বিবাহের কিছু আমল ও দু‘আ এবং সুখী দাম্পত্যজীবনের জন্য ১০টি করণীয়, স্বামী ও স্ত্রীকে বশ করে রাখার টোটকা
>> "বিয়ে, রিজিক লাভ, ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি"
https://justpaste.it/5gol5
.
স্বামী স্ত্রীর মিল মুহাব্বত সৃষ্টির ৬ টি অব্যর্থ আমল
https:// www.youtube.com/watch?v=2Ne6BNf7IvI&t=408s
>> বিবাহের কিছু আমল ও দু‘আ
বিবাহের কিছু আমল ও দু‘আ—আন্তরিকতার সাথে এগুলোর উপর আমল করলে, বিবাহের বন্দোবস্ত হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬
(১) কুরআনুল কারিমের দুটো দু‘আ গুরুত্বের সাথে বেশি বেশি পাঠ করুন।
.
❂ সুরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত:
.
رَبَّنَا هَبْ لَـنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَذُرِّيّٰتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ اِمَامًا
.
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেবে আর আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন। [সুরা আল-ফুরক়ান, আয়াত: ৭৪]
.
(শুধু স্ত্রীর কথা বলা হলেও নারীরা এই দু‘আটি পড়তে পারবেন)
.
❂ সুরা কাসাসের ৩৪ নং আয়াত:
.
মুসা (আ.) এমন এক সময় এই দু‘আটি করেছিলেন, যখন তিনি ফেরাউনের অত্যাচারে দেশছাড়া হয়ে বিদেশে ফেরারি জীবনযাপন করছেন। পুরো দুনিয়া তাঁর জন্য সংকীর্ণ হয়ে আসছিলো। তখন তিনি দু‘আ করেন—
.
رَبِّ إِنِّيْ لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيْرٌ
.
অর্থ: (হে আমার) রব! আপনি আমার প্রতি যে-কল্যাণই অবতীর্ণ করেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী। [সুরা ক্বাসাস, আয়াত: ২৪]
.
অতঃপর তাঁর বিয়ে হলো, রিযিকের সমস্যা দূর হলো এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা হয়ে গেলো।
.
(২) সালাতুল হাজত নামাজ পড়া:
.
আবদুল্লাহ্ ইবনু আবি আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহর কাছে বা কোনো আদম-সন্তানের কাছে যদি কারো কোনো প্রয়োজন অনুভূত হয়, তবে সে যেন অজু করে এবং খুব সুন্দরভাবে যেন তা করে। পরে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করে। এরপর যেন আল্লাহর প্রশংসা করে ও রাসুলের উপর দরুদ প্রেরণ করে। অতঃপর এই দু‘আটি পড়ে—
.
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
.
অর্থ: আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি সহিষ্ণু ও দয়ালু। সকল দোষ-ক্রটি থেকে পবিত্র তিনি; মহান আরশের প্রভু। সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি সারা জাহানের রব। আপনার কাছেই আমরা চাই, আপনার রহমত আকর্ষণকারী সকল পূণ্যকর্মের উসিলায়—আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত আকর্ষণকারী সকল ক্রিয়া-কর্মের বরকতের, সকল নেক কাজ সাফল্য লাভের এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে নিরাপত্তা লাভের। আমার কোন গুনাহ যেন মাফ ছাড়া না থাকে। কোনো সমস্যা যেন সমাধান ছাড়া না যায় আর আমার এমন প্রয়োজন—যাতে রয়েছে আপনার সন্তুষ্টি—তা যেন অপূর্ণ না থাকে; হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’’ [ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৩৮৪; তিরমিযি, আস-সুনান: ৪৭৯; হাদিসটি দুর্বল, তবে আমলযোগ্য]
.
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করবে, এরপর পূর্ণরূপে দুই রাকাত নামাজ পড়বে, আল্লাহ্ তার চাওয়ার বিষয় দান করবেন—শীঘ্রই অথবা কিছু কাল পর।’’ [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৬/৪৪৩; হাদিসটির সনদ সহিহ]
.
(৩) অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার পড়া:
.
হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিযিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।” [বায়হাকি: ৬৩৬, মুস্তাদরাক হাকিম: ৭৬৭৭]
.
বিবাহ না হওয়ার মতো সংকট এবং দুশ্চিন্তার বিষয় আর কী হতে পারে?
.
ইস্তিগফারের নিয়ম, ফজিলত, ইস্তিগফার না করার পরিণতি, বিভিন্ন মাসনুন ইস্তিগফার ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের ৭ পর্বের এই সিরিজটি দেখতে পারেন—
>> ইস্তিগফার অপার সম্ভাবনার দ্বার
https://justpaste.it/6ddvr
. অথবা
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2631780966922202&id=1698393090260999
.
(৪) অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা:
.
একজন সাহাবি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন, তিনি তাঁর দু‘আর সবটুকুই নবিজির উপর দরুদ পাঠের জন্য বরাদ্দ করবেন। তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘যদি তুমি তাই করো, তবে তোমার সকল চিন্তা ও উৎকণ্ঠা দূর করা হবে (প্রয়োজন পূরণ হবে) এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ২৪৫৭; হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ২/৪৫৭; হাদিসটি সহিহ]
.
এই হাদিসের আলোকে আলিমগণ বলেছেন, দরুদ পাঠের মাধ্যমে নিজের প্রয়োজন পূরণ হয়। দরুদ পাঠের পদ্ধতি, ফজিলত, মাসনুন দরুদসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের ৭ পর্বের এই সিরিজটি দেখতে পারেন—
>> রাসূলের উপর দরুদ ও সালাম পাঠ-সংক্রান্ত ৭ পর্বের একটি সিরিজ
https://justpaste.it/4hhtd
. অথবা
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2718675641566067&id=1698393090260999
.
(৫) আন্তরিকভাবে দু‘আ করা:
.
