JustPaste.it

আব্দুল্লাহ হাসান এর মুনাফিকি..

---------------------

প্রথমেই আলোচনা করি, শায়েখ আদনানীর বক্তব্যটি কি ছিল!

যার সুত্রপাত ধরে জাল কায়েদার গংরা দাওলাতুল খিলাফাহকে তাকফিরীর তীর ছুড়ে মারছেন!?

//

[২০১৫ সালের ২৩ জুন দাওলার মুখপাত্র হে আমার ক্বওম ! আপনারা আল্লাহর দিকে আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিনশিরোনামে সাড়ে ১৫ মাস আগে দাওলার তাকফীরের ব্যাপারে নিজের করা মুবাহালার সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য সম্বলিত একটি অডিও বার্তা দেন। তাতে তিনি বলেন,
ওহে ফিতনায় নিপতিত (ব্যক্তি) ! ইসলামিক স্টেইটের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার পূর্বে (জেনে রেখো), ভূপৃষ্ঠে ইসলামিক স্টেইটের ভূমিসমূহ ব্যতীত এমন কোনো স্থান নেই যেখানে আল্লাহর শারীআহ বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বিধান শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য। মনে রেখো ! যদি তুমি তা থেকে এক হাত কিংবা একটি গ্রাম কিংবা একটি শহর দখল করতে সক্ষম হও,তাহলে উক্ত এলাকাতে আল্লাহর বিধান মানব রচিত বিধানের দ্বারা পরিবর্তিত হবে। অতঃপর তুমি নিজেকে প্রশ্ন করো, “যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানকে মানব রচিত বিধানের মাধ্যমে পরিবর্তন করে কিংবা পরিবর্তনের কারণ হয়,তার হুকুম কী হবে ? হ্যাঁ, তুমি তার কারণে একজন কাফির হয়ে যাবে। সুতরাং তুমি বুঝো আর না বুঝো (আইএস)ইসলামিক স্টেইটের বিরুদ্ধে লড়াই করার মাধ্যমে তুমি কুফরে পতিত হবে।
বার্তাটির অডিও+ইংরেজি অনুবাদের লিংক...... http://tinyurl.com/p37oeky]

এ অংশটুকু এ যুগের আবদুল্লাহ সাবার পোস্ট থেকে কপি করা
//
মূলত জাল কায়েদার জ্ঞ্যান বিবেকহীন নেতা ও সমর্থকরা শায়েখ আদনানির বক্তব্যের এ অংশটুকু কে তাকফীরের ক্ষেত্রে দলিল দেয়...

মুনাফি আ. হা.. এর পুরা পোস্ট এর মধ্যে ও শুধু এ অং টুকুই পায় যেখানে সরাসরি কাফির শব্দটি উল্লেখ আছে...

//
ছাড়া এ রকম ১টি লাইন ও খিলাফার পুরা হিস্ট্রি তে কেও খুঁজে পাবেনা..

যেখানে কোন ব্যাক্তি বা সংগঠনকে কাফির হয়ে যাবে বলেছে...

--
এবার আসুন, আদনানির এ বক্তব্যের এ অংশ টুকু আমরা শরীয়ত ও এলমে নাহু দিয়ে বিশ্লেষন করি...

****************
আমরা জানি , আরবি ব্যাকরণে sentence বা বাক্য ৪ প্রকার, তার মধ্যেটি হলো جملة شرطية অর্থাৎ শর্ত বোদক বাক্য ...

জুমলায়ে শর্তিয়া পরিপূর্ণ হবার জন্যটি উসুল আছে..

1 شرط / শর্ত

2 سبب / কারণ

3 বিনিময় বা প্রতিদান  جزاء 

//

1 شرط / শর্ত

 এখানে বাকের মধ্যে অবশ্যই শর্ত পাওয়া যেতে হবে.. এর চিন্হ থাকবে শর্তের হরফ انর্থাৎ যদি যেমন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন..

 “যদি তোমরা সীমা লঙ্ঘন কর আমিও সীমা লঙ্গনের শাস্তি দিব , (আনফাল ১৯ )”

এখানে “যদি” ان হরফে র্তিয়া ,,

 সীমা লঙ্ঘন করা কারণ

আর শাস্তি দেয়া হলো “যাজআহ” 

//
মোট কথায় তোমরা সীমালঙ্ঘন করে কারণ সৃষ্টি করনা, যেন আল্লাহ তায়ালা তোমাদের শাস্তি না দেন..

