JustPaste.it


مؤسسة الحكمة
আল হিকমাহ মিডিয়া
Al-Hikmah Media

 

تـُــقدم
পরিবেশিত
Presents

 

الترجمة البنغالية
বাংলা অনুবাদ
Bengali Translation

 

بعنوان:
শিরোনাম:
Titled


فضل قتال الخوارج

 

খারেজিদের বিরুদ্ধে কিতাল
গুরুত্ব ও ফযিলত

 

War against the Kharejis 
significance and Importance

 

للشيخ حمد بن حمود التميمي (حفظه الله)
শাইখ হামদ বিন হামুদ আত-তামিমী হাফিযাহুল্লাহ
By Shaikh Hamd Bin Hamud At-tamimi Hafizahullah

 

22d9b3e5cb344324af8d618eb62175c1.jpg

 

روابط بي دي اب
PDF (598 KB)
পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৫৯৮ কিলোবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/Ea8k2SDJmpDW4dN


https://archive.org/download/kharejider-biruddhe-kital/KharejiderBiruddheKital_-_SaikhHamudAt-Tamimi.pdf


https://khareji5.files.wordpress.com/2022/11/kharejiderbiruddhekital_-_saikhhamudat-tamimi.pdf


https://jmp.sh/fYGcXETZ


https://www.mediafire.com/file/lw0jpawhdt2qvp9/KharejiderBiruddheKital_-_SaikhHamudAt-Tamimi.pdf/file


https://mega.nz/file/8TcFQYqa#df4VVnnXfL-IWfjb_C4UNdXk3JFnj0EC-SmY6ASUvZw

https://www.file-upload.com/v5sv4kynvk8p

 


روابط ورد 
Word (403 KB)
ওয়ার্ড ডাউনলোড করুন [৪০৩ কিলোবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/mGmDMZsHo9XXcBL


https://archive.org/download/kharejider-biruddhe-kital/KharejiderBiruddheKital_-_SaikhHamudAt-Tamimi.docx


https://khareji5.files.wordpress.com/2022/11/kharejiderbiruddhekital_-_saikhhamudat-tamimi.docx


https://jmp.sh/TMMdDLMT


https://www.mediafire.com/file/g1iuyg4sozmi57h/KharejiderBiruddheKital_-_SaikhHamudAt-Tamimi.docx/file


https://mega.nz/file/1SkmnbhD#jv4-UG8iT368E7lD9qHLuDBC6ohrBmXINgS7-710ARo


https://www.file-upload.com/vnwhet78hw3b

 

 


روابط الغلاف- ١ 
book cover [267 KB]
বুক কভার ডাউনলোড করুন [২৬৭ কিলোবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/fs3dysYRW9frNb2


https://justpaste.it/img/6f6fcfd1ba64a8036f4717f5e2e9014c.jpg


https://justpaste.it/img/fe193669f0ce7335782b1117a49d06bf.jpg


https://jmp.sh/qxX52aWi


https://www.mediafire.com/view/3nkhynmtwt7suab/KharejiderBiruddheKital-Book-Cover.jpg/file


https://mega.nz/file/BXky2R7I#Z1nApbaRjiooIF0bWoRiuEoAwBMnxdQJpTF1WkivjN0


https://www.file-upload.com/z64x35qijrr8

 


روابط الغلاف  
Banner [544 KB]
ব্যানার ডাউনলোড করুন [৫৪৪ কিলোবাইট]
https://banglafiles.net/index.php/s/yayjSbbaKfPM6DR


https://justpaste.it/img/a509c1bd4984c7d60bf0b7a64079a6ff.jpg


https://justpaste.it/img/2e7a4cf3f8f9f113be9fffa1cb11e399.jpg


https://jmp.sh/Gy2cpM1h


https://www.mediafire.com/file/1cl32rscussiena/Kharijider-biroode-qital-Banner-.jpg/file


https://mega.nz/file/QXkClZDQ#EaccmWhl39PhAaOUeCBlWCOvUROsld6CAuAMRA7Ocmo


https://www.file-upload.com/fa4kpjmryjck

 


مع تحيّات إخوانكم
في مؤسسة الحكمة للإنتاج الإعلامي
قاعدة الجهاد في شبه القارة الهندية
আপনাদের দোয়ায়
আল হিকমাহ মিডিয়ার ভাইদের স্মরণ রাখবেন!
আল কায়েদা উপমহাদেশ
In your dua remember your brothers of
Al Hikmah Media
Al-Qaidah in the Subcontinent

 

-=-=-=-

 

খারেজিদের বিরুদ্ধে কিতাল
গুরুত্ব ও ফযিলত

 

সূচিপত্র

 

প্রথম ফযিলত: খারেজিদের হত্যাকারীর জন্য রয়েছে সুপ্ত-বড় ফযিলত. 5

দ্বিতীয় ফযিলত: খারেজিদের হত্যাকারীর জন্য মহা প্রতিদান ও বড় সাওয়াব. 9

তৃতীয় ফযিলত: যে খারেজিদের হত্যা করলো সে শ্রেষ্ঠ প্রতিদান পেলো, আর খারেজিরা যাকে হত্যা করলো, সে হল উত্তম শহীদ  12

চতুর্থ ফযিলত: যে খারেজিদের হত্যা করলো, আর যে খারেজিদের হাতে শহীদ হলো উভয়ের জন্য সুসংবাদ  13

পঞ্চম ফযিলত: যে খারেজিদের সাথে কিতাল করবে, সে অন্য সবার চাইতে আল্লাহ তায়ালার বেশি নৈকট্যশীল হবে   16

ষষ্ঠ ফযিলত: খারেজিদের বিরুদ্ধে কিতাল হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সর্বোচ্চ বৈশিষ্ট্য   17

সপ্তম ফযিলত: আসমানের নীচে উত্তম (শহীদ) নিহত ব্যক্তি সে, যাকে খারেজীরা হত্যা করেছে   20

অষ্টম ফযিলত: মুক্তি ও কল্যাণ তার জন্য যাকে খারেজীরা হত্যা করেছে.. 21

পরিশিষ্ট: মুশরিক ও খারেজিদের সাথে যুদ্ধ করার বিষয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ. 21

 

 

 

 

 

 