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘কোনো মুসলমানের দু‘আয় যদি পাপ কাজ ও রক্ত-সম্পর্ক ছিন্ন করার দু‘আ না থাকে, তবে তার দু‘আ এই তিনটি উপায়ে কবুল হয়ে থাকে। (এক.) দুনিয়াতেই তার প্রার্থিত বস্তু দিয়ে দেওয়া হবে; (দুই.) অথবা পরকালের জন্য এর প্রতিদান রেখে দেওয়া হবে; (তিন.) কিংবা তার অনুরূপ কোনো (অনাগত) বিপদ দূর করে দেওয়া হবে।’’ [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১১১৩৩; তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫৭৩; আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৬৩৩; হাদিসটি সহিহ]
.
দু‘আ করার সঠিক পদ্ধতি, দু‘আ কবুলের বিভিন্ন উপলক্ষ এবং প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জানতে আমাদের ৭ পর্বের এই সিরিজটি দেখতে পারেন—
>> স্বার্থক মুনাজাত
https://justpaste.it/1xf0t
. অথবা
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2655806817852950&id=1698393090260999
.
সর্বশেষ কিছু কথা:
এই জগতে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব, যার প্রতিটি কথা এবং কাজ আপনার ভালো লাগবে। সুতরাং বিয়ের ক্ষেত্রে এত বেশি বাছাবাছি না করে দ্বিনদারিকে অগ্রাধিকার দিন। পাশাপাশি মৌলিক দিকগুলো শুধু দেখুন। আগুন সুন্দরী বা হ্যান্ডসাম সেলারিওয়ালা খুঁজতে খুঁজতে অনেকের যৌবন শেষ হয়ে যায়। আবার অনেকে ‘ক্যারিয়ার’ গঠন করতে গিয়ে বিয়ের সময় শেষ করে ফেলে। এ ধরনের মনোভাব বদলানো দরকার। জীবনকে সহজ করুন। এই অল্প কয়েক দিনের জীবনে সুখের জন্য এত কিছুর দরকার হয় না। একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আপনি ৩৫/৪০ বছর পর্যন্ত প্রচুর খাটলেন। এরপর একটা পর্যায়ে গেলেন। এবার বলুন, আপনি কয় বছর নিজের পছন্দের জীবন কন্টিনিউ করতে পারবেন? মানুষ কয় বছর বাঁচে? তাই, অল্পেতুষ্টির অভ্যাস লালন করুন।
.
#Tasbeeh
------------------------
--------------------
>> সুখী দাম্পত্যজীবনের জন্য ১০টি করণীয়
(কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা এবং পূর্বসূরিদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের আলোকে):
.
(১) পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও উত্তম আচরণ:
.
অনেক দম্পতির মাঝে ভালোবাসা সত্ত্বেও প্রায়ই ঝামেলা হয়। কারণ তারা একে অপরকে সম্মান দিতে জানে না। এটা খুব জরুরি। আয়িশা (রা.) বলেন, নবিজি কোনোদিন তাঁর কোনো স্ত্রীর গায়ে আঘাত করেননি (মুসলিম, আস-সহিহ: ২৩২৮)।
.
(২) ভালোবাসা প্রকাশ করা:
.
এটা তো সবাই জানি, একটি সম্পর্কের স্থায়িত্বের জন্য ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। তবে, ভালোবাসা শুধু মনে না রেখে মুখেও রাখতে হবে। মাঝেমধ্যে লজ্জা ঝেড়ে ‘I Love You’ বা এ জাতীয় কথা মুখ ফুটে বলতে হবে। আয়িশা (রা.) পাত্রের যে স্থানে মুখ দিয়ে পান করতেন, নবিজি ঠিক সেখানে মুখ দিয়ে অবশিষ্ট পান করতেন। অথচ তখন তিনি হায়েযা (পিরিয়ডে) ছিলেন। [নাসায়ি, আস-সুনান: ৩৮৭]
.
(৩) পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুধারণা:
.
একে অপরকে চোখ বুজে বিশ্বাস করার মতো আস্থা তৈরি করতে হবে। জীবনসঙ্গীর সাথে কখনও মিথ্যা বলা যাবে না বা প্রতারণা করা যাবে না। একবার বিশ্বাস ভেঙে গেলে সম্পর্কে ফাটল তৈরি হয়। তাই, কখনই এমন কিছু করা যাবে না, যার ফলে পরস্পরে অবিশ্বাস, সন্দেহ ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়।
.
খুব ভালোভাবে জেনে রাখবেন: দাম্পত্যসম্পর্কের স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তার খুঁটি হিসেবে তিনটি বিষয় কাজ করে: পারস্পরিক ভালোবাসা, একে অপরকে সম্মান করা এবং পরস্পরে বিশ্বাস রাখা। এর কোনোটি না থাকলে সম্পর্ক জটিল হয়ে পড়ে।
.
(৪) পরস্পরের জন্য আন্তরিকভাবে দু‘আ করা:
.
কুরআন থেকে সুন্দর একটি দু‘আ:
.
رَبَّنَا هَبْ لَـنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَذُرِّيّٰتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ اِمَامًا
.
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় আর আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানান। [সূরা আল-ফুরক়ান, আয়াত: ৭৪]
.
এটি স্বামীর জন্য স্ত্রীও পড়তে পারবেন।
.
(৫) প্রতিযোগিতা নয়, চাই সহযোগিতা:
.
আয়িশা (রা.) নবিজি সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি স্ত্রীদের কাজে সহযোগিতা করতেন।’ [বুখারি, আস-সহিহ: ৬০৩৯]
.
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘নারী তার স্বামীর পরিবার, সন্তান-সন্ততির উপর দায়িত্বশীল; সে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।’’ [বুখারি, আস-সহিহ: ৬৬৫৩]
.
জীবনসঙ্গীকে কখনও ‘প্রতিযোগী’ ভাববেন না, বরং ‘সহযোগী’ মনে করুন। দুটো দেহের একটি আত্মা হয়ে চলুন। স্যাক্রিফাইস করার মানসিকতা গড়ুন।
.
(৬) স্বামীর দায়িত্ব ও স্ত্রীর আনুগত্য:
.
