ইসলামী বসন্ত (৭)
শায়খ আইমান আজ জাওয়াহিরি (হাফিজাহুল্লাহ)

 

 
অনলাইনে পড়ুন-

পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৮৫২ কেবি]

https://alfirdawsweb.files.wordpress.com/2017/10/islami-boshonto-7th-part-desktop-view.pdf
https://archive.org/download/islami-boshonto-7th-part-desktop-view/islami-boshonto-7th-part-desktop-view.pdf
http://www.mediafire.com/file/9fvgjcfanh3eaaw/islami-boshonto-7th-part-desktop-view.pdf/file

https://mega.nz/file/ZF4D0DLB#vmpNDvR7B6aNmowXRA3U092sQxMMWhUWWIUOUzs1OFI 

——————–——————–——————–——————–——————–——————–——————–——————–

ইসলামী বসন্ত- শাইখ আইমান আয-যাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ

৭ম পর্ব

আল্লাহর নামে শুরু করলাম। দরূদ ও শান্তি বর্ষিত হোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার, সাহাবায়ে কেরাম রা. ও তাদের প্রতি যারা তাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছেন।

বিশ্বের আনাচে কানাচে অবস্থানরত মুসলিম ভাইয়েরা!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ইসলামী বসন্ত এর ধারাবাহিক আলোচনার ৭ম পর্ব এটি। এই পর্বে আমি মুসলিম দেশসমূহ নিয়ে কিছু আলোচনা করতে চেয়েছি। কিন্তু সম্প্রতি ইয়েমেনের দুর্ঘটনা তা থমকে দিল। বিগত পর্বে মুসলিমদের উপর রাফেজিদের ভয়াবহ নির্যাতনের কিছু চিত্র তুলে ধরেছি। কিন্তু এই পর্বে আমি ইয়েমেনে চলমান ভয়াবহতা নিয়ে কিছু আলোকপাত করব। এই পর্ব শুরু করার পূর্বে আমি উম্মাতে মুসলিমাকে বিশেষ করে কাওকাযবাসিকে আমিরুল জিহাদ আবু মুহাম্মাদ আল-দাগিস্তানি রহ. এর শাহাদাতের সুসংবাদ জানিয়ে শান্তনা দিচ্ছি। মহামহিম রবের দরবারে মিনতি, তিনি যেন তাঁর ও ভাইদের শাহাদাতকে কবুল করে নেন, সর্বোচ্চ মর্যাদায় তাদের ভূষিত করেন এবং লজ্জা ও লাঞ্ছনা মুক্ত করে ক্ষমতাধর প্রভুর নিকট তাদের পাশে আমাদেরকেও একত্রিত করেন। তিনি যেন তাঁদের শাহাদাতকে ভাইদের ত্যাগ ও কোরবানীর প্রেরণা হিসেবে কবুল করেন। যাতে মুরতাদ ও ক্রুসেডার বাহিনীর নোংরামি থেকে মুক্ত হয়ে মুসলিমরা পুনরায় নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে সম্মানের সহিত কাওকাযে ফিরে এসে ইসলামের তাওহিদি পতাকা পতপত করে ওড়াতে পারে এবং কাঙ্ক্ষিত খিলাফাত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা সকল দেশের মুসলিমরা যেন এক হতে পারি। যেই খিলাফাত শরিয়াহ অনুযায়ী শাসন করবে, ন্যায় ছড়িয়ে দিবে, কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করবে, সকলের সাথে পরামর্শ ভিত্তিক কার্য পদ্ধতি চালু করবে, সবার ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিবে এবং মুসলিমদের অঞ্চলগুলোকে মুক্ত করবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সকলের পরামর্শের ভিত্তিতে তা অচিরেই হবে ইনশাআল্লাহ।

এমনিভাবে আল্লাহ তায়ালার কাছে কামনা করি, তিনি যেন শায়খ আবু মুহাম্মাদ রহ. এর শাহাদাতকে, মুসলিমদের ঐক্যের জন্য একান্ত আগ্রহী তার দাওয়াহকে, একত্ববাদের প্রতি তার আহ্বান ও শামের ভয়াবহতা নিভাতে তার পদক্ষেপসমূহকে পুনর্জীবিত করেন। কারণ হৃদ্যতা ও ভালবাসার কারণে তার দাওয়াত কবুল করতে মুসলিম মুজাহিদদের অন্তর উন্মুক্ত হয়ে থাকে। শাইখ আবু মুহাম্মাদের শাহাদাত সংবাদের পর পরই “রিসালাতুন ইলাল মুসলিমিন” নামে তাঁর একটি পত্র আমার হস্তগত হয়। তা দেখে আমি খুবই প্রভাবিত হই। সব চেয়ে বেশী প্রভাবিত হই তাতে উল্লেখিত কিছু বিষয় লক্ষ্য করে। এই পত্রে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন যেই বিষয়টিতে, তা প্রথম পর্বে উল্লেখ করেছি। অর্থাৎ বাগদাদি গোষ্ঠীর এই উদ্দেশ্য ছিলনা যে তারা কাওকাযে নিজ ভাইদের সাহায্য করবে। বরং তাদের আপ্রাণ চেষ্টা ছিল, তাদের নিজেদের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে দেওয়া, বাইয়াত ভঙ্গ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা। যেমন সে নিজে এবং তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা ভঙ্গ করেছিল। তাই আল্লাহর দরবারে প্রত্যাশা, যেন আমরা পূর্বের সেই সৌহার্দপূর্ণ ঐক্যে আবদ্ধ হতে পারি।

আগেও বলেছিলাম যে, বাগদাদি মিত্রের শপথ ভঙ্গ ও প্রকাশ্যে এই অবাধ্যতার পূর্বে পৃথিবীর সকল মুজাহিদ আমিরুল মুমিনিন মোল্লা মোহাম্মাদ ওমর রহ. ও জামাত কায়দাতুল জিহাদের কাছে হয়ত বায়াত ছিল, নতুবা তাদের সমর্থক ছিল। তাদের মুখপাত্র স্পষ্ট অপবাদ আরোপ করে দাবি করে থাকে যে, শাইখ আবু হামজা আল-মুহাজির রহ. নাকি শাইখ উসামা বিন লাদের রহ. এর সাথে কোন বাস্তবতা ছাড়াই এক তরফা ভাবে তার বাইয়াত ভঙ্গ করেছিলেন। বিষয়টি তা নয়, বরং তাদের মুখে উচ্চারিত স্বীকারোক্তির কারণে। নিজেদের নির্দোষ প্রমাণিত করার জন্য তারা আরেকটি নতুন বিদআতের আবিষ্কার করল। এই অবাধ্য সালাফী ইহাকে সম্মানের বাইয়াত বলে আখ্যায়িত করেছে। ইসলামের ইতিহাসে যার কোন দৃষ্টান্ত নেই।