প্রথম ফযিলত: খারেজিদের হত্যাকারীর জন্য রয়েছে সুপ্ত-বড় ফযিলত

খারেজিদের হত্যাকারীর জন্য রয়েছে অনেক বড় ফযিলত, যা অনেকেই জানে না। সহীহ মুসলিম শরীফে হযরত যায়েদ বিন ওয়াহাব আলজুহানী রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ الْجُهَنِيُّ، أَنَّهُ كَانَ فِي الْجَيْشِ الَّذِينَ كَانُوا مَعَ عَلِيٍّ - رضى الله عنه - الَّذِينَ سَارُوا إِلَى الْخَوَارِجِ فَقَالَ عَلِيٌّ رضى الله عنه أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَيْسَ قِرَاءَتُكُمْ إِلَى قِرَاءَتِهِمْ بِشَىْءٍ وَلاَ صَلاَتُكُمْ إِلَى صَلاَتِهِمْ بِشَىْءٍ وَلاَ صِيَامُكُمْ إِلَى صِيَامِهِمْ بِشَىْءٍ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ يَحْسِبُونَ أَنَّهُ لَهُمْ وَهُوَ عَلَيْهِمْ لاَ تُجَاوِزُ صَلاَتُهُمْ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ ‏"‏ ‏.‏ لَوْ يَعْلَمُ الْجَيْشُ الَّذِينَ يُصِيبُونَهُمْ مَا قُضِيَ لَهُمْ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِمْ صلى الله عليه وسلم لاَتَّكَلُوا عَنِ الْعَمَلِ وَآيَةُ ذَلِكَ أَنَّ فِيهِمْ رَجُلاً لَهُ عَضُدٌ وَلَيْسَ لَهُ ذِرَاعٌ عَلَى رَأْسِ عَضُدِهِ مِثْلُ حَلَمَةِ الثَّدْىِ عَلَيْهِ شَعَرَاتٌ بِيضٌ فَتَذْهَبُونَ إِلَى مُعَاوِيَةَ وَأَهْلِ الشَّامِ وَتَتْرُكُونَ هَؤُلاَءِ يَخْلُفُونَكُمْ فِي ذَرَارِيِّكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ يَكُونُوا هَؤُلاَءِ الْقَوْمَ فَإِنَّهُمْ قَدْ سَفَكُوا الدَّمَ الْحَرَامَ وَأَغَارُوا فِي سَرْحِ النَّاسِ فَسِيرُوا عَلَى اسْمِ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ فَنَزَّلَنِي زَيْدُ بْنُ وَهْبٍ مَنْزِلاً حَتَّى قَالَ مَرَرْنَا عَلَى قَنْطَرَةٍ فَلَمَّا الْتَقَيْنَا وَعَلَى الْخَوَارِجِ يَوْمَئِذٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ الرَّاسِبِيُّ فَقَالَ لَهُمْ أَلْقُوا الرِّمَاحَ وَسُلُّوا سُيُوفَكُمْ مِنْ جُفُونِهَا فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يُنَاشِدُوكُمْ كَمَا نَاشَدُوكُمْ يَوْمَ حَرُورَاءَ ‏.‏ فَرَجَعُوا فَوَحَّشُوا بِرِمَاحِهِمْ وَسَلُّوا السُّيُوفَ وَشَجَرَهُمُ النَّاسُ بِرِمَاحِهِمْ - قَالَ - وَقُتِلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَمَا أُصِيبَ مِنَ النَّاسِ يَوْمَئِذٍ إِلاَّ رَجُلاَنِ فَقَالَ عَلِيٌّ رضى الله عنه الْتَمِسُوا فِيهِمُ الْمُخْدَجَ ‏.‏ فَالْتَمَسُوهُ فَلَمْ يَجِدُوهُ فَقَامَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - بِنَفْسِهِ حَتَّى أَتَى نَاسًا قَدْ قُتِلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ قَالَ أَخِّرُوهُمْ ‏.‏ فَوَجَدُوهُ مِمَّا يَلِي الأَرْضَ فَكَبَّرَ ثُمَّ قَالَ صَدَقَ اللَّهُ وَبَلَّغَ رَسُولُهُ - قَالَ - فَقَامَ إِلَيْهِ عَبِيدَةُ السَّلْمَانِيُّ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ لَسَمِعْتَ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِي وَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ ‏.‏ حَتَّى اسْتَحْلَفَهُ ثَلاَثًا وَهُوَ يَحْلِفُ لَهُ ‏.

তিনি একবার আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে খারেজীদের বিরুদ্ধে এক অভিযানে বের হয়েছিলেন। সেই সফরে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন ভাষণে বলেন-

“হে লোক সকল! আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- “আমার উম্মতের একদল লোক কোরআন পড়বে, তোমাদের তিলাওয়াত তাদের তিলাওয়াতের সামনে কিছুই নয়। তোমাদের নামাজ তাদের নামাজের সামনে কিছুই নয়। তোমাদের রোজা তাদের রোজার সামনে কিছুই নয়। তারা কোরআন তিলাওয়াত করবে আর মনে করবে কোরআন তাদের পক্ষে, অথচ কোরআন তাদের বিপক্ষে। তাদের ইসলাম তাদের গণ্ডদেশের সীমা অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেমন তীর নিশানা থেকে বেরিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের যে বাহিনী যুদ্ধ করবে, তাদের নবীর যবানে তাদের জন্য কি ফযিলত ঘোষণা করা হয়েছে, যদি তারা তা জানতো তাহলে আর অন্য কোন আমল করতো না। তাদের নিদর্শন হলো, তাদের মাঝে একজন লোক আছে যার মোটা বাহু, লম্বা হাত। তার বাহুর উপরে রয়েছে স্তনের বোটার ন্যায় উঁচু গোস্ত। তার উপর কিছু সাদা পশম রয়েছে।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতএব তোমরা মু’আবিয়াহ ও সিরিয়ার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাচ্ছ। অপরদিকে তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্তুতি ও ধন-সম্পদের পিছনে এদেরকে (খারিজী) রেখে যাচ্ছ। আল্লাহর শপথ! আমার বিশ্বাস এরাই হচ্ছে সেই সম্প্রদায় (যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করার ব্যাপারে তোমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে)। কেননা এরা অবৈধভাবে রক্তপাত ঘটিয়েছে ও মানুষের গবাদি পশু লুটপাট করেছে। সুতরাং আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা শুরু কর।

সালামহ ইবনু কুহায়ল বলেন, অতঃপর যায়েদ ইবনু ওয়াহব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রতিটি মঞ্জিলের বর্ণনা আমাকে দিয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, “আমরা একটি পুলের উপর দিয়ে অতিক্রম করে খারিজীদের মুখোমুখি হলাম। এ দিন আবদুল্লাহ ইবনু ওয়াহব আর রাসিবী খারিজীদের সেনাপতি ছিলেন। সে তাদেরকে বলল, ‘তোমরা বল্লম ফেলে দিয়ে খাপ থেকে তরবারি বের কর। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তারা হারূরার দিনের ন্যায় আজও তোমাদের উপর চরম আঘাত হানবে’।

সুতরাং তারা ফিরে গিয়ে বল্লম ফেলে দিয়ে তরবারি খাপ থেকে বের করে নিলো। লোকজন বল্লম দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হল। তারা একের পর এক নিহত হতে লাগল। সেদিন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর দল থেকে মাত্র দুজন লোক নিহত হল।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, নিহতদের মধ্যে মিখদাজকে খুঁজে বের করো। খোঁজ করে পাওয়া গেল না। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজেই দাঁড়ালেন এবং নিহতদের পাশে গিয়ে লাশগুলো সরাবার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাকে জমিনের উপর পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে উঠলেন। অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন, “আল্লাহ তায়ালা সত্য কথাই বলেছেন এবং তাঁর রাসুল সঠিক সংবাদ পৌঁছিয়েছেন”।

সে সময় আবিদা সালমানী তার কাছে এসে বললেন, ‘আমীরুল মুমিনীন! ঐ আল্লাহর শপথ যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই! আপনি সত্যিই কি এই হাদিস রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন’?