দাম্পত্যজীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্বামীকে অবশ্যই তার স্ত্রী ও সংসারের যাবতীয় বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে। আর, স্ত্রীকে অবশ্যই স্বামীর সকল বৈধ আদেশ মানতে হবে। কারণ, আল্লাহ স্বামীকে দায়িত্বশীল বানিয়েছেন। সুতরাং পরিবারের কর্তা হিসেবে স্বামীর আনুগত্য করতে হবে। তবে, এই আনুগত্যের দোহাই দিয়ে স্ত্রীর উপর যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ছড়ি ঘুরানো যাবে না। বরং স্ত্রীর সাথে যথাসাধ্য পরামর্শ করে সংসারকে সুশোভিত করার চেষ্টা করতে হবে।
.
(৭) তৃতীয় পক্ষ থেকে সতর্কতা:
.
দাম্পত্যজীবনে মনোমালিন্য হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে, এই মনোমালিন্যের বিষয়টি নিজেদের মাঝে রাখতে হবে এবং নিজেরা নিজেরা মীমাংসা করতে হবে। কখনই কোনো তৃতীয় পক্ষকে সমাধানের জন্য আনা যাবে না। মনে রাখবেন, অধিকাংশ তালাক হয় তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনের কারণে। সমাধানের জন্য এসে সংসারটা ভেঙে বিদায় নেয়। তবে, কখনও বড় ধরনের ঝামেলা হলে পারিবারিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে।
.
(৮) কারও সাথে তুলনা নয়:
.
কোনো মানুষ পারফেক্ট না। প্রত্যেকের কম-বেশি ঘাটতি থাকে। তাই, কখনও অন্যের উদাহরণ দিয়ে জীবনসঙ্গীর ঘাটতি নিয়ে কথা বলা যাবে না। এই বিষয়টি সংসারে প্রচণ্ড বিদ্বেষ তৈরি করে এবং কুধারণার সূত্রপাত ঘটায়। অহেতুক সন্দেহের বীজ রোপিত হয় নিজেদের পবিত্র সম্পর্কে।
.
আব্দুর রাযযাক আল হালাবি (রাহ.) উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, ‘তোমার স্ত্রীর সামনে অন্য কোনো নারীর প্রশংসা করা থেকে বিরত থাকবে। তাছাড়া, তোমার মায়ের সামনেও তোমার স্ত্রীর প্রশংসা করা থেকে বিরত থাকবে।’
.
(৯) একসাথে রাগা যাবে না:
.
সাহাবি আবুদ দারদা (রা.) তাঁর স্ত্রী উম্মু দারদাকে বলেছিলেন, ‘যখন আমি রাগান্বিত থাকবো, তখন তুমি আমাকে খুশি করবে আর যখন তুমি রাগান্বিত থাকবে, তখন আমি তোমাকে খুশি করবো। এমনটি না করলে একসাথে চলা সম্ভব হবে না।’ [ইবনু হিব্বান, রওদ্বাতুল উক্বালা, পৃষ্ঠা: ২০৪]
.
অনেক পুরুষ মনে করেন, কোনো স্ত্রী কখনও স্বামীর উপর রাগ করতে পারবে না। অথচ, কখনও কখনও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অভিমান করে তাঁর স্ত্রীরা তাঁর থেকে পুরো দিন দূরে থেকেছেন। (বুখারি, আস-সহিহ: ৮৯; মুসলিম, আস-সহিহ: ১৪৭৯)। যদিও তাঁরা বেয়াদবি করতেন না। প্রয়োজনে অভিমানমিশ্রিত রাগারাগি দোষের কিছু নয়।
.
(১০) উভয়ে উভয়ের পরিবারকে সম্মান করা:
.
স্বামী তার স্ত্রীর পরিবারের লোকদেরকে যথাযথ সম্মান দেবে, বছরে কমপক্ষে ২/১ বার স্ত্রীকে তার বাবার বাড়ি যেতে দেবে। এক্ষেত্রে কোনোধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। স্ত্রী যদি তার নিজের টাকা থেকে তার বাবা-মা অথবা অন্যদেরকে সহযোগিতা করে, তবে স্বামী বাধা দিতে পারবে না। একইভাবে স্ত্রীও তার স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সাথে সুন্দর আচরণ করবে। স্বামী যদি তাদেরকে কিছু দেয়, তবে মন খারাপ করবে না।
.
#Tasbeeh
------------------------
>> স্ত্রীকে বশ করে রাখার টোটকা!