আর যদি তাদের এই দাবি মেনেও নেই, তাহলে এই পর্যন্ত সকল মানুষের চুক্তি অবৈধ হয়ে যায় এবং তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকারগুলো উপহাসে পরিণত হয় ও বাইয়াত সস্তা পণ্যে রূপান্তরিত হয়। সে নিশ্চয়ই এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে যে, কেড়ে নিতে হলে মিথ্যা বল। তারা সকলে এ কথা ভুলার চেষ্টা করে যে, তারা জিহাদি কাফেলায় শামিল হয়েছে অসংখ্য কোরবানির নজরানা দিয়ে খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করার জন্য। যেমনটি পূর্ব পুরুষগণ দেখিয়ে গিয়েছেন। আসলাফদের কোরবানির আলোচনা আসলেই শাইখ উসামা রহ. এর সেই দীপ্তিময় চেষ্টা প্রচেষ্টা ও ত্যাগের কথা হৃদয়পটে ভেসে উঠে যা তিনি ব্যয় করেছিলেন আমিরুল মুমিনিন মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর এর নেতৃত্বে ইমারাতে ইসলামী’র অধীনে সকল মুজাহিদদেরকে একত্রিত করতে। শাইখ উসামা আমাকে একথাও বলেছেন যে, শাইখ খাত্তাব রহ. আমিরুল মুমিনিন এর হাতে বাইয়াত ছিলেন। এই মানুষগুলো কখনো ভীরু, দুর্বল কিংবা খেয়ানাতকারী ছিলেন না। বরং তারা সূক্ষ্মভাবে পথ চলতেন। আল্লাহর অনুগ্রহে যার ফলাফল আজ আমাদের সামনে উদ্ভাসিত। তাঁদের এসকল চেষ্টা প্রচেষ্টা ছিল নবুওয়াতি ধারায় এমন একটি খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা করার জন্য, যাহা হবে আল্লাহর সন্তুষ্টিক্রমে ও সকলের পরামর্শ অনুযায়ী এবং তার মুখ্য উদ্দেশ্য হবে শরিয়াহ দ্বারা ফায়সালা করা ও মুসলিমদের ইজ্জত আব্রু রক্ষা করা। ভেঙ্গে চুরমার করে এমন কোন আঁকড়ে ধরা শাসনের অধীন করার জন্য নয়, যার প্রতিষ্ঠাই হচ্ছে ইসলামী শরিয়ার বিধান বর্জন, আপন মতবাদের অনুকূল না হলে তুচ্ছ জ্ঞান করা ও তাকে পরামর্শ চাওয়ার অযোগ্য মনে করা, মুসলিমদের তাকফির করা এবং তাদের ইজ্জত আব্রুকে অবজ্ঞা করার উপর।

আমার মুসলিম মুজাহিদ ভাইয়েরা!!! নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান মত ফায়সালা না করা, নিজেদের শক্তি বিনষ্ট করা, মুসলিমদেরকে তাকফির করা জঘন্য অপরাধ। কিন্তু এই অপরাধটা যখন নিখাঁত ক্রুসেড ও ধর্মনিরপেক্ষ কোন পাপিষ্ঠের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় কোন একটি দল থেকে প্রকাশিত হয়, তখন তার অপরাধটা আরো দি¦গুণ বেড়ে যায়। এ অবস্থায় আমাদের সকলের উচিৎ, তাদের মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এমনটা কখনো আমাদের থেকে কাম্য নয় যে আমরা পরস্পরকে তাকফির করার লক্ষ্যে এবং একে অপরের নেতাদের বিরুদ্ধে লেগে থাকার জন্য নতুন নতুন কারণ আবিষ্কার করবো। এত সব অবাধ্যতা-অপরাধ সত্ত্বেও আমরা সারা বিশ্বের মুজাহিদদের শরিয়াহ ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য, আমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ শত্রুদের মোকাবেলায় এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান করি।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলমানদের বিশেষত মুজাহিদদের একতাকে সুদৃঢ় করে দেন এবং আমাদেরকে শাইখ আবু মুহাম্মাদ ও তাঁর ভাইদের উত্তম প্রতিদান থেকে মাহরুম না করেন, আমাদেরকে যেন তিনি পরীক্ষার সম্মুখীন না করেন এবং আমদের ও সকল মুসলিমদের ক্ষমা করে দেন। এই পর্বে আলোচনা শুরু করার পূর্বে আমি কিছু ঘটনা-প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে চাই। তা হল, আমেরিকা প্রশাসন আমাদের বীর মুজাহিদ ভাই জাওহার ছারনাইফকে দোষী সাব্যস্ত করে। আল্লাহ তার মুক্তির ব্যবস্থা করুন। এটা তার মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ইঙ্গিত বহন করে। তার বিরুদ্ধে কিংবা যে কোন মুসলিম বন্দীর বিরুদ্ধে এই ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকা তার প্রজাদের উপর কঠিন পরিণতি ডেকে আনছে, যার ফলে আমেরিকা নিজেকেই ভর্ৎসনা করবে। সকল মুসলিম, মুজাহিদকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর যেকোন নাগরিককে বন্দি করার জন্য তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করার জন্য আমি আহ্বান করছি। এদের বিনিময়ে তারা মুসলিম বন্দি নারী-পুরুষদের মুক্ত করবে। কারণ এই জাতি আজ অপরাধী। তারা শক্তি ছাড়া কিছুই বুঝেনা।

আমেরিকার মিত্র দেশসমূহের মুজাহিদদের প্রতি আমার কিছু আহ্বান- তারা যেন সাধ্যমতে মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে অতিষ্ঠ করে তোলে, সর্বদা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে, তাদের সর্ব প্রকার প্রস্তুতি গোপন রাখে এবং আশপাশের গোয়েন্দাদের থেকে যেন সতর্কতা অবলম্বন করে চলে। অতঃপর তাদের লক্ষ্যে আক্রমণের শক্তি অর্জন করার পর আল্লাহর উপর ভরসা করে যেন সামনে অগ্রসর হয়। আল-কায়েদার ভাইয়েরা তাদের সাহায্যার্থে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- “কত ছোট দল আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক বড় দলের উপর বিজয়ী হয়েছে। আর আল্লাহতো ধৈর্য্যশীলদের সাথে আছেন।”

সকল মুসলিমকে, বিশেষ করে জাজিরাতুল আরব ও ইয়েমেনের মুজাহিদদেরকে শুভেচ্ছা ও শান্তনার সাথে আমাদের সম্মানিত দুই ভাই শাইখ ইবরাহীম আর-রুবাইশ এবং শাইখ নাসর বিন আলি আল- আনিসি রহ. এর শাহাদাতের সংবাদ দিচ্ছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকেও সম্মানের সহিত তাদের দলভুক্ত করুন এবং তাদের মর্যাদা সমুন্নত করুন। আল্লাহ পাক যেন তাদের পরিবার ও ভাইদেরকে তাদের পক্ষ থেকে উত্তম বিনিময় দান করেন। তাঁরা উভয়েই বিশ্বের উলামা ও দাঈদের আদর্শ পুরুষ ছিলেন। তাঁরা ছিলেন এমন সুদৃঢ় পর্বতসম, যারা শত বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অন্তরে লালিত সত্যের উপর অটল ছিলেন। বন্দিত্ব বরণ, পরিবার ও দেশ-দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক ও তাদেরকে রবের সন্তুষ্টির পথে চলতে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা গ্রস্ত করতে পারেনি। মুসলিম মিল্লাতের জন্য তাদের রেখে যাওয়া অবদানের বিনিময়ে আল্লাহ তাদের উত্তম বিনিময় দান করুন এবং আম্বিয়া, শুহাদা ও সিদ্দিকিনদের সাহচর্য দান করুন। তাঁরা কতইনা উত্তম বন্ধু।

