JustPaste.it

বিবাহের কিছু আমল ও দু‘আ এবং সুখী দাম্পত্যজীবনের জন্য ১০টি করণীয়, স্বামী ও স্ত্রীকে বশ করে রাখার টোটকা

 

 

>> "বিয়ে, রিজিক লাভ, ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি"
https://justpaste.it/5gol5

.

স্বামী স্ত্রীর মিল মুহাব্বত সৃষ্টির ৬ টি অব্যর্থ আমল

https:// www.youtube.com/watch?v=2Ne6BNf7IvI&t=408s

 

>> বিবাহের কিছু আমল ও দু‘আ

 

বিবাহের কিছু আমল ও দু‘আ—আন্তরিকতার সাথে এগুলোর উপর আমল করলে, বিবাহের বন্দোবস্ত হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬
(১) কুরআনুল কারিমের দুটো দু‘আ গুরুত্বের সাথে বেশি বেশি পাঠ করুন।
.
❂ সুরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত:
.
رَبَّنَا هَبْ لَـنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَذُرِّيّٰتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ اِمَامًا
.
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেবে আর আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন। [সুরা আল-ফুরক়ান, আয়াত: ৭৪]
.
(শুধু স্ত্রীর কথা বলা হলেও নারীরা এই দু‘আটি পড়তে পারবেন)
.
❂ সুরা কাসাসের ৩৪ নং আয়াত:
.
মুসা (আ.) এমন এক সময় এই দু‘আটি করেছিলেন, যখন তিনি ফেরাউনের অত্যাচারে দেশছাড়া হয়ে বিদেশে ফেরারি জীবনযাপন করছেন। পুরো দুনিয়া তাঁর জন্য সংকীর্ণ হয়ে আসছিলো। তখন তিনি দু‘আ করেন—
.
رَبِّ إِنِّيْ لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيْرٌ
.
অর্থ: (হে আমার) রব! আপনি আমার প্রতি যে-কল্যাণই অবতীর্ণ করেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী। [সুরা ক্বাসাস, আয়াত: ২৪]
.
অতঃপর তাঁর বিয়ে হলো, রিযিকের সমস্যা দূর হলো এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা হয়ে গেলো।
.
(২) সালাতুল হাজত নামাজ পড়া:
.
আবদুল্লাহ্ ইবনু আবি আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহর কাছে বা কোনো আদম-সন্তানের কাছে যদি কারো কোনো প্রয়োজন অনুভূত হয়, তবে সে যেন অজু করে এবং খুব সুন্দরভাবে যেন তা করে। পরে যেন দুই রাকাত নামাজ আদায় করে। এরপর যেন আল্লাহর প্রশংসা করে ও রাসুলের উপর দরুদ প্রেরণ করে। অতঃপর এই দু‘আটি পড়ে—
.
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ وَالسَّلاَمَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ لاَ تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلاَّ غَفَرْتَهُ وَلاَ هَمًّا إِلاَّ فَرَّجْتَهُ وَلاَ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلاَّ قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
.
অর্থ: আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি সহিষ্ণু ও দয়ালু। সকল দোষ-ক্রটি থেকে পবিত্র তিনি; মহান আরশের প্রভু। সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি সারা জাহানের রব। আপনার কাছেই আমরা চাই, আপনার রহমত আকর্ষণকারী সকল পূণ্যকর্মের উসিলায়—আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত আকর্ষণকারী সকল ক্রিয়া-কর্মের বরকতের, সকল নেক কাজ সাফল্য লাভের এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে নিরাপত্তা লাভের। আমার কোন গুনাহ যেন মাফ ছাড়া না থাকে। কোনো সমস্যা যেন সমাধান ছাড়া না যায় আর আমার এমন প্রয়োজন—যাতে রয়েছে আপনার সন্তুষ্টি—তা যেন অপূর্ণ না থাকে; হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’’ [ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৩৮৪; তিরমিযি, আস-সুনান: ৪৭৯; হাদিসটি দুর্বল, তবে আমলযোগ্য]
.
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করবে, এরপর পূর্ণরূপে দুই রাকাত নামাজ পড়বে, আল্লাহ্ তার চাওয়ার বিষয় দান করবেন—শীঘ্রই অথবা কিছু কাল পর।’’ [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৬/৪৪৩; হাদিসটির সনদ সহিহ]
.
(৩) অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার পড়া:
.
হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিযিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।” [বায়হাকি: ৬৩৬, মুস্তাদরাক হাকিম: ৭৬৭৭]
.
বিবাহ না হওয়ার মতো সংকট এবং দুশ্চিন্তার বিষয় আর কী হতে পারে?
.
ইস্তিগফারের নিয়ম, ফজিলত, ইস্তিগফার না করার পরিণতি, বিভিন্ন মাসনুন ইস্তিগফার ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের ৭ পর্বের এই সিরিজটি দেখতে পারেন—

>> ইস্তিগফার অপার সম্ভাবনার দ্বার
https://justpaste.it/6ddvr

. অথবা
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2631780966922202&id=1698393090260999

.
(৪) অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা:
.
একজন সাহাবি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন, তিনি তাঁর দু‘আর সবটুকুই নবিজির উপর দরুদ পাঠের জন্য বরাদ্দ করবেন। তখন রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘যদি তুমি তাই করো, তবে তোমার সকল চিন্তা ও উৎকণ্ঠা দূর করা হবে (প্রয়োজন পূরণ হবে) এবং তোমার পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে।’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ২৪৫৭; হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ২/৪৫৭; হাদিসটি সহিহ]
.
এই হাদিসের আলোকে আলিমগণ বলেছেন, দরুদ পাঠের মাধ্যমে নিজের প্রয়োজন পূরণ হয়। দরুদ পাঠের পদ্ধতি, ফজিলত, মাসনুন দরুদসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের ৭ পর্বের এই সিরিজটি দেখতে পারেন—

>> রাসূলের উপর দরুদ ও সালাম পাঠ-সংক্রান্ত ৭ পর্বের একটি সিরিজ
https://justpaste.it/4hhtd

. অথবা
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2718675641566067&id=1698393090260999

.
(৫) আন্তরিকভাবে দু‘আ করা:
.
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘কোনো মুসলমানের দু‘আয় যদি পাপ কাজ ও রক্ত-সম্পর্ক ছিন্ন করার দু‘আ না থাকে, তবে তার দু‘আ এই তিনটি উপায়ে কবুল হয়ে থাকে। (এক.) দুনিয়াতেই তার প্রার্থিত বস্তু দিয়ে দেওয়া হবে; (দুই.) অথবা পরকালের জন্য এর প্রতিদান রেখে দেওয়া হবে; (তিন.) কিংবা তার অনুরূপ কোনো (অনাগত) বিপদ দূর করে দেওয়া হবে।’’ [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১১১৩৩; তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫৭৩; আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৬৩৩; হাদিসটি সহিহ]
.
দু‘আ করার সঠিক পদ্ধতি, দু‘আ কবুলের বিভিন্ন উপলক্ষ এবং প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জানতে আমাদের ৭ পর্বের এই সিরিজটি দেখতে পারেন—

>> স্বার্থক মুনাজাত
https://justpaste.it/1xf0t

. অথবা
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2655806817852950&id=1698393090260999

.
সর্বশেষ কিছু কথা:
এই জগতে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব, যার প্রতিটি কথা এবং কাজ আপনার ভালো লাগবে। সুতরাং বিয়ের ক্ষেত্রে এত বেশি বাছাবাছি না করে দ্বিনদারিকে অগ্রাধিকার দিন। পাশাপাশি মৌলিক দিকগুলো শুধু দেখুন। আগুন সুন্দরী বা হ্যান্ডসাম সেলারিওয়ালা খুঁজতে খুঁজতে অনেকের যৌবন শেষ হয়ে যায়। আবার অনেকে ‘ক্যারিয়ার’ গঠন করতে গিয়ে বিয়ের সময় শেষ করে ফেলে। এ ধরনের মনোভাব বদলানো দরকার। জীবনকে সহজ করুন। এই অল্প কয়েক দিনের জীবনে সুখের জন্য এত কিছুর দরকার হয় না। একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আপনি ৩৫/৪০ বছর পর্যন্ত প্রচুর খাটলেন। এরপর একটা পর্যায়ে গেলেন। এবার বলুন, আপনি কয় বছর নিজের পছন্দের জীবন কন্টিনিউ করতে পারবেন? মানুষ কয় বছর বাঁচে? তাই, অল্পেতুষ্টির অভ্যাস লালন করুন।
.
#Tasbeeh

------------------------

 

যিনি অবিরাম বর্ষণ সহ আল্লাহর রহমতের দরজাগুলো খুলে দিতে পারেন। তিনি আপনাকে আপনার পছন্দমত জীবন সঙ্গীও দিতে পারেন। যদি আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ প্রার্থনা করেন। তিনি আপনার পছন্দমত জীবন সঙ্গীও দিতে পারেন যদি আপনি দু’আ করেন। তিনি আপনার জীবনের হারানো শান্তি ফিরিয়ে দিতে পারেন। যদি আপনি দু’আ করেন, আপনার দাম্পত্য জীবনের শান্তি কি হারিয়ে গেছে? এখনি আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন। আপনার স্বামীর মনে উপর যতটুকু তার নিজের ক্ষমতা মহান আল্লাহর ক্ষমতা কি মনের উপর তার থেকে বেশি নয়? আপনার স্ত্রীর মনের উপর আপনার স্ত্রীর চেয়ে মহান আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ কি বেশি নয়?
“ জেনে রেখো, আল্লাহ্ মানুষের এবং তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হয়ে যান।”
আল্লাহর কাছে প্রার্থনাকারী ব্যক্তিটি যে কেউ হতে পারে, এমন কথা বলবেন না যে, আমি তো অনেক গুনাহ করে ফেলেছি। আল্লাহ্ কি আমার দু’আ কবুল করবেন? হ্যাঁ, আপনাকে আপনার গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। সাথে সাথে দু’আ ও করতে হবে।
 
শাইখ আহমাদ মুসা জিবরিল এর দোয়ার মহিমা বই থেকে নেয়া।

--------------------


>> সুখী দাম্পত্যজীবনের জন্য ১০টি করণীয়
(কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা এবং পূর্বসূরিদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের আলোকে):
.