>> স্বামীকে বশ করার উপায়
>> স্বামী স্ত্রীর মাঝে রোমান্টিকতা এবং রাসুল (সাঃ) এর সুন্নত
আহা! যদি জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রতিটি দিনই এমন হতো। তাহলে কি আর কিছু লাগতো দুনিয়াতে?! বিয়ের প্রথম কয়েকটা মাস হলো হানিমুন টাইপ। যখন এই হানিমুন পিরিয়ড শেষ, তখন থেকেই আসল ঘটনা শুরু। জামাই তাঁর চাকরী, ব্যবসা নিয়া ব্যস্ত। সারাদিন পর ক্লান্ত শ্রান্ত আর খিটখিটে মেজাজ নিয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। চীৎকার করে বউয়ের কাছে খাবার চান, ধপ করে সোফায় বসে থম মেরে পড়ে থাকেন আর না হয় টিভি দেখেন, অথবা অন্য কাজ করেন। অতঃপর খাওয়া শেষে সিংকে প্লেট ফেলে রেখে আবার সোফায় গিয়ে বসেন। এভাবে একটার পর একটা অর্ডার করতে থাকেন স্ত্রীকে। অপরদিকে, জামাই মহাশয় তাঁর কোন এক পুরনো বন্ধুকে ফোন করেন, অথবা ফোন করেন কোন কলিগকে। এরপর ঘুমের পালা। যদি জামাই মহাশয়ের মুড ভালো থাকে, তাহলে তিনি স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ে থাকেন। কিন্তু শুধু নিজের খায়েশ মেটানোই থাকে উদ্দেশ্য। কাজ কর্ম শেষে ধপ করে পড়ে তিনি ঘুমিয়ে যান। বেচারী বউয়ের ব্যাপারে তাঁর কোন খেয়ালই থাকেনা। এভাবে, এটাই হয়ে যায় প্রতিদিনের রোযনামচা।
এবার আসুন বউয়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপারটা যাচাই করে দেখি। বউ প্রথম প্রথম চেষ্টা করে জামাইকে সন্তুষ্ট করার। কিন্তু ধীরে ধীরে সে তাঁর উৎসাহ, উদ্দিপনা হারাতে থাকে। কারণ সে তাঁর জামাই এর মনযোগ পায়না। সে তাঁর জামাইকে খুশী করার জন্য রান্না করে। খাবারের ডেকোরেশন পর্যন্ত নিখুত ভাবে করে। কিন্তু জামাই তাঁর খাবারের প্রশংসাতো দুরের কথা, দোষ ধরতে ধরতে কিছু বাকি রাখেনা। এভাবে এমন অবস্থা হয় যে, বউ ততোক্ষণ ভালো থাকে যতক্ষণ জামাই বাসায় থাকেনা। কারণ জামাই বাসায় আসলেই শুরু হয় তাঁর দাসত্বের জীবন। সে হয়ে যায় চাকরানীর ন্যায়।
এধরনের বিয়ে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে যেতে থাকে। জীবনে সুখ পাওয়া হয়ে যায় দুষ্কর।
স্বামীর উচিৎ রাসুল (সাঃ) এর মতো তাঁর দাম্পত্য জীবনকে সাজিয়ে তোলা। প্রেমের আইকন পুরুষ হিসেবে আমরা রোমিওকে বুঝি, রাসুলকে নয়। এটা আসলেই অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ রোমান্টিক স্বামী যদি বলতে হয়, তাহলে বলতে হবে আমাদের এয়াসুল (সাঃ) এর কথা। তাঁর জীবনী ভালোভাবে পড়লে তা আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আমাদের রাসুল (সাঃ) আদর্শ স্বামীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি ছিলেন তাঁর স্ত্রীদের কাছে সবচাইতে শ্রেষ্ঠ মানুষ।
একটি সুখী সংসার করতে হলে স্বামী এবং স্ত্রীর মাঝে অবশ্যই মনস্তাত্তিক, শারিরীক এবং আধ্যাত্নিক বন্ধন সুদৃঢ় হতে হবে। নিচে রাসুল (সাঃ) এর সুন্নত থেকে কিছু টিপস দেয়া হল, যা পালন করলে ইন শা আল্লাহ সুখী সংসার গড়া সম্ভব হবে।
১। সঙ্গী/সঙ্গিনীর অনুভুতি বোঝার চেষ্টা করুন
স্বামী স্ত্রী পরস্পরকে পরস্পরের অনুভুতির ব্যাপারে অবশ্য অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। স্বামীকে বুঝতে হবে কখন স্ত্রীর মন মেজাজ ভাল বা খারাপ। তেমনি স্ত্রীকেও বুঝতে হবে কখন স্বামীর মন মেজাজ স্বাভাবিক না। কখনই দুই জনের মন মেজাজ একসাথে খারাপ হওয়া যাবেনা। কথাকাটাকাটি বা ঝগড়ার সময় দুই জনের একজনকে অবশ্যই চুপ থাকতে হবে।এ সময় উচিৎ একজন আরেকজনের পাশে বসে সান্তনা দেয়া, সমস্যা বোঝার চেষ্টা করা, ভাল সমাধান দেয়ার চেষ্টা করা। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ) এর অনুভূতির ব্যাপারে এতটাই সচেতন ছিলেন যে, তিনি বুঝতেন কখন আয়েশা (রাঃ) তাঁর উপর খুশী হতেন আর কখন অভিমান বা গোস্বা করতেন।
২। তাঁকে আশ্বস্ত করুন।
স্বামী ও স্ত্রী দুজনকেই দুজনে আস্বস্ত রাখতে হবে। মানুষের জীবনে ভাল, খারাপ সময় এসেই থাকে। তাদেরকে জীবনের ভাল এবং খারাপ এই দুই সময়েই পাশে থাকতে হবে। ভাল সময় পাশে থাকলাম আর খারাপ সময় এলে ছেড়ে দূরে গেলাম এমনটি যেন না হয়। তাদের পরস্পরকে পরস্পরের কাছে স্বস্তি, ছায়া, অবলম্বন ইত্যাদি পেতে হয়।