কবির ভাষায়

উদয় ও ঔজ্জ্বল্যের প্রভু মহান আল্লাহর পথে আমি দৃঢ় আস্থায় অবিচল।

আমার অবাধ্যতার ফলে তিনি যদি আমাকে শাস্তি দেন কিংবা ক্ষমা ও করে দেন, তবুও আমি আমার দৃঢ় অঙ্গিকারে বিশ্বস্ত।

হে ভাই! তারা তোমাকে আমাদের পশ্চাতে গ্রহণ করেছে, এক সৈন্যবাহিনীর পর এক সৈন্য বাহিনী তারা লাগিয়েই রেখেছে।

যদি আমি মারা যাই তবে আমি শহীদ। আর তুমি এগিয়ে যাবে নতুন বিজয় পানে।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাঁর দাওয়াতের জন্য কবুল করেছেন, আর আমরাও তাঁর পথেই অগ্রসর হচ্ছি।

আমাদের মধ্যে কারো বিদায় হয়েছে আর কেউ আপন দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত।

ভাই আমার! এগিয়ে যাও, পশ্চাতে তাকিওনা। তোমার পথতো রক্ত পিচ্ছিল।

এদিক সেদিক অবলোকন করবেনা। তোমার প্রত্যাশা হবে উন্নত।

শামের জিহাদে অংশগ্রহণকারী ইসলামের সিংহ শাবকদেরকে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে দারআ’য়, ইদলিব ও জিসরে এবং কালামুনে যে বিজয় দান করেছেন সেই জন্যে তাদেরকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই।

হে ভাইয়েরা!! আল্লাহর কৃতজ্ঞতা, আনুগত্য ও পারস্পরিক ভালবাসা এবং বন্ধন বজায় রেখে এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করুন। জুলুম ও ঝগড়া ফাঁসাদের মাধ্যমে আপনারা ইহার অপব্যবহার করবেননা। জেনে রাখবেন আল্লাহ অবশ্যই আপনাদের অন্তরের গোপন বিষয় ভালোভাবেই জানেন। সেই বিবেচনায় তিনি প্রতিদান দিয়ে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,“আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তারা গাছের নিচে আপনার হাতে বায়আত গ্রহণ করছিল, আল্লাহ জেনে নিয়েছেন তাদের অন্তরে কি আছে। তাই তিনি তাদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেছেন এবং বিনিময় স্বরূপ তাদেরকে দিলেন নিকটবর্তী বিজয়। অতএব তোমরাও আল্লাহকে তোমাদের অন্তরের গোপনীয়তা জানিয়ে দাও। যাতে তিনি সন্তুষ্ট হবেন এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞা কর যে, তোমাদের এই জিহাদের বিনিময়ে এমন একটি ইসলামী খিলাফাহ প্রতিষ্ঠিত হবে, যা হবে নবুওয়াতি ধারার। আর তা অচিরেই হবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যেন তিনি ধর্মনিরপেক্ষও বস্তুবাদী খৃষ্টানদের অপবিত্রতা থেকে তোমাদের হাতে শামের ভূমিকে পবিত্র ও স্বাধীন করেন। অবশেষে শামের বিজয় হবে বিশ্ব বিজয়ের সূচনা, সকল যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু এবং বাইতুল মাকদিস জয়ের মাধ্যম ও খিলাফাত প্রতিষ্ঠার কারণ। যার ভিত্তি হবে মুসলিমদের সন্তুষ্টি ও পরামর্শের উপর, ছড়িয়ে দিবে ন্যায়পরায়ণতা, রক্ষা করবে সকলের সম্মান এবং অঙ্গীকার, যা কখনো বাইয়াত ভঙ্গ করবেনা এবং তাতে আল্লাহর চির সত্য সেই বাণীই ফুটে উঠবে, “যখন মুমিনদেরকে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয় তাদের মাঝে ফায়সালা করার জন্য, তখন তারা বলে আমরা শুনলাম তো মানলাম।” শাম থেকেই মুসলিমদের অপহৃত ভূমি পুনরুদ্ধার অভিযান পরিচালিত হবে, দাওয়াত ও জিহাদকে ছড়িয়ে দিবে বিশ্বময়, শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতা নিয়ে টানাটানি থেকে ফিরে আসবে এবং মুসলিমদেরকে তাকফির করা ও অপবাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

আমি শাম, ইরাক সহ সমগ্র বিশ্বের মুজাহিদ ভাইদেরকে ঐক্যের আবশ্যকতা ও গুরুত্ব এবং তার বরকত স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। সাথে সাথে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি বিচ্ছিন্নতা ও অনিষ্টতার অমঙ্গল। আমি নিজেও আমার জীবনে ঐক্যের বরকত ও কল্যাণ অনুভব করেছি। অতএব আমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ শত্রুদের মোকাবেলায় আমাদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, একে অপরকে তাকফির ও হেয় জ্ঞান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আমাদের আরো উচিৎ, আল্লাহ তায়ালার জন্য বিনয় ও নম্রতা প্রদর্শন করা এবং আমরা যেন খোলাফায়ে রাশেদার নমুনায় একই কাতারে সারিবদ্ধ হয়ে আমাদের পথ চলি। আমাদের প্রত্যেক ভাই হবে এমন যে, তারা অপর ভাইয়ের অপসারণ, দুর্নাম, ধ্বংস কামনা করা সর্বোপরি ক্ষতি সাধনের চেষ্টায় লেগে না থেকে তাদের কল্যাণে সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করবে এবং এই বিশ্বাস লালন করবে যে, এর মাঝে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের মাঝেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে। পক্ষান্তরে এর বিপরীতে যারা, মজলিসে শুরায় তাদের কোন স্থান নেই। কেননা তারা হয়তবা মুরতাদ হয়ে গিয়েছে কিংবা ক্ষমতা আত্মসাতে লালায়িত প্রায়। শামের মুজাহিদ ভাইদের প্রতি!! শামে অবস্থানরত উম্মাতে মুসলিমা আপনাদের নিকট আমানত। অতএব তাদের প্রতি সদয় হোন এবং তাদের সেবক ও রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্রতি হোন। তাদের উপর এমন অবৈধ প্রভাব বিস্তার করবেননা, যেমনটি জবর-দখলকারী শাসকরা শাসিতদের উপর করে থাকে। সুতরাং আপনাদের উপর প্রযোজ্য হবে সাইয়্যেদুনা উমর রা. এর সেই বাণী, “ইনশাআল্লাহ, আমি সাঁঝের বেলায়ও মানুষের মাঝে দণ্ডায়মান থেকে তাদেরকে সতর্ক করি, ঐ সকল পিশাচ থেকে, যারা তাদের অধিকার হরণ করতে চায়।”