(১) পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও উত্তম আচরণ:
.
অনেক দম্পতির মাঝে ভালোবাসা সত্ত্বেও প্রায়ই ঝামেলা হয়। কারণ তারা একে অপরকে সম্মান দিতে জানে না। এটা খুব জরুরি। আয়িশা (রা.) বলেন, নবিজি কোনোদিন তাঁর কোনো স্ত্রীর গায়ে আঘাত করেননি (মুসলিম, আস-সহিহ: ২৩২৮)। 
.
(২) ভালোবাসা প্রকাশ করা:
.
এটা তো সবাই জানি, একটি সম্পর্কের স্থায়িত্বের জন্য ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। তবে, ভালোবাসা শুধু মনে না রেখে মুখেও রাখতে হবে। মাঝেমধ্যে লজ্জা ঝেড়ে ‘I Love You’ বা এ জাতীয় কথা মুখ ফুটে বলতে হবে। আয়িশা (রা.) পাত্রের যে স্থানে মুখ দিয়ে পান করতেন, নবিজি ঠিক সেখানে মুখ দিয়ে অবশিষ্ট পান করতেন। অথচ তখন তিনি হায়েযা (পিরিয়ডে) ছিলেন। [নাসায়ি, আস-সুনান: ৩৮৭]
.
(৩) পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুধারণা:
.
একে অপরকে চোখ বুজে বিশ্বাস করার মতো আস্থা তৈরি করতে হবে। জীবনসঙ্গীর সাথে কখনও মিথ্যা বলা যাবে না বা প্রতারণা করা যাবে না। একবার বিশ্বাস ভেঙে গেলে সম্পর্কে ফাটল তৈরি হয়। তাই, কখনই এমন কিছু করা যাবে না, যার ফলে পরস্পরে অবিশ্বাস, সন্দেহ ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়।
.
খুব ভালোভাবে জেনে রাখবেন: দাম্পত্যসম্পর্কের স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তার খুঁটি হিসেবে তিনটি বিষয় কাজ করে: পারস্পরিক ভালোবাসা, একে অপরকে সম্মান করা এবং পরস্পরে বিশ্বাস রাখা। এর কোনোটি না থাকলে সম্পর্ক জটিল হয়ে পড়ে।
.
(৪) পরস্পরের জন্য আন্তরিকভাবে দু‘আ করা:
.
কুরআন থেকে সুন্দর একটি দু‘আ:
.
رَبَّنَا هَبْ لَـنَا مِنْ اَزْوَاجِنَا وَذُرِّيّٰتِنَا قُرَّةَ اَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ اِمَامًا
.
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় আর আমাদেরকে মুত্তাকিদের নেতা বানান। [সূরা আল-ফুরক়ান, আয়াত: ৭৪]
.
এটি স্বামীর জন্য স্ত্রীও পড়তে পারবেন।
.
(৫) প্রতিযোগিতা নয়, চাই সহযোগিতা:
.
আয়িশা (রা.) নবিজি সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি স্ত্রীদের কাজে সহযোগিতা করতেন।’ [বুখারি, আস-সহিহ: ৬০৩৯]
.
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘‘নারী তার স্বামীর পরিবার, সন্তান-সন্ততির উপর দায়িত্বশীল; সে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।’’ [বুখারি, আস-সহিহ: ৬৬৫৩]
.
জীবনসঙ্গীকে কখনও ‘প্রতিযোগী’ ভাববেন না, বরং ‘সহযোগী’ মনে করুন। দুটো দেহের একটি আত্মা হয়ে চলুন। স্যাক্রিফাইস করার মানসিকতা গড়ুন।
.
(৬) স্বামীর দায়িত্ব ও স্ত্রীর আনুগত্য:
.
দাম্পত্যজীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্বামীকে অবশ্যই তার স্ত্রী ও সংসারের যাবতীয় বিষয়ে দায়িত্ব নিতে হবে। আর, স্ত্রীকে অবশ্যই স্বামীর সকল বৈধ আদেশ মানতে হবে। কারণ, আল্লাহ স্বামীকে দায়িত্বশীল বানিয়েছেন। সুতরাং পরিবারের কর্তা হিসেবে স্বামীর আনুগত্য করতে হবে। তবে, এই আনুগত্যের দোহাই দিয়ে স্ত্রীর উপর যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ছড়ি ঘুরানো যাবে না। বরং স্ত্রীর সাথে যথাসাধ্য পরামর্শ করে সংসারকে সুশোভিত করার চেষ্টা করতে হবে।
.
(৭) তৃতীয় পক্ষ থেকে সতর্কতা:
.
দাম্পত্যজীবনে মনোমালিন্য হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে, এই মনোমালিন্যের বিষয়টি নিজেদের মাঝে রাখতে হবে এবং নিজেরা নিজেরা মীমাংসা করতে হবে। কখনই কোনো তৃতীয় পক্ষকে সমাধানের জন্য আনা যাবে না। মনে রাখবেন, অধিকাংশ তালাক হয় তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনের কারণে। সমাধানের জন্য এসে সংসারটা ভেঙে বিদায় নেয়। তবে, কখনও বড় ধরনের ঝামেলা হলে পারিবারিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে।
.
(৮) কারও সাথে তুলনা নয়:
.
কোনো মানুষ পারফেক্ট না। প্রত্যেকের কম-বেশি ঘাটতি থাকে। তাই, কখনও অন্যের উদাহরণ দিয়ে জীবনসঙ্গীর ঘাটতি নিয়ে কথা বলা যাবে না। এই বিষয়টি সংসারে প্রচণ্ড বিদ্বেষ তৈরি করে এবং কুধারণার সূত্রপাত ঘটায়। অহেতুক সন্দেহের বীজ রোপিত হয় নিজেদের পবিত্র সম্পর্কে।
.
আব্দুর রাযযাক আল হালাবি (রাহ.) উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, ‘তোমার স্ত্রীর সামনে অন্য কোনো নারীর প্রশংসা করা থেকে বিরত থাকবে। তাছাড়া, তোমার মায়ের সামনেও তোমার স্ত্রীর প্রশংসা করা থেকে বিরত থাকবে।’
.
(৯) একসাথে রাগা যাবে না:
.
সাহাবি আবুদ দারদা (রা.) তাঁর স্ত্রী উম্মু দারদাকে বলেছিলেন, ‘যখন আমি রাগান্বিত থাকবো, তখন তুমি আমাকে খুশি করবে আর যখন তুমি রাগান্বিত থাকবে, তখন আমি তোমাকে খুশি করবো। এমনটি না করলে একসাথে চলা সম্ভব হবে না।’ [ইবনু হিব্বান, রওদ্বাতুল উক্বালা, পৃষ্ঠা: ২০৪]
.
অনেক পুরুষ মনে করেন, কোনো স্ত্রী কখনও স্বামীর উপর রাগ করতে পারবে না। অথচ, কখনও কখনও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অভিমান করে তাঁর স্ত্রীরা তাঁর থেকে পুরো দিন দূরে থেকেছেন। (বুখারি, আস-সহিহ: ৮৯; মুসলিম, আস-সহিহ: ১৪৭৯)। যদিও তাঁরা বেয়াদবি করতেন না। প্রয়োজনে অভিমানমিশ্রিত রাগারাগি দোষের কিছু নয়।
.
(১০) উভয়ে উভয়ের পরিবারকে সম্মান করা:
.
স্বামী তার স্ত্রীর পরিবারের লোকদেরকে যথাযথ সম্মান দেবে, বছরে কমপক্ষে ২/১ বার স্ত্রীকে তার বাবার বাড়ি যেতে দেবে। এক্ষেত্রে কোনোধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। স্ত্রী যদি তার নিজের টাকা থেকে তার বাবা-মা অথবা অন্যদেরকে সহযোগিতা করে, তবে স্বামী বাধা দিতে পারবে না। একইভাবে স্ত্রীও তার স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সাথে সুন্দর আচরণ করবে। স্বামী যদি তাদেরকে কিছু দেয়, তবে মন খারাপ করবে না।  
.
#Tasbeeh

------------------------

 

>> স্ত্রীকে বশ করে রাখার টোটকা!

কোনো সম্পর্কের মিষ্টতা আপনা-আপনি টিকে থাকতে পারে না। এতে দুজন মানুষের একে অপরের প্রতি যত্ন-আত্তির প্রয়োজন রয়েছে। নারীরা জীবনে একজন ভালোবাসার মানুষ চায়। যার সাথে সে সুখ-দুঃখের কথা বলবে ও কষ্টের সময়ে পাশে পাবে। সেই পুরুষের পাঞ্জাবীর বাটনে সে নিজের স্বপ্ন বুনবে। মাঝে মাঝে সেই পুরুষ আলো-আঁধারিতে এসে খোঁপায় একগুচ্ছ বেলিফুল গুঁজে দেবে। নারী চায় তার পুরুষ তাকে নিরাপত্তা দেবে, নিষ্ঠুর এই অন্ধকার পৃথিবীতে তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে মশাল হাতে সুপথ দেখাবে। এটাই নারীদের কাছে ভালোবাসার প্রকাশ। নারী চায় তার প্রিয়তম তার ভালোবাসার এই সংজ্ঞাকে নিজের মননে প্রোথিত করে নিক। তাই স্ত্রীকে বশে আনতে সামান্য কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে :
⬖ স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করা, তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া, বেশি বেশি কথা বলা, তার প্রশংসা করা, তার আনন্দে আনন্দিত হওয়া ও তার কষ্টে মর্মাহত হওয়া;
⬖ নারীরা উপহার পছন্দ করে। তাই স্ত্রী কী ভালোবাসে সেটা জেনে নিয়ে তাকে উপহার দেয়া।
⬖ তার কখন কী প্রয়োজন তা খেয়াল রাখা, মাসিক ভিত্তিতে কিছু টাকা হাতে দেয়া যাতে সে তার পছন্দমতো কিছু কিনে নিতে পারে।
⬖ তার সামনে নিজেকে আকর্ষণীয় ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
⬖ নারী চায় তার সঙ্গী ধৈর্যশীল হোক, দয়ালু হোক। তাই যথাসময়ে ধৈর্য ধরুন, অন্যের ওপর দয়া করুন যাতে স্ত্রীও আপনার থেকে শিখতে পারে।
⬖ এ ছাড়া স্ত্রীরা স্বামীদেরকে শিক্ষক হিসেবে মেনে নেয়। তাই তাদেরকে সময় পেলেই প্রয়োজনীয় বিষয়াদি শিক্ষা দেয়া।
⬖ সহবাসের পূর্বে ফোরপ্লে করা ও সহবাসের সময় তার সুখের বিষয়ে খেয়াল রাখা।
⬖ সহবাস ব্যতীতও প্রতিনিয়ত আদর, আলিঙ্গন ও চুমু দেয়া।
⬖ তার কল্পনার জগতে নিজেকে অংশীদার করা, তার প্রতিটি কথার মূল্য দেয়া।
⬖ শয়তান চাইবে পরিবার ভাঙার উদ্দেশ্যে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ফাসাদ সৃষ্টি করতে। কারণ, দ্বীন কায়েমের প্রথম ক্ষেত্রই হচ্ছে পরিবার। তাই স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যেহেতু এতে শয়তান খুশি হয় এবং আল্লাহ নারাজ হন।
⬖ স্ত্রীর আবেগের প্রাধান্য দিতে হবে। আবার স্ত্রী ভুল করলে তাকে আবেগ দিয়েই বোঝাতে হবে। নারীদেরকে বোঝানোর ক্ষেত্রে যুক্তির চেয়ে আবেগ অধিক কার্যকর।
⬖ নারীদের কাছে কর্মের চেয়ে মৌখিক স্বীকারোক্তি অধিক কার্যকর। স্বামী মুখ দিয়ে কিছু ব্যক্ত করলে তা স্ত্রী অনেক গুরুত্ব দেয়। এ কারণেই সব সময় বলা উচিত যে, আপনি আপনার স্ত্রীকে ভালোবাসেন। এতে লজ্জার কিছু নেই। স্ত্রীর রূপের প্রশংসা করতে হবে, তার রান্না, পোশাক, সুগন্ধি, তার সবকিছুর প্রশংসা করুন। মিথ্যা প্রশংসা হলেও করা উচিত। কিন্তু মিথ্যা যাতে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্যে বলা হয়।
সাইকোলজি - নারীদের মনস্তত্ত্ব, পৃষ্ঠা- ২০৬-২০৭
বই- মুহসিনীন (উত্তম পুরুষদের পাঠশালায়)
সম্পাদনা- আব্দুল্লাহ ইবনে জা'ফর ও বারিয়াহ বিনতে আতিয়ার
শরঈ সম্পাদনা- শাইখ আব্দুল্লাহ আল মামুন
--------------------------------

 

