JustPaste.it

مؤسسة الفردوس
আল ফিরদাউস
Al Firdaws
 
تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

 

في اللغة البنغالية
বাংলা ভাষায়
In the Bengali Language

 

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled: 

 

سلسلة تزكية النفس- الحلقة ٢٧
خصائص المؤمن
আত্মশুদ্ধি- পর্ব- ২৭
মুমিনের বৈশিষ্ট্য
Self-purification- Episode-27
Believer Features

 

لمولانا صالح محمود حفظه الله
মাওলানা সালেহ মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ
By Mawlana Saleh Mahmud Hafizahullah

 

للقرائة المباشرة والتحميل
সরাসরি পড়ুন ও ডাউনলোড করুন
For Direct Reading and Downloading


روابط بي دي اب
PDF (897KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৮৯৭ কিলোবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/SiJzXArykq2C4XN


https://archive.org/download/mominer-boishishto/27.%20MuminerBoisisto.pdf


https://www.mediafire.com/file/a0yl4swsfja0ior/26._SomoyerSothikMullayon.pdf/file


https://top4top.io/downloadf-1896jwbua2-pdf.html


https://files.fm/f/e5buhx3ns

 

 

روابط ورد
Word (450 KB)
ওয়ার্ড [৪৫০ কিলোবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/jTHqjLDxCfb3poE


https://archive.org/download/mominer-boishishto/27.%20MuminerBoisisto.docx


https://www.mediafire.com/file/idvnwy9xll1mfqa/26._SomoyerSothikMullayon.docx/file


https://top4top.io/downloadf-18966lbo11-docx.html


https://files.fm/f/6petekgvj

 

 

روابط الغلاف- ١
book Banner [305 KB]
বুক ব্যানার ডাউনলোড করুন [৩০৫ কিলোবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/FpmG3ncH8N8Hr4C


https://archive.org/details/mominer-boishishto


https://www.mediafire.com/view/zvxlbdp42h6xgjq/Attoshoddi-shriz-26.jpg/file


https://jpcdn.it/img/ee65d8de0368378d08ce2356178fcbce.jpg


https://files.fm/f/7pw7u2d2v

 

 

روابط الغلاف- ٢
Banner [1.23 MB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [১.২৩ মেগাবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/grFtE4AAm2r9AnR


https://archive.org/details/mominer-boishishto/Mominer-Boishishto.jpg


https://www.mediafire.com/view/bdu0z7kdm0nqwf0/Attosuddhi_-_26_-_Shomoier-Shotik-Mollaon_-_Banner.jpg/file


https://jpcdn.it/img/639d22a516524ec8906044192a15bc21.jpg


https://files.fm/f/ep9p3ga62

 

*************

 

আত্মশুদ্ধি – ২৫

মুমিনের বৈশিষ্ট্যসমূহ

 

 

 

মাওলানা সালেহ মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ

 

 

 

সূচিপত্র

 

মুমিনের পরিচয়: 5

১. সন্দেহ মুক্ত জীবন-যাপন: 6

২. মুমিন মোহাব্বত ও দয়ার প্রতীক: 7

৩. মুমিন সর্বদা আল্লাহর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে: 8

৪. মুমিন আল্লাহর ফায়সালার প্রতি পূর্ণ অনুগামী: 9

৫. মুমিন আল্লাহর স্মরণে প্রশান্তি লাভ করে: 10

৬. মুমিন আল্লাহর রহমত প্রাপ্ত হয়: 11

৭. মুমিনরা আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত দল: 11

৮. মু’মিনরাই বিজয়ী জাতি: 13

৯. মুমিনদের একমাত্র পৃষ্ঠপোষক আল্লাহ তা’আলা: 14

১০. মুমিনরা ভীতিমুক্ত শান্তি ও নিরাপত্তার বেষ্টনীতে আবদ্ধ জাতি: 15

১১. মুমিনরাই জান্নাতের একমাত্র হকদার: 15

১২. মুমিনরা নামাযের সংরক্ষণকারী: 17

১৩. মুমিনরা আল্লাহর সীমা রক্ষাকারী ও তাঁর গোলামীর জীবন-যাপনকারী: 17

১৪. মুমিনরা আল্লাহ প্রদত্ত আমানতের হেফাজত-কারী: 18

১৫. মুমিনরা কৃত ওয়াদার সংরক্ষণকারী: 19

১৬. মুমিন সব কাজে সবরকারী: 21

১৭. মুমিন আল্লাহর কাছে বাইআত বদ্ধ: 24

১৮. মুমিনরা বিনয়ী ও নম্র হয়: 28

১৯. মুমিন তাকওয়ার উজ্জ্বল নমুনা: 29

২০. মুমিন আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুলকারী: 31

 

 

 

 

 

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ

আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন, ওয়াস্-সালাতু ওয়াস্-সালামু আলা সাইয়্যেদিল আম্বিয়া-ই ওয়াল-মুরসালিন, ওয়া আলা আলিহী, ওয়া আসহাবিহী, ওয়ামান তাবিয়াহুম বি ইহসানিন ইলা ইয়াওমিদ্দীন, মিনাল উলামা ওয়াল মুজাহিদীন, ওয়া আম্মাতিল মুসলিমীন, আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন

আম্মা বা

মুহতারাম ভাইয়েরা! আমরা সকলেই দুরূদ শরীফ পড়ে নিই-

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ،كما صَلَّيْتَ عَلٰى إبْرَاهِيْمَ، وَعَلٰي آلِ إبراهيم، إنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ، اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ، وَعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إبْرَاهِيْمَ، وَعَلٰى آلِ إبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ.

বেশ কিছুদিন পর আজকে আবারো আমরা তাযকিয়া মজলিসে হাজির হতে পেরেছি, এই জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করি- আলহামদুলিল্লাহ

মুহতারাম ভাইয়েরা! আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে : মুমিনের বৈশিষ্ট্য গুলো কি?

প্রথমে আমরা মুমিনের পরিচয় জেনে নিই।

মুমিনের পরিচয়:

যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের একত্ববাদে পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে বিশ্বাস স্থাপন করে তার প্রতিটি হুকুম মেনে চলে এবং সে অনুযায়ী আ’মল করে তাকেই মুমিন বলে। এভাবেও বলা যায়, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তার প্রেরিত নবী, রাসূল, ফিরিশতা, কিতাব, পরকাল ও তাকদীরের প্রতি পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে বিশ্বাস স্থাপন করে আর ঈমান গ্রহণের পর সে ঈমান থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয়নি সে-ই মুমিন।

এবার আসুন মুমিনের বৈশিষ্ট্যগুলো কি তা নিয়ে আলোচনা করি।

মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ও পবিত্র হাদিস শরীফে মুমিনের যে সকল বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে আমি তা ধারাবাহিকভাবে আপনাদের সামনে পেশ করছি। মুমিনের বৈশিষ্ট্য:

. সন্দেহ মুক্ত জীবন-যাপন:

মুমিন আল্লাহর রুবুবিয়াতের উপর ঈমান আনার পর আর কখনো সন্দেহে পড়ে না। সে পূর্ণতার সাথে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার উপর আস্থাশীল থাকে। বিশেষ করে দ্বীনের ক্ষেত্রে সন্দেহ মুক্ত থেকে আ’মল করা। দ্বীনি কোন কাজ করার ক্ষেত্রে সন্দেহের সাথে না করা। কারণ সন্দেহের সাথে যেই কাজ করা হয়, তা আন্তরিকভাবে করা হয় না এবং কাজটাও অনেক ক্ষেত্রে সঠিক হয় না। যেমন ধরুন আমরা এখন জিহাদি কাজে শরীক আছি, তো এ ক্ষেত্রে আমরা যে যেই কাজ গুলো করতেছি এগুলোর ব্যাপারে যদি সন্দেহ থাকে যে, এগুলো জিহাদের কাজ কি না? তাহলে আমাদের এই কাজ গুলো ইখলাসের সাথে হবে না এবং তার মাঝে আন্তরিকতাও থাকবে না। বরং কাজগুলোর ক্ষেত্রে ভুলও হয়ে যেতে পারে। এই জন্য মুমিনের অন্যতম গুণ হচ্ছে সন্দেহ-মুক্তভাবে দ্বীনি কাজ গুলো আঞ্জাম দেওয়া।

অতএব ভাইয়েরা! আমরাও চেষ্টা করব আমাদের কাজগুলো সন্দেহ-মুক্তভাবে ইখলাসের সাথে করার জন্য। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে সন্দেহ-মুক্তভাবে ইখলাসের সাথে কাজ করার তাওফিক দান করুন, আমীন

দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহ মুক্ত থাকা এটা সত্যবাদী মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

যেমন আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনে বলেন,

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ

অর্থ: “প্রকৃত মুমিন তারাই যারা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনার পর আর সন্দেহে পড়ে না এবং নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে, এরাই সত্যবাদী”। [সূরা হুজরাত-৮৯:১৫]

. মুমিন মোহাব্বত ও দয়ার প্রতীক:

মুমিনের জিন্দেগীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল মোহাব্বত ও দয়া। এ জন্য মুমিনকে মোহাব্বত ও দয়ার প্রতীক বলা হয়। তাদের মাঝে সর্বদা ভ্রাতৃত্ববোধের মোহাব্বত থাকে। একে অপরকে ভাই ভাইয়ের মত মোহাব্বত করে।

যেমন আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

অর্থ: “মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও”। [সূরা হুজরাত ৪৯:১০]

আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন,

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদেরকে দয়াময় আল্লাহ ভালবাসা দেবেন”। [সূরা মারঈয়াম ১৯:৯৬]

অর্থাৎ, সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য দয়াময় আল্লাহ তাআলা (মানুষের অন্তরেও) মোহাব্বত পয়দা করে দিবেন

হাদিস শরীফে এসেছে,

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " الْمُؤْمِنُ آلِفٌ مَأْلُوفٌ وَلا خَيْرَ فِيمَنْ لا يَأْلَفُ وَلا يُؤْلَفُ ، رواه احمد.

অর্থাৎ, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘মুমিনমোহাব্বত ও দয়ার প্রতীক। ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, যে কারও সঙ্গে মোহাব্বত রাখে না এবং সেও মোহাব্বত প্রাপ্ত হয় না”। [মুসনাদে আহমাদ]

উক্ত হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, ঐ ব্যক্তির মধ্যে কোন কল্যাণ নেই যে মোহাব্বত করতেও পারে না এবং মোহাব্বত নিতেও পারে না। অবশ্যই এই ভালবাসা ও মোহাব্বত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হওয়া চাই।

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে,

مَن أحبَّ للَّهِ وأبغضَ للَّهِ ، وأعطى للَّهِ ومنعَ للَّهِ فقدِ استَكْملَ الإيمانَ أخرجه أبو داود4681

অর্থ: “ঐ ব্যক্তি তার ঈমানকে পূর্ণাঙ্গ করল যে কাউকে ভালবাসল আল্লাহর জন্য, কাউকে ঘৃণা করল আল্লাহর জন্য, কাউকে কোন কিছু দিল আল্লাহর জন্য আবার কাউকে কোন কিছু দেওয়া হতে বিরত থাকল কেবল আল্লাহর জন্য”। [তিরমিজী]

দুই নাম্বার বৈশিষ্ট্যের সারাংশ হচ্ছে,

এক মুসলমান অপর মুসলমানকে মোহাব্বত করবে। শুধু তাই নয় বরং প্রত্যেক মুজাহিদ অপর মুজাহিদের সাথে মোহাব্বতের আচরণ করবে এবং যে মুসলমান জিহাদ করে না তাদের সাথেও মোহাব্বতের আচরণ করবে। এই জন্য আমাদেরকেও মোহাব্বত করা শিখতে হবে।

. মুমিন সর্বদা আল্লাহর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে:

মুমিন তার অন্তরে সার্বক্ষণিক আল্লাহ তা’আলার ভয় লালন করে। এই জন্য শয়তান তার উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। মুমিন সে আল্লাহর উপর এমন আস্থাশীল থাকে যে, কোন বিপদও তাকে আল্লাহর বিধান থেকে গাফিল করতে পারে না, বরং তার ঈমানের জযবা আরো বেড়ে যায়

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন,

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ

অর্থ: “যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেওয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ারদেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে”। [সূরা আনফাল ৮:]

الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ

অর্থ: “সে সমস্ত লোক, যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে রুজি দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে”। [সূরা আনফাল ৮:]

أُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ

অর্থ: “তারাই হলো সত্যিকার ঈমানদার! তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রুজি”। [সূরা আনফাল ৮:]

এ সকল আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, যারা আল্লাহকে ভয় করবে এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করবে, দ্বীনের প্রতি তাদের আগ্রহ প্রেরণা দিন দিন বাড়তেই থাকবে

. মুমিন আল্লাহর ফায়সালার প্রতি পূর্ণ অনুগামী:

মুমিন তার ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সামষ্টিক জীবন পর্যন্ত আল্লাহর বিধান ও ফায়সালার খিলাফ কোন কিছু করে না। সে জমিনে আল্লাহর বিধান ও ফায়সালার বাস্তবায়নের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,

إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَن يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

অর্থ: “মুমিনদের বক্তব্য কেবল এ কথাই যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে তাদেরকে আহ্বান করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম ও আদেশ মান্য করলাম। তারাই সফলকাম”। [সূরা নুর ২৪:৫১]

সুতরাং আমাদেরকেও সকল বিষয়ের ফয়সালা আল্লাহর উপরই ন্যস্ত করতে হবে।

. মুমিন আল্লাহর স্মরণে প্রশান্তি লাভ করে:

মুমিনের জিন্দেগীতে আল্লাহর স্মরণ, আল্লাহর বিধানের অনুসরণ তাকে দারুণ ভাবে অনুপ্রাণিত করে। সে আরো অধিক পরিমাণে আল্লাহর বিধান পালনে আগ্রহী হয়। আল্লাহর বিধান পালনে সে মজা অনুভব করে। শাইখুল হিন্দ মাহমুদ হাসান দেওবন্দি রহ. সম্পর্কে একটি ঘটনা শুনেছিলাম, “তাকে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, হযরত! আপনি জান্নাতে গেলে আল্লাহর কাছে কোন জিনিসটা চাইবেন? তিনি উত্তরে বললেন, আমি আল্লাহকে বলব, আল্লাহ আমাকে একটি জায়নামাজের ব্যবস্থা করে দিন। আমি নামায পড়ব। নামায পড়তে এবং আপনাকে সিজদা করতে আমার ভালো লাগে”। এই বুজুর্গের কাছে নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণ প্রিয় হয়ে গেছে, যার কারণে তিনি এই আবেগ প্রকাশ করেছেন

মূলত যার কাছে যেটা ভালো লাগবে সে সেটার আবেগই প্রকাশ করবে। যেমন ধরুন যারা শহীদ হবে তারা কিসের আবেগ প্রকাশ করবে? তারা আবেগ প্রকাশ করবে যে, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আবার দুনিয়াতে পাঠান, আমি আবার জিহাদ করে শাহাদাত বরণ করে আসি। কারণ তার কাছে শাহাদাতের মৃত্যুর চেয়ে প্রিয় আর কিছুই নেই।

যাইহোক ভাইয়েরা বলছিলাম, মুমিন আল্লাহর স্মরণে প্রশান্তি লাভ করে। তো ভাইয়েরা! আমরাও যদি আল্লাহকে স্মরণ করি, তাহলে আল্লাহ তাআলাও আমাদেরকে স্মরণ করবেন

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُواْ لِي وَلاَ تَكْفُرُونِ

অর্থ: “সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখব এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হইয়ো না”। [সূরা বাকারা ২:১৫২]

যেমন মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,

الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

অর্থ: “যারা মুমিন, আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর পরম শান্তি ও স্বস্তি লাভ করে থাকে। জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়”। [সূরা রাদ ১৩:২৮]

অতএব ভাইয়েরা! আমরাও সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ

. মুমিন আল্লাহর রহমত প্রাপ্ত হয়:

মুমিনরা হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার রহমতের ছায়ার নিচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী। তারা আল্লাহর হুকুমের যথাযথ অনুসরণ করে। ফলে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রহমত দ্বারা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখেন

আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,

وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَـئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللّهُ إِنَّ اللّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

অর্থ: “আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। উহারা এমন লোক যাদের প্রতি আল্লাহর রহমত অবশ্যই নাযিল হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী”। [সূরা তাওবা ৯:৭১]

উক্ত আয়াত থেকে বুঝা যায় ঈমান আনার পর যারা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে; মোটকথা দ্বীন অনুযায়ী জীবন যাপন করবে তারা আল্লাহর রহমতের বেষ্টনীতে থাকবে।

. মুমিনরা আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত দল:

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা মুমিনদের একমাত্র সাহায্যকারী এবং মুমিনরাই আল্লাহর সাহায্যের একমাত্র হকদার

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ رُسُلًا إِلَى قَوْمِهِمْ فَجَاؤُوهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَانتَقَمْنَا مِنَ الَّذِينَ أَجْرَمُوا وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ

অর্থ: “আপনার পূর্বে আমি রাসূলগণকে তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি। তাঁরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর যারা পাপী ছিল, তাদের আমি শাস্তি দিয়েছি। মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব”। [সূরা রূম ৩০:৪৭]

উক্ত আয়াতের শেষে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ

অর্থ: “হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন”। [সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:]

এই আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহকে সাহায্য করলে আল্লাহও সাহায্য করবেন। আল্লাহকে সাহায্য করার অর্থ কি? আল্লাহকে সাহায্য করার অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করা। অর্থাৎ, আল্লাহর দ্বীন আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে, আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সাহায্য করবেন এবং হক্বের উপর দৃঢ়পদ রাখবেন। কীভাবে আল্লাহর সাহায্য আসবে তা একটি ঘটনা বললে হয়তো পরিষ্কার বুঝে আসবে।

“অনেক দিন আগে একজন মুজাহিদ আলেমের কাছ থেকে শুনেছিলাম। তিনি বলেছেন যে, একবার আমরা রুশ বাহিনীর মোকাবেলা করার জন্য অভিযানে বের হয়েছি। হঠাৎ আমাদের সামনে একটি ছোট নদী চলে আসল যেটা আমাদেরকে পাড়ি দিতে হবে। কিন্তু ওপারে যাওয়ার মত আমাদের কাছে কোন ব্যবস্থাও ছিল না। ওপারে যাওয়া ছাড়াও কোনো উপায় নেই, যেকোনো মূল্যে হোক যেতেই হবে ওপারে। না হয় আক্রমণ হতে পারে। আবার পানিতেও নামা যাচ্ছে না। কারণ পানিতে নেমে সাঁতার কাটলে পানির ঢেউ শুরু হবে, এদিকে শত্রু বাহিনীও খুব নিকটেই অবস্থান করছে, পানির ঢেউ দেখলে তারা টের পেয়ে যাবে। ঘটনা যিনি বলেছেন, তিনি ছিলেন মূলত ঐ কাফেলার আমীর। তো তিনি বলছেন, এই কঠিন মুহূর্তে আমরা দুই রাকাত নামায পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলাম। বিরাট একটি সাপ এসে ঐ গাছে কামড় দিয়ে লেজটি এ পারে আমাদের দিকে দিয়ে দিল। আমাদের বুঝতে আর বাকি রইল না, এটা যে, আল্লাহর সাহায্য। কমান্ডার বলছেন, আমি সাথীদেরকে বললাম, যাও একজন একজন করে সাপের লেজ জড়িয়ে ধরো, কিন্তু সবাই ভয় পাচ্ছিলেন। কারণ এটা তো সাপ…….আবার কামড় দিয়ে বসে কি না? এই ভয়ে কেউই আগাচ্ছে না। পরে কমান্ডার নিজেই আগে গিয়ে সাপের লেজ জড়িয়ে  ধরলেন। এবার সাপ আস্তে করে লেজ ঘুরিয়ে ওপারে নিয়ে তাকে নামিয়ে দিল। এবার সবার ভয় চলে গেছে। এখন সবাই এক এক করে পার হয়ে গেলেন”।

দেখুন ভাইয়েরা! যেই সাপ মানুষকে দংশন করে, আর সেই সাপ দিয়ে আল্লাহ তা’আলা সাহায্য করেছেন। কেন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে সাহায্য করেছেন? যেহেতু তারা আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করেছে এই জন্য আল্লাহ তা’আলাও সাপ দিয়ে তাদেরকে সাহায্য করেছেন

অতএব আমাদেরকেও আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সার্বিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলে আমরাও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্য প্রাপ্ত হব ইনশা আল্লাহ। দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাই সার্বিকভাবে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত আছি তো ভাইয়েরা? আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে কবুল করুন, আমীন।

. মুমিনরাই বিজয়ী জাতি:

সত্যিকার মুমিনরা দুনিয়া ও আখিরাতের একমাত্র সফলকাম জনগোষ্ঠী। মুমিনদেরকে আল্লাহ তা’আলা আখিরাতের সফলতার পাশাপাশি দুনিয়াতেও বিজয় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন

ইরশাদ হচ্ছে,

وَلاَ تَهِنُوا وَلاَ تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

অর্থ: “আর তোমরা নিরাশ হইয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও তবে, তোমরাই জয়ী হবে”। [সূরা ইমরান ৩:১৩৯]

সাময়িক পরাজয় আর কষ্ট দেখে যেন আমরা নিরাশ না হই এবং দুঃখ না করি। যদি আমরা সত্যিই মুমিন হই, তাহলে তিনি আমাদেরকে বিজয়ী করবেন আর কষ্টের বিনিময়ে আমাদের আযর বাড়িয়ে দিবেন

৯. মুমিনদের একমাত্র পৃষ্ঠপোষক আল্লাহ তাআলা:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা স্বয়ং মুমিনদের একমাত্র পৃষ্ঠপোষক ও অভিভাবক। ফলে বাতিলের গর্জন হুংকারকে পরোয়া না করে আল্লাহর রুবুবিয়াহ প্রতিষ্ঠায় তারা সার্বক্ষণিক তৎপর থাকে।

এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُواْ لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَاناً وَقَالُواْ حَسْبُنَا اللّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

অর্থ: “লোকেরা যখন তাদেরকে (মুমিনদের) বলে তোমাদের বিরুদ্ধে সমর সজ্জিত বিরাট বাহিনী সমবেত হয়েছে। তখন এ কথা শুনে তাদের ঈমান আরো বেড়ে যায় এবং তারা বলে (কাফেরদের বিরুদ্ধে) আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মকর্তা। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৭৩]

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,

اللّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُواْ يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّوُرِ وَالَّذِينَ كَفَرُواْ أَوْلِيَآؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُوْلَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

অর্থ: “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফরি করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো দোযখের অধিবাসী, চিরকাল তারা সেখানেই থাকবে”। [সূরা বাকারা ২:২৫৭]

উক্ত আয়াত-দ্বয় থেকে এ কথাই পরিষ্কার বুঝা যায় যে, আল্লাহ তাআলাই মুমিনদের পৃষ্ঠপোষক, তিনি তাদের হেফাজত কারী।

১০. মুমিনরা ভীতিমুক্ত শান্তি ও নিরাপত্তার বেষ্টনীতে আবদ্ধ জাতি:

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কালামে পাকে ইরশাদ করেন,

وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

অর্থ: “তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসন কর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসন কর্তৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য”। [সূরা নুর ২৪:৫৫]

উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন যে, তিনি মুমিনদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। এখানে আল্লাহ তা’আলা মুমিনদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন তা হচ্ছে, তিনি মুমিনদেরকে জমিনের খেলাফত তথা শাসন কর্তৃত্ব দান করবেন। শর্ত হলো নেক আ’মল করা, সৎকর্ম করা। বুঝা গেল, খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য নেক আমল জরুরি। আমরাও তো এই খেলাফত প্রতিষ্ঠার মেহনতই করছি। তাহলে আমাদেরকে ঈমান ঠিক রেখে বেশি বেশি নেক আমল করতে হবে। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করুন, আমীন।

১১. মুমিনরাই জান্নাতের একমাত্র হকদার:

আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন,

وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُم مِّنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيرًا

অর্থ: “হে নবী! মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, আল্লাহর তরফ থেকে তাদের জন্যে অনেক অনুগ্রহ রয়েছে”। [সূরা আহযাব ৩৩:৪৭]

আর এই অনুগ্রহরাজির মধ্যে সর্বোচ্চ অনুগ্রহ হচ্ছে মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভ ও জান্নাতের সর্বোত্তম হকদার হওয়া এবং এটাই মুমিনদের আসল সফলতা।

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে,

وَعَدَ اللّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

অর্থ: “এই মুমিন পুরুষ-নারীদের সম্পর্কে আল্লাহর ওয়াদা এই যে, তাদেরকে এমন বাগ-বাগিচা দান করবেন। যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা প্রবহমান, চিরকাল তারা তা উপভোগ করবে, এই চির সবুজ শ্যামল জান্নাতে তাদের জন্যে রয়েছে পবিত্র পরিচ্ছন্ন বসবাসের স্থান, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করে তারা হবে সৌভাগ্যবান আর এ হবে তাদের বড় সাফল্য”। [সূরা আত তাওবা- ৭২]

সূরা নিসার ৫৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

وَالَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا لَّهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَنُدْخِلُهُمْ ظِـلاًّ ظَلِيلاً

অর্থ: “সৎ কর্মশীল মুমিনদের আমি এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবো যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবহমান। চিরকাল তারা তা উপভোগ করবে সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গী নারীও রয়েছে। আমি তাদের ঘন নিবিড় ছায়ার আশ্রয়দান করব”। [সূরা নিসা ৪:৫৭]

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,

الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

অর্থ: “এরাই হচ্ছে সেই উত্তরাধিকারী তারা ফেরদাউসের ওয়ারিশ হবে এবং চিরকাল সেখানে থাকবে”। [সূরা মু’মিনুন ২৩:১১]

সুতরাং এসকল আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, পরকালে তারা জান্নাত লাভে ধন্য হবে।

২. মুমিনরা নামাযের সংরক্ষণকারী:

মহান আল্লাহ তা’আলার ইবাদতের মধ্যে অন্যতম হলো নামায। আর এই নামাযই তাঁর সাথে গভীর সম্পর্ক কায়েম করার প্রধান মাধ্যম। যারা মুমিন তারা এক্ষেত্রে কোন প্রকার গাফিলতি ও শিথিলতা প্রদর্শন করে না।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ

অর্থ: “মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে” [সূরা মুমিনুন ২৩:১]

الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ

অর্থ: “যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র;” [সূরা মুমিনুন ২৩:২]

وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ

অর্থ: “যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,” [সূরা মুমিনুন ২৩:৩]

وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ

অর্থ: “যারা নিজেদের নামায সমূহকে পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করে”। [সূরা মুমিনুন ২৩:১১]

এসকল আয়াত বুঝা যায় যে, মুমিনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা সালাতে বিনয় অবলম্বন করে, এবং তা পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করে।

১৩. মুমিনরা আল্লাহর সীমা রক্ষাকারী ও তাঁর গোলামীর জীবন-যাপনকারী:

দুনিয়ায় মহান আল্লাহর রুবুবিয়াত প্রতিষ্ঠা এবং তার নির্ধারিত পথে জীবনযাপনই মুমিনদের একমাত্র মিশন। 

ইরশাদ হচ্ছে,

التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدونَ الآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللّهِ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ

অর্থ: “তারা তওবাকারী, ইবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদ-কারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎ কাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাজত-কারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে”। [সূরা তাওবা ৯:১১২]

এই আয়াতে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী, আল্লাহর গোলামীর জীবন-যাপনকারী, তাঁর প্রশংসা উচ্চারণকারী, তার জমিনে পরিভ্রমণকারী, তাঁর সম্মুখে রুকু ও সিজদা আদায়কারী, ন্যায়ের নির্দেশ-দানকারী, অন্যায়ের বাধা দানকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমা রক্ষাকারী। সীমা রক্ষাকারী দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ মেনে চলা। আমরা সকলে এই বৈশিষ্ট্য গুলো অর্জন করার চেষ্টা করব ইনশা আল্লাহ।