শামের মুজাহিদ ভাইয়েরা!! পূর্বের ন্যায় আপনারা এখনো স্পষ্টভাবে ঘোষণা করুন যে, ইসলামী শরীয়া ভিত্তিক শাসননীতি প্রতিষ্ঠাই আপনাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। এছাড়া দ্বিতীয় কোন উদ্দেশ্য নেই। যখন তোমাদেরকে ন্যায় ও সততায় খ্যাত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আহ্বান করবে , তখন তোমরা তাদের ডাকে সাড়া দিবে। যেমন, আমাদের সম্মানিত ভাই বিশিষ্ট আলেম শাইখ আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসি হাফিজাহুল্লাহু শাম ও ইরাকে জিহাদি সংগঠন গুলোর মাঝে বিদ্যমান বিরোধের মীমাংসায় যথোপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তোমাদের জন্য উচিৎ নয় যে, তোমরা বিভিন্ন কৌশলে এর থেকে কেটে পড়বে এবং ইসলামী শরিয়াহর আদর্শ বিবর্জিত পন্থায় এক বা একাধিক অঞ্চলে তোমাদের কর্তৃত্ব ও শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। তোমরা জিহাদের পৃষ্ঠপোষক শ্রেষ্ঠ আলেমদের প্রতি অবশ্যই পূর্ণ আস্থা রাখবে। তাদের দাওয়াতকে এড়িয়ে যারা তাদের নিন্দা করে থাকে, তারা এমনটি করে থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং সম্প্রসারণবাদী লালসার কারণে। এর দ্বারা তারা নিজ কর্ম পরিণতি ও তাদের সম্মুখীন হওয়া ভয়ঙ্কর অপবাদ থেকে বাঁচতে চায়। যে সময়ে তোমরা ইসলামী শরীয়াহ ও আকিদার ভিত্তিমূল নিয়ে ছাড়াছাড়ি ও শৈথিল্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, একই সময়ে তোমরা বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করবে।

তোমাদের অন্যতম আরেকটি দায়িত্ব হল, তোমরা উম্মাতে মুসলিমাকে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করে দিবে যে, তোমাদের এই জিহাদ শুধুমাত্র বাশার আল-আসাদের পতনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এই জিহাদ ততদিন চলতে থাকবে, যতদিন পর্যন্ত আল্লাহর কালিমা সমুন্নত হয় ও কাফেরদের কালিমা অধঃপতিত হয়। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, “তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর, যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর হয়ে যায়।”

এই আয়াতে কারিমার টিকায় শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বক্তব্যটি কতইনা চমৎকার!! তিনি বলেন- যখন দ্বীন আংশিকভাবে আল্লাহর জন্য হবে এবং আংশিকভাবে গাইরুল্লাহর জন্য হবে, তখন দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গরূপে আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ক্বিতাল করা ফরজ হয়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমাকে উঁচু করার জন্য যুদ্ধ করে, তবে সে আল্লাহর রাস্তায় রয়েছে।” অতএব, তোমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা উচিৎ যে, আল্লাহর ইচ্ছায় আগামীর পৃথিবী হবে ‘খিলাফাত আলা মিনহাজিন নবুওয়্যাত’ এর উজ্জ্বল নমুনা। যে রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি হবে মজলিসে শুরা ও সকল মুসলিমদের ভ্রাতৃত্ব এবং ইসলামী দেশগুলোর ঐক্যের উপর। যেখানে থাকবেনা জাতীয়তাবাদী চেতনা কিংবা দেশাত্মবোধক মনোভাব। যেখানে থাকবেনা দেশাত্ববোধক বা ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয়। বরং সকল মুসলিম পরস্পর সমান। যেমন নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “সকল মুমিনের রক্ত সমান। তারা তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শক্তি। একজন দুর্বল মুমিনও প্রত্যেক মুমিনের অধিকার রক্ষা করতে চেষ্টা করে।” এই রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে কোন দেশের মুসলিম নেতৃত্বের অধিকার রাখে। আর অন্যদের এবং তাদের উপর শরিয়াহ যে দায়িত্ব ও প্রাপ্য নির্ধারণ করেছে তাদেরকে তা অর্পণ করা হবে।

আমি আবারো উল্লেখ করতে চাই, যে দিকে আহবান করেছেন শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ. এবং আমি নিজেও। মুজাহিদ, দাঈ, ওলামায়ে কেরাম, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যবসায়ীরা সকলে সমাধান ও বন্ধনের একটি পরিষদ গঠন করবে। চূড়ান্ত ভাবেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এর ফলে যেন কাউকে বন্দী হতে না হয়। আর এটা অবশ্যই খোলাফয়ে রাশেদিন ও সাহাবায়ে কেরামের পথই যেন হয়। যেন তারা উম্মার সুক্ষ বিষয়গুলো নিয়ে অধ্যয়নের জন্য বিভিন্ন ইসলামী রাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে হয়।

একই ভাবে আমি অভিবাদন জানাচ্ছি, মাকদিসি এবং কেনিয়ায় ক্রুসেডার সেনাবাহিনী ও তাদের মুরতাদ মদদপুষ্টদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত পূর্ব আফ্রিকার মুজাহিদ ভাইদেরকে। পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকায় মুসলিমদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আমি তাদেরকে দিচ্ছি। মুসলিমদের ইজ্জত সম্মান রক্ষায় তারা যেন তাদের শক্তি সামর্থ্য জমা করে না রাখে। তাদেরকে আমি বিশ্বাসঘাতক মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতি উৎসাহ দিচ্ছি, যারা সোমালিয়ায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড বাহিনীকে টেনে এনেছে। তোমরা তাদের ফসলাদি ধ্বংস করে দাও এবং তাদের ও তাদের মিত্রদের মোকাবেলা করার জন্য, তাদের শাসনব্যবস্থা নির্মূল করার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা ইয়াহুদি ও খৃষ্টানদের ব্যাপারে বলেন “তোমাদের মধ্য হতে যারা তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাদের থেকেই গণ্য হবে।”

ইয়েমেনে চলমান পরিস্থিতি বর্ণনার পূর্বে আমি সকল মুসলিমকে বিশেষ করে মুজাহিদ ভাইদেরকে এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চাই যে, আমাদের কাতারগুলোকে ঐক্যের ডোরে আবদ্ধ করতে হবে। তাই আমাদেরকে এই ক্রুসেড, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও রাফেজিদের আক্রমণ প্রতিহত করতে হবে। অথচ আমরা নিজেদের মধ্যকার নানা মতানৈক্য নিয়ে পড়ে আছি। এই মতানৈক্যে উসকানি দাতারা তাদের প্রধান বিরোধীদেরকে অধিকহারে উসকানি দিচ্ছে। তাদের মুখপাত্র আরো বলে- তারা দাওলার প্রসারতার জন্য সাংগঠনিক সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে এসেছে অথচ ইহা একটি মিথ্যা বক্তব্য, যা তারা একে অন্যের উপর রটায়।