একবার সাফিয়াহ (রাঃ) কোন এক সফরে রাসুল (সাঃ) এর সাথে যাবেন, কিন্তু তিনি একটু দেরী করে ফেললেন। যার ফলে তিনি কাঁদছিলেন। রাসুল (সাঃ) যখন তাঁকে এ অবস্থায় পেলেন, তিনি উম্মুল মুমিনীনের চোখের পানি মুছে দিয়ে প্রবোধ দিয়েছেন।
৩। স্ত্রীর কোলকে বালিশ বানিয়ে শুয়ে থাকুন
স্বামীর কাছে ব্যাপারটা অত্যন্ত তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু স্ত্রীর জন্য এটা অনন্য। এই আচরণ দুই হৃদয়কে কাছে টেনে নিয়ে আসে। এই আচরণে স্ত্রী প্রচন্ডভাবে আস্বস্ত হয়। বাহির থেকে স্বামীরা যখন বাসায় আসবেন, কিছুক্ষণের জন্য হলেও আপনার স্ত্রীর কোলে মাথা রেখেন শুয়ে পড়ুন। এতে আপনার বিশ্রাম ও হবে, সেই সাথে স্ত্রী ও খুশী হবেন।
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ) এর কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকতেন, এমনকি কুরআন তেলাওয়াত ও করতেন।
৪। চুল আচড়ে দিন।
কোন কোন কাজ অনেক সময় সামান্য বলে মনে হলেও দাম্পত্য জীবনে এর প্রভাব যাদুময়ী। চুল আঁচড়ে দেয়া হল তাঁর মধ্যে অন্যতম। স্বামী স্ত্রী একে অপরের চুল মাঝে মাঝে আঁচড়ে দিতে পারেন। আমাদের উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ) মাঝে মাঝে নবীজির চুল আঁচড়ে দিতেন।
তেমনিভাবে অন্যান্য ছোটখাট কাজ করেও ভালবাসা বৃদ্ধি করতে পারেন। যেমনঃ জামা পড়তে সাহায্য করা, গরমের দিনে ঠান্ডা শরবত করে দেওয়া ইত্যাদি।
৫। গ্লাস বা পাত্রের একই জায়গা দিয়ে খান।
হযরত আয়েশা (রাঃ)যখন কোন পাত্র দিয়ে পানি পান করতেন, রাসুল (সাঃ) সেই একই পাত্রের সেই একই জায়গা দিয়ে পানি পান করতেন। তেমনি ভাবে গোশত খাওয়ার সময় আয়েশা (রাঃ) যে স্থান হতে খেতেন রাসুল (সাঃ) ও ঐ একই স্থান হতে খেতেন। আপনি ও আপনার স্ত্রী বা স্বামীর সাথে এভাবে ব্যবহার করুন। আপনাদের মাঝে ভালবাসা হবে প্রকট এবং বন্ধন হবে অটুট।
৬। চুম্বন করুন।
রাসুল (সাঃ) প্রায়শই তাঁর স্ত্রীকে চুম্বন করতেন। এমনকি রোযা রাখা অবস্থায়ও।
তেমনি আপনি আপনার স্ত্রীকে ও চুমু দিন। যেকোণ উসিলায় চুমু দিন। ঘর থেকে বের হবার সময়, ঘরে ঢোকার সময় চুমু দিন। এটা আপনার স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালবাসা প্রকাশ করে। আপনার স্ত্রী যখন ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন আচমকা চুমু দিয়ে surprise দিন। আপনার বিবাহিত জীবনকে সুখী করতে হলে আপনাকে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।
বিবাহিত জীবনে স্বামী স্ত্রীর মাঝে শারীরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকটায় দুজনকেই সর্বোচ্চ খেয়াল রাখতে হবে। শরীয়ত ও স্বামী স্ত্রীর মাঝের এই সম্পর্ককে উৎসাহিত করেছে। স্বামী স্ত্রীর মাঝে যে শারীরিক সম্পর্ক হয়ে থাকে তা সদকা স্বরুপ।
৬। খাবারের লোকমা মুখে তুলে খাইয়ে দিন।
হাদিসে এসেছে স্ত্রীর মুখে খাবারের লোকমা তুলে দেয়াতেও সওয়াব রয়েছে। তাই স্বামী স্ত্রী উভয়েই পরস্পরকে খাবার মুখে তুলে খাইয়ে দিন। সুযোগ পেলেই একাজ করুন।
৭। ঘরের কাজে সাহায্য করুন।
রাসুল (সাঃ) যতক্ষণ বাসায় থাকতেন, ঘরের কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন। তিনি নিজের কাজ নিজে করতেন। নিজের কাপড় ধোয়া, জুতা সেলাই করা তিনিই করতেন।
তেমনিভাবে স্বামী স্ত্রী যদি বিনা দ্বিধায় এবং বিনা জিজ্ঞাসাতেই পরস্পরের কাজে সাহায্য করে তাহলে একে অপরের প্রতি সহানুভুতিশীলতা অনুভব করবে যা দাম্পত্য জীবনের অন্যতম চালিকা শক্তি।
৮। গল্প করুন।
স্ত্রীর সাথে আপনার জীবনের ঘটে যাওয়া কোন মজার ঘটনা, অথবা গল্প শেয়ার করুন। স্বামী স্ত্রীর মাঝে দেখা যায় এক পর্যায়ে গিয়ে কাজের আর সংসারের কথা ছাড়া অন্য কোন কথাবার্তা হয়না। এটা ঠিকনা। তাদের উচিৎ নিজেদের মাঝে হাল্কা খোশগল্পে মেতে ওঠা।
অথচ আমরা যা করি তা হল, কোন ঘটনা বন্ধুদের কে ফোন করে বলে থাকি আর হাহাহুহু করে হাসি। কিন্তু স্ত্রীকে বলিনা। অথচ উচিৎ ছিল স্ত্রীকে নিয়েই সবার আগে হাহা হুহু হিহি করা। কাজেই আর দেরী না করে একটা রুটিন করুন, যে সময় আপনি ও আপনার স্ত্রী বসে হাল্কা খোশ মেজাজে কথাবার্তা বলবেন।
৯। সুখের কোন সংবাদ বা সময়টুকু তাঁর সাথে শেয়ার করুন।