১৪. মুমিনরা আল্লাহ প্রদত্ত আমানতের হেফাজত-কারী:

মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা হালাল-হারামকে মুমিনদের নিকট আমানত রেখেছে। অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করতে বলেছেন তা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নিঃশর্তে গ্রহণ করে, আর যা নিষেধ করেছেন তাও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বর্জন করে, আর এটাই মুমিনদের অনুসৃত একমাত্র নীতি। এই কারণে মুমিনরাই আল্লাহ প্রদত্ত আমানতের একমাত্র রক্ষক।

ইরশাদ হচ্ছে,

وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ

অর্থ: “এবং (মুমিন) যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুশিয়ার থাকে”। [সূরা মু’মিনুন ২৩:৮]

সূরা আনফালের ২৭নং আয়াতে বলা হয়েছে-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَخُونُواْ اللّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُواْ أَمَانَاتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! খেয়ানত করো না আল্লাহর সাথে ও রাসূলের সাথে এবং খেয়ানত করো না নিজেদের পারস্পরিক আমানতে জেনে-শুনে”। [সূরা আনফাল ৮:২৭]

আসলে মুমিনের চরিত্রে খিয়ানতের কোন স্থান নেই, সে বরাবরই তার হেফাজত-কারী হয়। 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

أربع إذا كن فيك، فلا عليك ما فاتك من الدنيا: صدق الحديث، وحفظ الأمانة، وحسن الخلق، وعفة مطعم

“যদি তোমার মধ্যে চারটি জিনিস থাকে তবে পার্থিব কোন জিনিস হাতছাড়া হয়ে গেলেও তোমার ক্ষতি হবে না। ১. আমানতের হিফাজত; ২. সত্য ভাষণ; ৩. উত্তম চরিত্র; ৪. পবিত্র রিজিক”। [মুসনাদে আহমাদ]

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে-

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত তিনি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন- “যে ব্যক্তি তোমার নিকট আমানত রেখেছে তার আমানত তাকে ফেরত দাও যে ব্যক্তি তোমার আমানত আত্মসাৎ করে তুমি তার আমানত আত্মসাৎ করো না”। [তিরমিজী, আবুদাউদ]

মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে আমানতের রক্ষণাবেক্ষণ করা। মুমিন কখনো খায়িন বা আত্মসাৎকারী হতে পারে না। খায়িন হওয়াটাই মুমিনের জন্য কাম্য না। এটা মুমিনের বৈশিষ্ট্য না।

১৫. মুমিনরা কৃত ওয়াদার সংরক্ষণকারী:

মুমিন তার কৃত ওয়াদা পালনে সর্বদা তৎপর থাকে। ওয়াদার খিলাফ করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য না। ওয়াদার ব্যাপারে আল্লাহ পাকের সুস্পষ্ট নির্দেশনা হলো-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَوْفُواْ بِالْعُقُودِ

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূরণ কর”। [সূরা মায়েদা ৫:১]

সূরা নাহলের ৯১নং আয়াতে বলা হয়েছে,

وَأَوْفُواْ بِعَهْدِ اللّهِ إِذَا عَاهَدتُّمْ وَلاَ تَنقُضُواْ الأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلاً إِنَّ اللّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ

অর্থ: “আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে অঙ্গীকার পূর্ণ কর এবং পাকাপাকি কসম করার পর তা ভঙ্গ করো না, অথচ তোমরা আল্লাহকে জামিন করেছ। তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন”। [সূরা নাহল ১৬:৯১]

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

آية المنافق ثلاث ، إذا حدث كذب ، وإذا وعد أخلف ، وإذا اؤتمن خان رواه البخاري ومسلم

অর্থ: “মুনাফিকের আলামত তিনটি: ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ২. যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে; ৩. তার নিকট কোন আমানত রাখা হলে তা খিয়ানত করে”। [বুখারী, মুসলিম]

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا ، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا : إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ، وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ

অর্থাৎ, “যার মধ্যে চারটি দোষ পাওয়া যায় সে খাঁটি মুনাফিক; ১. তার নিকট আমানত রাখা হলে তার খিয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে; ৪. ঝগড়ায় লিপ্ত হলে গালি-গালাজ করে”। [বুখারী-মুসলিম]

এই রেওয়ায়েতগুলো থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, মুমিন কখনো ওয়াদা ভঙ্গকারী হতে পারে না বরং সে ওয়াদার পূর্ণ হেফাজত-কারী হয়।

একদিন এক সাহাবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এক স্থানে দাঁড় করিয়ে বললেন আপনি একটু অপেক্ষা করুন আমি আসছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তার কথায় সায় দিলেন। এদিকে ঐ সাহাবী বাড়ি গিয়ে ভুলে গেলেন এবং তিনদিন পর এসে দেখলেন আল্লাহর রাসূল ঠিকই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। এই তো ছিল মহা-মানবের অনুপম আখলাক। আর এটাই হলো মুমিন চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

১৬. মুমিন সব কাজে সবরকারী:

সবর কাকে বলে? সবর হলো; সকল পরিবর্তিত পরিবেশ পরিস্থিতিতে নিজের মন-মেজাজকে পরিবর্তন না করা বরং সর্বাবস্থায় এক সুস্থ যুক্তিসঙ্গত ন্যায় আচরণ করে চলাই সবর। সবর হলো মুমিনের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যের একটি, এটি মুমিনের কাজ কর্মকে মহান রবের নিকট আকর্ষণীয় করে তোলে। পাশাপাশি এই সবর তাকে পার্থিব জগত ও পরকালে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন করে।

সবর সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,

فَاصْبِرْ صَبْرًا جَمِيلًا

অর্থ: “অতএব, আপনি উত্তম সবর করুন”। [সূরা মা’য়ারিজ ৭০:৫]

সূরা ইউনুসের ১০৯নং আয়াতে বলা হয়েছে,

وَاتَّبِعْ مَا يُوحَى إِلَيْكَ وَاصْبِرْ حَتَّىَ يَحْكُمَ اللّهُ وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ

অর্থ: “আর তুমি চল সে অনুযায়ী যেমন নির্দেশ আসে তোমার প্রতি এবং সবর কর, যতক্ষণ না ফয়সালা করেন আল্লাহ। বস্তুতঃ তিনি হচ্ছেন সর্বোত্তম ফয়সালাকারী”। [সূরা ইউনুস ১০:১০৯]

সবর মানুষকে চারিত্রিক মজবুতি দানের পাশাপাশি মানুষের কৃত গুনাহ মাফ করে তাকে পরিশুদ্ধ শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত করে।  এই প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلاَ وَصَبٍ وَلاَ هَمٍّ وَلاَ حَزَن وَلاَ أَذًى وَلاَ غمٍّ، حتَّى الشَّوْكَةُ يُشَاكُها إِلاَّ كفَّر اللَّه بهَا مِنْ خطَايَاه