>> স্বামীকে বশ করার উপায়

.
অনেকেই অভিযোগ করেন স্বামী তার কথা শুনে না বা পরনারীতে আসক্ত। এজন্যও বিভিন্ন রুকইয়াহও চেয়ে বসেন। কিন্তু আপনি কি জানেন সম্পূর্ণ হালাল ভাবেই আপনি আপনার স্বামীকে যাদু করতে পারেন? এর জন্য দরকার একটু সচেতনতা। 
.
আমাদের সমাজে স্বামী-স্ত্রী অমিলের পিছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি দায়িত্ব, অধিকার ও ভালোবাসার অভাব কাজ করে। বেশিরভাগ দম্পত্তিই জানেন না তাদের এই “বিবাহ বন্ধনের উদ্দেশ্য কি”।
.
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সূরাতুর রুম এর ২১ নং আয়াতে বলেনঃ
.
“এবং তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের মধ্যে থেকে তোমাদের জন্য সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের মাঝে প্রশান্তি (সুকুন) খুঁজে পাও এবং তিনি তোমাদের মাঝে দয়া ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন।”
.
এই আয়াতে আল্লাহ আমাদেরকে বিয়ের উদ্দেশ্য বলে দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন যেন আমরা একে অপরের মাঝে “প্রশান্তি” খুঁজে পাই। এই প্রশান্তি বলতে শারিরীক ও মানসিক দুইধরণের প্রশান্তিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। শারিরীক প্রশান্তির কথা সবাইই বুঝি, কিন্তু মানসিক প্রশান্তির ব্যাপারে কতজনই বা সচেতন।
.
আপনি চিন্তা করুন খাদিজাহ বিনতে খুইয়ালিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার কথা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন হিরা গুহাতে জিব্রীল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে প্রথম দেখে ভীত সন্ত্রস্ত ছিলেন, জীবনের প্রথম তিনি এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন, একজন মালাকের সম্মুখীন হলেন, সেই মালাক তাঁকে বুকে করে তিনবার চাপ দিলেন। আপনি চিন্তা করুন, একজন না জানা মানুষের জন্য এটি কতটা ভীতিকর অভিজ্ঞতা। এই মূহুর্তে কে তাঁকে সান্তনা দিয়েছিলেন? তিনি হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মানিতা স্ত্রী, খাদিজাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা। তিনিই তাঁকে শান্ত করেছিলেন। বুঝিয়েছিলেন যে তিনি মানুষের সাথে সদাচরণ করেন তাই আল্লাহ তার অমঙ্গল করবেন না। এটাই হচ্ছে সুকুন। যখন আপনার স্বামী বাইরে থেকে হন্তদন্ত হয়ে ফিরে আসবেন, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত আর চরম ব্যস্ততময় দিন পার করে ঘরে ফিরবেন, তখন যেন তিনি আপনার কাছে ফিরে প্রশান্তি পান। তখন যেন তিনি আপনাকে আস্থাভাজন ভেবে সব খুলে বলতে পারেন। তখন যেন তিনি তার প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে তৈরী পান। আপনি সমস্যার সমাধান করতে না পারুন, তাকে তো মানসিক ভাবে শান্ত করতে পারেন। আপনি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মতন স্বামী চান, তাহলে আপনাকে হতে হবে খাদিজাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার মত। 
.
এই বোধটারই চরম অভাব আজকের দম্পত্তিরদের মাঝে। এছাড়াও বোনেরা আরো কিছু ভুল করেন যার কারণে স্বামীরা দূরে সরে যায়। সংক্ষেপে এমনঃ 
-------------------
→→ স্বামী হিসেবে একজন পুরুষ তার স্ত্রীর কাছ থেকে আনুগত্য কামনা করে। এবং এই আনুগত্যই হচ্ছে “মূল অস্ত্র” যেটা দিয়ে স্ত্রী তার স্বামীকে পুরোপুরি নিজের করে পেতে পারে। শরীয়াহ অনুমোদিত সমস্ত কাজে স্বামীর আনুগত্য করা ওয়াজিব। শাইখ আল আলবানী তার আদাবুল যিফাফ গ্রন্থে বলেনঃ 
.
“স্বামীর কামনা পূরণ করার ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর জন্য ওয়াজিব। তাই এটা আরো বেশি জরুরী যে স্বামীর কামনা পূরণ করার চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন তার সন্তান লালন পালন করা, তার পরিবারের হিফাযত করা ও অন্যান্য দায়িত্বগুলো পালন করার ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করা।”
.
স্বামীর প্রতি আনুগত্য কোন পর্যায়ের হওয়া উচিত ইবনে মাজাহতে বর্ণিত একটি হাদীসে থেকেই বুঝা যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ 
.
“যদি আমাকে আল্লাহ ব্যাতীত অন্য কাউকে সিজদাহ করার আদেশ দেওয়া হতো, তাহলে আমি স্ত্রীদের নির্দেশ দিতাম তাদের স্বামীকে সিজদাহ করতে। ” (আলবানি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।)
.
→→বিয়ে নামক সামাজিক বন্ধনের অন্যতম মূল উদ্দেশ্যই হল নিজের কামনা বাসনাকে হালাল উপায়ে পূরণ করা। এক্ষেত্রেও ইসলাম নারীদেরকে স্বামীর আনুগত্য জরুরী করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, 
.
“সেই স্বত্তার কসম যার হাতে আছে মুহাম্মাদের (ﷺ) প্রাণ। কোন নারী আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব সম্পূর্ণ করতে পারে না, যতক্ষণ না সে তার স্বামীর প্রতি দায়িত্ব পূর্ণ করে। যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে আহবান করে, আর স্ত্রী যদি উটের জিনের উপরও থাকে তার (স্ত্রীর) প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়। ”
.
→→বোনদের মাঝে যে ঘাটতি ভয়াবহ আকারে দেখা যায় সেটি হচ্ছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করা। ইউনিভার্সিটিতে আমাদের স্যার বলতেন, “পৃথিবীর বুকে এমন কোন স্বামী নেই, যে কিনা এ কথা শুনেনি যে আমি বলেই তোমার সংসার করেছি। অন্য কেউ হলে কবেই চলে যেত।”
.
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি হাদীসে নারীদের বেশি জাহান্নামী হওয়ার পিছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন (ভাবানুবাদ) “তারা স্বামীদের প্রতি অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। দশটা জিনিস পাওয়ার পর, একটি জিনিস না পেলেই তারা অকৃতজ্ঞতা স্বরূপ বলে বসে আমি কিছুই পাইনি।”
.
শাইখ ওয়াহিদ বিন আবদুস সালাম তাঁর “কুর’আনিক চিকিৎসা” বইতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার উল্লেখ করেন। সেটির ভাব কথা এমনঃ 
.
“এ পর্যায়ে আমি মুসলিম নারীদের জন্য একটি উপদেশ পেশ করছি। আর তা হল সে ইচ্ছা করলে তার স্বামীকে হালাল যাদু করতে পারে। নারী স্বামীকে আকৃষ্ট করার জন্য অধিক সৌন্দৰ্য্য ও সাজ-সজ্জা করবে, তাহলে তার স্বামীর দৃষ্টি অসুন্দর ও কুশ্রী বস্তুর প্রতি যাবে না। এমনিভাবে মুচকি হাসি, উত্তম কথা, কোমল আচরণ, স্বামীর সম্পদ সংরক্ষণ, তার সন্তানাদির প্রতি অত্যধিক যত্নবান হওয়া এবং আল্লাহর নাফরমানী ব্যতিত সকল ক্ষেত্রে স্বামীর আনুগত্য করা ইত্যাদি দ্বারা সে স্বামীর উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
.
পরিতাপের বিষয় যে, আমরা যদি আমাদের আধুনিক সমাজের দিকে তাকাই তাহলে এর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা দেখতে পাই। বর্তমান সমাজে নারীরা তাদের উত্তম পোষাক-পরিচ্ছদ ও শাড়ি-গহনা ইত্যাদি পরিধান করে কোন অনুষ্ঠানে বা কোন বন্ধু-বান্ধবের সাক্ষাতের সময় বা বিশেষ কোন কমিউনিটি সেন্টারে কোন আয়োজনে। সে এমনভাবে নিজেকে সাজায় যেন আজকেই তার বাসর উদযাপনের দিন। আর যখন সে তার স্বামীর ঘরে ফিরে আসে তার সকল সৌন্দর্য ও অলংকারাদি খুলে এবং আরেকটি অনুষ্ঠানের জন্য রেখে দেয় ।
.
অথচ তার অসহায় যে স্বামী তাকে এসব পোষাক ও অলংকার ক্রয় করে দিল, সে তাকে একটি দিনের জন্যও এগুলো পরিহিত অবস্থায় দেখতে পায় না। তার সামনে সর্বদা এমন পুরাতন কাপড় পরিধান করে যা থেকে ঘাম, পেয়াজ ও রসূনের দূর্গন্ধ বের হয়। এই নারীর যদি সামান্য বিবেক থাকত তাহলে সে বুঝতে পারত যে, তার স্বামীই এ সৌন্দর্যের অধিক উপযোগী।
.
হে নারী! তোমার স্বামী যখন তার কর্মে বেরিয়ে পড়ে তুমি ঘরের কাজকর্ম জলদি গুছিয়ে ফেল । অতঃপর গোসল করে নিজেকে সৌন্দর্যমণ্ডিত কর এবং স্বামীর অপেক্ষা কর । যখন তোমার স্বামী তার কাজ হতে ঘরে ফিরে সুন্দর স্ত্রী, প্রস্তুতকৃত খাবার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখতে পাবে তখন তোমার প্রতি তার ভালবাসা ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষত এসব যখন তুমি স্বামীর জন্য সৌন্দর্যের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম পালন করবে ও তাকে হারাম হতে রক্ষা করার নিয়তে করবে। 
.
কেননা উদরপূর্ণ লোক খাবারের প্রতি আসক্ত থাকে না। খাবারের প্রতি আকর্ষণ থাকে একমাত্র তারই, যে খাবার হতে বঞ্চিত হয়েছে।”
.
আলহামদুলিল্লাহ কতই না উত্তম নসীহাহ দিয়েছেন শাইখ!!
---------------------------

 