প্রথম মিথ্যা – তাদের দাবি, তারা দাওলার প্রশস্ততার জন্য সংগঠন থেকে বেরিয়ে এসেছে, অথচ তারা তখনো দাওলাতুল ইসলামী’র সদস্য ছিল।

দ্বিতীয় মিথ্যা- তারা বলে থাকে যে, আবু হামজা আলমুহাজির দাওলার জন্য আল কায়েদা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, অথচ তারাই দৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি দেয় যে, ইরাকের দাওলাতুল ইসলামী গোপনভাবে আল কায়েদার কাছে বাইয়াত ছিল।

তৃতীয় মিথ্যা- তারা শাইখ আবু হামজা আল মুহাজিরের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার তীর ছুড়ে বলে যে, তিনি শাইখ উসামা রহ. এর সাথে তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন।

চতুর্থ মিথ্যা – আল কায়েদার আমিরদেরকে নিজেদের নেতা মেনে নিয়ে তাদের আনুগত্য, শ্রবণ ও তাদের সাথে কৃত মৈত্রীচুক্তি রক্ষার ব্যাপারে তাদের স্পষ্ট স্বীকারোক্তিকে নিজেদের উপর মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। পাশাপাশি আরো অনেক প্রমাণ আছে, যাতে তারা তাদের ইমামের কাছ থেকে অনুমতি চেয়েছে।

পঞ্চম মিথ্যা- আল কায়েদার প্রতি ভ্রষ্টতার অভিযোগ, যা তাকফিরের পর্যায়ে পৌঁছে দেয় এবং অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করা। এতসব অপবাদ ও গালমন্দের পক্ষে তারা কোন প্রমাণই উপস্থাপন করতে পারেনি। বরং তাদের স্বীকারকৃত স্পষ্ট প্রমাণগুলোও তাদের দাবির বিপরীত।আল্লাহ তায়ালা বলেন- “যদি তারা সাক্ষী নিয়ে আসতে না পারে, তাহলে আল্লাহর কাছে তারা মিথ্যাবাদী।”রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন – “যখন কোন ব্যক্তি তার অপর ভাইকে বলবে হে কাফের, তাহলে দুজনের একজনের উপর এই অপবাদ পতিত হবে।”রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন “যে ব্যক্তি কাউকে কুফুরীর অপবাদ দেয়, তাহলে এই অপবাদ তাকে হত্যা করার সমান অপরাধ বহন করে।” মিথ্যা অপবাদ দেয়া এবং কোন মুসলিমকে গালি দেয়া হল ফাসেকি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- “কোন মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি এবং কাউকে হত্যা করা কুফুরি।” আর ফাসেকি দীনি বন্ধনের পথে বাঁধা।আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন -“স্মরণ করুন যখন আল্লাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে কিছু কালিমা দ্বারা পরীক্ষা করলে তিনি তা পূর্ণ করেন, তখন আল্লাহ পাক বলেন, আমি তোমাকে মানুষের নেতা বানাবো। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেন, আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। আল্লাহ তায়ালা বলেন আমার অঙ্গীকার যালেমদের জন্য প্রযোজ্য নয়।”

তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ হল, তাদেরকে শরীয়ার দিকে আহ্বান করা হলে তারা ছলনা শুরু করত। শাইখ আবু মুহাম্মাদ আল মাকদিসি দীর্ঘ এক বছর তাদের এমন ধোঁকাবাজির যন্ত্রণা সহ্য করার পর তাদের ব্যাপারে এরূপ বর্ণনা দিয়েছেন। তাদের উপর আরোপিত অসংখ্য অপবাদকে তারা এড়িয়ে যেত। ওহে মুসলিমদের ইজ্জতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাকওয়াবান দ্বীনদার ভাইয়েরা, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও খোলাফায়ে রাশিদিনের সুন্নাতকে সমুন্নত করতে আগ্রহী সকল মুসলিম, আমাদের জন্য দুটি সংক্ষিপ্ত তবে স্পষ্ট পত্র রয়েছে।

প্রথমটি; মুসলিম উম্মাহর প্রতি, তা হল, আমরা মুসলিমদেরকে ইসলামী শাসন দ্বারা পরিচালিত করতে চাইনা অথচ আমাদের বা অন্যদের মধ্য হতে যোগ্য কোন একজন ব্যক্তি ইসলামী বিধান অনুযায়ী শাসন করুক, তা আমরা ঠিকই চাই।

দ্বিতীয়টি; মুজাহিদ ও ইসলামের সাহায্যকারী এবং খিলাফাত পুনঃপ্রতিষ্ঠাকারী ভাইদের উদ্দেশ্যে। তা হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খোলাফায়ে রাশেদার অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, তারপর অবশ্যই আঁকড়ে ধরা শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন হবে। এর থেকে তিনি আমাদেরকে যথেষ্ট সতর্কও করেছেন। এই শাসনব্যবস্থার অগ্রদূত ছিল আব্দুল্লাহ ইবনে মারওয়ান। যে হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে হিজাজে পাঠায়। ফলে সে কাবা ঘরে মিনজানিক দ্বারা আঘাত করলে তা পুড়ে যায় এবং মসজিদে হারামে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যোবায়ের রা. কে শহীদ করে। অবশিষ্ট সাহাবাদেরকে মদিনা মুনাওয়ারায় হেয়জ্ঞান করে।

শুধু তাই নয়, অসংখ্য সাহাবায়ে কেরামকে অপদস্থ করার জন্য সে তাঁদের হাতে সীলমোহর মেরে দিয়েছে। তাছাড়া হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সাহাবী, তাবেয়ী ও উম্মাহর অসংখ্য শ্রেষ্ঠ আলেমদেরকে হত্যা করেছে। আমাদের পূর্ববর্তীরা ও আমরা খিলাফাহ আলা মিনহাজিন নবুওয়্যাহকে পুনরুদ্ধারের জন্য সব কিছু বিসর্জন দিয়েছি এবং সারাটা জীবন অতিবাহিত করেছি। আমাদের উপর দয়া ও দান কেবল আল্লাহরই। তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই কোরবানিগুলো একনিষ্ঠভাবে তাঁর জন্যই গ্রহণ করে নেন। এত বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করার পর, যাহা শেষ হয়ে গেল এবং এত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করার পর এমন ব্যক্তিদের আবির্ভাব হল, যারা খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিমদের আগ্রহের সুবিধা ভোগ করতে চায়। তারা এর মাধ্যমে আঁকড়ে ধরা শাসনব্যবস্থা কায়েম করবে, যা শরীয়ার শাসন এড়িয়ে যাওয়া, প্রমাণ ছাড়া প্রতিপক্ষকে তাকফির করা, সমালোচককে অসম্মান করা, কোন পরোয়া না করে কাউকে বাধ্য করা ও আত্মসাৎ করা, স্পর্ধা দেখিয়ে বাইয়াত ভঙ্গ করা, প্রতিপক্ষকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং বড়ত্বের সাথে জাতির অধিকার খর্ব করাকে কোন পরোয়া করবেনা। তাদের মুখপাত্র গর্বের সাথে বলে- কার সাথে আমরা পরামর্শ করব? কার কাছে আমরা ফতোয়া চাইবো? তারা অহংকারের সাথে বলতে থাকে- আমরা এটা জোরপূর্বক গ্রহণ করেছি, অস্ত্রবলে আমরা উহা পুনরুদ্ধার করেছি অথচ জাতির গর্দানে কঠিনভাবে প্রহার করা হচ্ছে।