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘অবশ্যই। ঐ আল্লাহর শপথ যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই’। এভাবে তিন বার কসম করলেন”। (সহীহ মুসলিম – ২৩৫৭)

কুরতুবী রহিমাহুল্লাহ ‘মুফহিম’ কিতাবের ৮৯-৯০ পৃষ্ঠায় এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন-

‘কোন আমল কাউকে নাজাত দিতে পারবে না। কিন্তু খারেজিদের হত্যা করার আমলটি এতই ফযিলতপূর্ণ ও শক্তিশালী যে, আমলকারী যদি এর ফযিলত জানতো, তাহলে এই আমলটিকেই নাজাতের জন্য যথেষ্ট মনে করতো। শুধু এর উপর ভরসা করেই অন্য আমল করার প্রয়োজন বোধ করতো না’।

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ وَذَكَرَ الْخَوَارِجَ فَقَالَ فِيهِمْ رَجُلٌ مُخْدَجُ الْيَدِ أَوْ مُودَنُ الْيَدِ أَوْ مُثْدَنُ الْيَدِ وَلَوْلاَ أَنْ تَبْطَرُوا لَحَدَّثْتُكُمْ بِمَا وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ يَقْتُلُونَهُمْ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ قُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ‏.‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ‏.‏

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার খারেজিদের আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, তাদের মাঝে একজন লোক আছে হাত বেটে। তোমরা আত্মঅহমিকার শিকার হয়ে যাবে, এই আশংকা যদি না হতো, তাহলে তাদের হত্যাকারীদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানে কি কি ওয়াদা করেছেন, তা আমি তোমাদেরকে শুনিয়ে দিতাম। বর্ণনাকারী বলেন- আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি সত্যি রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটা শুনেছেন। বললেন- অবশ্যই কাবার রবের শপথ। অবশ্যই কাবার রবের শপথ, অবশ্যই কাবার রবের শপথ। (মুসলিম ১০৬৬, আবূ দাঊদ ৪৭৬৩, আহমাদ ৬৭৪, ৭৩৭, ৮৫০, ৯০৬, ৯৮৫, ১১৯২, ১২২৮, ১২৫৮, ১৩৮১, ইবনে মাজাহ ১৬৭)

মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক এর বর্ণনায় এসেছে-

«والله لولا أن تبطروا لأخبرتكم بما سبق من الفضل لمن قتلهم».

অর্থ: আল্লাহর কসম! তোমরা অহমিকায় লিপ্ত হয়ে যাবে, যদি এই আশংকা না থাকতো, তাহলে খারেজিদের হত্যাকারীর ব্যাপারে কি ফযিলত এসেছে তা তোমাদেরকে বলে দিতাম। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-১৮৬৫৭)

আবিদা সালমানি থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- আমি হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে নদীপথের যুদ্ধে শরীক ছিলাম। আমি যখন খারেজিদের হত্যা করলাম, তিনি বললেন, দেখো তাদের মাঝে একজন লোক আছে যার হাত বেটে। লোকেরা খোঁজাখুঁজি করে পেলোনা। তিনি বললেন- ভালো করে দেখো, লাশগুলো ওলট-পালট করে দেখো। তখন তারা সেখান থেকে একটা লোকের লাশ বের করলো, যার গায়ের রং পীত বর্ণের, হাত খাটো, যেন তা কোন মহিলার স্তন। তিনি যখন তাকে দেখলেন, কিবলা মুখি হয়ে গেলেন, দুই হাত উত্তোলন করলেন। আল্লাহ তা'য়ালার প্রশংসা করলেন, সানা করলেন, শুকরিয়া আদায় করলেন, যে তিনি তাকে তাদের হত্যার সুযোগ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কিতালের দ্বারা সম্মানিত করেছেন। এরপর আমাদের দিকে ফিরে বললেন, তোমরা আত্মঅহমিকায় ডুবে যাবে এই আশংকা যদি না হতো, তাহলে এই খারেজিদের বিরুদ্ধে যারা কিতাল করবে তাদের কি মর্যাদা আমি তা বলে দিতাম।

ইবনে হুবাইরা রহিমাহুল্লাহ তার কিতাব ইফসাহে বলেন- (২০১-২৮১)

এই হাদিস থেকে জানা গেল, খারেজিদের হত্যার মাঝে আল্লাহ তায়ালা কত বড় ফযিলত রেখে দিয়েছেন। এমন ফযিলত যা শুনলে তারা আত্মঅহমীকায় আক্রান্ত হতে পারে।

আউনুল মাবুদে (১৩-৭৬ পৃ:) বলা হয়েছে- হাদিসের মর্ম হলো- খারেজিদের হত্যাকারীদের জন্য যেই সাওয়াব রাখা হয়েছে এর আধিক্য শুনে তোমরা এত খুশি হয়ে যাবে, যা তোমাদের মনে আত্মবিমুগ্ধতা তৈরি করতে পারে। এটা মুমিনের জন্য ক্ষতিকর, তাই আমি তোমাদেরকে বলছি না।

সিন্ধি রহিমাহুল্লাহ সুনানে ইবনে মাজাহর হাশিয়াতে লিখেন(১-৭২)- তোমরা এত বেশি খুশি হয়ে যাবে যে, আমলই ছেড়ে দেবে। আল্লাহ না করুন ফিতনায় পড়ে যাবে, তাই আমি বলছি না।

দ্বিতীয় ফযিলত: খারেজিদের হত্যাকারীর জন্য মহা প্রতিদান ও বড় সাওয়াব

সহীহাইন তথা বুখারী-মুসলিমের রেওয়ায়েতে এসেছে:

عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ حَدَّثَنَا خَيْثَمَةُ حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ غَفَلَةَ قَالَ عَلِيٌّ إِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا فَوَاللهِ لأَنْ أَخِرَّ مِنْ السَّمَاءِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَكْذِبَ عَلَيْهِ وَإِذَا حَدَّثْتُكُمْ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ فَإِنَّ الْحَرْبَ خِدْعَةٌ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ سَيَخْرُجُ قَوْمٌ فِي آخِرِ الزَّمَانِ أَحْدَاثُ الأَسْنَانِ سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِيَّةِ لاَ يُجَاوِزُ إِيمَانُهُمْ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنْ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنْ الرَّمِيَّةِ فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ فَإِنَّ فِي قَتْلِهِمْ أَجْرًا لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