>> স্বামী স্ত্রীর মাঝে রোমান্টিকতা এবং রাসুল (সাঃ) এর সুন্নত

প্রথম প্রথম বিয়ে হলে জামাই বউর মাঝে অদ্ভুত ভালো লাগা থাকে। একটুখানি হাসি, একটু মিষ্টি কথা যেন মনকে ছুয়ে ছুয়ে যায়। বিয়ের পর প্রথম যখন জামাই বউ একজন আরেকজনের কাছাকাছি আসে, তখন উভয়ের মাঝে মিষ্টতা, আতিশয্য, ভালোলাগা বর্ণনাতীত।
আহা! যদি জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রতিটি দিনই এমন হতো। তাহলে কি আর কিছু লাগতো দুনিয়াতে?! বিয়ের প্রথম কয়েকটা মাস হলো হানিমুন টাইপ। যখন এই হানিমুন পিরিয়ড শেষ, তখন থেকেই আসল ঘটনা শুরু। জামাই তাঁর চাকরী, ব্যবসা নিয়া ব্যস্ত। সারাদিন পর ক্লান্ত শ্রান্ত আর খিটখিটে মেজাজ নিয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। চীৎকার করে বউয়ের কাছে খাবার চান, ধপ করে সোফায় বসে থম মেরে পড়ে থাকেন আর না হয় টিভি দেখেন, অথবা অন্য কাজ করেন। অতঃপর খাওয়া শেষে সিংকে প্লেট ফেলে রেখে আবার সোফায় গিয়ে বসেন। এভাবে একটার পর একটা অর্ডার করতে থাকেন স্ত্রীকে। অপরদিকে, জামাই মহাশয় তাঁর কোন এক পুরনো বন্ধুকে ফোন করেন, অথবা ফোন করেন কোন কলিগকে। এরপর ঘুমের পালা। যদি জামাই মহাশয়ের মুড ভালো থাকে, তাহলে তিনি স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ে থাকেন। কিন্তু শুধু নিজের খায়েশ মেটানোই থাকে উদ্দেশ্য। কাজ কর্ম শেষে ধপ করে পড়ে তিনি ঘুমিয়ে যান। বেচারী বউয়ের ব্যাপারে তাঁর কোন খেয়ালই থাকেনা। এভাবে, এটাই হয়ে যায় প্রতিদিনের রোযনামচা।
এবার আসুন বউয়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপারটা যাচাই করে দেখি। বউ প্রথম প্রথম চেষ্টা করে জামাইকে সন্তুষ্ট করার। কিন্তু ধীরে ধীরে সে তাঁর উৎসাহ, উদ্দিপনা হারাতে থাকে। কারণ সে তাঁর জামাই এর মনযোগ পায়না। সে তাঁর জামাইকে খুশী করার জন্য রান্না করে। খাবারের ডেকোরেশন পর্যন্ত নিখুত ভাবে করে। কিন্তু জামাই তাঁর খাবারের প্রশংসাতো দুরের কথা, দোষ ধরতে ধরতে কিছু বাকি রাখেনা। এভাবে এমন অবস্থা হয় যে, বউ ততোক্ষণ ভালো থাকে যতক্ষণ জামাই বাসায় থাকেনা। কারণ জামাই বাসায় আসলেই শুরু হয় তাঁর দাসত্বের জীবন। সে হয়ে যায় চাকরানীর ন্যায়। 
এধরনের বিয়ে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে যেতে থাকে। জীবনে সুখ পাওয়া হয়ে যায় দুষ্কর।
স্বামীর উচিৎ রাসুল (সাঃ) এর মতো তাঁর দাম্পত্য জীবনকে সাজিয়ে তোলা। প্রেমের আইকন পুরুষ হিসেবে আমরা রোমিওকে বুঝি, রাসুলকে নয়। এটা আসলেই অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ রোমান্টিক স্বামী যদি বলতে হয়, তাহলে বলতে হবে আমাদের এয়াসুল (সাঃ) এর কথা। তাঁর জীবনী ভালোভাবে পড়লে তা আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আমাদের রাসুল (সাঃ) আদর্শ স্বামীর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি ছিলেন তাঁর স্ত্রীদের কাছে সবচাইতে শ্রেষ্ঠ মানুষ।
একটি সুখী সংসার করতে হলে স্বামী এবং স্ত্রীর মাঝে অবশ্যই মনস্তাত্তিক, শারিরীক এবং আধ্যাত্নিক বন্ধন সুদৃঢ় হতে হবে। নিচে রাসুল (সাঃ) এর সুন্নত থেকে কিছু টিপস দেয়া হল, যা পালন করলে ইন শা আল্লাহ সুখী সংসার গড়া সম্ভব হবে।
.
১। সঙ্গী/সঙ্গিনীর অনুভুতি বোঝার চেষ্টা করুন
স্বামী স্ত্রী পরস্পরকে পরস্পরের অনুভুতির ব্যাপারে অবশ্য অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। স্বামীকে বুঝতে হবে কখন স্ত্রীর মন মেজাজ ভাল বা খারাপ। তেমনি স্ত্রীকেও বুঝতে হবে কখন স্বামীর মন মেজাজ স্বাভাবিক না। কখনই দুই জনের মন মেজাজ একসাথে খারাপ হওয়া যাবেনা। কথাকাটাকাটি বা ঝগড়ার সময় দুই জনের একজনকে অবশ্যই চুপ থাকতে হবে।এ সময় উচিৎ একজন আরেকজনের পাশে বসে সান্তনা দেয়া, সমস্যা বোঝার চেষ্টা করা, ভাল সমাধান দেয়ার চেষ্টা করা। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ) এর অনুভূতির ব্যাপারে এতটাই সচেতন ছিলেন যে, তিনি বুঝতেন কখন আয়েশা (রাঃ) তাঁর উপর খুশী হতেন আর কখন অভিমান বা গোস্বা করতেন।
২। তাঁকে আশ্বস্ত করুন।
স্বামী ও স্ত্রী দুজনকেই দুজনে আস্বস্ত রাখতে হবে। মানুষের জীবনে ভাল, খারাপ সময় এসেই থাকে। তাদেরকে জীবনের ভাল এবং খারাপ এই দুই সময়েই পাশে থাকতে হবে। ভাল সময় পাশে থাকলাম আর খারাপ সময় এলে ছেড়ে দূরে গেলাম এমনটি যেন না হয়। তাদের পরস্পরকে পরস্পরের কাছে স্বস্তি, ছায়া, অবলম্বন ইত্যাদি পেতে হয়।
একবার সাফিয়াহ (রাঃ) কোন এক সফরে রাসুল (সাঃ) এর সাথে যাবেন, কিন্তু তিনি একটু দেরী করে ফেললেন। যার ফলে তিনি কাঁদছিলেন। রাসুল (সাঃ) যখন তাঁকে এ অবস্থায় পেলেন, তিনি উম্মুল মুমিনীনের চোখের পানি মুছে দিয়ে প্রবোধ দিয়েছেন।
৩। স্ত্রীর কোলকে বালিশ বানিয়ে শুয়ে থাকুন
স্বামীর কাছে ব্যাপারটা অত্যন্ত তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু স্ত্রীর জন্য এটা অনন্য। এই আচরণ দুই হৃদয়কে কাছে টেনে নিয়ে আসে। এই আচরণে স্ত্রী প্রচন্ডভাবে আস্বস্ত হয়। বাহির থেকে স্বামীরা যখন বাসায় আসবেন, কিছুক্ষণের জন্য হলেও আপনার স্ত্রীর কোলে মাথা রেখেন শুয়ে পড়ুন। এতে আপনার বিশ্রাম ও হবে, সেই সাথে স্ত্রী ও খুশী হবেন। 
হাদিসে এসেছে, রাসুল (সাঃ) হযরত আয়েশা (রাঃ) এর কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকতেন, এমনকি কুরআন তেলাওয়াত ও করতেন।
৪। চুল আচড়ে দিন।
কোন কোন কাজ অনেক সময় সামান্য বলে মনে হলেও দাম্পত্য জীবনে এর প্রভাব যাদুময়ী। চুল আঁচড়ে দেয়া হল তাঁর মধ্যে অন্যতম। স্বামী স্ত্রী একে অপরের চুল মাঝে মাঝে আঁচড়ে দিতে পারেন। আমাদের উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ) মাঝে মাঝে নবীজির চুল আঁচড়ে দিতেন।
তেমনিভাবে অন্যান্য ছোটখাট কাজ করেও ভালবাসা বৃদ্ধি করতে পারেন। যেমনঃ জামা পড়তে সাহায্য করা, গরমের দিনে ঠান্ডা শরবত করে দেওয়া ইত্যাদি।
৫। গ্লাস বা পাত্রের একই জায়গা দিয়ে খান।
হযরত আয়েশা (রাঃ)যখন কোন পাত্র দিয়ে পানি পান করতেন, রাসুল (সাঃ) সেই একই পাত্রের সেই একই জায়গা দিয়ে পানি পান করতেন। তেমনি ভাবে গোশত খাওয়ার সময় আয়েশা (রাঃ) যে স্থান হতে খেতেন রাসুল (সাঃ) ও ঐ একই স্থান হতে খেতেন। আপনি ও আপনার স্ত্রী বা স্বামীর সাথে এভাবে ব্যবহার করুন। আপনাদের মাঝে ভালবাসা হবে প্রকট এবং বন্ধন হবে অটুট।
৬। চুম্বন করুন।
রাসুল (সাঃ) প্রায়শই তাঁর স্ত্রীকে চুম্বন করতেন। এমনকি রোযা রাখা অবস্থায়ও।
তেমনি আপনি আপনার স্ত্রীকে ও চুমু দিন। যেকোণ উসিলায় চুমু দিন। ঘর থেকে বের হবার সময়, ঘরে ঢোকার সময় চুমু দিন। এটা আপনার স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালবাসা প্রকাশ করে। আপনার স্ত্রী যখন ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন আচমকা চুমু দিয়ে surprise দিন। আপনার বিবাহিত জীবনকে সুখী করতে হলে আপনাকে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।
বিবাহিত জীবনে স্বামী স্ত্রীর মাঝে শারীরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকটায় দুজনকেই সর্বোচ্চ খেয়াল রাখতে হবে। শরীয়ত ও স্বামী স্ত্রীর মাঝের এই সম্পর্ককে উৎসাহিত করেছে। স্বামী স্ত্রীর মাঝে যে শারীরিক সম্পর্ক হয়ে থাকে তা সদকা স্বরুপ।
৬। খাবারের লোকমা মুখে তুলে খাইয়ে দিন।
হাদিসে এসেছে স্ত্রীর মুখে খাবারের লোকমা তুলে দেয়াতেও সওয়াব রয়েছে। তাই স্বামী স্ত্রী উভয়েই পরস্পরকে খাবার মুখে তুলে খাইয়ে দিন। সুযোগ পেলেই একাজ করুন।
৭। ঘরের কাজে সাহায্য করুন।
রাসুল (সাঃ) যতক্ষণ বাসায় থাকতেন, ঘরের কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন। তিনি নিজের কাজ নিজে করতেন। নিজের কাপড় ধোয়া, জুতা সেলাই করা তিনিই করতেন।
তেমনিভাবে স্বামী স্ত্রী যদি বিনা দ্বিধায় এবং বিনা জিজ্ঞাসাতেই পরস্পরের কাজে সাহায্য করে তাহলে একে অপরের প্রতি সহানুভুতিশীলতা অনুভব করবে যা দাম্পত্য জীবনের অন্যতম চালিকা শক্তি।
৮। গল্প করুন।
স্ত্রীর সাথে আপনার জীবনের ঘটে যাওয়া কোন মজার ঘটনা, অথবা গল্প শেয়ার করুন। স্বামী স্ত্রীর মাঝে দেখা যায় এক পর্যায়ে গিয়ে কাজের আর সংসারের কথা ছাড়া অন্য কোন কথাবার্তা হয়না। এটা ঠিকনা। তাদের উচিৎ নিজেদের মাঝে হাল্কা খোশগল্পে মেতে ওঠা।
অথচ আমরা যা করি তা হল, কোন ঘটনা বন্ধুদের কে ফোন করে বলে থাকি আর হাহাহুহু করে হাসি। কিন্তু স্ত্রীকে বলিনা। অথচ উচিৎ ছিল স্ত্রীকে নিয়েই সবার আগে হাহা হুহু হিহি করা। কাজেই আর দেরী না করে একটা রুটিন করুন, যে সময় আপনি ও আপনার স্ত্রী বসে হাল্কা খোশ মেজাজে কথাবার্তা বলবেন।
৯। সুখের কোন সংবাদ বা সময়টুকু তাঁর সাথে শেয়ার করুন।
জীবনের ভাল সময় গুলো অথবা কোন ভাল ঘটনায় যখন আপনি খুশী হন, সে সময় টুকু স্ত্রীর সাথে উদযাপন করুন। স্বআমী স্ত্রী পরস্পর সুখ ও দুঃখ উভয় ক্ষেত্রেই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে কাজ করে থাকে।
১০। বাচ্চাদের মতো খেলুন এবং প্রতিযোগিতা করুন।
রাসুল (সাঃ) তাঁর স্ত্রীদের সাথে হাসিতামাশা এবং ক্রীড়া কৌতুকে অংশগ্রহণ করতেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) এবং রাসুল (সাঃ) এর দৌড় প্রতিযোগিতার ঘটনাটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
১১। সুন্দর নাম দিন এবং সেই নামে ডাকুন।
রাসুল (সাঃ) তাঁর স্ত্রীদের সুন্দর নামে ডাকতেন। অনেকসময় তিনি আয়েশা (রাঃ) কে আহ্লাদ করে “আয়েশ” বলে ডাকতেন। তিনি কোন কোন সময় “হুমায়রা” বলেও ডাকতেন। হুমায়রা অর্থ হল হাল্কা লালাভ। আলেমগণ বলেছেন, কেউ যদি এত ফর্সা হয় যে রোদের আলোয় তাঁর চেহারা লাল বর্ণ হয়ে যায়, তখন এ অবস্থাকে হুমায়রা বলা হয়।
দাম্পত্য জীবনে এটাই দরকার। স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনকে প্রশংসা করবে, ভালবাসবে। ফলে জীবন হবে সুখময়।
১২। সুন্দর জামাকাপড় পরুন এবং সাজুন।
স্বামী স্ত্রী একজন আরেকজনের জন্য পরিপাটি করে থাকা জরুরী। স্ত্রীরা যেমন স্বামীর জন্য ভাল ভাল জামা কিনে পড়ে, সাজগোজ করে। স্বামীর ও উচিৎ ভাল ভাল জামা পড়া, নিজেকে পরিপাটি করে রাখা, পরিচ্ছন্ন রাখা। অথচ আমাদের পুরুষদের মাঝে এটা দেখা যায়না। আর পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেতো একেবারেই উদাসীন।
রাসুল (সাঃ) যখন বাহির থেকে বাসায় ফিরতেন, সঙ্গে সঙ্গে মেছয়াক করে নিতেন।
১৩। সুগন্ধি ব্যবহার করুন।
রাসুল (সাঃ) সুগন্ধী অনেক পছন্দ করতেন এবং দুর্গন্ধ ঘৃণা করতেন। তাঁর এক সুগন্ধীদানী ছিল এবং সেখানে থেকে তিনি নিয়মিত সুগন্ধী লাগাতেন।
স্বামী স্ত্রীর উচিৎ সুগঙ্ঘী ব্যবহার করা। নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে মনোরম থাকা। কারণ দুর্গন্ধ স্বামী স্ত্রীর মাঝে ভালবাসার অন্তরায়।
১৪। একান্তে ঘটে যাওয়া বিষয় গোপন রাখুন।
স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঘটে যাওয়া একান্ত মুহুর্তের ব্যাপারগুলো কখনই বন্ধু মহলে আলোচনা করবেন না। এটা সম্পর্কের মাঝে খারাপ প্রভাব বিস্তার করে। আপনার স্ত্রী শুধু আপনার জন্যই, আপনার স্বামী শুধু আপনার জন্যই। কখনই গোপন বিষয়গুলো বাহিরে প্রকাশ করবেন না। যারা গোপন বিষয় বাহিরে বলে বাড়ায়, তাদের ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) এ ধরনের ব্যক্তিকে নিকৃষ্ট বলে আখ্যা দিয়েছেন।.
১৫। সঙ্গীর পরিবারের সদস্যদের ভালবাসুন এবং সম্মান করুন।
স্বামী এবং স্ত্রী শুধু তাদের নিজেরকে না, তাদের পরিবারের সদস্যদেরকেও সম্মান দেখাতে হবে, স্নেহ করতে হবে। অপরজনের সামনে অপ্রজনের নিকট আত্নীয়ের প্রশংসা করতে হবে। এতে উভয়ের মনে ভালবাসা বৃধি পাবে।
---------------------

 

>> তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন

কিশোর বয়স থেকে বিয়ের ব্যাপারে আমার একটা প্রশ্ন ছিলো মনে, সেই প্রশ্নটা যাদের করেছিলাম, তাদের উত্তর কিছু খুবই নিম্নমানের। তাই আদতে আমার কৌতুহল নিবৃত্ত হয়নি।
 
প্রশ্নটি ছিলো, দু’জন মোটামুটি অপরিচিত মানুষ কীভাবে সারাটা জীবন একসাথে কাটিয়ে দিতে পারে? মোটামুটি অপরিচিত বললাম এই কারণে যে, বিয়ের আগে থেকে আসলে তেমন একটা জানাজানি একদমই সম্ভব না। একসাথে থাকতে গেলে তখন টের পাওয়া যায় যে অনেকে অনেক ছোট-ছোট বিষয়েই বিরক্ত হয়। আর তার উপরে যখন একটা বয়স পরে অনেকের শরীরে রোগবালাই ভর করে, তখন তো অপরজন অপার ভালোবাসায় আর যত্নে তার দেখাশোনা করেন — এমনটাই বা কী করে সম্ভব?
 