জীবনের ভাল সময় গুলো অথবা কোন ভাল ঘটনায় যখন আপনি খুশী হন, সে সময় টুকু স্ত্রীর সাথে উদযাপন করুন। স্বআমী স্ত্রী পরস্পর সুখ ও দুঃখ উভয় ক্ষেত্রেই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে কাজ করে থাকে।
১০। বাচ্চাদের মতো খেলুন এবং প্রতিযোগিতা করুন।
রাসুল (সাঃ) তাঁর স্ত্রীদের সাথে হাসিতামাশা এবং ক্রীড়া কৌতুকে অংশগ্রহণ করতেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) এবং রাসুল (সাঃ) এর দৌড় প্রতিযোগিতার ঘটনাটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
১১। সুন্দর নাম দিন এবং সেই নামে ডাকুন।
রাসুল (সাঃ) তাঁর স্ত্রীদের সুন্দর নামে ডাকতেন। অনেকসময় তিনি আয়েশা (রাঃ) কে আহ্লাদ করে “আয়েশ” বলে ডাকতেন। তিনি কোন কোন সময় “হুমায়রা” বলেও ডাকতেন। হুমায়রা অর্থ হল হাল্কা লালাভ। আলেমগণ বলেছেন, কেউ যদি এত ফর্সা হয় যে রোদের আলোয় তাঁর চেহারা লাল বর্ণ হয়ে যায়, তখন এ অবস্থাকে হুমায়রা বলা হয়।
দাম্পত্য জীবনে এটাই দরকার। স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনকে প্রশংসা করবে, ভালবাসবে। ফলে জীবন হবে সুখময়।
১২। সুন্দর জামাকাপড় পরুন এবং সাজুন।
স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনের জন্য পরিপাটি করে থাকা জরুরী। স্ত্রীরা যেমন স্বামীর জন্য ভাল ভাল জামা কিনে পড়ে, সাজগোজ করে। স্বামীর ও উচিৎ ভাল ভাল জামা পড়া, নিজেকে পরিপাটি করে রাখা, পরিচ্ছন্ন রাখা। অথচ আমাদের পুরুষদের মাঝে এটা দেখা যায়না। আর পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেতো একেবারেই উদাসীন।
রাসুল (সাঃ) যখন বাহির থেকে বাসায় ফিরতেন, সঙ্গে সঙ্গে মেছয়াক করে নিতেন।
১৩। সুগন্ধি ব্যবহার করুন।
রাসুল (সাঃ) সুগন্ধী অনেক পছন্দ করতেন এবং দুর্গন্ধ ঘৃণা করতেন। তাঁর এক সুগন্ধীদানী ছিল এবং সেখানে থেকে তিনি নিয়মিত সুগন্ধী লাগাতেন।
স্বামী স্ত্রীর উচিৎ সুগঙ্ঘী ব্যবহার করা। নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে মনোরম থাকা। কারণ দুর্গন্ধ স্বামী স্ত্রীর মাঝে ভালবাসার অন্তরায়।
১৪। একান্তে ঘটে যাওয়া বিষয় গোপন রাখুন।
স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঘটে যাওয়া একান্ত মুহুর্তের ব্যাপারগুলো কখনই বন্ধু মহলে আলোচনা করবেন না। এটা সম্পর্কের মাঝে খারাপ প্রভাব বিস্তার করে। আপনার স্ত্রী শুধু আপনার জন্যই, আপনার স্বামী শুধু আপনার জন্যই। কখনই গোপন বিষয়গুলো বাহিরে প্রকাশ করবেন না। যারা গোপন বিষয় বাহিরে বলে বাড়ায়, তাদের ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) এ ধরনের ব্যক্তিকে নিকৃষ্ট বলে আখ্যা দিয়েছেন।.
১৫। সঙ্গীর পরিবারের সদস্যদের ভালবাসুন এবং সম্মান করুন।
স্বামী এবং স্ত্রী শুধু তাদের নিজেরকে না, তাদের পরিবারের সদস্যদেরকেও সম্মান দেখাতে হবে, স্নেহ করতে হবে। অপরজনের সামনে অপ্রজনের নিকট আত্নীয়ের প্রশংসা করতে হবে। এতে উভয়ের মনে ভালবাসা বৃধি পাবে।
>> তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন
>> যার একজন প্রেয়সী স্ত্রী আছে, সে পৃথিবীর সব'চে সুখী!
'ক্বুররতা আ'ইয়ুন'/চক্ষু শীতলকারীনি" বলতে যারা স্রেফ হুরের মতো সুন্দরী হওয়াটা বুঝেন, তারা কিঞ্চিৎ ভুলের মধ্যে আছেন।
.
বিপদ-আপদ,শত দুঃখ-কষ্ট থাকা সত্বেও আপনার স্ত্রীর পেয়ার-ভালোবাসা যদি মুহূর্তেই আপনাকে সবকিছু ভুলিয়ে দিতে পারে, তবে নিঃসন্দেহে আপনার প্রিয়তমা স্ত্রী আপনার জন্য 'ক্বুররতা আ'ইয়ুন'। চক্ষু শীতলকারীনি খুঁজতে যারা শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্যের পেছনে ছুটছেন, তারা আসলে দৃশ্যমান এক মরীচিকা লাভের আশায় ডুবে আছেন। প্রকৃত সৌন্দর্য কখনো দেখা যায় না! কারণ তা লুকানো থাকে সাদা/কালো চামড়ার আড়ালে। আরো গহীনে!
.
নবী কারীম (সা) ইরশাদ করেন,তোমাদের স্ত্রীরাও জান্নাতি হবে যে স্ত্রী অধিক প্রণয়িনী,সন্তানদাত্রী,বারবার ভুল করে বারবার স্বামীর কাছে আত্মসমর্পণকারিণী, যার স্বামী রাগকরলে সে তার নিকট এসে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি রাজি খুশি না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাইব না।
[সিলসিলাতুস সাহীহা : হা. ২৮৭]
-----------------
>> এমন স্ত্রী কই পাবো, আজ?
