دِيْنِكَ
.
[ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূব! সাব্বিত ক্বলবী ‘আলা দীনিকা]
.
অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের (ইসলামের) উপর অটল রাখুন।
[ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫২২; হাদিসটি সহিহ]
.
❖ (এগারো.) কিছু দান-সদাকাহ্ করা।
.
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “প্রত্যেক ব্যক্তি (হাশরের মাঠে) তার সদাকার ছায়াতলে থাকবে, যতক্ষণে লোকদের মাঝে ফয়সালা শেষ না হবে।” [শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ৪৫১০; হাদিসটি সহিহ]
.
যদি সম্ভব হয়, তবে রাতেই করুন। এটাই উত্তম। এক টাকা দান করলে হাজার মাস (৮৪ বছর) ধরে এক টাকা দান করার নেকি পাবেন। এই রাতের প্রতিটি আমল এভাবেই বৃদ্ধি পাবে। কারণ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘কদরের রাতটি (মর্যাদার দিক থেকে) হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা ক্বাদর, আয়াত: ০৩]
.
যদি রাতে দিতে না পারেন, তবে রাতেই কিছু টাকা সাদাকাহ করার জন্য আলাদা করে রেখে দিন। এগুলো দিনের বেলা গরিবদেরকে দিয়ে দিন।
.
❖ (বারো.) বেশি করে দরুদ পড়বেন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর। শ্রেষ্ঠ দরুদ সেটিই, যা আমরা নামাজের শেষ বৈঠকে পড়ি।
.
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি ১০ বার রহমত বর্ষণ করবেন, ১০ টি গুনাহ মোচন করবেন এবং তার জন্য ১০ টি স্তর উন্নীত করবেন।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৯৭; ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৯০৪; হাদিসটি সহিহ]
.
❖ (তেরো.) সহজ দুটো যিকর পাঠ করা:
.
হাদিসে নিচের বাক্যটিকে বলা হয়েছে জান্নাতের রত্নভাণ্ডার। এটি বেশি বেশি পড়তে পারেন—
.
ﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
.
লা হাউলা ওয়ালা ক্বুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ
.
অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারো (গুনাহ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় নেই এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি নেই। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩৮৪]
.
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৮৩; হাদিসটি হাসান]
.
■ বেশি বেশি আমল করতে গিয়ে কোয়ালিটির দিকে উদাসীন হবেন না। আল্লাহর কাছে আন্তরিকতাপূর্ণ আমলের মূল্য অনেক বেশি।
.
■ এগুলোর বাইরে কুরআন তিলাওয়াত, মাসনুন যিকর, অনির্ধারিত বিভিন্ন যিকর, তাসবিহাত, দু‘আ ইত্যাদি তো আছেই। মোট কথা ইবাদতে লেগে থাকা। বিশেষত ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদি সুবহানাল্লাহিল আযীম’, দু‘আ ইউনুস, ‘সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বিহামদিহ’ ইত্যাদি সব রকমের যিকর বেশি বেশি পড়া উচিত।
.
■ লাইলাতুল কদরের জন্য নির্ধারিত বা নির্দিষ্ট বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ বা ইবাদতের কথা সহিহ বর্ণনা থেকে জানা যায় না, কেবল আয়িশা (রা.)-কে শেখানো দু‘আটি ব্যতীত, যা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। তাই, সব ধরনের নেক আমলই সাধ্যানুযায়ী কদরের রাতে করা উচিত। নামাজ পড়বেন দুই রাকাত করে, সাধারণ নফলের মতো। কোনো বিশেষ সুরা বা নিয়ম নেই।
.
আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
.
-------------------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (চতুর্থ পর্ব)

নবিজির সময়ে রামাদানের ২১ তম রাতটি একবার লাইলাতুল কদর ছিলো। আজ রামাদানের ২১ তম রাত। সম্ভাব্য কদরের রাত।
.
আবু সা‘ঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রামাদানের মধ্য দশকে ইতিকাফ করি। তিনি ২০ তারিখ সকালে বের হয়ে আমাদের সম্বোধন করে বলেন, ‘‘আমাকে কদরের রাত দেখানো হয়েছিলো; পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে তার সন্ধান করো। আমি দেখতে পেয়েছি যে, আমি (ঐ রাতে) কাদা-পানিতে সিজদা করছি। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসুলের সাথে ইতিকাফ করেছে, সে যেন ফিরে আসে (অর্থাৎ মাসজিদ থেকে বের না হয়)।’’ আমরা সবাই ফিরে আসলাম। আমরা আকাশে হালকা মেঘ খণ্ডও দেখতে পাইনি। (২১ তারিখ রাতের) পরে এমনভাবে মেঘ দেখা দিলো ও জোরে বৃষ্টি হলো যে, খেজুরের শাখায় তৈরি মসজিদের ছাদ হতে পানি ঝরতে লাগলো। সালাত শুরু হলে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাদা-পানিতে সিজদা করতে দেখলাম। পরে তাঁর কপালে আমি কাদার চিহ্ন দেখতে পাই। (অর্থাৎ, নবিজির স্বপ্ন সত্য হয়েছে) [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৬]
.
মুহাদ্দিসগণ অনেকেই এই হাদিস থেকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, সে বছর কদর হয়েছিলো ২১ তম রাতে। মুফতি আমিমুল ইহসান (রাহ.) সংকলিত ও ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহ.) অনূদিত ‘ফিকহুস সুনানি ওয়াল আসার’ গ্রন্থে (১/৪৮০) এই বিষয়টি টীকায় উল্লেখিত হয়েছে।
.
তাছাড়া পূর্বসূরি নেককার ব্যক্তিদের অনেকেই রামাদানের ২১ তারিখকে কদরের রাত মনে করতেন। ইমাম ইবনু হাজার (রাহ.) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারি’তে এটি উল্লেখ করেছেন।
.
---------------------------

#মহিমান্বিত_রাত (পঞ্চম পর্ব)

শুধু বিজোড় রাতেই নয়, শেষ দশকের জোড় রাতগুলোতেও হতে পারে লাইলাতুল কদর। আজ থেকে জোড় রাতেও তালাশ করা হবে।
▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬
শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.) একটি বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে বলেছেন, যদি রামাদান মাস ৩০ দিনে হয়, তবে শেষ দশকের জোড় রাতগুলোতেও কদর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা (কদর) সন্ধান করো (শেষ দশকের) অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) নবম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) সপ্তম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) পঞ্চম রাতে, অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) তৃতীয় রাতে এবং অবশিষ্ট (থাকা রাতগুলোর) শেষ রাতে।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭৯৪; হাদিসটি সহিহ]
.
এ হাদিস থেকে আমরা দেখতে পারি যে, যদি কোনো রামাদান মাস ৩০ দিনের হয়, তাহলে অবশিষ্ট নবম রাতটি হবে রামাদানের ২২ তম রাত, অবশিষ্ট সপ্তম রাতটি হবে ২৪ তম রাত, অবশিষ্ট পঞ্চম রাতটি হবে ২৬ তম রাত এবং অবশিষ্ট তৃতীয় রাতটি হবে ২৮ তম রাত। আর এভাবেই বিশিষ্ট সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) কদরের রাত সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। (এই গণনা শেষ দিক থেকে করা হয়েছে। হাসান বাসরি (রাহ.) থেকেও এভাবে গণনার পক্ষে দলিল রয়েছে)
.
অন্য দিকে, যদি কোনো রামাদান মাস ২৯ দিনের হয়, তাহলে উক্ত হাদিস অনুযায়ী কদরের রাত পড়বে শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে। অতএব, ঈমানদারদের উচিত, রামাদানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা। [মাজমু‘উ ফাতাওয়া: ২৫/২৮৪-২৮৫]
.
রামাদান ২৯ দিনে হলে বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর হবে। আর রামাদান ৩০ দিনে হলে জোড় রাতেও কদর হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকবে।
.
কদর যে জোড় রাতেও হতে পারে, তার একটি প্রমাণ হলো সাহাবি ইবনু আব্বাস (রা.)-এর বক্তব্য। তাবি’ঈ ইকরামা (রাহ.) ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, ‘‘তোমরা ২৪ তম রাতে (কদর) তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২২]
.
২৪ তম রাতের ব্যাপারে হাসান সনদের একটি মারফু হাদিস (সরাসরি নবিজি থেকে বর্ণিত হাদিস) সংকলন করেছেন ইমাম আহমাদ ও তাবারানি (রাহিমাহুমাল্লাহ)।
.
গত শতাব্দির প্রখ্যাত ফকিহ ও মুহাদ্দিস শায়খ ইবনু উসাইমিন (রাহ.)-ও বলেছেন, জোড়-বেজোড় যেকোনো রাতেই কদর হতে পারে। [শারহুল মুমতি’: ৬/৪৯২]
.
এজন্য আমরা হাদিসে দেখি, নবিজি শুধু বেজোড় রাতে নয়, শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদত করতেন। আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রমাদানের) শেষ দশকে যে পরিমাণ আমল করতেন, অন্য কোনো সময়ে সে পরিমাণ আমল করতেন না।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৭৮]
.
তবে, কোনো সন্দেহ নেই যে, কদরের রাত বিজোড় রাতে হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ প্রসঙ্গে অনেক হাদিস এসেছে। তাই, আমরা বিজোড় রাতগুলো বেশি গুরুত্ব দেবো, তবে জোড় রাতগুলোতে অবহেলা করবো না। কারণ জোড় রাতগুলোতেও কদর হওয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা রয়েছে।
.
তবে, ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.) এবং অন্য আলিমগণ জোড় রাতে হওয়ার পক্ষে যেভাবে হাদিসটির অর্থ করেছেন, অধিকাংশ আলিম তেমনটি করেননি। পূর্বসূরি নেককার (সালাফ)-গণের বড় অংশ কেবল বিজোড় রাতের পক্ষে মত দিয়েছেন।
.
সর্বশেষ কথা হলো: যেহেতু নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশকের প্রতিটি রাতকেই গুরুত্ব দিতেন, সেহেতু তাঁকে অনুসরণ করা উচিত। বিজোড় রাতে কদর হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি, তবে জোড় রাতেও হতে পারে। হাদিস থেকে কোনো কোনো আলিম এমনটিই বলেছেন। আমরা বিজোড় রাতগুলো বেশি গুরুত্ব দেবো, তবে জোড় রাতকে একেবারে অবহেলা করবো না। আল্লাহু আলামু বিস সওয়াব।
.
-----------------------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (ষষ্ঠ পর্ব)