অর্থাৎ, “কোন মুসলিম ব্যক্তি মানসিক বা শারীরিক কষ্ট পেলে কোন শোক বা দুঃখ পেলে অথবা চিন্তাগ্রস্ত হলে সে যদি সবর করে তাহলে আল্লাহ প্রতিদান স্বরূপ তার সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন। এমনকি যদি সামান্য একটি কাটাও পায়ে বিঁধে তাও তার গুনাহ মাফের কারণ হয়ে দাঁড়ায়”। [বুখারী মুসলিম]

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে,

وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ ، وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنْ الصَّبْرِ

অর্থ: “যে ব্যক্তি সবরের চেষ্টা করবে আল্লাহ তাকে সবরের শক্তি প্রদান করবেন। আর সবর হতে অধিক উত্তম ও ব্যাপক কল্যাণকর বস্তু আর কিছুই কাউকে দান করা হয়নি”। [বুখারী মুসলিম]

দ্বীনের দাঈ ও মুজাহিদগণের কাফিরদের শত উৎপীড়ন নির্যাতন সহ্য করতে হয়। সেক্ষেত্রে ভেঙে পড়লে দ্বীনের মহান টার্গেট থেকে বিচ্যুতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। তাই আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য সবরের প্রতি উৎসাহিত করে ঘোষণা করেন,

وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلاَّ بِاللّهِ وَلاَ تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلاَ تَكُ فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ

অর্থ: “হে মুহাম্মদ সবরের সাথে কাজ করতে থাক, তোমার এই সবরের তাওফিক তো আল্লাহই দিয়েছেন, ওদের কার্যকলাপে তুমি দুঃখিত চিন্তিত হইয়ো না এবং তাদের ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশলের দরুন মন ভারাক্রান্ত করো না”। [সূরা নাহল ১৬:১২৭]

সূরা আনআমের ৩৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّن قَبْلِكَ فَصَبَرُواْ عَلَى مَا كُذِّبُواْ وَأُوذُواْ حَتَّى أَتَاهُمْ نَصْرُنَا وَلاَ مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللّهِ وَلَقدْ جَاءكَ مِن نَّبَإِ الْمُرْسَلِينَ

অর্থ: “আপনার পূর্ববর্তী অনেক পয়গম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাঁরা এতে সবর করেছেন। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছা পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর-বানী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে”। [সূরা আন’আম ৬:৩৪]

উক্ত আয়াতের মর্ম হচ্ছে; হে মুহাম্মদ তোমার পূর্বেও অসংখ্য রাসূলদের অমান্য করা হয়েছে। কিন্তু এই অস্বীকৃতি ও যাবতীয় জ্বালাতন নির্যাতনের মোকাবিলায় তারা সবর অবলম্বন করেছেন। অবশেষে তাদের প্রতি আল্লাহর সাহায্য এসে পৌঁছেছে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা মাঝে মাঝে তাঁর বান্দাদের বিপদাপদ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেন কে সত্যিকারে সবরকারী এবং এর মাধ্যমে বান্দাকে পরিশুদ্ধ করে তার সান্নিধ্য দান করেন।

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত এক হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিন নর-নারীর ওপর সময় সময় বিপদ ও পরীক্ষা এসে থাকে কখনো সরাসরি তার ওপর বিপদ আসে, কখনো তার সন্তান মারা যায়, আবার কখনো বা তার ধন সম্পদ বিনষ্ট হয়। আর সে এ সকল মুসিবতে সবর করার ফলে তার কলব পরিষ্কার হতে থাকে এবং পাপ মুক্ত হতে থাকে। অবশেষে সে নিষ্পাপ আমলনামা নিয়ে আল্লাহর সাথে মিলিত হয়”। [তিরমিজী]

মুমিন ব্যক্তি সকল প্রকার বিপদ-মুসিবতে, অভাব-অনটনে, দুঃখ-কষ্টে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই সবর করে থাকে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সবরকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন, আমীন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

عَجَبًا لأمرِ المؤمنِ إِنَّ أمْرَه كُلَّهُ لهُ خَيرٌ وليسَ ذلكَ لأحَدٍ إلا للمُؤْمنِ إِنْ أصَابتهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فكانتْ خَيرًا لهُ وإنْ أصَابتهُ ضَرَّاءُ صَبرَ فكانتْ خَيرًا لهُ

অর্থাৎ, “মুমিনের সকল কাজ বিস্ময়কর, তার প্রতিটি কাজই তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে, আর এই সৌভাগ্য মুমিন ছাড়া কেউই লাভ করতে পারে না। দুঃখ-কষ্টে নিমজ্জিত হলে সে সবর করে আর এটা হয় তার জন্য কল্যাণকর। সুখ শান্তি লাভ করলে সে শোকর আদায় করে আর এটাও তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে”। [মুসলিম]

এসকল আয়াত ও হাদিস থেকে বুঝা যায় সবরের অনেক ফজিলত ও মর্যাদা রয়েছে। অতএব ভাইয়েরা! আমাদেরকেও এই গুণটি অর্জন করার চেষ্টা করতে হবে।

১৭. মুমিন আল্লাহর কাছে বাইআত বদ্ধ:

প্রথমে আমরা বাইআতের পরিচয় জেনে নিই।

বাইআত আরবি শব্দ بَيْعٌ শব্দ থেকে গঠিত। بَيْعٌ অর্থ বেচা-কেনা, লেন-দেন, ক্রয়-বিক্রয়, তবে মূল অর্থ বিক্রয় করা। কুরআনের মাঝে بَيْع শব্দের ব্যবহার কয়েকটি সূরায় بَيْعٌ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বেচা- কেনা, ব্যবসা- বাণিজ্যই এর উদ্দেশ্যে।

যেমন আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন,

رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاء الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ

অর্থ: “এরা এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যে দিন অন্তর ও দৃষ্টি সমূহ উল্টে যাবে”। [সূরা- নুর- ৩৭]

আল্লাহ তা’আলা আরো এরশাদ করেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

অর্থ: “হে মুমিনগণ, জুমাআর দিনে যখন নামাযের আযান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ছুটে চল এবং বেচা-কেনা বন্ধ কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝে থাক”। [সূরা- জুমাআ- ০৯]

তবে আরো কয়েকটি সূরায় بيْع শব্দটিকে নিজের সত্তা, জান-মালকে কোন মহান উদ্দেশ্যে আল্লাহ ও রাসূলের নিকট সমর্পণ করার চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার বা ওয়াদা করার অর্থে এসেছে। এই অর্থেই মূলত মুমিনরা আল্লাহর নিকট বাইআত বদ্ধ জনগোষ্ঠী। তারা জান্নাতের বিনিময়ে আল্লাহর নিকট তাদের জান ও মালকে বিক্রি করে দিয়েছে।

যেমন আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন,

إِنَّ اللّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللّهِ فَاسْتَبْشِرُواْ بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

অর্থ: “আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহে অতঃপর মারে ও মরে। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেনদেনের উপর, যা তোমরা করেছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য”। [সূরা তাওবা ৯:১১১]

মোটকথা, আল্লাহ তা’আলা মুমিনদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে খরিদ করে নিয়েছেন, এখন মুমিনদের কাজ হল তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, আর এই জিহাদে তারা যেমন মারবে, তেমন মরবেও। হুদাইবিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে দ্বীন রক্ষার জন্য দ্বীনের দাঈদের যে সুদৃঢ় বাইআত গ্রহণ করা হয়েছিল, সেই বাইআত ছিল মূলত মহান মা’বুদ আল্লাহ তাআলার সাথে।