অর্থ: হযরত সুয়াদ ইব্‌নু গাফালা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- আমি যখন তোমাদেরকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন হাদিস শুনাই তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর মিথ্যা বলার চেয়ে আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত হওয়া আমার কাছে বেশি সহজ। আর যখন আমি আমার মাঝে আর তোমাদের মাঝে নিজস্ব কোন কথা বলি, তখন শোন, যুদ্ধ তো হলো কৌশলেরই নাম। শোন! আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, শেষ যুগে একদল লোক বের হবে, অল্পবয়সী, নির্বোধ প্রকৃতির, তারা শ্রেষ্ঠ মানুষের কথাই মুখে আওড়াবে, তাদের ঈমান তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর শিকারি অতিক্রম করে বের হয়ে যায়। তোমরা তাদেরকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে। কারণ তাদের হত্যাকারীর জন্য কিয়ামতের ময়দানে অনেক বড় প্রতিদান রয়েছে। (বুখারী – ৬৯৩০, মুসলিম- ১০৬৬)

হাদিসে বর্ণিত শব্দ হলো, أجرا। শব্দটি এখানে নাকিরা। যা মহান প্রতিদানের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

মোল্লা আলী আলকারী রহিমাহুল্লাহ মিরকাতের মধ্যে বলেছেন-

فأينما لقيتموهم فاقتلوهم فإن في قتلهم أجرا»

তাদের হত্যাকারীর জন্য কিয়ামতে প্রতিদান রয়েছে। أي عظيما অর্থাৎ মহান প্রতিদান। (মিরকাত: ৬-২৩১১)

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এ বিষয়টি আরো সুষ্পষ্টভাবে এসেছে-

يخرج قوم في آخر الزمان، سفهاء الأحلام، أحداث - أو قال: حدثاء - الأسنان، يقولون من خير قول الناس، يقرءون القرآن بألسنتهم لا يعدو تراقيهم، يمرقون من الإسلام كما يمرق السهم من الرمية، فمن أدركهم، فليقتلهم، فإن في قتلهم أجرا عظيما عند الله، لمن قتلهم».

“আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, শেষ যুগে একদল লোক বের হবে, অল্পবয়সী, নির্বোধ প্রকৃতির, তারা শ্রেষ্ঠ মানুষের কথাই মুখে আওড়াবে, তারা কোরআন তিলাওয়াত করবে কিন্তু কোরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর তার নিশানা ভেঁদ করে বের হয়ে যায়। যে তাদেরকে পাবে, যেন তাদেরকে হত্যা করে। কারণ তাদেরকে হত্যা করার মাঝে আল্লাহর কাছে বিশাল প্রতিদান রয়েছে”। (মুসনাদে আহমাদ - ৩৮৩১)

মুসলিম বিন আবু বকরকে উসমান শিহাম জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি খারেজিদের ব্যাপারে কিছু শুনেছেন। তিনি বললেন, আমি আমার বাবা আবু বকরকে বলতে শুনেছি, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

“শোন! অচিরেই আমার উম্মতের মাঝে কিছু লোক বের হবে, যারা কঠোর স্বভাবের, কঠোর ভাষার। তাদের যবানে সর্বদা কোরআন থাকবে। কিন্তু কোরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তোমরা যখন তাদেরকে দেখবে, তখন তাদের শিকড় উপড়ে ফেলবে। এরপর যখন আবার দেখবে, তাদের শেকড় উপড়ে ফেলবে। কারণ তাদের হত্যাকারী অনেক প্রতিদান পাবে। (মুসনাদে আহমদ)

শুয়াইব আরনাউত রহিমাহুল্লাহ বলেন- এই হাদিসের সনদ অনেক শক্তিশালী।

فالمأجور قاتلهم

অর্থাৎ বাস্তবে, পরিপূর্ণ প্রতিদান তাদের হত্যাকারীই পাবে।

আল্লামা আইনি রহিমাহুল্লাহ উমদাতুল কারীতে বলেন- তাদের হত্যা করার মাঝে এত প্রতিদান রাখার কারণ হলো - তারা জিহাদ থেকে মুসলিমদের ফিরিয়ে রাখবে এবং ঐক্য বিনষ্ট করার লক্ষে যমীনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। (উমদাতুল কারী:১৬-১৪৪)

এখানে উদ্দেশ্য হল যে প্রতিদান খারেজীদের হত্যার ব্যাপারে মুজাহিদদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে সেগুলো বর্ণনা করা, যা পূর্বোক্ত হাদিস গুলো থেকে বুঝা গেছে। আর এ মর্যাদা একমাত্র খারেজীদের হত্যাকারী মুজাহিদদেরকেই দেওয়া হবে, যার গোপন রহস্য কোন কোন ক্ষেত্রে মানুষের বোধগম্য নয়। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

﴿إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى﴾.

অর্থঃ “যখন গাছটি যা দিয়ে ঢেকে থাকার তা দিয়ে ঢাকা ছিল, (যার বর্ণনা মানুষের বোধগম্য নয়) [সুরা আন-নাজম ৫৩:১৬]

তৃতীয় ফযিলত: যে খারেজিদের হত্যা করলো সে শ্রেষ্ঠ প্রতিদান পেলো, আর খারেজিরা যাকে হত্যা করলো, সে হল উত্তম শহীদ

মুস্তাদরাকে হাকিমের বর্ণনায় এসেছে:

عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله علــيه وآله وسلم أتاه مال فجعل يضرب بيده فيه فيعطي يمينا وشمالا، وفيهم رجل مقلص الثياب ذو سيماء بين عينيه أثر السجود، فجعل رسول الله صلى الله علــيه وآله وسلم يضرب يده يمينا وشمالا حتى نفد المال، فلما نفد المال ولى مدبرا، وقال: والله ما عدلت منذ اليوم، قال: فجعل رسول الله صلى الله علــيه وآله وسلم يقلب كفه ويقول: «إذا لم أعدل فمن ذا يعدل بعدي، أما إنه ستمرق مارقة يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية ثم لا يعودون إليه حتى يرجع السهم على فوقه، يقرؤون القرآن لا يجاوز تراقيهم، يحسنون القول ويسيئون الفعل، فمن لقيهم فليقاتلهم، فمن قتلهم فله أفضل الأجر، ومن قتلوه فله أفضل الشهادة، هم شر البرية برىء الله منهم، يقتلهم أولى الطائفتين بالحق»

অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাদাকার মাল আসলো। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডানে বামে সেই মাল থেকে প্রচুর পরিমাণে দান করতে লাগলেন। উপস্থিতদের মাঝে এক লোক ছিল, যার পোশাক খাটো। চেহারায় দাগ, দুই চোখের মাঝখানে সিজদার আলামত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দান করতে করতে সব মাল যখন শেষ হয়ে গেল, তখন সে সেখান থেকে চলে যেতে লাগল, আর বলতে লাগল- আল্লাহর কসম! আজকের বণ্টনে ইনসাফ করা হয়নি। তার এই কথা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাতের উপর আরেক হাত মারতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন- আমি যদি ইনসাফ না করি, আমার পরে আর কে ইনসাফ করবে ?