আজ ২৩ রামাদান, কদরের সম্ভাবনাময় রাত। বেশি বেশি নেক আমলের মাধ্যমে আজকের রাতটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাই।
▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬
সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু উনাইস (রা.) রামাদানের ২৩ তম রাতকে কদরের রাত মনে করতেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৫]
.
তিনি বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলি, ‘আমার একটি খামার আছে এবং আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি সেখানেই নামাজ পড়ি। কাজেই আপনি আমাকে কদরের রাত সম্পর্কে বলে দিন, যাতে আমি এই মাসজিদে এসে ইবাদাত করতে পারি।’ তখন তিনি বলেন, ‘‘তুমি রামাদানের ২৩ তম রাতে আসবে।’’
.
মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহিম (রাহ.) বলেন, ‘আমি (উপরের হাদিসের বর্ণনাকারী) আবদুল্লাহর পুত্রকে জিজ্ঞাসা করি, তোমার পিতা (তখন) কী করতেন?’ সে বললো, ‘আমার পিতা রামাদানের (২২ তারিখে) আসরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদে গমন করতেন এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতেন। অতঃপর তিনি ফজরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদের পাশে রক্ষিত তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করে নিজ খামারে প্রত্যাবর্তন করতেন।’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৩৮০; হাদিসটি হাসান সহিহ]
.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান করো। তোমাদের কেউ যদি দুর্বল অথবা অপারগ হয়ে পড়ে, তবে সে যেন শেষ সাত রাতে অলসতা না করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫৫]
.
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কতিপয় সাহাবিকে স্বপ্ন দেখানো হলো যে, (রামাদানের) শেষ সাত দিনের মধ্যে কদরের রাত নিহিত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘আমি মনে করি যে, শেষের সাত রাত সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, যে ব্যক্তি তা অন্বেষণ করবে, সে যেন রামাদানের শেষ সাত রাতে তা অন্বেষণ করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫১]
.
সুতরাং, আজ থেকে বাকি রাতগুলো আমরা যেন কোনোভাবেই অবহেলায় না কাটাই। আজকের রাতসহ শেষ সাতটি রাত অত্যন্ত মূল্যবান। এই সাত রাতের মধ্যে কদর হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এমনকি আজকের রাতটিও খুবই সম্ভাবনাময়।
.
--------------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (সপ্তম পর্ব)

লাইলাতুল কদর কোন্ রাত? এটি কি প্রতি বছর নির্দিষ্ট দিনেই হয় নাকি স্থানান্তরিত হয়?
▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬
লাইলাতুল কদর আসলে কোন্ রাত, এ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিস সামনে রেখে শীর্ষ মুহাদ্দিস ইমামগণ বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন।
.
প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ইমাম ইবনু হাজার আসকালানি (রাহ.) তাঁর জগদ্বিখ্যাত সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারি’-তে লাইলাতুল কদরের তারিখ নিয়ে আলিমগণের অনেকগুলো মতামত ব্যক্ত করেছেন।
.
❖ ২১ তম রাত:
.
ইমাম তিরমিযি তাঁর সুনানে লিখেছেন, ইমাম শাফিঈ ২১ তম রাতকে কদরের রাত মনে করতেন। তাঁর মতের পক্ষে দলিল হলো আবু সা‘ঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস। তিনি বলেন, আমরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রামাদানের মধ্য দশকে ইতিকাফ করি। তিনি ২০ তারিখ সকালে বের হয়ে আমাদের সম্বোধন করে বলেন, ‘‘আমাকে কদরের রাত দেখানো হয়েছিলো; পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে তার সন্ধান করো। আমি দেখতে পেয়েছি যে, আমি (ঐ রাতে) কাদা-পানিতে সিজদা করছি। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসুলের সাথে ইতিকাফ করেছে, সে যেন ফিরে আসে (অর্থাৎ মাসজিদ থেকে বের না হয়)।’’ আমরা সবাই ফিরে আসলাম। আমরা আকাশে হালকা মেঘ খণ্ডও দেখতে পাইনি। (২১ তারিখ রাতের) পরে এমনভাবে মেঘ দেখা দিলো ও জোরে বৃষ্টি হলো যে, খেজুরের শাখায় তৈরি মসজিদের ছাদ হতে পানি ঝরতে লাগলো। সালাত শুরু হলে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাদা-পানিতে সিজদা করতে দেখলাম। পরে তাঁর কপালে আমি কাদার চিহ্ন দেখতে পাই। (অর্থাৎ, নবিজির স্বপ্ন সত্য হয়েছে) [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৬]
.
মুহাদ্দিসগণ অনেকেই এই হাদিস থেকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, সে বছর কদর হয়েছিলো ২১ তম রাতে। (মুফতি আমিমুল ইহসান (রাহ.) সংকলিত, ড. আব্দুল্লাহ্ জাহাঙ্গীর (রাহ.) অনূদিত ফিকহুস সুনান গ্রন্থে (১/৪৮০) এই বিষয়টি টীকায় উল্লেখিত হয়েছে)
.
❖ শেষ সাত রাতে:
.
আরেকদল আলিমের মতে, এটি শেষ সাত রাতের কোনো এক রাতে। তাঁদের পক্ষে দলিল হলো ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস। বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান করো। তোমাদের কেউ যদি দুর্বল অথবা অপারগ হয়ে পড়ে, তবে সে যেন শেষ সাত রাতে অলসতা না করে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫৫]
.
❖ ২৩ তম রাত:
.
সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনু উনাইস (রা.) রামাদানের ২৩ তম রাতকে কদরের রাত মনে করতেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৫]
.
❖ ২৪ তম রাত:
.
তাবি’ঈ ইকরামা (রাহ.) বলেন, সাহাবি আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, ‘তোমরা ২৪ তম রাতে (কদর) তালাশ করো।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২২]
.
❖ ২৭ তম রাত:
.
আলেমদের বিরাট আরেক জামাত বলেছেন, এটি রামাদানের ২৭ তম রাতে। এই মত দিয়েছেন উবাই ইবনু কা’ব (রা.), ইবনু ‘আব্বাস (রা.), ‘উমার (রা.), ইমাম আবু হানিফা (রাহ.)-সহ অনেকেই। এই মতের পক্ষে দলিল হলো, সাহাবি উবাই ইবনু কা’ব (রা.) কসম খেয়ে বলতেন, ২৭ তম রাতটি লাইলাতুল কদর। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৮]
.
❖ শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলো:
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা শেষ দশকের বিজোড় রাত লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’’ [সহিহ বুখারি: ২০১৭]
.
❖ জোড় রাতেও কদর হতে পারে:
.
এ ব্যাপারে আমরা আগের একটি পর্বে লিখেছিঃ #মহিমান্বিত_রাত (পঞ্চম পর্ব) দেখুন- https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=165811979148847&id=106265848436794
.
❖ রামাদানের শেষ দশ রাতে:
.
অধিকাংশ আলিমের মতে, এটি রমাদানের শেষ দশকে রয়েছে। তাঁরা জোড়-বিজোড় নিয়ে এত কথা বলেননি। তাঁদের পক্ষে দলিল হলো: রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২০]
.
■ হাদিসগুলোর মাঝে সমন্বয় ও সমাধান ■
.
বিখ্যাত ইমামদের অনেকেই হাদিসের এসব বিভিন্নতার কারণে সবগুলো হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে বলেছেন, শেষ দশ রাতের যেকোনো রাতে কদর হয়, তবে তা প্রতি বছর নির্দিষ্ট একটি দিনে হয় না, বরং এটি বিভিন্ন বছরে ভিন্ন ভিন্ন দিনে হয়। ইমাম মালিক, আহমাদ, ইসহাক, সুফিয়ান সাওরি, ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম নববি, ইবনু হাজার, ইবনু উসাইমিন (রাহিমাহুমুল্লাহ্) এই মত দিয়েছেন। তাঁরা সবাই ছিলেন তাঁদের নিজ নিজ সময়ের শ্রেষ্ঠ ইমাম ও মুহাদ্দিস। শুধু তাঁরাই নন, আলিমগণের বিরাট এক জামাত এই মতটি সমর্থন করেছেন। এই মতটি মেনে নিলে হাদিসগুলোর মাঝে কোনো বিরোধ বা পরস্পরবিরোধিতা থাকে না।
.
সাহাবিগণের ছাত্র তাবি‘ঈ আবু কিলাবাহ (রাহ.) বলেন, ‘লাইলাতুল কদর শেষ দশকের মাঝে স্থানান্তরিত হয়।’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭৯২ (ফুটনোট)]
.
■ বিভিন্ন হাদিস থেকে বোঝা যায়, রামাদানের ২১, ২৩, ২৪ ও ২৭ তম রাত অধিক সম্ভাবনাময়। তাই, এই রাতগুলোতে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। যদিও শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই কদর হতে পারে। এমনকি জোড় রাতগুলোতে হওয়ারও কিছুটা সম্ভাবনা রয়েছে।
.
■ মুহাদ্দিসগণ বলেন, লাইলাতুল কদরের রাতটি গোপন রাখার উদ্দেশ্য হলো, যাতে মানুষ শেষ দশকের প্রতিটি রাতকেই কদরের রাত মনে করে ইবাদত করে। হাদিসেও এমনটি এসেছে যে, নবিজিকে কদরের রাতটির কথা তাঁর অন্তর থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয়, ফলে তিনি সেটি ভুলে যান। তখন তিনি বলেন, ‘‘হয়তো এর মধ্যেই তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২৩]
.
---------------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (অষ্টম পর্ব)