আমার একনিষ্ঠ মুজাহিদ, দাঈ এবং ইসলামের সাহায্যকারী ভাইয়েরা!! যদি আমাদের বিশ্বাস সত্যিই হয়ে থাকে। অর্থাৎ আমরা খিলাফাত আলা মিনহাজিন নবুওয়্যাহ ও খোলাফায়ে রাশেদার পথেই আছি, তাহলে আমাদের কর্তব্য হল- খিলাফাহকে ফিরিয়ে আনা এবং হাজ্জাজী ব্যবস্থার মোকাবেলা করা, নিষ্ঠুরতা ও যুলুমের নীতিকে প্রতিহত করা। আমাদের অবশ্য কর্তব্য হল, আবু বকর সিদ্দিক, ওমর ফারুক, আলী, ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম এর খিলাফাহকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং ইবনে যিয়াদ, সিনান ইবনে আনাস ও ইবনে মারওয়ানের খিলাফার মূলোৎপাটন করা। আমাদের উচিৎ, খোলাফায়ে রাশেদার খিলাফাহ ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনা, যা আমাদের সর্দার হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. এর নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। যিনি হযরত আলী রা. কে বলেছেন- হে আলী! আমি দেখেছি মানুষ ওসমান এর ব্যাপারে ন্যায় বিচার করছেনা। তারা যেন তোমার বিরুদ্ধে কোন পথ বের না করে। আমাদের আরো কর্তব্য হল আব্দুল্লাহ ইবনে মারওয়ানের খিলাফার মোকাবেলা করা, যে তার ছেলেকে এই বলে ওসিয়ত করেছে, আমি মারা গেলে তুমি কাপড় গুটিয়ে ইযার ও বাঘের চামড়া পরিধান করবে এবং তরবারি তোমার কাঁধে রাখবে, যে তার ব্যাপারে কোন ঘোষণা দিবে, তার গর্দান উড়িয়ে দিবে। আর যে চুপ থাকবে, তবে সে তার ব্যাধি নিয়ে মারা যাক। আঁকড়ে ধরা শাসনব্যবস্থার মোকাবেলা করতে হবে আমাদের, যদিও এর ধারক বাহকরা এই ব্যবস্থাকে খিলাফাত আলা মিনহাজিন নবুওয়্যাহ নামে চালিয়ে দেয়। মদীনার জ্ঞানী যুবকদের অন্যতম আব্দুল্লাহ ইবনে মারওয়ান এই নীতির পরিবর্তে প্রতাপশালী শাসকের প্রবর্তন ঘটায়। তার সৈন্য বাহিনী পবিত্র কাবা ঘরে মিনজানিক নিক্ষেপ করে এবং মসজিদে মানুষের রক্তপাত করে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ও সাহাবায়ে কেরামদের রা. তারা শহীদ করে।

এই ব্যক্তিই ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব রা. এর দাওয়াতী কাজে আনসারদের থেকে সৌদি রাজ বংশের পরিবর্তন করে ধর্মত্যাগী শাসননীতির আবর্তন করে। এর পরিচালনা করে অর্থনৈতিক, চারিত্রিক, রাজনৈতিক সব ধরনের অশ্লীলতায় জড়িত এক শ্রেণির মানুষ। তারা শরীয়াহ অনুযায়ী শাসন করেনা। সুদের বৈধতা দেয়, অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয় এবং দেশ ও জাতিকে ইসলামের শত্রুদের নিকট অর্পণ করে। আঁকড়ে ধরা শাসনব্যবস্থা শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও খোলাফায়ে রাশেদার নীতি বিরোধী-ই নয়, বরং এটি নিশ্চিতভাবে অদৃষ্টবাদী শাসনব্যবস্থার দিকে নিয়ে যায়, যা শরীয়াহকে অপসারিত করে এবং ইসলামী রাষ্ট্রকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করে। এটিই হল সৌদি রাজবংশের ইতিহাস। যে এদেরকে সহায়তা করবে কিংবা তাদের ব্যাপারে চুপ থাকবে, তাকে অনুশোচনা করতে হবে। প্রজন্মের কোরবানীকে বিনষ্ট করে দেয়ার জন্য নয় শুধু বরং এজন্য যে, সে তার হাত ও জবান দ্বারা এই ধ্বংসলীলার পথ সুগম করেছে। আমি কি পত্র দুটো পৌঁছে দিতে পেরেছি? আমি কি পৌঁছাতে পেরেছি? হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন।

অতএব আমি সকল মুজাহিদিনদেরকে অনুরোধ করবো!!! আসুন সমতার বাণীর দিকে। কারণ আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুবই প্রয়োজন। যেন আমাদের সম্মান রক্ষার্থে সমানভাবে শত্রুর মোকাবেলা করতে পারি, আমাদের খিলাফাহ যেন নবুওয়্যাতি ধারার অনুকরণে হয় এবং আমাদের পরবর্তীরা যেন পূর্ববর্তীদের শ্রম দিতে পারে। এমনটি যেন না হয় যে, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হবে, গালি দেয়া হবে এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘাতের জন্য ডাকা হবে।

ওহে মুসলিমদের ইজ্জতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাকওয়াবান দ্বীনদার ভাইয়েরা, কোথায় তোমরা!!! কোনো শ্রোতা আছো কি!!! আছো কি কোনো সাড়া দানকারী!!! তোমাদের মধ্যে কোন আদর্শবান কি নেই!!! বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধের ময়দান হল ইয়েমেনের ময়দানগুলো। সেখানে ক্রুসেড বাহিনী অবগুণ্ঠিত হচ্ছে। তারা দাবি করে যে তারা বিপ্লবী। ইয়েমেনবাসী প্রমাণ করে দিয়েছে, কারা বিপ্লবী। ইয়েমেনে অবস্থানরত আমাদের ভাইয়েরা!!! তোমাদের বিপ্লব চুরি হয়ে গিয়েছে। তোমরা তো অপসারিত অবৈধ শাসক আলী আব্দুল্লাহ সালেহ এর বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিলে।