অবশেষে আমি আমার প্রশ্নের উত্তর পেলাম। তাও পেয়েছি পবিত্র কুরআনুল কারীমের আয়াত থেকে। 
নুমান আলী খানের আলোচনা থেকে শেখা সেই আয়াতটির ব্যাখ্যা এখানে উল্লেখ করছি —
আল্লাহ বলছেনঃ
 
“আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে”। 
[সূরা আর-রুমঃ ২১]
 
এই আয়াতটিতে আল্লাহ্‌ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অতুলনীয়, সংক্ষিপ্ত এবং সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়ে এই সম্পর্ককে তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) একটি নিদর্শন (আয়াত) বলে উল্লেখ করেছেন। আসুন এই পবিত্র সম্পর্ক সম্বন্ধে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কি বলেছেন সেটা জানি। সম্পর্কটির বিভিন্ন পর্যায় তিনি তিনটি শব্দের দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন।
“..যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে (আরবি শব্দটি হচ্ছে – তাসকুনু) থাক…”
 
১) এই ‘তাসকুনু’ শব্দটির মূল হচ্ছে সুকুন । সুকুন = প্রশান্তি।
 
যে কেউ ই তার ভালবাসার ব্যক্তির সাথে থাকার সময় প্রশান্তির এই অনুভূতি তীব্রভাবে অনুভব করে । আনন্দ, সন্তুষ্টি আর প্রশান্তির এই অনুভূতি স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি ভালবাসাকে আরো তীব্র ও গাঢ় করে তোলে। আর এই সুকুন এগিয়ে নিয়ে যায় সম্পর্কের দ্বিতীয় ধাপের দিকে।
সম্পর্কের প্রথম পর্যায়টি সুকুনের মাধ্যমে তুলে ধরার পর 
দ্বিতীয় পর্যায়টি বর্ণনা করেন এইভাবে:
“… তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন পারস্পরিক সম্প্রীতি (মাওয়াদ্দাহ)…”
 
২) মাওয়াদ্দাহ= গভীর আবেগের উচ্ছ্বাস মিশ্রিত ভালবাসা / কারো জন্য বা কোন কিছুর প্রতি তীব্র আকর্ষণ
অর্থাৎ, স্বামী বা স্ত্রী –
* অপরজনের সাথে থাকার সময় প্রশান্তি অনুভব করে
* তার প্রতি আবেগের উচ্ছ্বাস অনুভব করে
এভাবে স্বামী স্ত্রীর এই যাত্রা যতই এগিয়ে যেতে থাকে আবেগের উচ্ছ্বাস ক্রমশ কমতে থাকে। দুজনেই আরো পরিণত হয় এবং তাদের কল্পনার স্বপ্নগুলো ফিকে হতে শুরু করে। এই পথচলায় অনিবার্যভাবেই কিছু বাধা-বিপত্তি আসে। প্রথম দিকে উভয়েই আবেগে অন্ধ থাকলে ও ধীরে ধীরে একে অপরের দোষ-ত্রুটিগুলো খুঁজে পেতে শুরু করে।
আল্লাহ্‌ আয়াতটিতে এরপরে বলেছেনঃ
“… এবং তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন দয়া (রাহমা)…”
 
৩) রাহমা = দয়া/ মমতা/ কোমল স্নেহময় ভালবাসা।
এখন সময়ের সাথে সাথে আবেগের উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়তে শুরু করেছে এটা-সেটা নিয়ে খুনসুটি আর ঝগড়ার কারণে আগের সেই অখন্ড প্রশান্তি ও হয়ত সবসময় থাকেনা তাই আল্লাহ্‌ বললেন যে তিনি উভয়ের হৃদয়ে দিয়েছেন একে অপরের জন্য ‘রাহমা’ । যাতে করে মান-অভিমানে জড়িয়ে পড়লেও তারা যেন একে অপরকে গভীর মমতায় ক্ষমা করে দিতে পারে। এই ‘রাহমা’ ই সম্পর্কে এগিয়ে নিয়ে যায় কারণ যত কিছুই হোক না কেন বুকের গভীরে আমরা কখনোই চাইনা আমাদের ভালবাসার মানুষটা কষ্ট পাক।
আয়াতটির শেষে আল্লাহ বলেছেনঃ “… নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে”
সুবহানাল্লাহ !!
 
সুন্দর এই নিদর্শন নিয়ে আপনি চিন্তা করেছেন কি? এই অসাধারণ বাণী জানার পরে কোন মুসলিম-মুসলিমাহর উচিত নয় ‘কেয়ারিং আর শেয়ারিং’ এর নামে হারাম সম্পর্ক করতে যাওয়া বরং আল্লাহর উপরে তাওয়াক্কুল করে বিয়েটা করেই ফেলা।
বিয়ে করার ব্যাপারে সবকিছুই প্রতিকূল খুঁজে পাচ্ছেন? এখন উপায়?
আল্লাহর নির্দেশ মানার নিয়াত করে হাত দু’খানি তুলে দুআ করে সাহায্য চাইতে পারেন। কোন কঠিন কিছুকে সহজ করে দেয়ার মালিক আল্লাহ। কিন্তু নিয়াত করার এবং দুআ করার কাজটা আমাদেরকেই করতে হবে।
কোন হারাম সম্পর্ক নয়, কোন হারাম দৃষ্টি নয়, হারাম কোন যোগাযোগ নয় ইনশাআল্লাহ। বরং চলমান সমাজের এইসব কলুষতাকে এড়িয়ে পবিত্র সম্পর্কটিতে দু’জনার সম্পর্কের প্রতিটি মূহুর্ত যেন ইবাদাত হয় সেই ইচ্ছা পোষণ করে দুআ করা দরকার। আল্লাহর দেওয়া সুকুন, মাওয়াদ্দাহ আর রাহমাহ অর্জনের অভিপ্রায় বুকে নিয়ে ক্রমাগত চাইতে থাকা উচিত। চাওয়ার আবেগ আর তীব্রতা বেশি থাকলে কেঁদে কেঁদে জায়নামাজ ভিজিয়ে ফেলে চাইতে হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত দু’আ শুনেন। আল্লাহ অবশ্যই সবকিছু সুন্দর, শান্তিময় আর সহজ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ, যদি তাঁর কাছে আমাদের চাওয়া হয় সুন্দর।
নিশ্চয়ই আল্লাহ এই বিশ্বজগতের প্রতিপালক, যিনি সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী, যিনি হও বললেই হয়ে যায়, যিনি অসীম করুণাময়, পরম দয়ালু, যিনি আমাদের সমস্ত দুআ শোনেন। আমাদের রব আল্লাহর কাছে ছাড়া আমরা আর কার আছে যাবো? দু’হাত রিক্ত-শূণ্য আমরা চেয়ে চেয়েই একদিন সম্পদে পূর্ণ হয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। :)
 
আল্লাহ তা’আলা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেনঃ
 
“…যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে… “ [সূরা বাকারাহ : ১৮৬

 

লিখা -সপ্নচারী আবদুল্লাহ
---------------------------

 

>> যার একজন প্রেয়সী স্ত্রী আছে, সে পৃথিবীর সব'চে সুখী!

'ক্বুররতা আ'ইয়ুন'/চক্ষু শীতলকারীনি" বলতে যারা স্রেফ হুরের মতো সুন্দরী হওয়াটা বুঝেন, তারা কিঞ্চিৎ ভুলের মধ্যে আছেন।
.
বিপদ-আপদ,শত দুঃখ-কষ্ট থাকা সত্বেও আপনার স্ত্রীর পেয়ার-ভালোবাসা যদি মুহূর্তেই আপনাকে সবকিছু ভুলিয়ে দিতে পারে, তবে নিঃসন্দেহে আপনার প্রিয়তমা স্ত্রী আপনার জন্য 'ক্বুররতা আ'ইয়ুন'। চক্ষু শীতলকারীনি খুঁজতে যারা শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্যের পেছনে ছুটছেন, তারা আসলে দৃশ্যমান এক মরীচিকা লাভের আশায় ডুবে আছেন। প্রকৃত সৌন্দর্য কখনো দেখা যায় না! কারণ তা লুকানো থাকে সাদা/কালো চামড়ার আড়ালে। আরো গহীনে!

.

নবী কারীম (সা) ইরশাদ করেন,তোমাদের স্ত্রীরাও জান্নাতি হবে যে স্ত্রী অধিক প্রণয়িনী,সন্তানদাত্রী,বারবার ভুল করে বারবার স্বামীর কাছে আত্মসমর্পণকারিণী, যার স্বামী রাগকরলে সে তার নিকট এসে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি রাজি খুশি না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাইব না।
[সিলসিলাতুস সাহীহা : হা. ২৮৭]
-----------------

 

>> এমন স্ত্রী কই পাবো, আজ?

তাঁর স্ত্রী বাগানে কাজ করছিলেন। আবু দারদা বললেন, বাগান থেকে বেরিয়ে আসো, এই বাগান আমি জান্নাতের একটা গাছের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছি, যে গাছের ছায়া ধরে হাঁটতেও ১০০ বছর লাগবে। আবু দারদার স্ত্রী বললেন, কি উত্তম ব্যবসা! কি উত্তম ব্যবসা! উলামারা বলেন, এরপর আবু দারদা আর তাঁর স্ত্রী খুব গরীব হয়ে গিয়েছিলেন, এরপরও তারা আনন্দিত থাকতেন তাদের জন্য প্রতিশ্রুত জান্নাতের কথা ভেবে। আল্লাহু আকবর!
 
- এমন স্ত্রী কই পাবো, আজ?
 
খলিফা সুলায়মান ইবনে আবদুল মালিক একবার এক তাবিয়িন আলেমের সাথে ছিলেন। তিনি আলেমকে জিজ্ঞেস করলেন, আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই কেন? কেন কেউ মরতে চাইনা?
.
আলেম উত্তর দিলেন, ইয়া আমিরুল মুমিনীন! আমরা সবাই দুনিয়াতেই আবাদ করি, আর আখিরাতকে আবাদশূন্য ফেলি রাখি, দুনিয়া বিনির্মাণ করি আর আখিরাতকে করি ধ্বংস। সেজন্যই আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই। কারণ কেউ যা নির্মাণ করা হয়েছে সেটা ফেলে যা সে নিজের হাতে ধ্বংস করেছে সেখানে যেতে চায়না।
 
- The reason why death is painful and scary! the ugly truth!
----------------------

 