লাইলাতুল কদরে বেশি বেশি পাঠ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭ টি সহিহ যিকর ও তাসবিহ
➖➖➖➖➖◖❂◗➖➖➖➖➖
❖ [যিকর নং: ০১] সুবহানাল্লাহ্, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ও আল্লাহু আকবার—প্রতিটি ১০০ বার করে পড়া।
.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে হানি (রা.)-কে বলেন—
◉ তুমি ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে, এটি তোমার পক্ষে ইসমাইল (আ.)-এর বংশের ১০০ ক্রীতদাস মুক্ত করার সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ্’ বলবে, এটি তোমার পক্ষে আল্লাহর রাস্তায় যু[দ্ধে]র জন্য ১০০ টি সাজানো ঘোড়ায় মু[জা]হিদ প্রেরণের সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে, এটি তোমার পক্ষ থেকে ১০০টি মাকবুল (কবুলকৃত) উট কুরবানির সমতুল্য হবে;
◉ তুমি ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, এত সওয়াব পাবে, যার ফলে আসমান ও যমিন পূর্ণ হয়ে যাবে। [শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৫৩; হাদিসটি হাসান]
.
❖ [যিকর নং: ০২] একটি গুরুত্বপূর্ণ তাসবিহ কমপক্ষে ১০০ বার পড়ার চেষ্টা করা।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার পড়বে—
.
لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ
.
লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর
.
অর্থ: আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক; তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা কেবল তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
.
◉ সে ১০টি গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাবে;
◉ তার জন্য ১০০ সওয়াব লেখা হবে;
◉ তার ১০০ গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে;
◉ ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে এবং (সন্ধ্যায় বা রাতে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে)
◉ ওই দিনের হিসেবে কেউ তার চেয়ে উত্তম সওয়াবের কাজ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, ওই ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে বেশি পড়বে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৩২৯৩; ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৭৭]
.
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি প্রত্যেকটি দশবার করে বলবে, সে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেওয়ার নেকি পাবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭৩৭]
.
❖ [যিকর নং: ০৩] লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ খুব বেশি পরিমাণে পড়তে থাকা।
.
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘‘সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৮৩; হাদিসটি হাসান]
.
❖ [যিকর নং: ০৪] ‘সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বিহামদিহি’ বেশি পরিমাণে পাঠ করা।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি—
.
سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ وبِحَمْدِهِ
.
(সুব‘হানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বি‘হামদিহি—মহান আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত; প্রশংসা কেবল তাঁরই) পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৪৬৪; হাদিসটি সহিহ]
.
❖ [যিকর নং: ০৫] ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম’ বেশি করে পড়া।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুটি বাক্য এমন রয়েছে, যা উচ্চারণে সহজ, আমলের পাল্লায় অনেক ভারী এবং আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তা হলো—
.
سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيمِ
.
সুব‘হানাল্লাহি ওয়া বি‘হামদিহি সুব‘হানাল্লাহিল আযীম।
.
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, প্রশংসা কেবল তাঁরই; মহান আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৪০৬]
.
❖ [যিকর নং: ০৬] ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ ১০০ বার বা আরো বেশি পাঠ করা।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যদি কেউ দিনের মধ্যে ১০০ বার পড়ে—
.
سُبْحَانَ اللّٰهِ وبِحَمْدِهِ
.
(সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি—আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত; তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা) তার সকল (সগিরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৪০৫]
.
❖ [যিকর নং: ০৭] লা ‘হাউলা ওয়া লা কুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ’ বেশি বেশি পাঠ করা।
.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “ওহে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়েস! তুমি বলো—
.
لَا ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
.
[লা ‘হাউলা ওয়ালা ক্বুও-ওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ]
.
অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।
.
কেননা, এটি জান্নাতের একটি রত্নভাণ্ডার। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩৮৪]
.
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২০]
.
সুতরাং আজ রাতেও আমরা সাধ্যানুযায়ী নেক আমল করবো ইনশাআল্লাহ্। প্রকৃতপক্ষে, শেষ দশকের প্রতিটি রাতই সম্ভাবনাময়, যদিও বিজোড় রাতগুলোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। আর, আজ ২৫ তম রাত। সুতরাং, অবহেলা না করি। ইতোমধ্যে কদরের উপর বেশ কিছু পর্ব লেখা হয়েছে। কমেন্টে লিংক দিচ্ছি, পড়ে নিতে পারেন।
.
-------------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (নবম পর্ব)