তবে তোমরা শুন! অচিরেই কিছু লোক দ্বীন থেকে এভাবে বেরিয়ে যাবে, তীর তার নিশানা থেকে যেভাবে বেরিয়ে যায়। তীর যেমন উল্টো দিকে আর ফিরে আসেনা, তারাও দ্বীনের দিকে আর ফিরে আসবে না। তারা কোরআন পড়বে, কিন্তু কোরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। কথা অনেক চমৎকার বলবে, কিন্তু কাজ করবে মন্দ। যে তাদেরকে পাবে, তাদের বিরুদ্ধে কিতাল করবে। যে তাদেরকে হত্যা করলো, তার জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। আর যাকে তারা হত্যা করবে, সে হবে উত্তম শহীদ। তারা পৃথিবীর নিকৃষ্টতম মাখলুক। মুসলিমদের দুই দলের মধ্যে হক্বের নিকটবর্তী দল তাদেরকে হত্যা করবে। (হাকেম- ২৬৫৯)

ইমাম যাহাবী রহিমাহুল্লাহ সমর্থন করেছেন।

এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হলো, তাদেরকে হ্ত্যা করা এবং তাদের হাতে শহীদ হওয়া উভয়টিই শ্রেষ্ঠ আমল।

চতুর্থ ফযিলত: যে খারেজিদের হত্যা করলো, আর যে খারেজিদের হাতে শহীদ হলো উভয়ের জন্য সুসংবাদ

আবু দাউদ ও হাকেমের বর্ণনায় এসেছে:

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ الأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، وَمُبَشِّرٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ الْحَلَبِيَّ عَنْ أَبِي عَمْرٍو، قَالَ - يَعْنِي الْوَلِيدَ - حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، قَالَ حَدَّثَنِي قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏:‏ ‏"‏ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي اخْتِلاَفٌ وَفُرْقَةٌ، قَوْمٌ يُحْسِنُونَ الْقِيلَ وَيُسِيئُونَ الْفِعْلَ وَيَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ، يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنَ الرَّمِيَّةِ لاَ يَرْجِعُونَ حَتَّى يَرْتَدَّ عَلَى فُوقِهِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ طُوبَى لِمَنْ قَتَلَهُمْ وَقَتَلُوهُ، يَدْعُونَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ وَلَيْسُوا مِنْهُ فِي شَىْءٍ، مَنْ قَاتَلَهُمْ كَانَ أَوْلَى بِاللَّهِ مِنْهُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا سِيمَاهُمْ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ التَّحْلِيقُ ‏"‏ ‏.‏

হযরত আনাস ইবনে মালেক এবং আবু সাইদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আমার উম্মতের মাঝে ইখতিলাফ ও বিভেদ হবে। এদের মাঝে একদল বের হবে যাদের কথা হবে সুন্দর কাজ হবে মন্দ। তারা দ্বীন থেকে বের হয়ে যাবে নিশানা থেকে তীর বের হয়ে যাবার ন্যায়। তীর যেমন বিপরীত দিকে আসে না, তারাও দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে না। পৃথিবীর সর্ব নিকৃষ্ট মাখলুক তারা। ঐ ব্যক্তি ভাগ্যবান যে তাদেরকে হত্যা করলো এবং তারা তাকে হত্যা করলো। তারা কিতাবুল্লাহর দিকে আহবান করবে, কিন্তু কিতাবুল্লাহর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। যে ব্যক্তি তাদেরকে হত্যা করবে সে-ই হবে আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম। সাহাবাগণ বললেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ! তাদের আলামত বলুন। তিনি বললেন, ন্যাড়া মাথাওয়ালা গোষ্ঠী। (আবু দাউদ ৪৭৬৫, হাকেম ২৬৫৯)

আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা খারেজিদের ব্যাপারে বলেন-

«طوبى لمن شهد هلكتهم»

অর্থ:যে তাদের ধ্বংসস্থল প্রত্যক্ষ করলো, তার জন্যেও সুসংবাদ। (ইবনে আবি আসেম থেকে সুন্নাহ কিতাবে, হাদিস নং- ৯১৩, নাসায়ী সুনানে কুবরায় হাদিস নং- ৮৫১৫) [আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ বলেছেন- যিলালিল জান্নাহ কিতাবে- ২-৪৪৩]

মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় এসেছে:

عن سعيد بن جمهان قال: كنا نقاتل الخوارج وفينا عبد الله بن أبي أوفى وقد لحق غلام له بالخوارج، وهم من ذلك الشط، ونحن من ذا الشط، فناديناه أبا فيروز أبا فيروز، ويحك هذا مولاك عبد الله بن أبي أوفى؟ قال: نعم الرجل هو لو هاجر، قال: ما يقول عدو الله، قال: قلنا: يقول: نعم الرجل لو هاجر، قال: فقال: أهجرة بعد هجرتي مع رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ ثم قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «طوبى لمن قتلهم وقتلوه»

হযরত সাঈদ বিন জাহমান রহিমাহুল্লাহ বলেন- আমরা একবার খারেজিদের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হলাম। আমাদের সাথে তখন আব্দুল্লাহ বিন আবি আউফা রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন। ক‘দিন আগে তার একজন গোলাম খারেজিদের সাথে যোগ দিয়েছে। আমরা যখন খারেজিদের মুখোমুখি হলাম, তারা ছিল একপাশে আমরা অপর পাশে। আমরা সেই গোলামের নাম ধরে ডাক দিলাম। আবু ফিরোজ! আবু ফিরোজ!!

তোমার ধ্বংস হোক, দেখো না তোমার মনিব এখানে। জবাবে সে বললো, সেও যদি আমার মতো হিজরত করে চলে আসে তবে সেও ভালো লোক হবে।

আবু আউফা আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহর দুশমন কী জবাব দিয়েছে? বললাম, সে বলেছে- সেও যদি হিজরত করে এখানে চলে আসে তবে সেও ভালো লোক হবে। তখন তিনি বললেন- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হিজরত করার পর আবার অন্য কোন হিজরত লাগবে?! তখন তিনি আমাদেরকে বললেন- আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- যে তাদেরকে হত্যা করবে, আর তারা যাকে হত্যা করবে উভয়ের জন্যই সুসংবাদ। (মুসনাদে আহমদ খ: ৩১ পৃ: ৪৮৬)

তাবরানী মুজামুল কাবীরে এসেছে: হযরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু খারেজিদের ব্যাপারে বলেন-

«خير قتلى من قتله هؤلاء - ثلاثا يقولها - طوبى لمن قتلهم وقتلوه - ثلاثا يقولها»

অর্থাৎ এরা যাকে হত্যা করবে সে উত্তম শহীদ। এই কথাটি তিনি তিন বার বলেছেন। যে তাদেরকে হত্যা করবে, যাকে তারা হত্যা করবে, উভয়ের জন্যেই সুসংবাদ। এই কথাটিও তিনি তিনবার বলেন। (তাবরানী মুজামুল কাবীর হাদিস নং- ৮০৩৪)