>> আল্লাহ আমাদের সামনে চার ধরনের স্বামী-স্ত্রীর উদাহরণ দিয়েছেন।

১। উত্তম আখলাকের অধিকারী মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তার স্ত্রী খাদিজা (রাঃ)।
২। উত্তম আখলাকের অধিকারী লুত (আঃ) ও তার (আল্লাহর পক্ষ থেকে লা’নত প্রাপ্ত) স্ত্রী।
৩। আল্লাহর পক্ষ থেকে লা’নত প্রাপ্ত ফেরাউন ও তার (উত্তম আখলাকের অধিকারী) স্ত্রী আসিয়া।
৪। আল্লাহর পক্ষ থেকে লা’নত প্রাপ্ত আবু লাহাব ও তার স্ত্রী।
🔷🔶🔷বিয়ে হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মু’মিনদের জন্য অশেষ অনুগ্রহ। বিয়ে একটা অনেক বড় ইবাদাত যা মু’মিনদের আল্লাহর আরও কাছাকাছি আসতে সাহায্য করে। আপনি আপনার সন্তানদের জীবন (দুনিয়া ভিত্তিক/আখিরাত ভিত্তিক) কিভাবে সাজাতে চান তার উপর ভিত্তি করে স্ত্রী নির্বাচন করা উচিত। কাজেই পাত্রী দেখার সময় আপনি নিজের জন্য স্ত্রী নির্বাচন করছেন শুধু তা না, বরং আপনি আপনার সন্তানের জন্য তাদের মাও নির্বাচন করছেন।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কেও একজন যদি আল্লাহভীরু ও উত্তম আখালাকের অধিকারী না হয় তবে সেটা অপরজনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় পরীক্ষা। তাই সুন্নাহ হিসেবে, বিয়ের আগে পাত্রী দেখার সময় অনেক সতর্ক থাকা খুবি জরুরী। বিয়ে করার সময় অবশ্যই, অবশ্যই, এবং অবশ্যই মেয়ের উত্তম আখলাকের ব্যাপারে নিশিত হয়ে বিয়ে করা উচিত। উত্তম আখলাক কি? উত্তম আখলাক কি শুধু পর্দা করা, সালাত আদায় করা, ছেলদের সাথে না মিশা বা যেনা না করার নাম? সত্তিকার অর্থে উত্তম আখলাক শুধু মাত্র এই কয়েকটা জিনিসের নাম না। আল্লাহর কছম করে বলছি, উত্তম আখলাক একজন মানুষের ২৪ ঘণ্টার পুরো জীবনের সাথে জরিত। উত্তম আখলাক এর অর্থ এত ব্যাপক যে, আমার মত মূর্খের পক্ষে উত্তম আখলাকের ব্যাপারে পরিপূর্ণভাবে লেখা সম্ভব না।
একজন মেয়ের জন্য দীন অনুযায়ী চলা ফেরা, উঠা বসা, বড় ছোট ও বন্ধুদের সাথে উত্তম আচরণ, অহংকার না করা, লজ্জাশিলতা, ধৈর্যশীল ও নম্র হওয়া, স্বামী শশুর-শাশুরি বা মা-বাবার সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রাখা, অপরের সুবিধা অসুবিধার প্রতি খেয়াল রাখা, স্বামীর অনুপস্থিতিতে সংসারের আমানতদার হওয়া, মিথ্যা কথা না বলা, রুক্ষ মেজাজি না হওয়া, গীবত না করা, চোগলখুরি না করা, মেহমানদারি করা ইত্যাদি ইত্যাদি সবই উত্তম আখলাকের অংশ।
তবে অনেক ছেলে নিজে পরিপূর্ণ ভাবে দীন মানার চেষ্টা করা ও উত্তম আখলাকের অধিকারী হওয়া সত্তেও, পারিবারিক বা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারনে স্ত্রী নির্বাচনের সময় এই উত্তম আখলাকের দিকে লক্ষ্য রাখতে পারে না। আমি তাদের খেদমতে কিছু বলার চেষ্টা করব।
আপনি পাত্রী বাছাইয়ের সময় নিচের বিষয় গুলর প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারেন (আল্লাহু আ’লাম)। আমি “উনি” বলতে আপানর সম্ভাব্য স্ত্রী কে বুঝাচ্ছি যিনি ইসলামী জীবন যাপনে অভ্যস্ত নয়।
১। খেয়াল করুন, উনার মধ্যে ভাল ও মন্দ বোঝার ক্ষমতা আছে কিনা। কেননা, রাসুল (সাঃ)বলেন, “একটা সময় আসবে যখন মানুষের মধ্যে থেকে জ্ঞান (অর্থাৎ সে ভাল ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না) উঠিয়ে নেওয়া হবে”। যদি তার ভাল ও মন্দ বোঝার ক্ষমতা থাকে, আপানি তার এই গুণটাকে কাজে লাগিয়ে তাকে খুব সহজেই উত্তম চরিত্রের দিকে আকৃষ্ট করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
২। তার বই পড়া ও নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা আছে নাকি সে "বিচার মানি কিন্তু তাল গাছ আমার " এই টাইপের। যদি বই পড়া ও নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা থাকে, আপনি তার এইগুনকে কাজে লাগাতে পারবেন। ফলে ইনশাআল্লাহ সে তার ভুল বুঝতে পেরে আমাতুল্লাহ হয়ে যাবে।
৩। যদি সে আলস হয়, তবে উপরের গুন তার মধ্যে থাকা সত্তেও আপনার সব চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। “এখন অলস তবে পরে ভাল হয়ে যাবে”, এই ফাদে পা দিবেন না।
৪। তার কাছের বন্ধুরা কেমন? তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা (অবশই মেয়ে) "চিলে কান নিয়েছে/ডিজুস” এই টাইপের না হয় তাবে তা আপনার জন্য মহাসুসংবাদ। কারণ কেউ যে টাইপের মানুষের সাথে মিশে, তার চিন্তা ভাবনাও ওই রকম হয়।
৫। বিয়ের পর, আপনার সংসার কেমন হবে, আপনি আপনার সম্ভাব্য শাশুড়িকে দেখালে মোটামুটি একটা ধারণা পাবেন।
৬। কোন ব্যাপারে সন্দেহ থাকলে, তার দূর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করবে না। যদি করেন, তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।
সুতরাং হতাশ হবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীল পুরুষ ও নারীদের সৎ কর্ম নষ্ট করেন না। সব সময় আল্লাহ উপর ভরসা রাখুন যেমনভাবে তার উপর ভরসা করা উচিত। 
(সংগৃহীত)
------------------

 

>> অনাগত স্ত্রীর জন্য দুয়া-

হে আল্লাহ ! আমার নসিবে যদি বিবাহ থাকে, তাহলে তুমি আমার জন্য যাকে নির্ধারণ করে রেখেছো তাকে উত্তম চরিত্র দান কর । তুমি তাকে চিন্তামুক্ত রাখো । তার মনের দুঃখ , ব্যাথা , কষ্ট সমূহ তুমি দূর করে দাও । তুমি তাকে তোমার রাহমাত দিয়ে ঘিরে রাখো । তার মনের আশা সমূহ পুরণ করে দাও এবং তুমি তাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে হেফাজত কর । আমাকেও শয়তান থেকে রক্ষা করে উত্তম চরিত্র দান করে তার যোগ্য স্বামী হওয়ার তাওফীক দান কর ।
হে আল্লাহ ! তুমি আমার অনাগত প্রিয়তমাকে ভাল রাখো । আমরা যেন জান্নাতেও একসাথে থাকতে পারি আমাদের সেই তাওফীক দান কর । আমীন।
‪#‎এই‬ দুয়াটি আমি দ্বীনের বুঝ আসার পর থেকে আমার বিবাহপূর্ব পর্যন্ত নিয়মিত করতাম । আমি দুয়া কবুলের ব্যাপারে আশা রেখেছিলাম.... আল্লাহ মহান এবং তিনি যা ইচ্ছা হয় তা করার ক্ষমতা রাখেন । আলহামহামদুলিল্লাহ ।

---------------------

 

>> আপনার স্ত্রী অসাধারণ একজন

মেয়েরা খুবই অসাধারণ। যখন একজন পুরুষ যখন একজন মেয়েকে বিয়ে করে তাকে বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে তুমি যাকে বিয়ে করেছো, সে কারো অতি আদরের, অতি প্রিয় সন্তান। এই জন্য আমরা স্বামীদেরকে বলি, যখন আপনারা আপনার স্ত্রীর দিকে তাকাবেন শুধু স্ত্রী হিসেবে তাকাবেন না। কারণ সেটা তার একমাত্র পরিচয় না। এর আগেও তার একটা পরিচয় ছিলো, যেখানে সে ছিলো অনেক মূল্যবান, অনেক প্রিয়। সেটা কি? সে কারো মেয়ে। তার নিজের পরিবার আছে যারা তাকে ভালোবাসে, সম্মান করে। তাকে অপমান করবেন না, তাকে কষ্ট দিবেন না, তাকে কাঁদাবেন না।
 
যখন আমার স্ত্রী কাঁদে তখন আমি তাকে বলি, আমি তোমাকে কাঁদতে দিবো না, সে তখন বলে এটা আনন্দের কান্না। মাশা আল্লাহ। এমন হলে ভালো। যদি সে আনন্দ বা খুশিতে কাঁদে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু যদি এমন অবস্থায় কাঁদে যে তার খারাপ সময় যাচ্ছে এবং সে কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছে না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ স্ত্রী এবং মেয়েদের কান্না শুনেন। আপনি যদি সুরা মুযাদালা দেখেন, যার নামকরণ হয়েছে এক মহিলার নামে, যে মহিলা মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে এসেছিল বিচার নিয়ে, যে তার স্বামী তার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছে। সেই মহিলার নাম ছিলো হাওলা বিনতে সালাবা (রা.) । একজন বিবাহিতা মহিলা বিয়ের পর একটি বাচ্চার আশা করেন। যখন সন্তান হয়ে যায় তখন সমাজের দৃষ্টিতে সেই মহিলার অবস্থান আরো উচ্চে চলে যায়। তিনি মাতৃত্বের বলে এই সম্মান পান। বিশ বছর আগের আর এখনকার আপনির মধ্যে অনেক পার্থক্য। পরিবর্তন অনেক ভাবেই আসে, আপনি জ্ঞানী হতে পারেন, আপনি কিছুটা মোটাও হতে পারেন, আল্লাহ আমাদের জন্য সবকিছু সহজ করে দিক।
 
তিনি বিচার দিলেন তার স্বামী তার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এবং তার প্রতি কোন আকর্ষণ দেখাচ্ছে না। যখনই তিনি তার স্বামীকে নিজের দিকে আকর্ষিত করতে চাচ্ছেন, তার স্বামী বলছেন, “তুমি আমার মায়ের মত।” সে বলতে থাকে তুমি আমার মায়ের মত, বোনের মত ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি কাঁদতে কাঁদতে রাসূল (সা.)-এর কাছে বিচার দিলেন, “আমি এখন কি করবো? ঐ লোক আমাকে এসব বলছে, আমাকে ছুয়েও দেখছে না কিন্তু সেই আমাকে গর্ভবতী করেছে, সেই আমাকে বাচ্চা দিয়েছে, সে সবকিছু করেছে। তাকে যখন আমি বিয়ে করলাম তখন সুন্দর, স্বাভাবিক ছিলাম।” মা ও বোনেরা আমি একটু থামছি আপনাদেরকে এটা বলতে যে আপনারা বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পরেই নিজের যত্ন নেওয়া ছেড়ে দেন, কিন্তু না আপনি ঘুরে দাঁড়ান, আপনি আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেন। আল্লাহ সুবহান তা আলা আমাদের সাহায্য করুন। বিভিন্ন ধরেন ব্যায়াম, সিট আপস, লেগ আপস যাই করেন না কেন এগুলো কাজে দেয়। এগুলো আপনাকে সাহায্য করবে। তাই এভাবে হাল ছেড়ে দিয়েন না, ব্যায়াম করলে আপনার ভালো লাগবে ইনশাআল্লাহ। যেমনটা আমি বললাম হাল না ছেড়ে দিয়ে ব্যায়াম করুন।
 
আমরা আগের ঘটনায় ফিরি। আপনি কি জানেন রাসূল (সা.) কি করেছিলেন? হ্যা এটা বেশ ঝামেলার বিষয় ছিলো। আপনাকে ঐ লোককে বুঝাতে হবে। কুরআনে যা বলছে, “কাদ সামি আল্লাহু কও লাল্লাতি তুজাদিলুকা ফি জাওজিহা ওয়া তাশতাকি ইলাল্লাহ” (সূরা মুজাদালাহ ৫৮ঃ ১)- “যে নারী তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং অভিযোগ পেশ করছে আল্লাহর দরবারে, আল্লাহ তার কথা শুনেছেন।” আল্লাহ সেটা শুনেছেন এবং উত্তরে আল্লাহ অনেকগুলো আয়াত দিয়েছেন এবং এই ধরণের কথা যারা বলে তাদের শাস্তির ব্যাপারে বলেছেন এবং বলেছেন নারীরা কত বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা কখনো এই ধরণের কথা বলবেন না। আল্লাহ সুবহান তা আলা আমাদের জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তৌফিক দিক।
 
[সূরা মুজাদালার আয়াতগুলোঃ
 
"যে নারী তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং অভিযোগ পেশ করছে আল্লাহর দরবারে, আল্লাহ তার কথা শুনেছেন। আল্লাহ আপনাদের উভয়ের কথাবার্তা শুনেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন।
 
তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা কেবল তারাই, যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।
 
যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, অতঃপর নিজেদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা এই একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাসকে মুক্তি দিবে। এটা তোমাদের জন্যে উপদেশ হবে। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা কর।
 
যার এ সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দুই মাস রোযা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয় সে ষাট জন মিসকীনকে আহার করাবে। এটা এজন্যে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব।"
-----------------

 

>> ৪ হাজার টাকা নগদ মোহরানার স্টুডেন্ট বিবাহের ব্যতিক্রম সাক্সেস পোস্ট পড়ুন

 