লাইলাতুল কদরে আমরা যেসব ফজিলতপূর্ণ সুরা ও আয়াত তিলাওয়াত করতে পারি
▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬
❖ সুরা ইখলাস:
.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যাঁর হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম! নিশ্চয়ই এই সুরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০১৩]
.
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস ১০ বার পড়বে, তার জন্য জান্নাতে আল্লাহ্ একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।’’ [শায়খ আলবানি, সিলসিলা সহিহাহ: ৫৮৯; হাদিসটি সহিহ]
.
❖ সুরা ফালাক ও সুরা নাস:
.
আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে ঘুমানোর সময় তাঁর দু’হাতের তালু জড়ো করে তাতে ফুঁ দিতেন এবং তাতে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করতেন। এরপর দুই হাতের তালু দিয়ে দেহের যেখানে সম্ভব, সেখানে মুছে দিতেন। শুরু করতেন মাথার উপরিভাগ দিয়ে; এরপর চেহারা ও দেহের সামনের অংশ। এই কাজ তিনি তিনবার করতেন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০১৭]
.
❖ সুরা কাফিরুন:
.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ‘ক্বুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরুন’ (সুরা কাফিরুন) পড়বে, এটি তার জন্য কুরআনের এক-চতুর্থাংশের সমান হবে।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২৮৯৩; হাদিসটি হাসান]
.
এই ফজিলতপূর্ণ সুরাটি বেশ কয়েকবার পাঠ করা যেতে পারে। বিশেষত রাতে ঘুমানোর আগে অন্তত একবার পড়ার ব্যাপারে হাদিস এসেছে।
.
❖ সুরা মুলক:
.
আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘কুরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সুরা রয়েছে, যা তার তিলাওয়াতকারীর জন্য (এমনভাবে) শাফা‘আত (সুপারিশ) করবে (যে,); শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সেটি হলো: তাবারাকাল্লাযি বিয়াদিহিল মুলক (সুরা মুলক)।’’ [ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৭৮৬; হাদিসটি সহিহ]
.
অন্যান্য বর্ণনায় আরও এসেছে, তার জন্য এই সুরা বিতর্ক করবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। [শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ২০৯২ ও ৩৬৪৪; হাদিসটি হাসান]
.
❖ সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত:
.
রাসুলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পাঠ করবে, সেটি তার জন্য যথেষ্ঠ হবে।” [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০০৯]
.
ইমাম নববি (রাহ.) বলেন, এই হাদিসের বিভিন্ন অর্থ করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেন, শয়তানের ক্ষতি অথবা বিপদ-মুসিবত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। [শারহু মুসলিম: ৬/৩৪০]
.
❖ আয়াতুল কুরসি (সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত):
.
উবাই ইবনু কা’ব (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘হে আবুল মুনযির (উবাইয়ের ডাকনাম)! তুমি কি বলতে পারো, তোমার জানামতে আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ?’’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন।’ (এরপর) তিনি (আবারও) বললেন, ‘‘হে আবুল মুনযির! তুমি বলতে পারো কি, তোমার জানামতে আল্লাহর কিতাবের কোন্ আয়াতটি সর্বশ্রেষ্ঠ?’’ এবার আমি বললাম, ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ূম (আয়াতুল কুরসি—সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত)।’ উবাই বলেন, এরপর তিনি আমার বুকে (মৃদু) আঘাত করে বললেন, ‘‘হে আবুল মুনযির! ইলম তোমাকে উপকৃত করুক।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১৭৭০]
.
❖ মুসাব্বিহাত সুরাগুলো:
.
ইরবাদ্ব ইবনু সারিয়াহ্ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাব্বিহাত সুরাগুলো পাঠ না করে ঘুমাতেন না। [তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৪০৬; হাদিসটি হাসান]
.
উল্লেখ্য, আলেমগণের মতে, মুসাব্বিহাত সূরাগুলো হলো:
.
সুরা হাদিদ, সুরা হাশর, সুরা সফ, সুরা জুমু‘আহ ও সুরা তাগাবুন।
.
সম্ভব হলে মুসাব্বিহাত সুরাগুলো পড়ে নেবেন। সাধারণভাবেই প্রতি হরফে দশ নেকি হয়। আর কদরের রাতে সেটি অনেক বেশি হবে, ইনশাআল্লাহ।
.
❖ সুরা সাজদাহ ও সুরা যুমার:
.
সাধ্যে কুলালে আরও পড়তে পারেন সুরা যুমার ও সুরা আস সাজদাহ। এ দুটো সুরা রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমের পূর্বে পড়তেন। [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২৮৯২ ও ২৯২০; হাদিস দুটো সহিহ]
.
সুরা ওয়াকিয়াও পড়তে পারেন। রাতের বেলা এই সুরাটি পড়ার ব্যাপারে দুর্বল হাদিস আছে। আবার এক দিন রাতে ঘুম থেকে জেগে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরা আলে ইমরানের শেষ ১০ টি আয়াত পড়েছিলেন। সেটির উপরও আমল করতে পারেন। এটি সহিহ বর্ণনায় এসেছে।
.
লাইলাতুল কদরে এসব পড়া জরুরি কিছু নয় বা লাইলাতুল কদরে এই বিশেষ সুরাগুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়তেও বলা হয়নি। সাধারণ সময়ে এগুলো অনেক বেশি ফজিলতপূর্ণ হওয়ায় এখানে তা উল্লেখ করা হলো। যাদের ইচ্ছা হবে, কুরআন থেকে যেকোনো সুরা অথবা আয়াত পাঠ করতে পারেন। কদরের রাত নিয়ে আমরা ধারাবাহিক লিখছি। কমেন্টে আগের লিখাগুলোর লিংক পাবেন।
.
---------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (দশম পর্ব)

আজ লাইলাতুল কদরের সর্বাধিক সম্ভাবনাময় (২৭ তম) রাত। আজ কোনো অবহেলা নয়।
▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬
➤ সাহাবি উবাই ইবনু কা’ব (রা.) কদরের রাত সম্পর্কে বলেন, ‘‘আল্লাহর শপথ! সেই রাতটি সম্পর্কে আমি খুব ভাল করেই জানি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ২৭ তম রাতে ইবাদতের জন্য জেগে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৮]
.
➤ মু‘আবিয়া (রা.) নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি (নবিজি) বলেন, ‘‘রামাদানের ২৭ তারিখ হলো লাইলাতুল কদর।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৩৮৬; হাদিসটি সহিহ]
.
➤ তাছাড়া উমার ইবনুল খাত্তাব, হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান এবং অন্যান্য অনেক সাহাবি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ করতেন না যে, কদরের রাত ২৭ তম রাত। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ]
.
তবে, এসব হাদিসের বিপরীতে শেষ দশকের অন্যান্য রাত—২১, ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৯ তারিখের ব্যাপারেও সহিহ বর্ণনা রয়েছে যে, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রাতগুলোতে কদর তালাশ করতে বলেছেন। মূলত, কদরের রাতটি এজন্য গোপন রাখা হয়েছে, যেন সবাই শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদত করে।
.
➤ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমরা রামাদানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২০]
.
➤ আমরা আরেকটু অগ্রসর হয়ে বলতে পারি, এটি শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে আছে। হাদিসে এসেছে, ‘‘তোমরা শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৭]
.
বিজোড় রাতগুলোর মাঝে ২৭ তম রাতটি সবচেয়ে সম্ভাবনাময়। এ ব্যাপারে অধিকাংশ আলিম একমত। তবে, সুনিশ্চিতভাবে এটি বলার অবকাশ নেই যে, ২৭ তম রাতটিই লাইলাতুল কদর। এটি অধিক সম্ভাবনার দাবি রাখে কেবল। কারণ, কদরের রাতটি স্থানান্তরিত হয়; প্রতি বছর একই তারিখে হয় না; যেমনটি আমরা আগেই আলোচনা করেছি।
.
আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমলে লেগে থাকুন। রাতের সীমারেখা হলো: মাগরিব থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত।
.
➤ আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘‘আমি একে (কুরআন মাজিদকে) অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরে (সম্মানিত রাতে)। লাইলাতুল কদরের ব্যাপারে আপনি কি জানেন? লাইলাতুল কদর (সম্মানিত রাতটি) এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা আল ক্বাদর, আয়াত: ১-৩]
.
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৪]
.
কদরের রাতের জন্য বিশেষ ১৩ টি আমল: #মহিমান্বিত_রাত (তৃতীয় পর্ব) দেখুন-
.
-------------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (একাদশ পর্ব)

লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য হাসিল করতে আমরা যেভাবে নামাজ আদায় করবো
▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬
➤ প্রথম কথা: লাইলাতুল কদরের প্রধান আমল হলো, কিয়াম তথা নামাজে দণ্ডায়মান হওয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে, সওয়াবের আশায় কদরের রাতে (ইবাদতের জন্য) দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৪]
.
➤ দ্বিতীয় কথা: এই রাতের সর্বোত্তম আমল হবে লম্বা সময় ধরে কিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদের নামাজ ও নফল নামাজে দণ্ডায়মান থাকা। যাদের পক্ষে সম্ভব, নামাজে লম্বা কিরাত পড়বেন। কিরাত ও কিয়ামকে লম্বা করতে একই রাকাতে অনেকগুলো সুরা পড়তেও কোনো অসুবিধা নেই। ধরুন, কারো দশটি সুরা মুখস্থ আছে; তাহলে তিনি প্রথম রাকাতে পাঁচটি ও দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচটি সুরা পড়তে পারেন।
.
➤ তৃতীয় কথা: যত বেশি সম্ভব, নামাজে সময় কাটাতে থাকবেন এবং পরিবারের লোকদেরও জাগিয়ে দেবেন। আয়িশা (রা.) বলেন, ‘যখন রামাদানের শেষ দশক আসতো, তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিধেয় বস্ত্রকে শক্ত করে বাঁধতেন, রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০২৪]
.
➤ কদরের আমল শুরু হবে মাগরিবের ওয়াক্ত থেকে এবং চলবে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। সুতরাং, এই পুরো সময়টিই গুরুত্বপূর্ণ। তাই, এই সময়টুকুতে যথাসাধ্য আমলে লেগে থাকতে হবে। বিশেষ করে নফল নামাজে।
.
➤ ‘‘শবে কদরের নামাজ’’ বলতে বিশেষ নিয়মের, বিশেষ সুরা দিয়ে কোনো নামাজ আদায়ের কথা সহিহ হাদিসে সাব্যস্ত হয়নি। সুতরাং, কদর তালাশে সাধারণভাবেই নফল নামাজ পড়বেন। আর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, শেষ রাতে কয়েক রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার।
.
➤ মাগরিব থেকে ইশার মধ্যবর্তী সময়ে নফল নামাজ পড়া রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবিগণ এবং সালাফে সালিহিনের অভ্যাস ছিলো। সুতরাং, এ সময় নফল নামাজ পড়া উত্তম। এই সময়ের নামাজকে হাসান আল বাসরি (রাহ.) ‘তাহাজ্জুদের সমতূল্য’ গণ্য করতেন।
.
➤ কদরের রাতে তাওবাহর উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া যায়। সাধারণভাবে তাওবাহর উদ্দেশ্য অন্তরে জাগরূক রেখে নিয়ত করবেন। মুখে কিছু বলতে হবে না। এরপর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বেন, যেভাবে সাধারণ নফল পড়েন। নামাজ শেষে আন্তরিকতার সাথে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাবেন।
.
আবু বকর (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “যখন কোনো বান্দা গুনাহ করার পর সুন্দরভাবে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।” [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৪০৮; হাদিসটি হাসান]
.
নামাজের পর দু‘আ করবেন আন্তরিকভাবে। তবে, তাওবাহর নামাজের সিজদায় এবং সালাম ফেরানোর পূর্বে ইস্তিগফার (আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা) করা আরো চমৎকার কাজ হবে।
.
➤ আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, ‘‘কদরের রাতটি (মর্যাদার দিক থেকে) হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।’’ [সুরা আল ক্বাদর, আয়াত: ০৩]
.
হিসাব করলে দেখা যায়, এই রাতটির মর্যাদা ৮৩ বছরের সমান! সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি। সুতরাং, যে-রাতটির মর্যাদা এত বেশি, সেটিকে খুঁজে পেতে রমাদানের শেষ দশটি রাতেই ইবাদতে লেগে থাকা উচিত।
.
---------------------

 

#মহিমান্বিত_রাত (দ্বাদশ পর্ব)

লাইলাতুল কদর চেনার চিহ্ন ও বৈশিষ্ট্যগুলো:
▬▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬▬
❑ রাতটি হবে শান্তিময়:
.
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সুরা কদরে বলেন, ‘‘(এই রাতটি) শান্তিময়—ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত।’’ [সুরা কদর, আয়াত: ০৫]
.
❑ আলোকোজ্জ্বল রাত:
.
ওয়াসিলা ইবনু আসক্বা’ (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কদরের রাতটি হবে আলোকোজ্জ্বল। [শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ৫৪৭২; হাদিসটি হাসান সহিহ]
.
❑ নাতিশীতোষ্ণ আবহওয়া:
.
জাবির (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই রাতটি গরমও হবে না, ঠাণ্ডাও হবে না। [ইবনু খুযাইমাহ, আস-সহিহ: ২১৯০; হাদিসটি সহিহ]
.
❑ সহজ (আরামদায়ক) হবে:
.
ইবনু আব্বাস (রা.) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এই রাতটি সহজ (আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যময়) হবে। [ইমাম ইবনু খুযাইমাহ, আস-সহিহ: ৯১২; হাদিসটি সহিহ]
.
তাই, এই রাতে ইবাদত করতে ভালো লাগবে। একটা প্রশান্ত পরিবেশ বিদ্যমান থাকবে।
.
❑ চাঁদটি হবে থালার টুকরোর মতো:
.
আবু হুরায়রাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে কদরের রাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে কে সেই (রাত) স্মরণ রাখবে, যখন চাঁদ উদিত হবে থালার (প্লেটের) একটি টুকরোর ন্যায়।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৯]
.
❑ সকালের সূর্যে থাকবে না কিরণ:
.
উবাই ইবনু কা’ব (রা.) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কদরের রাতের আলামত জানিয়েছেন যে, পরদিন সকাল বেলা এমনভাবে সূর্য ওঠবে যে, এতে কিরণ বা রশ্মি (ray) থাকবে না। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৬৭]
.
একই হাদিসের বর্ধিত বর্ণনায় এসেছে, যে পর্যন্ত সূর্য উপরে ওঠে, ততক্ষণ সূর্য এমন কিরণহীন থাকবে এবং এটি হবে অনেকটা থালার মতো। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৩৭৮; হাদিসটি হাসান সহিহ]
.
[প্যাঁচ লাগাবেন না। চাঁদটা হবে থালার (প্লেটের) টুকরোর মতো আর সূর্যটা হবে থালার (প্লেটের) মতো]
.
❑ সকালের সূর্যটি হবে রক্তিম ও নিস্তেজ:
.
ইবনু আব্বাস (রা.) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, এই রাতের পরদিন সকালের সূর্য ওঠে লাল ও নিস্তেজ অবস্থায়। [ইমাম ইবনু খুযাইমাহ, আস-সহিহ: ২১৯২; হাদিসটি সহিহ]
.
❑ কোনো ঈমানদারকে কদরের রাতটি স্বপ্নে দেখানো হতে পারে:
.
একবার কয়েকজন সাহাবি রামাদানের শেষ সাত রাতে লাইলাতুল কদর স্বপ্নে দেখেছিলেন। নবিজি তাদের সেই স্বপ্নকে সত্যায়ন করেছিলেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২০১৫; মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫১]
.
একবার রামাদানের ২১ তম রাতে কদর হয়েছিলো। সে রাতে বৃষ্টি হয়েছিলো। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৫৯]
.
তবে, কদরের রাতে বৃষ্টি হওয়া জরুরি নয়। এটিই বিশেষজ্ঞ আলিমগণের অভিমত।
.
কদরের এসব আলামত দেখেও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে না। একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি বা ইলহাম ব্যতীত কেউ সুনির্দিষ্টভাবে কদরের রাত চিহ্নিত করতে পারবে না। সুতরাং আমরা সাধ্যানুসারে আমল করবো, তাহলেই কামিয়াব হবো, ইনশাআল্লাহ।
.
-------------------------

ইতিকাফ সম্পর্কে জানতে পড়ুন- ইতিকাফ সিরিজ (Nusus)
https://justpaste.it/3l0u2

-------------------------

 

ফিতরা দেওয়ার কারণ ও লাভ, ফিতরা কে দেবে, কাকে দেবে, কখন দেবে, কী দিয়ে দেবে?