.....

তেমনি ভাবে আদনানির কথা কে যদি আমরা বিশ্লেষণ করি .. তাহলে তিনি বলছেন,


যদি” [তুমি তা (খিলফার ভূমি) থেকে এক হাত কিংবা একটি গ্রাম কিংবা একটি শহর দখল করতে সক্ষম হও,]
এখানে “যদি” ان হরফে র্তিয়াহ এটি
[
মুজাফ, বা সম্মন্দিত, ]

কিসের সাথে সম্মন্দিত ?
{
তাহলে উক্ত এলাকাতে আল্লাহর বিধান মানব রচিত বিধানের দ্বারা পরিবর্তিত হবে।}
{
এ অংশের সাথে , যাকে আরবি ব্যাকরণে এ মুজাফ ইলাইহি বলে..}


মুজাফ এবং মুজাফ ইলাইহে মিলে سبب বা কারণ পাওয়া গেল, 


পরিশেষে তার বিনিময় বা ফলাফলে  جزاء কাফির হয়ে জাবে... এটাই জাজাহ..
-
আমার অর্চার্য লাগে মাথায় কত কিলো গুবর থাকলে মানুষ .. “শর্ত” ও  “সবব” বাদ দিয়ে শুদু জাজাহ নিয়ে টানা টানি করা!! 


টা কেন তোমরা বুজনা, যে তোমরা ইসলামী রাস্ট্রের বিরুদ্দে যুদ্ করে سبب "কারণ সৃষ্টি করতে যাবে ??

কেন তোমরা নিজেকে নিজে কাফির বানিয়ে নিচ্ছ!!??

তোমরাতো আজ পর্যন্ত খিলাফার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেখাতে পারনি যে তারা আল্লাহর বিধান দিয়ে বিচার করছেনা!!

!!!!!!!!!!!!
তবে কেন তাদের বিরুদ্ধে সামরিক ও মনস্তান্তিক যুদ্ চালিয়ে যাচ্ছ??

!!!!!!!!!!!!

আচ্ছা এবার একটি ফিক্বাহর মসলাহ বলি..

কিতাবুত তালাক্ব থেকে,..............

স্বামী স্ত্রীকে বলল, “ যদি তুমি ফুলানের সাথে দেখা কর তাহলে তুমি দুই তালাক”।।

আচ্ছা এখানে এ মসলার উত্তর জনতে কি মুফতী হওয়া লাগবে??

স্ত্রী যদি ফুলানের সাথে দেখা না করে, তাহলে কি তালাক হবে????

--

এখন যদি স্ত্রী এ কথা শুনার পরে রাগ করে বাপের বাড়ী গিয়ে মাকে বললে আমার স্বামী আমাকে তালাক দিয়েছে,

(অথচ স্ত্রী ফুলানের সাথেও দেখা করেনি!) তাহলে এখানে নির্বুদ্ধিতা কার??

স্বামীর না স্ত্রীর??!!

আজ এ ধরনের মুখ মাফী স্ত্রীদের মত আল কায়েদার গংরা আদনানীর কথাটি না বুজেই নিজেদের কাধে নিচ্ছে!!

বলছে, আমাদের কাফির বলছে..!!

//

এবার লজিক কি বলে দেখুন!

আমি আপনাকে বললাম, “যদি আপনি আমাকে মারেন তাহলে আপনি অত্যাচারী হয়ে যাবেন”

এখন একথা বলার পরেই আপনি মানুষদের বলতে লাগলেন, আবদুল ওয়াহেদ আমাকে অত্যাচারী বলেছেন,

হয়ত মানুষ থেকে আপনি সিম্পেথী অর্জন করতে পারবেন, কিন্তু মহান রবের কাছে কি জবাব দিবেন??

--


এবার শরীয়ত কি বলে দেখা যা, ইসলামী রাস্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কারীদের হুকুম কি? শরীয়ত কি বলে??