>> আল্লাহ আমাদের সামনে চার ধরনের স্বামী-স্ত্রীর উদাহরণ দিয়েছেন।
২। উত্তম আখলাকের অধিকারী লুত (আঃ) ও তার (আল্লাহর পক্ষ থেকে লা’নত প্রাপ্ত) স্ত্রী।
৩। আল্লাহর পক্ষ থেকে লা’নত প্রাপ্ত ফেরাউন ও তার (উত্তম আখলাকের অধিকারী) স্ত্রী আসিয়া।
৪। আল্লাহর পক্ষ থেকে লা’নত প্রাপ্ত আবু লাহাব ও তার স্ত্রী।
🔷🔶🔷বিয়ে হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মু’মিনদের জন্য অশেষ অনুগ্রহ। বিয়ে একটা অনেক বড় ইবাদাত যা মু’মিনদের আল্লাহর আরও কাছাকাছি আসতে সাহায্য করে। আপনি আপনার সন্তানদের জীবন (দুনিয়া ভিত্তিক/আখিরাত ভিত্তিক) কিভাবে সাজাতে চান তার উপর ভিত্তি করে স্ত্রী নির্বাচন করা উচিত। কাজেই পাত্রী দেখার সময় আপনি নিজের জন্য স্ত্রী নির্বাচন করছেন শুধু তা না, বরং আপনি আপনার সন্তানের জন্য তাদের মাও নির্বাচন করছেন।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কেও একজন যদি আল্লাহভীরু ও উত্তম আখালাকের অধিকারী না হয় তবে সেটা অপরজনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় পরীক্ষা। তাই সুন্নাহ হিসেবে, বিয়ের আগে পাত্রী দেখার সময় অনেক সতর্ক থাকা খুবি জরুরী। বিয়ে করার সময় অবশ্যই, অবশ্যই, এবং অবশ্যই মেয়ের উত্তম আখলাকের ব্যাপারে নিশিত হয়ে বিয়ে করা উচিত। উত্তম আখলাক কি? উত্তম আখলাক কি শুধু পর্দা করা, সালাত আদায় করা, ছেলদের সাথে না মিশা বা যেনা না করার নাম? সত্তিকার অর্থে উত্তম আখলাক শুধু মাত্র এই কয়েকটা জিনিসের নাম না। আল্লাহর কছম করে বলছি, উত্তম আখলাক একজন মানুষের ২৪ ঘণ্টার পুরো জীবনের সাথে জরিত। উত্তম আখলাক এর অর্থ এত ব্যাপক যে, আমার মত মূর্খের পক্ষে উত্তম আখলাকের ব্যাপারে পরিপূর্ণভাবে লেখা সম্ভব না।
একজন মেয়ের জন্য দীন অনুযায়ী চলা ফেরা, উঠা বসা, বড় ছোট ও বন্ধুদের সাথে উত্তম আচরণ, অহংকার না করা, লজ্জাশিলতা, ধৈর্যশীল ও নম্র হওয়া, স্বামী শশুর-শাশুরি বা মা-বাবার সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখা, অপরের সুবিধা অসুবিধার প্রতি খেয়াল রাখা, স্বামীর অনুপস্থিতিতে সংসারের আমানতদার হওয়া, মিথ্যা কথা না বলা, রুক্ষ মেজাজি না হওয়া, গীবত না করা, চোগলখুরি না করা, মেহমানদারি করা ইত্যাদি ইত্যাদি সবই উত্তম আখলাকের অংশ।
তবে অনেক ছেলে নিজে পরিপূর্ণ ভাবে দীন মানার চেষ্টা করা ও উত্তম আখলাকের অধিকারী হওয়া সত্তেও, পারিবারিক বা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারনে স্ত্রী নির্বাচনের সময় এই উত্তম আখলাকের দিকে লক্ষ্য রাখতে পারে না। আমি তাদের খেদমতে কিছু বলার চেষ্টা করব।
আপনি পাত্রী বাছাইয়ের সময় নিচের বিষয় গুলর প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারেন (আল্লাহু আ’লাম)। আমি “উনি” বলতে আপানর সম্ভাব্য স্ত্রী কে বুঝাচ্ছি যিনি ইসলামী জীবন যাপনে অভ্যস্ত নয়।
১। খেয়াল করুন, উনার মধ্যে ভাল ও মন্দ বোঝার ক্ষমতা আছে কিনা। কেননা, রাসুল (সাঃ)বলেন, “একটা সময় আসবে যখন মানুষের মধ্যে থেকে জ্ঞান (অর্থাৎ সে ভাল ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না) উঠিয়ে নেওয়া হবে”। যদি তার ভাল ও মন্দ বোঝার ক্ষমতা থাকে, আপানি তার এই গুণটাকে কাজে লাগিয়ে তাকে খুব সহজেই উত্তম চরিত্রের দিকে আকৃষ্ট করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
২। তার বই পড়া ও নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা আছে নাকি সে "বিচার মানি কিন্তু তাল গাছ আমার " এই টাইপের। যদি বই পড়া ও নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা থাকে, আপনি তার এইগুনকে কাজে লাগাতে পারবেন। ফলে ইনশাআল্লাহ সে তার ভুল বুঝতে পেরে আমাতুল্লাহ হয়ে যাবে।
৩। যদি সে আলস হয়, তবে উপরের গুন তার মধ্যে থাকা সত্তেও আপনার সব চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। “এখন অলস তবে পরে ভাল হয়ে যাবে”, এই ফাদে পা দিবেন না।
৪। তার কাছের বন্ধুরা কেমন? তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা (অবশই মেয়ে) "চিলে কান নিয়েছে/ডিজুস” এই টাইপের না হয় তাবে তা আপনার জন্য মহাসুসংবাদ। কারণ কেউ যে টাইপের মানুষের সাথে মিশে, তার চিন্তা ভাবনাও ওই রকম হয়।
৫। বিয়ের পর, আপনার সংসার কেমন হবে, আপনি আপনার সম্ভাব্য শাশুড়িকে দেখালে মোটামুটি একটা ধারণা পাবেন।
৬। কোন ব্যাপারে সন্দেহ থাকলে, তার দূর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করবে না। যদি করেন, তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।
সুতরাং হতাশ হবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীল পুরুষ ও নারীদের সৎ কর্ম নষ্ট করেন না। সব সময় আল্লাহ উপর ভরসা রাখুন যেমনভাবে তার উপর ভরসা করা উচিত।
(সংগৃহীত)
>> অনাগত স্ত্রীর জন্য দুয়া-
---------------------
>> আপনার স্ত্রী অসাধারণ একজন
>> ৪ হাজার টাকা নগদ মোহরানার স্টুডেন্ট বিবাহের ব্যতিক্রম সাক্সেস পোস্ট পড়ুন
>> কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক বইয়ের (৪০০+) pdf লিংক
https://justpaste.it/4ne9o
>> কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক Apps, YouTube Video, Quran Recitation, YouTube channel.
https://justpaste.it/islamicappvideo
>> রবের_কাছে_ফেরার_গল্পগুলো
https://justpaste.it/deen_a_ferar_golpo
>> "বিয়ে, রিজিক লাভ, ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি"
https://justpaste.it/5gol5
>> র্যান্ড, মডারেট ইসলাম, মডার্নিস্ট মুভমেন্ট
https://justpaste.it/76iwz
>> কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক Apps, YouTube Video, Quran Recitation, YouTube channel.