(টাকা দিয়ে ফিতরা দেওয়ার বিধানসহ)

▬▬▬▬▬▬▬❖▬▬▬▬▬▬▬
❖ ফিতরা দেওয়ার উপকারিতা ও কারণ:
.
ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) আবশ্যক করেছেন— রোজাদারকে অনর্থক ও অশ্লীল কথা থেকে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য।’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৬০৯; হাদিসটি হাসান সহিহ]
.
অর্থাৎ, রামাদানের ভুল-ত্রুটির প্রায়শ্চিত্তের জন্য এবং গরিবদের সাহায্যের জন্যই ফিতরা।
.
❖ ফিতরা কখন দিতে হবে?
.
➤ ফিতরা আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো, ঈদের দিন ঈদের নামাজের পূর্বে।
.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনের ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বেই যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৫০৯]
.
➤ তবে, ঈদের ২/১ দিন আগে থেকেও আদায় করার পক্ষে সাহাবিগণের আমল পাওয়া যায়। এটিও জায়েয।
.
তাবি‘ঈ নাফি’ (রাহ.) বলেন, (বিশিষ্ট সাহাবি) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) ঈদের দুই একদিন আগেই তা (ফিতরা) আদায় করে দিতেন। [আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৬১০; বর্ণনাটি সহিহ]
.
➤ রামাদানের মধ্যে বা রামাদানের আগে ফিতরা আদায়কেও অনেক আলিম জায়েয বলেছেন। তবে, আমাদের উচিত হুবহু সুন্নাহর অনুসরণ করা।
.
➤ কোনো জরুরি কারণবশত ঈদের নামাজের আগে ফিতরা দিতে না পারলে পরে দিলেও হবে। আর কোনো কারণ ছাড়া এমনটি করলে এই ফিতরা সাধারণ দান বলে গণ্য হবে।
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পূর্বে তা আদায় করবে, তার জন্য তা যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) হিসেবে কবুল হবে। আর নামাজের পর আদায় করলে তা সাধারণ সাদাকাহ (দান) গণ্য হবে।’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৬০৯; ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৮২৭; হাদিসটি হাসান]
.
❖ ফিতরার পরিমাণ কত?
.
➤ যব, কিসমিস, পনির ও খেজুর—এগুলোর কোনো একটি দিয়ে ফিতরা দিলে এক সা’ পরিমাণ দিতে হবে। আর গম দ্বারা দিলে অর্ধ সা’ দিতে হবে।
.
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতাম এক সা’ খাদ্য দ্বারা। আর আমাদের (ফিতরার) খাদ্য ছিলো: যব, কিসমিস, পনির ও খেজুর। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৫০৮]
.
অন্য বর্ণনায় অর্ধ সা’ গমের কথাও এসেছে।
.
➤ উল্লেখ্য, সা’ হলো বেতের ‘কাঠা’জাতীয় একটি বিশেষ পরিমাপ একক। যেমন, আমাদের দেশে লিটার, কেজি, সের ইত্যাদি হয়ে থাকে। আর, তখনকার সময়ে অঞ্চলভেদে সা’ এর পরিমাণেও কম-বেশি হতো। ইমাম আবু হানিফা (রাহ.) ইরাকি সা’-এর পরিমাণকে স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করেছেন। সেই হিসেবে এক সা’ = ইরাকি আট রতল। [ফিকহুস সুনান ওয়াল আসারে ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহ.)-এর টীকা অবলম্বনে]
.
➤ গ্রামের হিসেবে এক সা’ = ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম। আর অর্ধ সা’ = ১ কেজি ৬২৫ গ্রাম। তাহলে যব, কিসমিস, পনির ও খেজুর দিয়ে ফিতরা দিলে ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম দিতে হবে। আর গম দিয়ে দিলে ১ কেজি ৬২৫ গ্রাম দিতে হবে। [মাসিক আলকাউসার থেকে]
.
❖ ফিতরা কি টাকা দিয়ে দেওয়া যাবে?
.
➤ এ বিষয়ে ইমামগণের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। তবে, আমরা মনে করি, ফিতরা শুধু নির্দিষ্ট খাদ্যই নয়, এগুলোর সমপরিমাণ মূল্য দিয়েও দেওয়া যাবে। দুই পক্ষের বিস্তারিত আলোচনা করলে পোস্ট বড় হয়ে যাবে। তবে, সংক্ষেপে কিছু বর্ণনা তুলে ধরছি।
.
আবু ইসহাক আস সাবিয়ি (রাহ.) বলেন, ‘আমি তাঁদেরকে (সাহাবি ও তাবি‘ঈগণকে) এই অবস্থায় পেয়েছি যে, তাঁরা রামাদানে সাদাকাহ (ফিতরা) অাদায় করতেন খাবার সমমূল্যের দিরহাম দিয়ে।’ [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ১০৪৭২; ইমাম ইবনু যানজুইয়া, আল-আমওয়াল: ৩৪৫৪; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
.
কুররা ইবনু খালিদ বলেন, ‘আমাদের নিকট খলিফাতুল মুসলিমিন উমার ইবনু আবদিল আযিযের পক্ষ থেকে পত্র আসলো যে, প্রত্যেক ব্যক্তি যেন আধা সা’ (গম) অথবা তার মূল্য আধা দিরহাম সাদাকাতুল ফিতর হিসেবে প্রদান করে।’ [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ১০৪৭০; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
.
হাসান বাসরি (রাহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের ক্ষেত্রে দিরহাম দিতে কোনো অসুবিধা নেই। [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ১০৩৭০; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
.
এছাড়াও ইমাম আবু হানিফা, ইমাম সুফিয়ান সাওরি ও ইমাম বুখারি (রাহিমাহুমুল্লাহ) অর্থের বিনিময়ে ফিতরা আদায় জায়েয হওয়ার পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন।
.
কেউ কেউ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, নবিজির সময়ে মুদ্রা ছিলো দুই রকম: দিনার (স্বর্ণের) এবং দিরহাম (রৌপ্যের)। এগুলোর মূল্য এত বেশি ছিলো যে, এক দিরহাম দিয়ে একাধিক ফিতরা হয়ে যেতো। আর, তখন দিরহাম বা দিনারের ভাঙতি ছিলো না। সর্বনিম্ন ছিলো এক দিরহাম এবং এক দিনার। তাই, তখন খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা হতো। আমরা দেখেছি, পরবর্তীতে উমার ইবনু আবদিল আযিয (রাহ.)-এর সময়ে খাদ্যের মূল্য বাড়ায় এবং দিনার-দিরহামের মূল্য কমায় তিনি দিরহাম দিয়ে ফিতরা আদায়ের ফরমান জারি করেছেন।
.
বর্তমানে মুসলিম দেশগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে এই মত গ্রহণ করছে। এমনকি অনেক বিশেষজ্ঞ আলিম নিজেদের মত পরিবর্তন করে এই মতটি গ্রহণ করছেন। কারণ শরিয়াহর মেজাজ এবং মানুষের কল্যাণ (মাসলাহাত) বিবেচনায় এটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত।
.
❖ ফিতরা গ্রহণকারী:
.
➤ অমুসলিমদেরকে নফল সাদাকাহ দেওয়া জায়েয এবং এতে সওয়াবও রয়েছে (অর্থাৎ, সাধারণ দান-সাদাকাহ)। তবে, তাদেরকে যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) বা মানতের টাকা দেওয়া যাবে না। কেননা যাকাতুল ফিতর বা মানতের টাকা বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, শুধু মুসলিম গরিবদের হক। [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ১০৫১২; বাদায়িউস সানায়ে’: ২/১৬১; রাদ্দুল মুহতার: ২/৩৬৯]
.
➤ যারা যাকাত গ্রহণে যোগ্য, তারাই শুধু ফিতরা গ্রহণ করতে পারবে। [রাদ্দুল মুহতার: ২/৩৩৯]
.
➤ একজনের ফিতরা এক বা একাধিক গরিবকে দেওয়া জায়েয আছে। এমনিভাবে, কয়েকজনের ফিতরা একজনকে দেওয়াও জায়েয। [ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৯৩]
.
❖ যার উপর ফিতরা ওয়াজিব:
.
➤ ঈদের দিন ফজরের ওয়াক্ত শুরুর সময় ঋণ থেকে মুক্ত থেকে, যে স্বাধীন মুসলিমের কাছে অত্যাবশ্যকীয় আসবাব (যথা: নিজ বাসগৃহ, ঘরের ব্যবহারের বাসন, চুলা, পরিধানের কাপড়, পড়ার বই-পুস্তক ও ব্যবহারের গাড়ি ইত্যাদি) বাদ দিয়ে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমমূল্য পরিমান অন্য কোনো সম্পদ থাকবে, তার উপর ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। টিভি, ফ্রিজ, এসি, সোফা ইত্যাদি যেগুলো শৌখিনতা হিসেবে ব্যবহার্য, সেগুলোও হিসাবে ধরা হবে। [ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৩/৪৫৩; বাদায়িউস সানায়ে’: ২/২৯৭; নুরুল ইজাহ: ২৬৩]
.
➤ সামর্থ্যবান ব্যক্তি নিজ পরিবারের নাবালেগ (অপ্রাপ্তবয়স্ক) শিশুদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করবেন। আর বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) সন্তান, স্ত্রী, স্বামী, মাতা-পিতা প্রমুখের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়া তার উপর ওয়াজিব নয় (বরং তারা সামর্থ্যবান হলে নিজেদের ফিতরা নিজেরাই আদায় করবে। আর সামর্থ্য না থাকলে আদায় করার প্রয়োজন নেই)। তবে, একান্নভুক্ত পরিবার হলে তাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দিয়ে দেওয়া মুস্তাহাব বা উত্তম। [ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৯২; রাদ্দুল মুহতার: ২/৩৫৯-৩৬০]
.
➤ কোনো নারী নিজে সামর্থ্যবান হলে, নিজের ফিতরা নিজেই আদায় করবেন; এটিই উত্তম। তবে, স্বামী তার ফিতরা আদায় করে দিলে, সেটি যথেষ্ট হবে।
.
➤ প্রবাসী ব্যক্তি স্বদেশের হিসেবে ফিতরা দেবেন না। বরং যে দেশে থাকেন, সেই দেশের হিসেবে তার ফিতরা যত আসে, সেটি দিতে হবে। এবার সেই ফিতরা তিনি দেশেই বিতরণ করুন আর বিদেশেই করুন, সেটি তার ইচ্ছা।
.
---------------------