ইরশাদ হচ্ছে,

إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

অর্থ: “যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরষ্কার দান করবেন”। [সূরা ফাতাহ ৪৮:১০]

উক্ত আয়াতের মর্ম হচ্ছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে রাসূল! যেসব লোক আপনার নিকট বাইআত হচ্ছিল তারা মূলত আল্লাহর নিকটই বাইআত হয়েছে। তাদের হাতের ওপর আল্লাহর কুদরতি হাত রয়েছে”।

একই সূরার ১৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا

অর্থ: “আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরষ্কার দিলেন। [সূরা ফাতাহ ৪৮:১৮]

আয়াতের সারাংশ হল, আল্লাহ মুমিনদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে বাইআত হয়েছিল। মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা যেহেতু মানুষকে খিলাফতের মহান জিম্মাদারি দিয়েই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। আর এই খিলাফতের অতন্দ্র প্রহরী মুমিন মুজাহিদরাই। সুতরাং মহান আল্লাহর দেওয়া জিম্মাদারি পালনে অবশ্যই মুমিনরা হবে বাইআত বদ্ধ সুদৃঢ় জনগোষ্ঠী। বর্তমান দুনিয়াতে বিশেষ করে আমাদের দেশে পীর মুরিদী সিস্টেমের নিছক বাইআত এখানে উদ্দেশ্য নয়। বাইআত হবে দ্বীনের সহীহ চেতনা সম্পন্ন মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব-দানকারী সংগঠন মুজাহিদীনের বাইআত, যারা নবী রাসূলগণের উত্তরসূরি হয়ে দুনিয়াকে জঞ্জালমুক্ত করে দ্বীন প্রতিষ্ঠার সু-মহান লক্ষ্যে কাজ করছে। বাইআত হবে খোদাদ্রোহি শাসন ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করে খোদায়ী শাসন প্রতিষ্ঠার বাইআত। বাইআত হবে জালিমের বিরুদ্ধে মাজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠার বাইআত। সামগ্রিকভাবে বাইআত বিহীন জিন্দেগীকে জাহিলিয়াতের জিন্দেগীর সাথে তুলনা করা হয়েছে।

হযরত উমার রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,

من مات وليس في عنقه بيعة مات ميتة جاهلية

অর্থ: “যে ব্যক্তি বাইআত ছাড়াই মৃত্যুবরণ করল সেই জাহিলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল”। [মুসলিম]

সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাতে নিছক কতগুলো আমলের বাইআত গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হননি। বরং দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য তারা দ্বীনের সামগ্রিক বিষয়েরই বাইআত গ্রহণ করেছেন।

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে,

“আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে বাইআত গ্রহণ করেছি শ্রবণ ও আনুগত্যের ব্যাপারে। আর এই বাইআত স্বাভাবিক অবস্থা, কঠিন অবস্থা, আগ্রহ ও অনাগ্রহ সর্বাবস্থায়ই প্রযোজ্য। আমরা আরো বাইআত গ্রহণ করেছি যে, আমরা কোন দায়িত্বশীলদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবো না এবং সর্বাবস্থায় সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকব। এ ব্যাপারে কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করব না”।

রাবী হযরত উবাদা ইবনে সামিত রা. আলোচ্য হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বাইআতের মুখ্য বিষয় বর্ণনা করেছেন। অতএব মুমিনরা সর্বাবস্থায় সহীহ বাইআতের মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠার অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে।

বাইআতের প্রকারভেদ:

শাহ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. বাইআতের প্রকার বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,

فالحق ان البيعة على اقسام، منها بيعة الخلافة، ومنها بيعة الاسلام، ومنها بيعة التمسك بحبل التقوى، ومنها بيعة الهجرة والجهاد، ومنها بيعة التوثق فى الجهاد، الشيخ ولي الله الدهلوي – مخطوطة رسالة في البيعة – ص 4

অর্থাৎ: বাস্তবতা হলো বাইআত পাঁচ প্রকার। যথা:

১. খিলাফতের বাইআত। যা ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে নেওয়া হয়ে থাকে।

২. বাইআতে ইসলাম। তথা ইসলাম গ্রহণের জন্য বাইআত নেওয়া।

৩. তাকওয়া পরহেজগারিতে অগ্রগামী হবার শপথের বাইআত।

৪. বাইআতে জিহাদ ও হিজরত।

৫. জিহাদের ময়দানে দৃঢ় থাকার বাইআত। যদি কখনো জিহাদের ময়দান থেকে ভয়ে পালিয়ে যাবার আশংকা দেখা দেয়, তখন আমীরে জিহাদের হাতে দৃঢ়তার বাইআত গ্রহণ করা।

অতএব ভাইয়েরা, আমরাও মুজাহিদীনের হাতে বাইআত বদ্ধ হয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যাব ইনশা আল্লাহ।

১৮. মুমিনরা বিনয়ী ও নম্র হয়:

বিনয় ও নম্রতা মুমিন চরিত্রের অন্যতম উত্তম ভূষণ যার সর্বোত্তম নমুনা মানবতার মহান শিক্ষক নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামগণ। যাদের বিনয়ী আচরণ গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। যারা বিনয়ী ও নম্র হয় তারা আল্লাহর পরম বন্ধু হয়। আর আল্লাহ তা’আলাও তাদেরকে ভালবাসেন।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَلاَ يَخَافُونَ لَوْمَةَ لآئِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللّهِ وَلاَ يَخَافُونَ لَوْمَةَ لآئِمٍ ذَلِكَ فَضْلُ اللّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

অর্থ: “হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ; তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী”। [সূরা মায়েদা ৫:৫৪]

এই আয়াতে হক জামাতের ছয়টি আলামত বলা হয়েছে এর মধ্যে একটি হল তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে।

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,

وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ

অর্থ: “এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন”। [সূরা শু’য়ারা ২৬:২১৫]

বিনয় ও নম্রতা মানুষকে আশরাফ তথা মর্যাদাবান বানিয়ে দেয়।

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

ما نقصت صدقةٌ من مال، وما زاد الله عبداً بعفوٍ إلَّا عزَّاً، وما تواضع أحدٌ لله إلَّا رفعه الله

অর্থাৎ, “দানের দ্বারা সম্পদ কমে না, ক্ষমার দ্বারা আল্লাহ বান্দাদের ইজ্জত ও সম্মান বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কিছু করে না, আর যে একমাত্র আল্লাহরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিনয় ও নম্রতার নীতি অবলম্বন করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন”। [মুসলিম]

অন্য হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ আমার নিকট ওহী পাঠিয়েছেন তোমরা পরস্পরের সাথে বিনয় ও নম্রতার আচরণ কর। যাতে কেউ কারো ওপর গৌরব না করে এবং একজন আরেকজনের ওপর বাড়াবাড়ি না করে’’। (মুসলিম)

১৯. মুমিন তাকওয়ার উজ্জ্বল নমুনা:

মুমিন হলো তাকওয়ার জ্বলন্ত উজ্জ্বল নমুনা। তাকওয়ার মাধ্যমে মুমিন নিজেকে সম্মানিত করে রাহমানের বান্দার উপযোগিতা অর্জন করে।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা সূরা হুজরাতে ইরশাদ করেন,

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ

অর্থ: “হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেজগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সব কিছুর খবর রাখেন”। [সূরা হুজরাত ৪৯:১৩]

হযরত আবু জার গিফারী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি একদা রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে হাজির হলাম এবং বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল আমাকে নসিহত করুন’। নবী মুহাম্মাদুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমি তোমাকে নসিহত করছি তুমি আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। কেননা, ইহা তোমার সমস্ত কাজকে সুন্দর, সুষ্ঠু ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করে দিবে”। [বায়হাকী শুআবিল ঈমান]

তাকওয়া মুমিনকে আখিরাতের অনুগামী করে। দুনিয়াবি চিন্তার ওপর আখিরাতের চিন্তাকে প্রাধান্য দেয়।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামে পাকে বলা হয়েছে,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

অর্থ: “মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামীকালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা'আলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন”। [সূরা হাশর ৫৯:১৮]

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাক। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কর না”। [সূরা আল-ইমরান ৩:১০২]

তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নাফরমানী থেকে দূরে থাকা যায়।

ইরশাদ হচ্ছে,

وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ

অর্থ: “আর সফলকাম ঐ সমস্ত লোকেরা যারা আল্লাহ ও রাসূলের হুকুম পালন করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং নাফরমানী হতে দূরে থাকে”। [সূরা নুর ২৪:৫২]

২০. মুমিন আল্লাহর ওপর পূর্ণ তায়াক্কুলকারী:

মুমিন তার জীবনের সামগ্রিক বিষয়ে একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে অভিভাবক মনে করে সম্পূর্ণরূপে তার ওপর তাওয়াক্কুল করে।

তাওয়াক্কুল কাকে বলে? এর উত্তর হল; হাত-পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকার নাম আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল নয়। বরং মহান আল্লাহর দেওয়া সকল সুযোগ-সুবিধা ও উপায় উপকরণসমূহ কাজে লাগিয়ে ফলাফলের জন্য তাঁর ওপর নির্ভর করা হচ্ছে সত্যিকার তাওয়াক্কুল।

পবিত্র কালামে পাকে ইরশাদ হচ্ছে,

حَسْبُنَا اللّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

অর্থ: “আমাদের জন্যই আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মকর্তা”। [সূরা ইমরান ৩:১৭৩]

সূরা যুমারের ৩৮নং আয়াতে বলা হয়েছে,

قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ

অর্থ: “হে রাসূল বলুন, আমার পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট; তাওয়াক্কুল-কারীরাই তাঁর ওপর নির্ভর করে”। [সূরা যুমার ৩৯:৩৮]

এক্ষেত্রে মুমিন নিজেকে মহান মা’বুদের নিকট পূর্ণরূপে সপে দিবে, কারণ পৃথিবীতে মূলত তার কোন ক্ষমতা নেই। সে সম্পূর্ণ পৃথিবীর একচ্ছত্র অধিপতি মহান আল্লাহর আয়ত্তাধীন। 

কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে,

فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ

অর্থ: “আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা একদিন তা স্মরণ করবে। আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয় বান্দারা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে”। [সূরা মুমিন ৪০:৪৪]

সূরা হুদের ৫৬নং আয়াতে বলা হয়েছে,

إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللّهِ رَبِّي وَرَبِّكُم مَّا مِن دَآبَّةٍ إِلاَّ هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

অর্থ: “আমি আল্লাহর ওপর নিশ্চিত তাওয়াক্কুল করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদিগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যা তার পূর্ণ আয়ত্তাধীন নয়”। [সূরা হুদ ১১:৫৬]

দুনিয়ার সকল কার্য-নির্বাহের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর কর্তৃত্বাধীন তাই মুমিনরা তার ওপরই আস্থাশীল থাকে। তাকেই অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে। তার ওপরই তাওয়াক্কুল করে। 

সূরা ইউসুফ ১০১নং আয়াতে বলা হয়েছে,

رَبِّ قَدْ آتَيْتَنِي مِنَ الْمُلْكِ وَعَلَّمْتَنِي مِن تَأْوِيلِ الأَحَادِيثِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ أَنتَ وَلِيِّي فِي الدُّنُيَا وَالآخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ

অর্থ: “হে পালনকর্তা! আপনি আমাকে রাষ্ট্রক্ষমতাও দান করেছেন এবং আমাকে বিভিন্ন তাৎপর্যসহ ব্যাখ্যা করার বিদ্যা শিখিয়ে দিয়েছেন। হে নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলের স্রষ্টা, আপনিই আমার কার্যনির্বাহী ইহকাল ও পরকালে। আমাকে ইসলামের উপর মৃত্যুদান করুন এবং আমাকে স্বজনদের সাথে মিলিত করুন”। [সূরা ইউসুফ ১২:১০১]

এখানে উল্লেখ্য যে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করবে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা তার জন্য যথেষ্ট এবং তার একমাত্র অভিভাবক হয়ে যাবেন।

সূরা আহযাবে বলা হয়েছে,

وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا

অর্থ: “আপনি আল্লাহর উপর ভরসা করুন। কার্যনির্বাহী-রূপে আল্লাহই যথেষ্ট”। [সূরা আহযাব ৩৩:৩]

অন্যত্র বলা হয়েছে,

وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ

অর্থ: “যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন”। [সূরা তালাক ৬৫:৩]

তাওয়াক্কুলের ব্যাপারে সর্বোপরি কথা হলো,

وَ مَوْلَاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ

অর্থ: “তিনিই তোমাদের মালিক, অতএব তিনি কতই না উত্তম মালিক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী”। [সূরা হাজ্জ্ব ২২:৭৮]

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সর্বক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করার তাওফিক দান করুকআমাদের মুজাহিদ ভাইদেরকে সব জায়গায় কাফেরদের ওপর বিজয়ী হওয়ার তাওফিক দান করুন সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থেকে আমালের উন্নতি করার তাওফিক দান করুন জিহাদ ও শাহাদাতের পথে ইখলাসের সাথে অগ্রসর হওয়ার তাওফিক দান করুন পরকালে আমাদেরকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন আমীন

প্রিয় ভাইয়েরা, আমাদের আজকের মজলিস এখানেই শেষ করছিওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ

আমরা সকলে মজলিস থেকে উঠার দোয়া পড়ে নিই

سبحانك اللهم وبحمدك،أشهدأن لاإله إلا أنت،أستغفرك وأتوب إليك

وصلى الله تعالى على خير خلقه محمد وآله واصحابه اجمعين

وآخردعوانا ان الحمد لله ربالعالمين

 

***********

مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الفردوس للإنتاج الإعلامي
আপনাদের দোয়ায় মুজাহিদ ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল ফিরদাউস মিডিয়া ফাউন্ডেশন
In your dua remember your brothers of
Al Firdaws Media Foundation