প্রথমে আমরা দেখব অদনানি যা বলেছে তার সাথে কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পর্ক আছে কিনা!!
যেখানে বলা হয়েছে..
“ওহে ফিতনায় নিপতিত (ব্যক্তি) ! ইসলামিক স্টেইটের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার পূর্বে (জেনে রেখো), ভূপৃষ্ঠে ইসলামিক স্টেইটের ভূমিসমূহ ব্যতীত এমন কোনো স্থান নেই যেখানে আল্লাহর শারী’আহ বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বিধান শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য।
মনে রেখো !
[যদি তুমি তা থেকে এক হাত কিংবা একটি গ্রাম কিংবা একটি শহর দখল করতে সক্ষম হও,তাহলে উক্ত এলাকাতে আল্লাহর বিধান মানব রচিত বিধানের দ্বারা পরিবর্তিত হবে। অতঃপর তুমি নিজেকে প্রশ্ন করো, “যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানকে মানব রচিত বিধানের মাধ্যমে পরিবর্তন করে কিংবা পরিবর্তনের কারণ হয়,তার হুকুম কী হবে ? হ্যাঁ, তুমি তার কারণে একজন কাফির হয়ে যাবে। সুতরাং তুমি বুঝো আর না বুঝো ]
--
(আইএস)ইসলামিক স্টেইটের বিরুদ্ধে লড়াই করার মাধ্যমে তুমি কুফরে পতিত হবে।”
--
বার্তাটির অডিও+ইংরেজি অনুবাদের লিংক...... http://tinyurl.com/p37oeky]
এ অংশটুকু এ যুগের আবদুল্লাহ সাবার পোস্ট থেকে কপি করা
//
কথাটি কিন্তু বাগদাদী, জামাতুল বাগদাদী, কিংবা তানযীমুদ দাওলা... এর কোনটির সাথে সম্পর্কিত নয়..
এখানে স্পষ্ট বুঝা যায়, কথাটি আল্লাহর আইন ও মানুষের আইন এবং রাস্ট্রের সাথে সম্পর্কিত..
সত্যি যদি আদনানির দাবি ও ইসলামিক স্টেট এর আমলের মিল ও শরীয়তের শর্ত কোরাআন সুন্নাহ মুতাবেক পাওয়া যায়, তাহলে আদনানির কথাও ১০০% হক.
এর আগে আমাদের দেখতে হবে একটি বৈধ ইসলামী রাস্ট্রের জন্য শরিয়াত কি শর্তারোপ করে!!??
/
১ টি বৈধ ইসলামী রাষ্ট্রের শর্ত ৩টি
-----------
১. মুসলিমদের তামকিনপূর্ণ ১টি ভুখন্ড, (হোক না তা ১ বর্গ কিমি: )
দলিল, (সুরা নূর, ৫৫, সিরাতে ইবনে হিশাম, আর রাহিকুল মাখতুম, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া..শরাহ মুসলিম, ইত্যাদি..)
;
২. তার শাসক আল্লাহর আইন দ্বারা বিচার করবে (Not man-made laws).
দলিল, সুরা হজ ৪১.
;
৩. ১টি সামরিক বাহিনী থাকবে, যারা ইসলামী রাস্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিবে ও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে..
দলিল, সুরা আনফাল, ৩৯. তাওবা ২৯, ৭৩/
--
অতএব উপরের ৩টি মৌলিক শর্ত যদি বর্তমান ইসলামিক স্টেট এর কাছে পাওয়া যায়, তাহলে তারা অবশ্যই বৈধ ইসলামী রাস্ট্র..
/
এবার এধরনের ইসলামী রাস্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বা তার সহযোগিতা করা শরীয়তে হুকুম কি??
হ্যা! শরীয়ত বলে কাফির হয়ে যাবে...
যেমন,
১. যারা মুমীন তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, আর কাফিরেরা যুদ্ধ করে তাগুতের পথে. (সুরা নিসা, ৭৬)
'
২. নিস্চয়ই তারাই কাফির, যারা আল্লাহর (বিধান প্রতিষ্টার) পথে বাধা দেয়... (সুরা নিসা, ১৬৭)
--
৩. Sura hud, aayat 19,
যারা আল্লাহর দীন প্রতিস্টায় বাধা দেয় , এবং তাতে বক্রতা সৃষ্টি করে , তারাই কাফির, তারাই পরকালকে অশিকার করে...
/
৪র্থ দলিল, {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ اللّهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِندَ اللّهِ..} البقرة: 217، أي تعدلون بالناس عن سبيل الله.