আজ তাদের সাথে লোক-প্রিয়তার দাবিদার হুথি বাহিনীও মৈত্রীচুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। বস্তুত তারা ইরানের মৈত্রী বাহিনী। বর্তমানে তারা অপসারিত শাসককে সাহায্য করছে, যার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে ইয়েমেনের জনগণ। তারা সানা’য় অপসারিত শাসকের ছেলের জন্য নেতৃত্বের দাবিতে তার মিত্রদের সাথে বিক্ষোভ করছে। এটাই প্রমাণ করে যে, আসলে তাদের কোনো ভিত্তি নেই। বরং তারা হচ্ছে উপকারভোগী। যেকোনো পন্থায় তারা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। মধ্য অঞ্চলীয় যুদ্ধের সময় বামপন্থীদের সাথে এবং ১৯৯৪ এর যুদ্ধের সময় সমাজতান্ত্রিকদের সাথে তাদের মৈত্রীচুক্তির কথা কে ভুলে যাবে? অনুরূপ আলী আব্দুল্লাহ আস সালেহের সাথে হুথিদের কেও কে ভুলে যাবে? শাবাবুল মুমিনের ৪ হাজার যুবক হিজবুল হাক্ব থেকে বেরিয়ে হিজবুল মুতামির আল-শা’বি আল আম-এ যোগ দিয়েছে। তাইয়ার আল ইসলাহ এর বিপক্ষে হুথি বাহিনী ও হিজবুল মুতামির এর মৈত্রীচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। হুথিরা প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে বস্তুবাদী পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছে। ইসলাহ এর পক্ষে ইয়েমেনি জনগণের মোকাবেলায় ভোটের ক্ষেত্রে হুথিরা হিজবুর রইস এর পক্ষ নিয়েছে। এরপর তারা আব্দুল্লাহ আস সালেহ এর বিরুদ্ধে অনেকগুলো যুদ্ধ করে এবং তাকে ইহুদিদের মিত্র তাগুত বলে আখ্যায়িত করে। তাদের প্রতারণার ধ্বনি লাঞ্ছিত হয়েছে। হুথিরা এখন পর্যন্ত আমেরিকার সহায়তায় জিহাদ তথা তাদের কথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সৈন্য পাঠায়। যেমন তারা সহায়তা করত পশ্চিমাদের সাথে চুক্তিকারী তাদের প্রধান নেতা আব্দুল্লাহ সালেহের সাথে। আমেরিকার বিরুদ্ধে তারা একটি গুলি করতেও আমরা শুনিনি। অথচ বিশ্বের মুজাহিদরা বিশেষ করে আল কায়দার মুজাহিদরা বিগত কয়েক দশক ধরে আমেরিকাকে আল্লাহর অনুগ্রহে পরাজিত করে আসছে। এতদসত্তেও তারা মুজাহিদদের ব্যাপারে মিথ্যে অভিযোগ করে বলে থাকে যে, নিশ্চয়ই মুজাহিদরা আমেরিকার দালাল, কেননা তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। আর তখন খোমিনি ছিল ইরাকের অতঃপর ফ্রান্সের এজেন্ট। কারণ সে প্রথমে ইরাক ও পরবর্তীতে ফ্রান্সের আশ্রয় নিয়েছিল। তখন তার পক্ষে প্রচার মাধ্যম ও বিশ্বের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল এবং সে ফ্রান্সের বিমানে করে তেহরানে ফিরে এসেছেন। সুতরাং এই কাজগুলো কি কোরআন অনুসারে হচ্ছে নাকি ইবলিসের পন্থায় হচ্ছে।

তাই ইয়েমেনবাসির কর্তব্য হল এই সকল মিথ্যুক, ধোঁকাবাজ নেতৃবৃন্দের প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরা। আর এই শয়তানি পদ্ধতির রাজনীতি তারা ইরাকেও করেছে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তারা আমেরিকার সাথে আঁতাত করে এবং তাদের অনুসারীরা মার্কিন ট্যাংকে আরোহণ করে ইরাকে প্রবেশ করে। এতদসত্ত্বেও তারা ইসরাইলের ন্যায় আমেরিকার জন্যও মৃত্যু কামনা করত। আমেরিকার উপর বরকতময় বিভিন্ন আক্রমণ করার পূর্বে এরূপ প্রতারণামুলক শ্লোগানের কারণে আমেরিকা তাদেরকে পরিত্যাগ করেছে। হুথি ও হিজবুল্লাহ বাহিনী ইরানের উপর করা জুলুমের কারণে যেই কুম্ভীরাশ্রু প্রবাহিত করে, তাতে ইরানের একটু লজ্জাও হয়না। এরাই তারা, যারা সিরিয়ার মজলুম জনতার বিরুদ্ধে রক্তপাতকারী, সীমালঙ্ঘনকারী পাপী বাশার আল-আসাদের পক্ষ অবলম্বন করেছে। ইতিপূর্বে হামাতে মুসলিম হত্যায় তারা আসাদকে সাহায্য করেছিল। এটাই তাদের স্বভাব। কিছু দিন আগে তারা আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমেরিকার পক্ষ নিয়েছিল। তারপর আমেরিকার ট্যাংকে আরোহণ করে বাগদাদে প্রবেশ করে। তার আগে তারা বাগদাদ ধ্বংসের সময় তাতারদের সাথে ছিল। ক্রুসেড হামলার সময় তারা খৃষ্টানদের সাথে মৈত্রীচুক্তিতে আবদ্ধ হয়। অতঃপর সাফাবিরা উসমানি খিলাফাতের বিরুদ্ধে ইউরোপীয়দের সাথে চুক্তি করে। এর থেকে বুঝা যায় যে, অমনোযোগীদেরকে ধোঁকা দেয়ার জন্য আমেরিকার মৃত্যুর সংকেত মিথ্যা প্রলেপ মাত্র। ৯/১১ এর বরকতময় আক্রমণের পর তারা এই ধরনের সংকেত পরিত্যাগ করেছে। যাতে আমেরিকা খুশি হয়, কিন্তু বুশ খুশি হলনা। আর ইসরাইলের মৃত্যু সংকেতও ছিল আরেকটি মিথ্যা মাত্র। কিভাবে ইসরাইলের ব্যাপারে এমনটি হতে পারে, অথচ ইসরাইল জাতিসংঘের চুক্তিতে সাক্ষর করেছে। আর এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সকলের নিরাপত্তার দায়িত্ব জাতিসংঘের। এর মধ্যে ইসরাইলও আছে। এই চুক্তিনামায় আরো সই করেছে ইরান। হাছান নাসরুল্লাহ ও হিজবুল্লাহ লেবাননের অংশ। আর লেবাননও এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারীদের একটি।