 

ঈদের রাতের আমল প্রসঙ্গ এবং ঈদের দিনের আমলগুলো সহিহ হাদিসের আলোকে

▬▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬▬
❑ ঈদের রাতের আমল প্রসঙ্গে:
.
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে দুই ঈদের রাতে জেগে থাকবে, তার অন্তর সেদিন মরবে না, যেদিন অন্তরগুলো মরে যাবে।’’ (অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন তার ভয় থাকবে না) [ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৭৮২; হাদিসটি দুর্বল। ইমাম নববি, ইবনু হাজার, আলবানি (রাহিমাহুমুল্লাহ্)-সহ প্রায় সকল মুহাদ্দিস হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন]
.
ঈদের রাতের বিশেষ মর্যাদা বা আমলের ব্যাপারে কয়েকটি হাদিস এসেছে। মুহাদ্দিস ইমামগণ সর্বসম্মতভাবে সেগুলোকে ‘দুর্বল’ বলেছেন। তবে, যেহেতু সাধারণ ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের উপর আমল করতে অসুবিধা নেই, তাই অধিকাংশ আলিম ঈদের রাতে নেক আমল করা ‘মুস্তাহাব’ (ভালো কাজ) গণ্য করেছেন। অতএব, কেউ চাইলে ঈদের রাতে সাধারণভাবে যেকোনো নেক আমল করতে পারেন। [হাশিয়াতু ইবনি আবিদিন; আল-উম্ম লিশ শাফিয়ি; আল-মাজমু‘উ লিন নাবাবি]
.
অবশ্য কোনো কোনো আলেম এই রাতের বিশেষত্বকে নাকচ করেছেন। আর অধিকাংশ আলিম বলেছেন, যেহেতু দুর্বল হাদিস আছে, সেহেতু এই রাতকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মনে করে নেক আমল করতে অসুবিধা নেই। তবে, এই রাতের বিশেষ কোনো আমলের কথা সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়নি।
.
❑ ঈদের দিনের উল্লেখযোগ্য কিছু আমল ও আদব:
.
❖ ঈদুল ফিতরে কিছু খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং ঈদুল আজহায় কিছু না খেয়ে যাওয়া সুন্নাহ:
.
বুরায়দা (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে বের হতেন না এবং ঈদুল আজহার দিনে ফিরে আসার আগে কিছুই খেতেন না। ফিরে এসে তাঁর কুরবানির পশুর মাংস থেকে খেতেন।’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৫৪২; ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৪২২; হাদিসটি সহিহ]
.
সুন্নাত হলো, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৫৩]
.
তবে, অন্য যেকোনো খাবার খেতেও অসুবিধা নেই।
.
❖ ঈদের দিনে বেশি বেশি বেশি তাকবির দেওয়া। পুরুষরা শব্দ করে তাকবির দিবে, নারীরা নীচু আওয়াজে:
.
হাদিসে এসেছে, ‘ইবনু উমার (রা.) উভয় ঈদে তাকবির বলে বলে ঈদগাহে যেতেন।’ [ইমাম হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ১০৫৬]
.
একটি সুন্নাহসম্মত তাকবির:
.
اَللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرْ اَللّٰهُ أَكْبَرْ وَلِلّٰهِ الْحَمْد
.
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
.
(আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহ্ ছাড়া কোনও উপাস্য নেই। আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ; আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ; আর আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা)
.
এটি ইবনু মাস‘উদ (রা.) ও অন্যান্য পূর্বসূরিদের থেকে প্রমাণিত। [শায়খ আলবানি, ইরওয়াউল গালিল: ৩/১২৫; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
.
আলিমগণ বলেন, ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর (সূর্যাস্ত) থেকে ঈদের নামাজ পর্যন্ত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বেশি বেশি তাকবির দিতে থাকবে। নারীরা চুপে চুপে আর পুরুষরা আওয়াজ করে। [আল-উম্ম লিশ শাফিয়ি; মাজমু‘উ ফাতাওয়া লি ইবনি উসাইমিন]
.
❖ ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া ও অন্য রাস্তা দিয়ে আসা উত্তম:
.
জাবির (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন (যাওয়া-আসায়) রাস্তা পরিবর্তন করতেন।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৮৬]
.
❖ সামর্থ্য থাকলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত:
.
ইবনু উমার (রা.) বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁটে হেঁটে ঈদের (নামাজের) জন্য যেতেন এবং হেঁটে হেঁটে ফিরতেন।’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১২৯৪; হাদিসটি হাসান]
.
❖ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়:
.
মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল আলহানি (রাহ.) বলেন, ‘আমি সাহাবি আবু উমামা আল বাহিলি (রা.)-কে ঈদের দিন তাঁর সাথীদের উদ্দেশ্যে বলতে দেখেছি—
.
تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَمِنْكُمْ
.
[তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম] অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ থেকে (নেক কাজগুলো) কবুল করুন। [ইমাম বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা: ৬২৯৬; শু‘আবুল ঈমান: ৩৭২০; বর্ণনাটির সনদ হাসান]
.
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা।’
.
তবে, ‘ঈদ মুবারক’ বা এজাতীয় আঞ্চলিক পরিভাষা দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোও বৈধ। এতে কোনো সমস্যা নেই। এ ব্যাপারে আলিমগণ একমত।
.
❖ ঈদের নামাজের তাকবিরসংখ্যা:
.
মোটাদাগে এদেশে অধিকাংশ মানুষ ৬ তাকবিরে ঈদের নামাজ পড়েন আর আহলে হাদিস মাসলাকের অনুসারীগণ ১২ তাকবিরে পড়েন। দুটোই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করা উচিত নয়। [১২ তাকবিরের হাদিস: সুনানে আবু দাউদ: ১১৪৯; ৬ তাকবিরের হাদিস: মুসান্নাফে আবদুর মুসান্নাফ: ৫৬৮৬ ও ৫৬৮৭; দুটো হাদিসই সহিহ]
.
❖ ঈদের দিনে কবর যিয়ারত করা সুন্নাহ নয়, তবে জায়েয। এটি করা যাবে। তবে, এটিকে এই দিনের জন্য রীতি বানিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
.
❖ ঈদের দিনে গোসল করা ও নতুন কাপড় বা পরিচ্ছন্ন কাপড় পড়া সুন্নাহ। [মালিক, আল-মুয়াত্তা: ৪১৪; ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৪৮]
.
❖ ঈদের নামাজে নারীদের অংশগ্রহণ:
.
প্রায় সমস্ত আলিম মত দিয়েছেন—ঈদ ও জুমার নামাজে নারীদের অংশগ্রহণ করা জরুরি নয়। আলিমগণের একাংশ নারীদের ঈদের জামাতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে বেশ জোর দিয়েছেন। তাঁরা উম্মু আতিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের দলিল দিয়েছেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৭৪ ও ৯৮১; ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১৯৩০]
.
তবে, হানাফি মাযহাবের অনেক আলিমের মতে, স্বাভাবিকভাবে নারীদের ঈদের জামাতে অংশ নেওয়া মাকরুহ (অপছন্দনীয়)। তাঁরা বলেন, বর্তমানে সেই পরিবেশ নেই, সঠিক পর্দাব্যবস্থা নেই, ফলে ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই, নারীদের অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। তবে, কোনো নারী অংশ নিলে নামাজ নষ্ট হবে না।
.
যাহোক, আমরা বলব, যথাযথ পর্দার ব্যবস্থা থাকলে কোনোরূপ সাজসজ্জা ও সুগন্ধি ব্যতীত নারীরা ঈদের জামাতে যাবেন। বাসায় একাকী ঈদের নামাজ পড়া জায়েয নেই। কারণ ঈদের নামাজ জামাতে পড়তে হয়।
.
❖ ফিতরা আদায় করা:
.
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকজনের ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বেই যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৫০৯]
.
❖ সামর্থ্য থাকলে সুগন্ধি ব্যবহার করা:
.
ইমাম মালিক (রাহ.) বলেন, ‘আমি আলিমদের কাছ থেকে শুনেছি, তারা প্রত্যেক ঈদে সুগন্ধি ব্যবহার ও সাজ-সজ্জা গ্রহণ করাকে মুস্তাহাব (উত্তম কাজ) বলেছেন।’ [আল-মুগনি লি ইবনি কুদামাহ]
.
❖ ঈদের মাঠে/মসজিদে নামাজ শেষ করার পর মুসাফাহা ও কোলাকুলি করা সুন্নাহ নয়। তবে, সুন্নাহ বা জরুরি মনে না করে দীর্ঘদিন পর কারো সাথে দেখা হলে স্বাভাবিক সৌজন্যে তার সাথে কোলাকুলি করা যাবে।
.
❖ ঈদের দিন ঈদের নামাজের আগে বা পরে কোনো নামাজ না পড়া:
.
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন, কিন্তু এর আগে বা পরে কোনো নামাজ পড়েননি।’ [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৯৬৪]
.
সবাইকে ঈদ মুবারক!
সবার ঈদ সুন্দর কাটুক।
তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।
.
----------------------------

