তাগুত শাসকেরা আমাদের কিসের ভয় দেখায়?
...শাইখ তামিম আল-আদনানী হাফিজাহুল্লাহ


# ওরা আমাদের হত্যার হুমকি দেয়!

ওরা আমাদের বলে, তোমরা যদি তাওহীদ ও জিহাদের পথ থেকে ফিরে না আসো; তাহলে আমরা তোমাদের হত্যা করবো। আমরা নির্ভয় চিত্তে এই নির্বোধদের জানিয়ে দিতে চাই- আমরা হচ্ছি আল্লাহর সৈনিক; আমরা মৃত্যুকে পরোয়া করি না।
তোমরা আমাদের যেই মৃত্যুর ভয় দেখাও, আমরা সেই মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করি। মৃত্যুর পর্দা ভেদ করেই আমরা পৌঁছে যাই আমাদের রবের সান্নিধ্যে। তোমরা আমাদের পরম আকাঙ্খিত সেই মৃত্যুর ভয়ই আমাদেরকে দেখাচ্ছো?
মনে রেখো! তোমাদের সমস্ত সৈন্য-সামন্তের কাছে নারী আর মদ যত বেশি প্রিয়, আল্লাহর রাস্তায় জীবন উৎসর্গ করা আমাদের কাছে তার চেয়েও বেশি প্রিয়।
আমরা বছরের পর বছর ধরে শাহাদাতের অপেক্ষায় ময়দান থেকে ময়দানে ছুটে চলছি!
কাদের তোমরা হত্যার হুমকি দিচ্ছো? যারা মৃত্যুকে হন্য হয়ে খুঁজে- তাদের? শাহাদাতের নেশায় যারা দূর্বার ছুটে চলে- তাদের? যারা কিয়ামতের দিবসে রক্তাক্ত বদনে আপন প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াতে চায়- তাদের? যারা আপন রক্তস্রোতের মাঝেও সহাস্যে বলে- "কাবার রবের শপথ! আমরা সফলকাম হয়ে গেছি!" তাদেরকে হত্যার হুমকি দিচ্ছো? পৃথিবীর এমন কোন শক্তি রয়েছে; যে শক্তি তাদের প্রতিহত করবে? তাদেরকে আপন লক্ষ্য থেকে পিছপা করবে?

# ওরা আমাদের কারাগারের ভয় দেখায়!
ওরা আমাদের বলে, আমরা যদি জিহাদের পথ থেকে ফিরে না আসি; ওরা আমাদেরকে বন্দী করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করবে! রিমান্ডে দিবে!
আমরা নির্বিঘ্নচিত্তে ওদের জানিয়ে দিতে চাই- তোমরা আমাদের যেই কারাগারের ভয় দেখাও, আমরা কারাগারের সেই বন্দী জীবনকে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম ও সালাফে সালেহীনদের সুন্নাহ মনে করি।
হযরত ইউসুফ আ. তো জীবনের দীর্ঘ কয়েকটি বছর কারাগারেই কাটিয়েছেন ।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামগণ শিয়াবে আবু তালিবে দীর্ঘ দিন যাবৎ অবরুদ্ধ ছিলেন।
ইমাম আবূ হানীফাহ রহ. জেলখানায় বসে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. জালিমের কারাগারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রহ. দীর্ঘ দিন যাবৎ তাগুতের কারাগারে বন্দী ছিলেন।
জেনে রেখো! আমরা কারাগারের ভয়ে জিহাদের এই পথকে ছেড়ে দিবো না। আমরা তো তাগুতের কারাগারের চেয়ে কবরের অন্ধকার কুঠুরিকে অনেক বেশি ভয় করি।