https://justpaste.it/islamicappvideo
>> ফেসবুক ও ইউটিউবের উপকারী সব পেইজ, গ্রুপ, আইডি এবং চ্যানেলের লিংক
https://justpaste.it/facebook_page_grp_link
>> তাকদির আগে থেকে নির্ধারিত হলে মানুষের বিচার হবে কেন? যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াহ পৌঁছেনি তাদের কী হবে?
https://justpaste.it/6q4c3
>> কুরআন এবং আপনি
https://justpaste.it/5dds8
>> কখনও ঝরে যেও না …
https://justpaste.it/3bt22
>> ফজরে আমি উঠতে পারি না
https://justpaste.it/6kjl6
>> এই ১০টি ফজিলতপূর্ণ আমল যা আপনার সারাবছরের_ই দৈনন্দিন রুটিনে থাকা উচিত
https://justpaste.it/9hhk1
>> ইস্তিগফার অপার সম্ভাবনার দ্বার
https://justpaste.it/6ddvr
>> দাম্পত্যজীবন, অজ্ঞতা ও পরিণাম
https://justpaste.it/7u5es
>> বিপদাপদে ধৈর্যধারণ : ফজিলত, অর্জনের উপায় ও করণীয়
https://justpaste.it/8dccj
>> মহান রবের আশ্রয়ে সিরিজের সকল পর্ব
https://justpaste.it/6ttuf
>> স্বার্থক মুনাজাত
https://justpaste.it/1xf0t
>> রাসূলের উপর দরুদ ও সালাম পাঠ-সংক্রান্ত ৭ পর্বের একটি সিরিজ
https://justpaste.it/4hhtd
>> তাহাজ্জুদ সিরিজ
https://justpaste.it/4ja0n
>> মহিমান্বিত কুরআন সিরিজের সকল পর্ব
https://justpaste.it/3dxi7
>> ধ্বংসাত্মক দৃষ্টি (বদ নজর সিরিজের সকল পর্ব)
https://justpaste.it/7056k
>> বিশুদ্ধ ঈমান সিরিজ
https://justpaste.it/7fh32
>> ইমান ভঙ্গের ১০ কারণ
https://justpaste.it/9icuq
>> দুশ্চিন্তা ও ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ১০ আমল
https://justpaste.it/8gmtk
>> পর্দায় প্রত্যাবতন: পর্দায় ফেরার গল্প
https://justpaste.it/3lqzf
>> নফসের জিহাদ -শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল (হাফিজাহুল্লাহ)
https://justpaste.it/8vnly
>> রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সকাল-সন্ধ্যার দু'আ ও যিকর
https://justpaste.it/sokalsondharjikir
>> সালাফদের আত্মশুদ্ধিমূলক বাণী
https://justpaste.it/9e6qh
>> সন্তান লাভের ৭ টি গুরুত্বপূর্ণ আমল
https://justpaste.it/9hth5
>> Rain Drops, Baseera, Hunafa, Mubashshireen Media ও Ummah Network থেকে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোর (তাওহীদ সিরিজ, আকিদা সিরিজ, তাহাজ্জুদ, সালাত, আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহ নিয়ে আলোচনা, ধূলিমলিন উপহার রামাদান, আলোর পথে যাত্রা, পরকালের পথে যাত্রা, শ্রেষ্ঠ মানুষেরা(নবীদের জীবনী), জীবন-মৃত্যু-জীবন, সীরাহ(রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনী), কুরআনের কথা, কোরআনের বিভিন্ন সূরার তাফসীর, আমি তাওবা করতে চাই কিন্তু, সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবনী, বোনদের প্রতি উপদেশ) অডিও ডাউনলোড লিংক
https://justpaste.it/4kes1
>> পাপ থেকে বাঁচার ১০ উপায়: যা সকল মুসলিমের জানা আবশ্যক
https://justpaste.it/3ob7j
>> রমজানের প্রস্তুতি : মুমিনের পথ ও পাথেয়
https://justpaste.it/5tziy
>> কাফির ও ইসলামের শত্রুদের মৃত্যু বা বিপদে আনন্দ প্রকাশ
https://justpaste.it/6ksvm
>> মহিমান্বিত রজনী (লাইলাতুল কদর) সিরিজ, লাইলাতুল কদরের জন্য ১২ টি সহজ আমল এবং ইতিকাফের গুরুত্ব, ফজিলত, উদ্দেশ্য, আমল।
https://justpaste.it/1q3bs
>> বিশেষ নফল নামাজ সিরিজ (ইশরাক, দোহা, চাশত, আওয়াবিন, যাওয়াল, সালাতুল হাজত, সালাতুত তাসবিহ)
https://justpaste.it/9n0kf
>> হাদিসের শিক্ষা সিরিজ
https://justpaste.it/4fywd
>> ইস্তিখারা সিরিজ
https://justpaste.it/2i736
>> আমাদের নবীজি (সাঃ) সিরিজ
https://justpaste.it/4c1tt
>> Words With Nusus সিরিজ
https://justpaste.it/6h968
>> বছরের শ্রেষ্ঠ দশ দিন (জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন)
https://justpaste.it/1s2vv
>> আশুরা দিবস : বাস্তবতা, পালনীয় ও বর্জনীয়
https://justpaste.it/3kn8w
>> বিবাহের কিছু আমল ও দু‘আ এবং সুখী দাম্পত্যজীবনের জন্য ১০টি করণীয়, স্ত্রীকে বশ করে রাখার টোটকা
https://justpaste.it/58k7y
>> দুআ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ লেখাসমূহ, দুআ কবুলের সময় শর্তাবলী ও আদবসমূহ, দুআ কবুলের গল্পগুলো
https://justpaste.it/7ttq6
>> কুরআন কারীম নিয়ে আতিক উল্লাহ হুজুরের অসাধারন কিছু কথা ও উপদেশ
https://justpaste.it/8abde
.