উপরের হাদিসগুলোতে বারবার طوبى শব্দটি ব্যাবহার হয়েছে। হাদিসের ব্যাখ্যাকারগণ এই শব্দটির ব্যাপারে বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন। কেউ বলেছেন, طوبى হলো জান্নাত। কেউ বলেছেন, জান্নাতের একটি বৃক্ষ। কেউ বলেছেন- জান্নাতের উৎকৃষ্ট অবস্থান। এর দ্বারা তাদের জন্য দোয়া করা উদ্দেশ্য কিংবা সুসংবাদ দেওয়া উদ্দেশ্য।

মোল্লা আলী কারী রহিমাহুল্লাহ মিরকাতে বলেন- হাদিসে বর্ণিত طوبى শব্দটি ইসমে তাফযীলের সিগা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তাদেরকে সুসংবাদ দেওয়া এবং উভয় জগতে তাদের সুখময় জীবনের জন্য দোয়া করা।

পবিত্র হাদিসে এই শব্দটি কিছু উঁচু মাপের আমলের ফযিলত বয়ান করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

পঞ্চম ফযিলত: যে খারেজিদের সাথে কিতাল করবে, সে অন্য সবার চাইতে আল্লাহ তায়ালার বেশি নৈকট্যশীল হবে

হযরত আনাস বিন মালেক এবং আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত–

أن رسول الله صلى الله علــيه وآله وسلم قال في الخوارج: «يدعون إلى كتاب الله وليسوا منه في شيء، من قاتلهم كان أولى بالله منهم» رواه أبو داود وغيره

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- খারেজিরা কিতাবুল্লাহর দিকে আহবান করবে, কিন্তু তার সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। যে তাদেরকে হত্যা করবে, তাদের চেয়ে সে আল্লাহর অধিক নৈকট্যশীল হবে। (আবু দাউদ ৪৭৬৫, হাকেম ২৬৫৯)

হাদিসে বর্ণিত বাক্যটি হলো- كان أولى بالله منهم এ বাক্যের منهم জমীর নিয়ে দুটি মত।

এক- জমীর টি পুরো উম্মতের দিকে ফিরেছে। অর্থাৎে সে পুরো উম্মাহর মাঝে আল্লাহ তায়ালার অধিক নিকটবর্তী।

দুই- খারেজিদের দিকে ফিরেছে। তখন অর্থ দাড়ায় সে খারেজিদের চেয়ে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী। কিন্তু এর দ্বারা মনে হতে পারে যে, খারেজিরাও কিছু পরিমাণ আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত। না, এমন ধারণা করার সুযোগ নেই। কারণ, এই জায়গায় ইসমে তাফযীল ব্যবহার করা হয়েছে, যা তুলনা করার জন্য আসে। কিন্তু এখানে তুলনা করা উদ্দেশ্য নয়। শুধু তাদের হত্যাকারীদের ফযিলত বর্ণনা করা উদ্দেশ্য। যেমন আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারীমে কাফিরদের উপর মুমিনদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে বলেন-

أَصْحَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مُسْتَقَرًّا وَأَحْسَنُ مَقِيلًا

“অর্থঃ জান্নাতিদের আবাসস্থল এবং বিশ্রামের যায়গা অধিক উত্তম। (সুরা ফুরকান ২৫:২৪)

এর অর্থ তো কখনোই এই নয় যে কাফেরদের অবস্থান স্থল এর থেকে কিছুটা কম উত্তম!

ঠিক তেমনিভাবে এখানের কথাটিও তেমন। আর এভাবে বলার কারণ হলো, তারা বাহ্যিকভাবে কিতাবুল্লাহর দিকে আহবান করে। তাই এভাবে বলা হলো যে, তারা নয় বরং তাদের বিরোধীরাই আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী। আর তারা, তারা তো হলো, সর্ব নিকৃষ্ট মাখলুক।

ইমাম ত্বিবী রহিমাহুল্লাহ তার মিশকাতের শরহে ত্বিবীতে প্রথম মতটি উল্লেখ করেছেন। আমি বলবো এটা প্রথম মতটি গ্রহণযোগ্য হবে সেই বর্ণনা অনুযায়ী যেখানে বলা হয়েছে – في أمتي اختلاف وفرقة

আর দ্বিতীয় মতটি গ্রহণ করলেও অসুবিধা নেই। যেটা আমরা কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে দেখালাম। আরবী ভাষায় বলা হয়- العسل أحلي من الخل

মধু সিরকা থেকে মিষ্ট। অথচ সিরকার মাঝে সামান্য মিষ্টতাও নেই। এখানে মধুর মাঝে থাকা মিষ্টতার আধিক্য বুঝানো উদ্দেশ্য। তুলনা করা উদ্দেশ্য নয়।

ষষ্ঠ ফযিলত: খারেজিদের বিরুদ্ধে কিতাল হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সর্বোচ্চ বৈশিষ্ট্য

মুসনাদে আহমাদসহ অন্যান্য কিতাবে এসেছে:

عن أبي سعيد رضي الله عنه قال: «كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فانقطعت نعله فتخلف علي يخصفها فمشى قليلا ثم قال: «إن منكم من يقاتل على تأويل القرآن كما قاتلت على تنزيله» فاستشرف لها القوم، وفيهم أبو بكر وعمر رضي الله عنهما، قال أبو بكر: أنا هو، قال: «لا» قال عمر: أنا هو، قال: «لا، ولكن خاصف النعل» - يعني عليا - فأتيناه فبشرناه، فلم يرفع به رأسه كأنه قد كان سمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم»

ব্যাবহার হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। রাসুলের জুতা ছিঁড়ে গিয়েছিল। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু জুতা সেলাই করার জন্য পিছনে রয়ে গেলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন- তোমাদের মাঝে এমন একজন আছে যে, কোরআনের ব্যাখ্যা রক্ষার্থে কিতাল করবে, যেমন আমি মূল কোরআন রক্ষার্থে কিতাল করেছিলাম। তখন লোকেরা উঁকিঝুঁকি করতে লাগলো। কে সে? তাদের মাঝে আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন- আমি কি সেই ব্যক্তি? বললেন, না। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি কি সেই ব্যক্তি? বললেন না। সে হলো, জুতা সেলাইকারী। অর্থাৎ আলী। তখন আমরা আলীর রাদিয়াল্লাহু আনহু কাছে এই সুসংবাদ নিয়ে আসলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শুনে মাথা তুললেন না। মনে হয় তিনি আগেই শুনেছেন। মুসনাদে আহমদ- ১১২৮৯, ইবনে হিব্বান – ৬৯৩৭, হাকেম- ৪৬২১,

আলবানী ও আরনাউত হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন। (তালিক আলাল মুসনাদ:১৮-২৯৬)

উক্ত হাদিসটি বিভিন্ন কিতাবে মানাকেবে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়।

কোরআনের ব্যাখ্যা নিয়ে কিতাল করার অর্থ হলো, কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা রক্ষার্থে কিতাল করবেন। খারেজিরা কোরআন নাযিলে বিশ্বাসী কিন্তু কোরআনের আয়াতের ভুল তাফসীর করে। এর মাধ্যমে মানুষকে গোমরাহ করে। তো হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সঠিক ব্যাখ্যার পক্ষ নিয়ে এ সকল গোমরাহদের বিপক্ষে কিতাল করবেন যেমন রাসুল সাল্লাল্লাহু আালাইহি ওয়াসাল্লাম কোরআন রক্ষার্থে কিতাল করেছিলেন।

হাদিসে একটি বাক্য এসেছে-

فاستشرف لها القوم وفيهم أبو بكر وعمر....»