এখানে বলা হচ্ছে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা কবীরা ঘুনাহ (এ অংশ মান্সুউখ ) আল্লাহর পথে বাধা দেয়া কুফুরী...
/
৫ম দলিল, 3- قال سبحانه: { إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ لِيَصُدُّواْ عَن سَبِيلِ اللّهِ فَسَيُنفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيْهِمْ حَسْرَةً ثُمَّ يُغْلَبُونَ وَالَّذِينَ كَفَرُواْ إِلَى جَهَنَّمَ يُحْشَرُونَ} الانفال:36
নিস্চয়ই যারা কাফির তারা আল্লাহর পথে বাধা দিতে সম্পদ খরচ করে..
.
৬ষ্ঠ দলীল
.......
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ
নিস্চয়ই যারা কাফির , তারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে .. সুরা হজ ২৫ .
---
ইমাম মুসলিম এর ফুতুআ ,
http://www.almeshkat.net/vb/archive/index.php/t-38564.html
ولقد كان الكفار هم الذين يصدون عن سبيل الله،حتى اذا هزمونا بالغزو الفكري والسياسي والعسكري واحتلوا عقولنا وبلادنا اقاموا مقامهم مسلمين يصدون عن سبيل الله .
فأقاموا في بلاد الاسلام احزابا وجمعيات تصد عن سبيل الله، واقاموا حكاما يحكمون بغير ما انزل الله ويصدون عن سبيل الله، واقاموا افرادا من المغفلين والمأجورين يصدون عن سبيل الله .
ن المعضله التي نواجهها نحن المسلمين هي ان عدونا الكافر المستعمر يحتل بلادنا سياسيا وفكريا وفي حكم المحتل لها عسكريا رغم ما ترونه من بهارج التحرر الزائف ومظاهر السياده الكاذبه . وحل هذه المعضله هو اخراج هذا العدو من بلادنا ورده عنها والحيلوله بينه وبين ان يكون له في ديارنا موضع اصبع، والطريقه الى ذلك هي كفاح الحكام كفاحا سياسيا لا هوادة فيه لانهم عملاؤه فوق كونهم يحكمون بغير ما انزل الله وان يقترن هذا الكفاح السياسي بالصراع الفكري لافكار الكفر من قوميه ووطنيه واشتراكيه ولحملة هذه الافكار من الضالين المضلين، وطريق ذلك هو حمل الدعوة الاسلاميه والعمل على استئناف الحياة الاسلاميه، لذلك فانا ندعوا الامة لحمل الدعوه الاسلاميه في الطريق السياسي لتصد من يصد عن سبيل الله ولتقيم سلطان القرآن وترفع راية الاسلام .
//
এবং সকল ইমামগণের মতেই কাফির হয়ে যাবে, সে ব্যাক্তি যে ইসলামী রাস্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।।
--
এবার মুনাফিক্বীর চরম পর্যায়ে আছে সোমালিয়ায় আল শাবাবের শরিয়্যাহ দ্বারা রাস্ট্র পরিচালনা!!
সেখানে রেফারেন্স টানছেন উনি শাইখ আনওয়ার আওলাকি রহঃ এর!!
সবই ঠিক ছিল কিন্তু সুক্ষভাবে ৩টি বাটপারি করেছেন।
/
১। فعل مضارع এর فعل ماضي এর ছিগাহকে সুকৌশলে অনুবাদে সাজিয়ে নেয়া.. যেমন আওলাকী সাহেবের পুরা বক্তব্যের মধ্যে মাদী ইসতিমরারীর قد জাতিয় (قد حكم) কোন শব্দ নেই। অর্থাৎ সোমালিয়ায় শরীয়্যাহ প্রতিস্টা হয়ে গেছে এখন মানুষ অনেক সুখে আছে.. এ ধরনের কোন past perfect tense নেই উনার কথার মধ্যে..
আছে present continuous tense.. অর্থাৎ আল শাবাব কিছু এলাকা বিজয় করেছে, এখন সেখানে তারা শরীয়্যাহ প্রতিস্টা করবে (يحكم شرعة الله ) মানুষ সুখে থাকবে..
/
২। 2007/08 এর পুরানো দুর্বল ইস্যু 2016 সালের খিলাফাহর বিরুদ্ধে উপস্হিত করে নিয়ে আসা।
/
৩। আরবি লিংক, ও ভিডিওর URL Blocked, কিন্তু তার বাংলা অনুবাদের লিংক Active.