আলহামদুলিল্লাহ। এবার ৪ হাজার টাকা নগত মোহরানার স্টুডেন্ট বিবাহের ব্যতিক্রম সাক্সেস পোস্ট পড়ুন!!
গত ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং (২৪ মুহররম ১৪৪৩ হিজরি) রোজ শুক্রবার আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খোঁজ পেয়ে ৮৯ তম বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।
❏ বরের বায়োডাটা নং - 3325
❏ কনের বায়োডাটা নং - 6115
❏ বরের জেলা - বরিশাল 
❏ কনের জেলা - ব্রাহ্মণবাড়িয়া 
❏ বরের পড়াশোনা- B.B.A দ্বিতীয় বর্ষ পড়ছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
❏ কনের পড়াশোনা- অনার্স, মাস্টার্স শেষ করেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা থেকে ।
❏ বরের পেশা - ছাত্র।
❏ কনের পেশা - ঘরের রাণী।
❏ ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং (২৪ মুহররম ১৪৪৩ হিজরি) রোজ শুক্রবার , পারিবারিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কনের বাসায় পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।
❏ বিবাহের মোহরানা ছিল ৪ হাজার টাকা। যা নগতে পরিশোধ করা হয়েছিল। যদিও কনে ৫০০ টাকা মোহর দাবী করেছিল, পরে তা ৪ হাজারে চুরান্ত হয়েছিল মা শা আল্লাহ।
❏ কনে বরের চেয়ে ৫ বছরের বড়। 
❏ বর তার সাক্সেস স্টোরিতে প্রকাশ করার জন্য কিছু লিখেছেন যা দেয়া হচ্ছে -
" শুনুন জনাব
আমি কয়েকটা কথা লিখছি ১৭ থেকে ২৫ বছরের তরুনদের উদ্দেশ্যে। এই কথাগুলো আমার সাকসেস স্টোরিতে দিয়ে আমার বিশ্বাস ১ জন হলেও আল্লাহর বান্দা অনেক অনুপ্রেরণা পাবে হারাম ছেড়ে বিয়ে করতে।।
দেখুন ভাই দোয়ার চেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র আর কিছুই নেই তা আমি আমার জীবনে প্রমান পেয়েছি অনেকেই বলবে আমি দোয়া করি কিন্তু কবুল হয় না তাই নিরাশ হয়ে দোয়া করা বন্ধ করে দেয় যেটা তাদের অনেক বড় ভুল।। মহান আল্লাহ তার বান্দাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না।।
নিয়ত খাটি রেখে সকলকে বিয়ের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।।  আল্লাহর কাছে বিয়ে সহজ করে দিবার জন্য দোয়া করলে ইন শা আল্লাহ আপনার বিয়ে সহজ হয়ে যাবে এতটা সহজ হবে যা আপনার কল্পনার বাইরে।।
আমি আমার কথাই বলি ভাই স্টুডেন্ট আমি অনেক চেষ্টা করেও পাই নাও কোন টিউশনি একদম আয়রোজগারহীন অনেকেই আমাকে নিয়ে হাসি তামাশা করেছে বেটা আয় নাই ২ টাকা আবার বিয়ের নাম নেস।। অনেকে বলেছে তোর বিয়ের বয়স হয় নাই। অনেকে বলে বিয়ে করা মানে নিজের গলায় নিজেই দড়ি দেয়া।। অনেকে বলেছে আগে প্রতিষ্ঠিত হও এরপর কয়েকবছর টাকা জমাইয়া বিয়ের নাম নাও।। আমি মানুষের কথা শুনে ক্রমশ হতাশ হতাম ধরেই নিছিলাম যার টাকা নাই তার কপালে বিয়ে নাই।। কিন্তু না রে ভাই এই ধারনা মিথ্যা আল্লাহ চাইলে সব সম্ভব আমি শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম বিয়ের জন্য।।  এছাড়া আর কিছু করার সামর্থ্য ছিল না।।  আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ অবশেষে সময়ের প্রতিক্ষার পর আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এতটা সহজ করে দিয়েছেন তা বলার বুজানোর ভাষা আমার নেই।। আলহামদুলিল্লাহ মাশ হা আল্লাহ মাত্র ৪ হাজার টাকা নগদ দেনমোহর ছিল আমার বিয়েতে তা আমি ঠিক করি নাই আমার শ্যালক ঠিক করেছেন যদিও আমি বলেছিলাম ৫ হাজারের কথা কিন্তু শ্যালক আমার স্ত্রীকে বলেছিলেন ৩ হাজার এর একটু সামান্য বেশী এরপর আমার আর শ্যালকের আলোচনায় ৪ হাজার চুড়ান্ত হয়।।আমার স্ত্রী বলেছিলেন ৫০০ টাকা দেনমোহর ৫০০ টাকা কাজীর খরচ আর যাতায়াত ভাড়ার টাকা নিয়ে বের হয়ে পড়ুন  আর আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যদি আমার আর আপনার বিয়েটা যদি দুনিয়া আখিরাতের জন্য কল্যানকর হয় তাহলে যেন সহজ করে দেন।।  অকল্যানকর হলে যেন ভেংগে যায় আমাদের দূরে সরিয়ে দেন।। আমরা কেউ কাউকে নির্দিষ্ট করে চাই নি দুই জন দুই জেলার তাই ওই ভাবে খোজ নিতেও পারিনি শুধুমাত্র আল্লাহর উপর তাওয়ক্কুল করেছি আল্লাহ চাইলে ভালো কিছুই হবে ইন শা আল্লাহ।। অবশেষে আলহামদুলিল্লাহ সবকিছুই সুন্দর ভাবেই আল্লাহর রহমতে সম্পন্ন হয়।।
এই লিখা গুলো লিখতাম না শুধু লিখেছি আমার মতন যুবকদের জন্য যাদের কিছুই নেই একদম পকেট শুন্য কিন্তু পাপমুক্ত থাকতে বিয়ে করতে চায়।। ভাইয়েরা দোয়া করতে থাকুন ইন শা আল্লাহ আপনিও সফল হবেন কল্পনাও করতে পারবেন না আল্লাহ চাইলে এই কঠিন সমাজে বিয়ে কতটা সহজ হতে পারে।।।
শেষ একটা কথা বলে শেষ করব যে নারীকে বিয়ে করবেন তার রুপ যৌবনের পাগল হবেন না।।  পাগল হলে তার দ্বীনদারিতার পাগল হন।। দুনিয়ার জান্নাতের সুখ উপলব্ধি করতে পারবেন মনে হবে আপনি জান্নাত পেয়েছেন।।
আমার বায়োডাটা ৩৩২৫
আমার স্ত্রীর ৬১১৫।
সকলে আমার জন্য এবং আমার স্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমাদের পাপমুক্ত জীবন দেন। আমাদের যেন হিদায়েত এর পথে পরিচালিত করেন এবং মোমিন মুত্তাকি বান্দা বানিয়ে কবরে নেন।""
❏ সবাই নব-বিবাহিতদের জন্য অনেক দোয়া করবেন।
بَارَكَ اللهُ لَكَ وَ بَارَكَ عَلَيْكَ وَ جَمَعَ بَيْنَكُمَا فِيْ خَيْرٍ
.
উচ্চারণ- ‘বারাকাল্লাহু লাকা ওয়া বারাকা আলাইকা  ওয়া জামাআ বাইনাকুমা ফি খাইরিন’
অর্থ : ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমাদের উভয়ের প্রতি বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের কল্যাণের সঙ্গে একত্রে রাখুন।’
(তিরমিযী ১০৯১, আবু দাউদ ২১৩০)
----------------------------------
৮৯ তম বিবাহের সাক্সেস পোস্টের কথা নিশ্চই মনে আছে আপনাদের। বিয়ের সময় কনে মাত্র ৫০০ টাকা মোহর দাবী করেছিলেন, পরে দুই পরিবারের সিদ্ধান্তে ৪ হাজার টাকা মোহর আদায়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়। শুধু তাই নয়, বর সম্পূর্ণ বেকার স্টুডেন্ট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন, আর কনে বরের চেয়ে ৫ বছরের বয়সে বড়। বর কনে উভয়েই শুধুমাত্র দ্বীনের খাতিরে এই বিশেষ ছাড় দিয়ে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে বিয়ে করেছিলেন। 
কনে তার পরিচয় গোপন রেখে সবার উদ্দেশ্যে কিছু লিখেছিলেন। সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো--
❝❝❝❝❝❝❝❝❝❝❝❝❝❝
আসসালামু আলাইকুম ।
আল্লাহ যেন আমার কথাগুলো সম্পূর্ণ দাওয়াহর উদ্দেশ্যেই ক্ববুল করে। সম্ভবত গত ১৫ মে, ২০২১ এর পর 'হেদায়াত পাওয়ার গল্প ' থেকেই আপনাদের গ্রুপের সন্ধান পাই। তখনই মনে হয়েছিল এই মিডিয়াটি সত্য। আল্লাহ মনে হয় এটার মাধ্যমেই আমার ' অর্ধেক দ্বীন ' পূর্ণ করবেন।
আমার স্বল্প জ্ঞানের পরিসরে পাত্র পাত্রীর কিছু মাত্রাতিরিক্ত চাহিদার কথা বলছি।
পাত্রের চাহিদা হলো-
পাত্রীর উচ্চতা ,ফর্সা, আর্থিক অবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মধ্যবিত্ত বলা হয়, সামাজিকভাবে বংশ মর্যাদা সম্পন্ন, পরিবারের লোকজন ধার্মিক, পাত্রীর বয়স বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ২২,২৩ এর মধ্যে অথবা ২৫ এর কোটায় হতে হবে। কথা হচ্ছে এসব চাহিদা আপনাদের থাকতেই পারে। বলতে পারেন এগুলো হলে ভাল হয়। কিন্ত হতে হবে বলে যে স্থির করে দিচ্ছেন এটা আপনার ধার্মিকতা প্রকাশ পাচ্ছে?
কারণ কম উচ্চতা সম্পন্ন, গায়ের রঙ কালো, নিম্নবিত্ত ,সামাজিকভাবে বংশ মর্যাদা নেই এমন, হতে পারে দিন মজুরের মেয়ে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শুধুমাত্র মেয়েটিই হেদায়াত প্রাপ্ত, অনেক মানুষই দেড়িতে হেদায়াত প্রাপ্ত হয় সেক্ষেত্রে বয়স একটু বেশিই হতে পারে। এসব বৈশিষ্ট্যের মানুষটি কি আপনার জান্নাতের সাথি হতে পারে না?
অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা জানি শুধুমাত্র রূপ, যৌবন দেখে বিয়ে করা যুবকটি বিবাহোত্তর জীবনে খুউউউব বেশি শান্তিতে নেই। আপনি জান্নাতের পাথেয় সংগ্রহ করতে হলে, আপনাকে দুনিয়ার অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হবে- এটাই স্বাভাবিক।
পাত্রীর কিছু মাত্রাতিরিক্ত চাহিদা-
পাত্রের বয়স একটু বেশি,উচ্চতা, পেশা ইত্যাদি।
পেশা হিসেবে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী , বেসরকারি চাকুরীজীবী ইত্যাদি। এই পেশার জন্য অনেক দ্বীনী ভাইয়েরা থেমে যান। আচ্ছা, কোন দ্বীনী বোন ধার্মিকতার পাশাপাশি স্বচ্ছলতাকে প্রাধান্য দিতেই পারেন। তাই বলে এই পেশার মানুষ আপনার লাগবেই- এটা কি ধার্মিকতা প্রকাশ পায়???
প্রফেশন ইজ ভেরি হাইলাইটেড।
পাত্র পছন্দের ক্ষেত্রে নবী (স) বলেছেন, শুধুমাত্র ধার্মিকতাই প্রাধান্য দিতে। কিন্ত আমি শুধুমাত্র বেকার পাত্রকে প্রাধান্য দিতেই বলছি না। পাত্রীর চারটি গুণের কথা উল্লেখ থাকলেও ধার্মিকতাকেই প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আবার অনেকেই হাফেজ, হাফেজাহ ,আলেম, আলেমাহ কে প্রাধান্য দিন। আলহামদুলিল্লাহ ভাল কথা। কিন্ত মনে রাখবেন আপনার জান্নাতের সাথি কিন্ত জেনারেল শিক্ষিতও হতে পারে। হেদায়াতের বিষয়টি যেকোন লাইনের পড়ুয়াদের হতে পারে। দ্বীনী ভাই বোনদের বলছি আল্লাহর জন্য কিছু ছেড়ে দিন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আপনাদের অনেক কিছুই দিবেন। সুখটা আসলে আপেক্ষিক। রবের সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে। দুনিয়াটা সবকিছুই পাওয়ার জায়গা নয়। সবকিছুই পাওয়ার জন্য তো আখিরাত তথা জান্নাত আছে। .
আমার ক্ষেত্রে পাত্র বলেছিলেন, শুধুমাত্র ধার্মিকতা থাকলেই হবে। আমি তাঁর থেকে বয়সে ৫+ সিনিয়র। আমাকে বলা হয়েছিল, বিবাহোত্তর জীবনে আপনার ধার্মিকতা থাকলেই হবে। আমার রূপ, যৌবন, পারিবারিক, আর্থিক, সামাজিক কোন কিছুই দেখেননি। আলহামদুলিল্লাহ তাঁর নিয়ত যে খাটি ছিল তা বিয়ের জন্য আগের চাহিদা এবং বিয়ের পরের আচরণ সবকিছুই মিল আছে। আমি নিজেও শুধুমাত্র ধার্মিকতাই প্রাধান্য দিয়েছি। যদি অন্য কারণ আমার মাঝে থাকে তাহলে আল্লাহ আমার নিয়ত সহীহ করুক। সবচেয়ে বড় নিয়ামাহ হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাদের রহম করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ উভয় পক্ষের মোট ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। অনেক ভাই বোনেরা পারিবারিক বাধার কারণে বিয়েটা সহজেই করতে পারছেননা। পরিবারকে বোঝান, আল্লাহ র কাছে দোয়া চাইতে থাকুন,রোজা রাখুন,ফরজ নামাজের পাশাপাশি সালাতুল হাজত , তাহাজ্জুত, ইস্তেখরা পড়ে দোয়া করতে থাকুন। হতে পারে আল্লাহ আপনার ভাগ্যে উত্তমটা রেখেছেন। কিন্ত আপনার দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ আপনাকে তাঁর নিকটে নিয়ে ঐ প্রাপ্তির মূল্য বুঝিয়ে দিবেন। অনেকে না চাইতেই অথবা চাওয়ার মাত্রই পেয়ে যান। কিন্ত আপনার অপেক্ষার প্রহর মধুর হতে পারে। অনেকেই পাত্রীর কম বয়সকে প্রাধান্য দিন সন্তান জন্মদানের বিষয়টি বিবেচনা করে । আমি বলব আল্লাহ আপনার ভাগ্যে উভয় দুনিয়ার কল্যাণকর সন্তান রাখলে ইনশাআল্লাহ যেকোন বয়সী নারীর মাধ্যমেই দিতে পারেন। তবে শুধুমাত্র বেশি বয়সী নারীকেই বিয়ে করতে হবে আমি এ কথা বলছি না। উভয়েই শুধুমাত্র ধার্মিকতাই প্রাধান্য দিবেন। বিয়ে তো শুধুমাত্র জৈবিক চাহিদা বা সংসার সাজানো নয়। বিয়ে দুটি মনের পবিত্র মিলন। যার মাধ্যমে দুনিয়াই এক সাথে পথ চলে আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করা। বিয়ে মানে পাপমুক্ত থাকা, ফেতনা থেকে বেঁচে থাকা, নেক সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে উম্মাতে মুহাম্মাদী বৃদ্ধি করা। সার্বিক দিক বিবেচনা করলে বিয়ে একটি সম্পূর্ণ আল্লাহ র সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত। অনেক ভাই বোনেরা গ্রুপের কমেন্টস এ লিখেন , আমি বেকার, গায়ের রঙ কালো, গরিব ইত্যাদি বলে বিয়ে হচ্ছে না। এসব কিছুই না। আল্লাহ র কাছে চাইতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ ই সবকিছু সহজ করে দিতে পারেন। আরো কমেন্টস করেন আমার এলাকার বিয়ে হচ্ছে, আমার টা কেন হচ্ছে না। খেয়াল করুন, এই গ্রুপের সদস্যরা কিন্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক না। তাহলে এসব কমেন্টস কিছুটা লজ্জাশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।
আপনার কী অভাব আছে সেটা একমাত্র আল্লাহকেই বলুন। কীভাবে যে আল্লাহ সহজ করে দিবেন কল্পনাও করতে পারবেন না। এমনও হতে পারে নিয়ামাহ পাওয়ার পর পূর্বের হতাশার কথা মনে হলেই আল্লাহ র কাছে লজ্জিত হবেন। আমার এই কথাগোলো সবার জন্য না। পাত্র পাত্রীর এই চাহিদাগুলো সবার ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে বলিনি। সাধারণত অনেকের হতে পারে।দয়া করে আমাকে ভুল বুঝবেন না।
আর কর্তৃপক্ষের কাছে আমার একটি ভুল তথ্যের জন্য মাফ চাচ্ছি। আমার ঠিক বয়স জানা ছিল না বলে বায়োডাটা জমা দিতে অনেক সময় লেগেছিল। আমার বয়স সার্টিফিকেট এর টা দিয়েছি। সার্টিফিকেট এর থেকে আগেও হতে পারে। আর এই বিষয়টি বিয়ের আগেই পাত্রকে জানিয়েছিলাম। এজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
গ্রুপের সদস্যদের বলব আপনারা এই গ্রুপের প্রচার প্রসার করুন।
মাশাআল্লাহ এমন একটি অলাভজনক ম্যারেজ মিডিয়া দ্বিতীয়টি অনলাইন জগতে আছে কিনা আমার জানা নেই। আমি নিজেই অফলাইনে পাত্র নির্বাচনে অনেক হয়রানির স্বীকার হয়েছি।
আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আপনাদের এই কার্যক্রমকে কিয়ামত পর্যন্ত বারাকাহ দিক এবং সদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে ক্ববুল করুক আমিন ছুম্মা আমিন। আপনাদের কাছে আবেদন এবং দোয়া এই গ্রুপের কার্যক্রম শুধুমাত্র বাংলাদেশের গণ্ডিতে নয়,পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক ।
আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন আমরা সবকিছুই যেন আল্লাহ র সন্তুষ্টির জন্য করতে পারি। আপনি অন্যের জন্য দোয়া করলে ফেরেশতারা আপনার জন্য দোয়া করবে।
আমার লেখায় কষ্ট পেলে আমাকে ক্ষমা করবেন। জাযাকুমুল্লহু খয়রন ফিদদারয়িন ।
❞❞❞❞❞❞❞❞❞❞❞❞❞❞❞❞❞❞
© OrdhekDeen.com - https://www.facebook.com/OrdhekDeen