অর্থাৎ আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এই ফযিলত লাভের জন্য উঁকিঝুঁকি করতে লাগলো। এতে বুঝা গেল, খারেজিদের বিরুদ্ধে কিতাল করা কত বড় ফযীলতের কাজ।

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু মিম্বরে বসে বলেন -

«إني أنا فقأت عين الفتنة، ولو لم أكن فيكم ما قوتل فلان وفلان وفلان وأهل النهر (أي الخوارج)، وأيم الله لولا أن تتكلوا فتدعوا العمل لحدثتكم بما سبق لكم على لسان نبيكم، لمن قاتلهم مبصرا لضلالتهم عارفا بالذي نحن عليه»

আমিই সেই ব্যক্তি যে ফিতনার চোখ উপড়ে ফেলেছি। আমি যদি তোমাদের মাঝে না থাকতাম, তাহলে অমুক অমুক ও অমুকের বিরুদ্ধে কিতাল হতোনা। খারেজিদের বিরুদ্ধে কিতাল হতোনা। আল্লাহর কসম! তোমরা আমল করা ছেড়ে বসে পড়বে, এই আশংকা যদি না হতো, তাহলে আমি তোমাদেরকে সেই ফযীলতের কথা শুনাতাম যা তোমাদের নবীর যবানে আমি শুনেছি। এই ফযিলত তাদের জন্য যারা খারেজিদের গোমরাহী দেখে, আমাদের হক্ব দেখে তাদের বিরুদ্ধে কিতাল করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, নাসায়ী - ৮৫২১)

আরেক হাদিসে এসেছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আমি যদি তাদের পেতাম, আদ জাতির মত তাদেরকে হত্যা করতাম।

ইমাম নববী এই হাদিসের উপর তালীক করে বলেন- এই হাদিসে খারেজিদের বিরুদ্ধে কিতালের ফযিলত এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।

সপ্তম ফযিলত: আসমানের নীচে উত্তম (শহীদ) নিহত ব্যক্তি সে, যাকে খারেজীরা হত্যা করেছে

হযরত সাইয়ার রহিমাহুল্লাহ বলেন-

«جيء برءوس من قبل العراق فنصبت عند باب المسجد، وجاء أبو أمامة فدخل المسجد فركع ركعتين، ثم خرج إليهم، فنظر إليهم فرفع رأسه فقال: «شر قتلى تحت ظل السماء، ثلاثا، وخير قتلى تحت ظل السماء من قتلوه. وقال: كلاب النار» ثلاثا، ثم إنه بكى، ثم انصرف عنهم، فقال له قائل: يا أبا أمامة أرأيت هذا الحديث؟ حيث قلت: كلاب النار، شيء سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم أو شيء تقوله برأيك؟ قال: سبحان الله إني إذا لجريء لو سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم مرة أو مرتين، حتى ذكر سبعا لخلت أن لا أذكره. فقال الرجل: لأي شيء بكيت؟ قال: رحمة لهم أو من رحمتهم»

ইরাক থেকে কিছু মাথা আনা হলো। মসজিদের দরজার সামনে রেখে দেওয়া হলো। তখন হযরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে এসে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। এরপর বের হয়ে লাশগুলোর দিকে তাকালেন, এবং মাথা তুলে বললেন- আসমানের নিচে সর্বনিকৃষ্ট লাশ। তিনবার বললেন। আর তারা যাকে হত্যা করেছে, আসমানের নিচে সে হলো সর্বোত্তম শহীদ। এরা হলো, জাহান্নামের কুকুর। তিনবার বললেন। এরপর কান্না করলেন ও চলে গেলেন।

একজন বলল, হে আবু উমামা! আপনি যে বললেন, “এরা জাহান্নামের কুকুর” এটা কি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে শুনে বলেছেন, না নিজের থেকেই বলেছেন। বললেন, সুবহানাল্লাহ! আমি যদি এই কথাটি শুধু এক দুইবার শুনেই বলে থাকি তাহলে তো আমি অনেক দুঃসাহস দেখালাম। আমি সাতবার শুনেছি। এতবার না শুনলে আমি বলতাম না। লোকটি বলল, তাহলে আপনি কাদঁলেন কেন? বললেন, তাদের জন্য বা তাদের প্রতি মায়া হবার কারণে। (মুসনাদে আহমদ- ২২১৫১)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন, জাহান্নামের কুকুর, আসমানের নিচে নিকৃষ্ট লাশ। এরা যাকে হত্যা করলো, সে সর্বোত্তম শহীদ। যে এদেরকে হত্যা করেছে. এরা যাকে হত্যা করেছে, তার জন্য খোশখবর। সবগুলো কথা তিনবার করে বলেছেন। (আল মুজামুল কাবীর লিততাবরানী)

অষ্টম ফযিলত: মুক্তি ও কল্যাণ তার জন্য যাকে খারেজীরা হত্যা করেছে

ইবনে তাউস থেকে বর্ণিত –

عن ابن طاوس قال: لما قدمت الحرورية علينا فرَّ أبي فلحق بمكة، ثم لقي ابن عمر رضي الله عنهما فقال: قدمت الحرورية علينا ففررت منهم، ولو أدركوني لقتلوني، فقال ابن عمر: «أفلحت إذا وأنجحت»

ইবনে তাউস থেকে বর্ণিত – তিনি বলেন, যখন হারুরিয়ারা আমাদের উপর হামলা করার জন্য আসলো, আমার বাবা পালিয়ে মক্কা চলে গেলো। সেখানে সে ইবনে উমরের সাক্ষাতে গিয়ে বলল, হারুরিয়ারা এসেছিল, আমি জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসেছি। যদি তারা আমাকে পেতো হত্যা করে ফেলতো। তিনি বললেন, তাহলে তো তুমি সফল হয়ে যেতে, মুক্তি পেয়ে যেতে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-১৮৫৮০)

পরিশিষ্ট: মুশরিক ও খারেজিদের সাথে যুদ্ধ করার বিষয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ

কাবে আহবার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

«الذي تقتله الخوارج له عشرة أنوار، فضل ثمانية أنوار على نور الشهداء»

‘যাকে খারেজিরা হত্যা করবে, তাকে দশটি নূর দেওয়া হবে। অন্য শহীদদের নূরের চেয়ে আটটি নূর বেশি দেওয়া হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা – ৩৭৯১১। হাদিসের বর্ণনাকারীগণ সবাই ছিকা)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, ‘সাধারণ শহীদের জন্য দুটি নূর, আর যে খারেজিদের হাতে শহীদ হবে, তার হবে দশটি নূর’।