 

©Tasbeeh
Page link- https://www.facebook.com/TasbeehZikr/

.

©Nusus
Page link- https://www.facebook.com/FromNusus

 

---------------------------------

 

>> কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক বইয়ের (৪০০+) pdf লিংক
https://justpaste.it/4ne9o

>> কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক Apps, YouTube Video, Quran Recitation, YouTube channel.
https://justpaste.it/islamicappvideo

>> রবের_কাছে_ফেরার_গল্পগুলো
https://justpaste.it/deen_a_ferar_golpo

>> "বিয়ে, রিজিক লাভ, ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি"
https://justpaste.it/5gol5

>> র‍্যান্ড, মডারেট ইসলাম, মডার্নিস্ট মুভমেন্ট
https://justpaste.it/76iwz

>> কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক Apps, YouTube Video, Quran Recitation, YouTube channel.
https://justpaste.it/islamicappvideo

>> ফেসবুক ও ইউটিউবের উপকারী সব পেইজ, গ্রুপ, আইডি এবং চ্যানেলের লিংক
https://justpaste.it/facebook_page_grp_link

>> তাকদির আগে থেকে নির্ধারিত হলে মানুষের বিচার হবে কেন? যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াহ পৌঁছেনি তাদের কী হবে?
https://justpaste.it/6q4c3

>> কুরআন এবং আপনি
https://justpaste.it/5dds8

>> কখনও ঝরে যেও না …
https://justpaste.it/3bt22

>> ফজরে আমি উঠতে পারি না
https://justpaste.it/6kjl6

>> এই ১০টি ফজিলতপূর্ণ আমল যা আপনার সারাবছরের_ই দৈনন্দিন রুটিনে থাকা উচিত
https://justpaste.it/9hhk1

>> ইস্তিগফার অপার সম্ভাবনার দ্বার
https://justpaste.it/6ddvr

>> দাম্পত্যজীবন, অজ্ঞতা ও পরিণাম
https://justpaste.it/7u5es

>> বিপদাপদে ধৈর্যধারণ : ফজিলত, অর্জনের উপায় ও করণীয়
https://justpaste.it/8dccj

>> মহান রবের আশ্রয়ে সিরিজের সকল পর্ব
https://justpaste.it/6ttuf

>> স্বার্থক মুনাজাত
https://justpaste.it/1xf0t

>> রাসূলের উপর দরুদ ও সালাম পাঠ-সংক্রান্ত ৭ পর্বের একটি সিরিজ
https://justpaste.it/4hhtd

>> তাহাজ্জুদ সিরিজ
https://justpaste.it/4ja0n

>> মহিমান্বিত কুরআন সিরিজের সকল পর্ব
https://justpaste.it/3dxi7

>> ধ্বংসাত্মক দৃষ্টি (বদ নজর সিরিজের সকল পর্ব)
https://justpaste.it/7056k

>> বিশুদ্ধ ঈমান সিরিজ
https://justpaste.it/7fh32

>> ইমান ভঙ্গের ১০ কারণ
https://justpaste.it/9icuq

>> দুশ্চিন্তা ও ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ১০ আমল
https://justpaste.it/8gmtk

>> পর্দায় প্রত্যাবতন: পর্দায় ফেরার গল্প
https://justpaste.it/3lqzf

>> নফসের জিহাদ -শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল (হাফিজাহুল্লাহ)
https://justpaste.it/8vnly

>> রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সকাল-সন্ধ্যার দু'আ ও যিকর
https://justpaste.it/sokalsondharjikir

>> সালাফদের আত্মশুদ্ধিমূলক বাণী
https://justpaste.it/9e6qh

>> সন্তান লাভের ৭ টি গুরুত্বপূর্ণ আমল
https://justpaste.it/9hth5

>> Rain Drops, Baseera, Hunafa, Mubashshireen Media ও Ummah Network থেকে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোর (তাওহীদ সিরিজ, আকিদা সিরিজ, তাহাজ্জুদ, সালাত, আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহ নিয়ে আলোচনা, ধূলিমলিন উপহার রামাদান, আলোর পথে যাত্রা, পরকালের পথে যাত্রা, শ্রেষ্ঠ মানুষেরা(নবীদের জীবনী), জীবন-মৃত্যু-জীবন, সীরাহ(রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনী), কুরআনের কথা, কোরআনের বিভিন্ন সূরার তাফসীর, আমি তাওবা করতে চাই কিন্তু, সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবনী, বোনদের প্রতি উপদেশ) অডিও ডাউনলোড লিংক
https://justpaste.it/4kes1

>> পাপ থেকে বাঁচার ১০ উপায়: যা সকল মুসলিমের জানা আবশ্যক
https://justpaste.it/3ob7j

>> রমজানের প্রস্তুতি : মুমিনের পথ ও পাথেয়
https://justpaste.it/5tziy

>> কাফির ও ইসলামের শত্রুদের মৃত্যু বা বিপদে আনন্দ প্রকাশ
https://justpaste.it/6ksvm

>> মহিমান্বিত রজনী (লাইলাতুল কদর) সিরিজ, লাইলাতুল কদরের জন্য ১২ টি সহজ আমল এবং ইতিকাফের গুরুত্ব, ফজিলত, উদ্দেশ্য, আমল।
https://justpaste.it/1q3bs

>> বিশেষ নফল নামাজ সিরিজ (ইশরাক, দোহা, চাশত, আওয়াবিন, যাওয়াল, সালাতুল হাজত, সালাতুত তাসবিহ)
https://justpaste.it/9n0kf

>> হাদিসের শিক্ষা সিরিজ
https://justpaste.it/4fywd

>> ইস্তিখারা সিরিজ
https://justpaste.it/2i736

>> আমাদের নবীজি (সাঃ) সিরিজ
https://justpaste.it/4c1tt

>> Words With Nusus সিরিজ
https://justpaste.it/6h968

>> বছরের শ্রেষ্ঠ দশ দিন (জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন)
https://justpaste.it/1s2vv

>> আশুরা দিবস : বাস্তবতা, পালনীয় ও বর্জনীয়
https://justpaste.it/3kn8w

>> বিবাহের কিছু আমল ও দু‘আ এবং সুখী দাম্পত্যজীবনের জন্য ১০টি করণীয়, স্ত্রীকে বশ করে রাখার টোটকা
https://justpaste.it/58k7y

>> দুআ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ লেখাসমূহ, দুআ কবুলের সময় শর্তাবলী ও আদবসমূহ, দুআ কবুলের গল্পগুলো
https://justpaste.it/7ttq6

>> কুরআন কারীম নিয়ে আতিক উল্লাহ হুজুরের অসাধারন কিছু কথা ও উপদেশ
https://justpaste.it/8abde

.

>> ইসলামিক বই, অডিও-ভিডিও লেকচার সিরিজ সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের লিংকগুলো পাবেন এখানে। সবগুলো বিষয়ের লিংক এক জায়গায় রাখা হয়েছে। এই লিংকটা শেয়ার করতে পারেন। 
https://justpaste.it/48f6m