 

 

>> কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক বইয়ের (৪০০+) pdf লিংক
https://justpaste.it/4ne9o

>> কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক Apps, YouTube Video, Quran Recitation, YouTube channel.
https://justpaste.it/islamicappvideo

>> রবের_কাছে_ফেরার_গল্পগুলো
https://justpaste.it/deen_a_ferar_golpo

>> "বিয়ে, রিজিক লাভ, ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি"
https://justpaste.it/5gol5

>> র‍্যান্ড, মডারেট ইসলাম, মডার্নিস্ট মুভমেন্ট
https://justpaste.it/76iwz

>> কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক Apps, YouTube Video, Quran Recitation, YouTube channel.
https://justpaste.it/islamicappvideo

>> ফেসবুক ও ইউটিউবের উপকারী সব পেইজ, গ্রুপ, আইডি এবং চ্যানেলের লিংক
https://justpaste.it/facebook_page_grp_link

>> তাকদির আগে থেকে নির্ধারিত হলে মানুষের বিচার হবে কেন? যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াহ পৌঁছেনি তাদের কী হবে?
https://justpaste.it/6q4c3

>> কুরআন এবং আপনি
https://justpaste.it/5dds8

>> কখনও ঝরে যেও না …
https://justpaste.it/3bt22

>> ফজরে আমি উঠতে পারি না
https://justpaste.it/6kjl6

>> এই ১০টি ফজিলতপূর্ণ আমল যা আপনার সারাবছরের_ই দৈনন্দিন রুটিনে থাকা উচিত
https://justpaste.it/9hhk1

>> ইস্তিগফার অপার সম্ভাবনার দ্বার
https://justpaste.it/6ddvr

>> দাম্পত্যজীবন, অজ্ঞতা ও পরিণাম
https://justpaste.it/7u5es

>> বিপদাপদে ধৈর্যধারণ : ফজিলত, অর্জনের উপায় ও করণীয়
https://justpaste.it/8dccj

>> মহান রবের আশ্রয়ে সিরিজের সকল পর্ব
https://justpaste.it/6ttuf

>> স্বার্থক মুনাজাত
https://justpaste.it/1xf0t

>> রাসূলের উপর দরুদ ও সালাম পাঠ-সংক্রান্ত ৭ পর্বের একটি সিরিজ
https://justpaste.it/4hhtd

>> তাহাজ্জুদ সিরিজ
https://justpaste.it/4ja0n

>> মহিমান্বিত কুরআন সিরিজের সকল পর্ব
https://justpaste.it/3dxi7

>> ধ্বংসাত্মক দৃষ্টি (বদ নজর সিরিজের সকল পর্ব)
https://justpaste.it/7056k

>> বিশুদ্ধ ঈমান সিরিজ
https://justpaste.it/7fh32

>> ইমান ভঙ্গের ১০ কারণ
https://justpaste.it/9icuq

>> দুশ্চিন্তা ও ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির ১০ আমল
https://justpaste.it/8gmtk

>> পর্দায় প্রত্যাবতন: পর্দায় ফেরার গল্প
https://justpaste.it/3lqzf

>> নফসের জিহাদ -শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল (হাফিজাহুল্লাহ)
https://justpaste.it/8vnly

>> রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সকাল-সন্ধ্যার দু'আ ও যিকর
https://justpaste.it/sokalsondharjikir

>> সালাফদের আত্মশুদ্ধিমূলক বাণী
https://justpaste.it/9e6qh

>> সন্তান লাভের ৭ টি গুরুত্বপূর্ণ আমল
https://justpaste.it/9hth5

>> Rain Drops, Baseera, Hunafa, Mubashshireen Media ও Ummah Network থেকে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোর (তাওহীদ সিরিজ, আকিদা সিরিজ, তাহাজ্জুদ, সালাত, আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহ নিয়ে আলোচনা, ধূলিমলিন উপহার রামাদান, আলোর পথে যাত্রা, পরকালের পথে যাত্রা, শ্রেষ্ঠ মানুষেরা(নবীদের জীবনী), জীবন-মৃত্যু-জীবন, সীরাহ(রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনী), কুরআনের কথা, কোরআনের বিভিন্ন সূরার তাফসীর, আমি তাওবা করতে চাই কিন্তু, সাহাবীদের ঈমানদীপ্ত জীবনী, বোনদের প্রতি উপদেশ) অডিও ডাউনলোড লিংক
https://justpaste.it/4kes1

>> পাপ থেকে বাঁচার ১০ উপায়: যা সকল মুসলিমের জানা আবশ্যক
https://justpaste.it/3ob7j

>> রমজানের প্রস্তুতি : মুমিনের পথ ও পাথেয়
https://justpaste.it/5tziy

>> কাফির ও ইসলামের শত্রুদের মৃত্যু বা বিপদে আনন্দ প্রকাশ
https://justpaste.it/6ksvm

>> মহিমান্বিত রজনী (লাইলাতুল কদর) সিরিজ, লাইলাতুল কদরের জন্য ১২ টি সহজ আমল এবং ইতিকাফের গুরুত্ব, ফজিলত, উদ্দেশ্য, আমল।
https://justpaste.it/1q3bs

>> বিশেষ নফল নামাজ সিরিজ (ইশরাক, দোহা, চাশত, আওয়াবিন, যাওয়াল, সালাতুল হাজত, সালাতুত তাসবিহ)
https://justpaste.it/9n0kf

>> হাদিসের শিক্ষা সিরিজ
https://justpaste.it/4fywd

>> ইস্তিখারা সিরিজ
https://justpaste.it/2i736

>> আমাদের নবীজি (সাঃ) সিরিজ
https://justpaste.it/4c1tt

>> Words With Nusus সিরিজ
https://justpaste.it/6h968

>> বছরের শ্রেষ্ঠ দশ দিন (জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন)
https://justpaste.it/1s2vv

>> আশুরা দিবস : বাস্তবতা, পালনীয় ও বর্জনীয়
https://justpaste.it/3kn8w

>> বিবাহের কিছু আমল ও দু‘আ এবং সুখী দাম্পত্যজীবনের জন্য ১০টি করণীয়, স্ত্রীকে বশ করে রাখার টোটকা
https://justpaste.it/58k7y

>> দুআ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ লেখাসমূহ, দুআ কবুলের সময় শর্তাবলী ও আদবসমূহ, দুআ কবুলের গল্পগুলো
https://justpaste.it/7ttq6

>> কুরআন কারীম নিয়ে আতিক উল্লাহ হুজুরের অসাধারন কিছু কথা ও উপদেশ
https://justpaste.it/8abde

.

>> ইসলামিক বই, অডিও-ভিডিও লেকচার সিরিজ সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের লিংকগুলো পাবেন এখানে। সবগুলো বিষয়ের লিংক এক জায়গায় রাখা হয়েছে। এই লিংকটা শেয়ার করতে পারেন। 
https://justpaste.it/48f6m