ইবনে হুবায়রা তার কিতাব ইফসাহ এর ২৮০-২৮১নং পৃষ্ঠায় হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেন-

«لولا أن تبطروا لحدثتكم بما وعد الله الذين يقتلونهم، على لسان محمد صلى الله عليه وسلم»

“তোমরা আত্মঅহমিকায় পড়ে যেতে পারো এই আশংকা যদি না হতো, তাহলে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যবানে তাদের হত্যাকারীদের যে ফযিলত এসেছে তা বলে দিতাম।” (ইফসাহ ২৮০-২৮১নং পৃষ্ঠা)

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এই হাদিসটি এজন্যই শুনিয়েছিলেন, যাতে খারেজি ফিতনা প্রকাশকালীন সময়ে কেউ না মনে করে যে, এখনো মুশরিকদের বিরুদ্ধে কিতাল করাই উত্তম। বরং এ সময় মুশরিকদের তুলনায় খারেজিদের বিরুদ্ধে কিতাল করা অনেক বেশি ফযীলতের। কেননা, খারেজিদের হত্যা করার দ্বারা ইসলামের মূলধন রক্ষা পাবে। আর মুশরিকদের কিতাল দ্বারা ইসলামের আয় অর্জন হবে। অর্থাৎ ইকদামী জিহাদের ক্ষেত্রে। আর স্বভাবতই লাভ করার চেয়ে মূলধন রক্ষা করা অতি জরুরী।

হযরত আসেম বিন শুমাইখ রহিমাহুল্লাহ বলেন-

سمعت أبا سعيد الخدري يقول: ويداه هكذا يعني ترتعشان من الكبر: «لقتال الخوارج أحب إلي من قتال عدتهم من أهل الشرك»

‘আমি আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি, তিনি তখন বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। বার্ধক্যের কারণে তার হাতদুটো কাঁপছিল। তিনি বলেন- আমার কাছে খারেজিদের বিরুদ্ধে কিতাল করা, তাদের সমপরিমাণ মুশরিকদের বিরুদ্ধে কিতাল করার চেয়ে অধিক উত্তম। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৩৭৮৮৬)

এই হাদিসটিকে কেউ কেউ জয়ীফ বলেছেন। আসেম বিন শুমাইখ মাজহুল হবার কারণে।

আরেক বর্ণনায় এসেছে-

আওয়াম বিন হাওশাব আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন- তিনি বলেন- খারেজিদের বিরুদ্ধে কিতাল করা আমার কাছে দাইলামের কিতালের চেয়ে উত্তম।

দাইলাম তুর্কিদের একটি গ্রুপ। আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর যমানায় তারা মুশরিক ছিল।

ইমাম যাহাবী রহিমাহুল্লাহ তারিখুল ইসলাম গ্রন্থে লিখেন-

‘উমাইয়া শাসনামলে, আলমাগরিবুল ইসলামীতে ১২৫ হিজরিতে মুসলিম ও খারেজিদের মাঝে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। খারেজিদের নেতৃত্ব দেয় আব্দুল ওয়াহিদ আল হারাবী আর মুসলিমদের নেতৃত্ব দেন হানযালা বিন সাফওয়ান। তখন মাগরিবে খারেজি ফিতনা অনেক তুঙ্গে ছিল। যুদ্ধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। মুসলিমদের বিরুদ্ধে ওকাশা আল খারেজির নেতৃত্বে একটি দল ময়দানে আসে। তাদের সাথে মুসলিমদের প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। এমন মোকাবেলার কথা ইতিপূর্বে শোনা যায়নি। ওকাশা আল খারেজি পরাজিত হয়। বারবারদের থেকে অসংখ্য মানুষ নিহত হয়। পরাজিত হয়ে তারা পিছু হটে যায়। এরপর তাদের মূল নেতা আব্দুল ওয়াহিদ হাওয়ারি নিজে অভিযানে আসে। হযরত হানযালা তার মোকাবেলায় চল্লিশ হাজারের একটি বাহিনী তৈরি করে। প্রথমবার মোকাবেলায় মুসলিমরা পরাজিত হয়। তাদের বিশ হাজার সেনা শহীদ হয়।

আব্দুল ওয়াহিদ কাইরায়ান থেকে এক ফারসাখ দূরে অবস্থান গ্রহণ করেন। বলা হয়, তখন তার সাথে থাকা সেনাবাহিনীর সংখ্যা ছিল তিন লাখ। হযরত হানযালা অনেক সম্পদ খরচ করলেন। অস্ত্র প্রস্তুত করলেন। দশ হাজার বাহন তৈরি করলেন। একটি জানবায মুজাহিদ দল নিয়ে বের হলেন। যাদের মাঝে অনেক হাফেজ আলেম, ওয়ায়েজ ও দায়ী ছিলেন। অনেক দোয়া মুনাজাত হলো। আল্লাহর কাছে রোনাজারি হলো। নারী এবং শিশুরা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানালো। হানযালা কাতারের মাঝে মাঝে হেটে জিহাদ ও শাহাদাতের স্পৃহা জাগাচ্ছিলেন। নারীরাও মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। কারণ তারা এই খবিশ খারেজিদের অপকর্ম সম্পর্কে জানতেন।

এরপর তাকবীর ধ্বনি দিয়ে মুসলিমরা ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়লো। সাদাকাতের পরিচয় দিলো। তরবারির খাপ ভেঙ্গে ফেললো। উভয় দলে অপ্রতিরোধ্য লড়াই হলো। মুসলিমদের “মাইসার” ডানপাশের দল দুর্বল হয়ে পিছু হটল। তারা আবার ফিরে আসলো। বীর বিক্রমে হামলা চালিয়ে খারেজিদের পরাজিত করলো। তাদের নেতা আব্দুল ওয়াহিদ আলহাওয়ারী ময়দানে নিহত হলো। তার মাথা নিয়ে আসা হলো। বারবারদের এমনভাবে হত্যা করা হলো যার কথা আগে কখনো শুনা যায়নি।

ওকাশাকে বন্ধি করে নিয়ে আসা হলো। হানযালা তাকে হত্যা করলেন। খারেজিদের নিহতদের সংখ্যা গণনা করা হলো। ময়দানেই নিহত হয়েছে এক লক্ষ আশি হাজার। এটা ছিল ঐতিহাসিক যুদ্ধ। এমন যুদ্ধের কথা ইতিপূর্বে শুনা যায়নি। এই খারেজি কুকুররা মুসলিম নারী শিশুকে দাস বানানো বৈধ মনে করতো। মুসলিমদের রক্ত হালাল মনে করতো। আহলে কিবলাকে তাকফীর করতো। এই যুদ্ধটি গাযওয়াতুল আসনাম নামে প্রসিদ্ধ। সেখানকার একটি গ্রামের নামানুসারে।

হযরত লাইছ বিন সাদ বলেন- বদর যুদ্ধের পর আসনামের যুদ্ধে অংশগ্রহণের চেয়ে আর কোন দামী আমল আমার জানা নেই।

 

والحمد لله رب العالمين

 

 

*******