# ওরা আমাদের নির্যাতনের ভয় দেখায়!

ওরা আমাদের বলে, আমরা যদি এই পথ থেকে ফিরে না আসি; ওরা আমাদের বন্দী করবে; কারার আঁধার সেলে রেখে নির্দয় নির্যাতন করবে!
আমরা সুস্পষ্ট ভাষায় দীপ্ত কন্ঠে ওদের জানিয়ে দিতে চাই- কোন নির্যাতনকারীর নির্যাতন এই জিহাদকে বন্ধ করতে পারবে না। কোন জালিমের জুলুম আমাদেরকে এই পথ থেকে সরাতে পারবে না।
আমরা শত নির্যাতনের মাঝেও হযরত বেলাল রাযি. এর মতো আহাদ আহাদ উচ্চারণ করে আমাদের মহান রবের একত্ববাদের স্বীকৃতি দিবো।
আমাদের যদি হযরত খাব্বাব রাযি. এর মতো জলন্ত অঙ্গারের ওপর শুইয়ে রাখা হয়, আর আমাদের শরীরের রক্ত-মাংস গলে সেই জলন্ত অঙ্গার নিভে যায়; তবুও আমরা এই পথ থেকে বিন্দুমাত্রও পিছু হটবো না।
আমাদের যদি হযরত খুবাইব রাযি. এর মতো শূলে চড়ানো হয়, আর ধারালো তরবারির আঘাতে আমাদের দেহকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করা হয়; তখনও আমরা খুবাইব রাযি. এর মতো নির্ভয়ে কবিতা আবৃতি করবো-


ولست أبالي حين أُقتل مسلماً
على أي جنب كان لله مصرعي
وذاك في ذات الإله وإن يشأ
يبارك على أوصال شلو ممزّع


“আমি কোন কিছুরই পরোয়া করি না; যখন একজন মুসলিম হিসাবে আমাকে হত্যা করা হয়। আল্লাহর রাহে আমাকে যেভাবেই ক্ষত-বিক্ষত করা হোক, তা কেবল মহান আল্লাহর জন্যেই। তিনি ইচ্ছে করলে আমার দেহ হতে বিচ্ছিন্ন করা প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে বরকত দান করবেন !” -সহীহ বুখারী: ৩৯৮৯

মনে রেখো! আমরা তোমাদের নির্যাতনের ভয়ে দ্বীনের পথকে ছেড়ে দিবো না। আমরা তো তোমাদের নির্মম নির্যাতনের চেয়েও আল্লাহর আজাবকে অনেক অনেক বেশি ভয় করি।

# ওরা আমাদের দুনিয়ার লোভ দেখায়!

ওরা আমাদের বলে, আমরা যদি জিহাদের পথ থেকে ফিরে আসি; ওরা আমাদের দুনিয়ার এই দিবে সেই দিবে, শান্তিতে বসবাস করতে দিবে!
আমরা ওদের জিজ্ঞেস করতে চাই- তোমরা কি আমাদের এই তুচ্ছ দুনিয়ার লোভ দেখাচ্ছো? এই সামান্য দুনিয়ার কাছে আমাদের আখিরাতকে বিক্রয় করে দিতে বলছো?
ওল্লাহি! আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাদেরকে যদি এই দুনিয়ার সম পরিমাণ দশটা দুনিয়াও দিয়ে দেয়া হয়; তারপরও আমরা ক্ষণিকের জন্যে জিহাদের এই পথ থেকে দূরে সরবো না। শুনে রেখো! আমাদের রবের জান্নাত এই তুচ্ছ দুনিয়ার চেয়ে হাজার কোটি গুণ বেশি শ্রেষ্ঠ।
আমরা আমাদের শত্রুদের লক্ষ্য করে ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রহ. এর সেই বানীটি উচ্চারণ করতে চাই-

مايصنع أعدائي بي ؟ أنا جنتي وبستاني في صدري أين رحت فهي معي لا تفارقني إن حبسي خلوة وقتلي شهادة وإخراجي من بلدى سياحة

“শত্রুরা আমার কি ক্ষতি করবে? আমি তো জান্নাতকে বুকে নিয়ে চলি, কারাগার আমাকে আমার রবের সাথে একাকী সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়, ওরা যদি আমাকে হত্যা করে; তাহলে আমি তো শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করবো, আর যদি আমাকে দেশান্তর করে দেয়; তাহলে আমি বেরিয়ে পড়বো দ্বীনি সফরে।"

সুতরাং আমাদের শত্রুদের খুশি হওয়ার কোন কারণ নেই; ওরা যত চক্রান্তই করুক, সর্বাবস্থায় আমরাই সফল।

...al-balagh 1438 ।2017। issue 3



Created: 13/01/2018
Visits: 62
Online: 1