আর হাসান নাসরুল্লাহ বলে থাকে যে, ফিলিস্তিন মুক্ত করার ব্যাপারে তাদের কোনো ইচ্ছা নেই, কারণ সেটা ফিলিস্তিনের ব্যাপার। এখানে তার কোনো স্বার্থ নেই। একই কথা বলেছে লেবাননের ব্যাপারেও অর্থাৎ লেবানন প্রশাসন সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। যাকে আমেরিকার কর্মতৎপরতা হিসেবে বিবেচনা করা হত। হাছান নাসরুল্লাহ যা বলে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, কারণ সে মিথ্যা বলে এবং অন্তরের বিপরীতে ভাব প্রকাশ করে। সে গোপনে ফকিহের অনুগত হয় অথচ সে প্রকাশ করে যে, সে একটি রাজনৈতিক দলের একজন সচিব। হাছান নাসরুল্লাহর কোন জিহাদি সংগঠন, প্রতিরোধ বাহিনী কিংবা কোন জাতীয় সংগঠন নেই বরং সে ইরানী গোয়েন্দা বিভাগের একটি অংশ। সে রাফেজিদের সমর্থনে যুদ্ধ করে। এটাই হচ্ছে স্পষ্ট বাস্তবতা। সে প্রতাপশালী, বস্তুবাদী নুসাইরিদের এক মৌলিক অংশীদার অথচ তারা ইরাকে, শামে, ইয়েমেনে মুসলিমদের জবাই করছে। আর একটি চুল নিয়ে খেলা করা হচ্ছে ইসলামী বিশ্বের উপর ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ইরানের অনুসারীদের প্রভাব আর হুথিরা হল ইয়েমেনে নতুন রাফেজি সাফাবিদের সেবক। তারা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। এজন্য তারা রাফিজিদের মত মিথ্যার প্রচলন করতে চায় এবং সাহাবায়ে কেরামদেরকে গালি দেয়। উদাহরণস্বরূপ, ওমর রা. কে গালি দিয়েছিল হুসাইন বদরুদ্দিন আল-হুছি। সে ভেবেছিল, এটা মুসলমানদেরকে পরীক্ষা করার একটা মাধ্যম। কেননা তিনি মুআবিয়া রা. কে শামে নিযুক্ত করেছেন। এই ব্যক্তি মিথ্যুকদের একজন। যদি ওমর রা. মুয়াবিয়া রা. কে শামের শাসক নিযুক্ত করে থাকেন, তাহলে হাছান রা. তো মুয়াবিয়া রা. এর জন্য পদত্যাগ করেছেন এবং তার কাছে সকল মুসলিমের উপর স্বাভাবিক নেতৃত্বের বায়আত গ্রহণ করেছেন। ইমাম হাছান রা. এমনি করেছেন। তাহলে এই মিথ্যুকদের ভাষ্যমতে ওমর রা. এর তুলনায় হযরত হাছান ও হুসাইন রা. তিরস্কারের অধিক যোগ্য এবং রাসূল সা. পরিবারবর্গ দুইবার জুলুম করেছে।

প্রথমত; সে সব জালেম আধিপত্য বিস্তারকারীদের পক্ষ থেকে, যারা তাঁদেরকে হত্যা করেছে, তাদের উপর নির্যাতন করেছে এবং তাঁদেরকে কষ্ট দিয়েছে।

দ্বিতীয়ত; তাদের থেকে, যারা তাদের সাথে যুক্ত হয়ে বস্তুবাদী ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছে। আমি এখানে সামান্য কিছু ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরব, যা বিতর্কের উর্ধ্বে। যেন আমি রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইতের পাঠশালা থেকে সংক্ষেপে কিছু অধ্যয়ন করতে পারি। আহলে বাইতের ইমাম হলেন আমাদের ইমাম হযরত আলী বিন আবি তালেব রা.। তিনি হযরত আবু বকর রা. হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন এবং তার অধীনে মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। অতঃপর তিনি ওমর রা. এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর সহায়তাকারী ও পরামর্শদাতা হিসেবে ছিলেন। তারপর মুসলমানরা হযরত ওসমান রা. কে খলিফা হিসেবে নির্বাচন করাকে তিনি পছন্দ করেছেন। তিনি তাঁর পরামর্শদাতা ও কাজী ছিলেন।

যখন ওমর রা. এর খিলাফাহ কাল শেষ হয়ে গেল, তখন তিনি তাঁর বাইয়াত জনসম্মুখে নিতে দৃঢ় সংকল্প করলেন, যেন গোপনে না হয়। তাই সাহাবারা যখন তাকে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পীড়াপীড়ি করছিলেন তখন তিনি সাহাবাদেরকে বললেন, যদি তোমরা আমার কথা নাই শুন তবে আমার এই বাইয়াত হবে প্রকাশ্যে। আমি মসজিদে যাব। অতঃপর যার ইচ্ছা সে বাইয়াত করবে। ফলে তিনি মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলে মানুষ তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলেন।

অন্য বর্ণনায় আছে, আমি মজলিসে শুরা ব্যতীত বাইয়াত দিবনা। সুতরাং আমরা তাঁর সিরাত থেকে জানতে পারলাম, খিলাফাত মজলিসে শুরা ও মুসলিমদের পরামর্শক্রমে হয়ে থাকে। আর এটা শুধু বনি হাশেমের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রত্যেক কুরাইশের জন্য প্রযোজ্য। আরো জানতে পারি যে, বাইয়াত গোপনে হয়না, অবশ্যই তা জনসম্মুখে হতে হয়। যার ইচ্ছা বাইয়াত নিবে আর যার ইচ্ছা নিবেনা। মীমাংসাকারীদের অধিকাংশ যার ব্যাপারে একমত হবেন, তিনিই খলিফা নিযুক্ত হবেন। আর যে গোপনে অল্প কিছু মানুষ থেকে বাইয়াত নেয়, তাহলে সে আহলে বাইতে রাসূল, সাহাবা রা. ও নবুওয়াতি মানহাজের বিপরীত করল। আর ইমাম হাছান রা. বাইয়াত থেকে ফিরে এসেছেন, অথচ তাঁর শক্তি ছিল ফিরে না আসার। তিনি হযরত মুয়াবিয়া রা. এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলেন। আমরা তাঁর সিরাত থেকে জানতে পারি যে, মুসলিমদের রক্ত রক্ষা করার জন্য বাইয়াত থেকে ফিরে আসা মর্যাদার কারণ। আর রাসূল সা. এর পক্ষ থেকে একটু মর্যাদাই যথেষ্ট।

আমরা আরো জানতে পারি যে, হযরত হাছান রা. ও সকল সাহাবাদের বাইয়াতে তিনি খিলাফাতের অধিকারী ছিলেন। আর মুসলিমরা এই বাইয়াতে খুশি হয়েছেন, কারণ তা মুসলিমদের রক্তের হেফাযত করেছে। আর হুছাইন রা. হযরত মুয়াবিয়া রা. এর সাথে সন্ধি করতে রাজি ছিলেননা। তাঁর চিন্তা ছিল যে, যুদ্ধ হয়ত চলতে থাকবে। কিন্তু তিনি তাঁর বড় ভাইয়ের ইজতেহাদে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। অতঃপর তিনি হযরত মুআবিয়া রা. এর হাতে বাইয়াত হলেন। হাছান, হুছাইন ও তাদের পূর্বে আলী রা., তারা কেউ অন্যের হাতে বাইয়াত হতে ভীতু ছিলেন না। বাতিল ও মিথ্যা শক্তি তাদেরকে ভয় দেখাবে, ফলে তারা জাতিকে ধোঁকা দিবেন। হুসাইন রা. পূর্ণাঙ্গভাবে মুআবিয়া রা. এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন। যখন ইয়াজিদ ক্ষমতা দখল করে, তখন তিনি মেনে নেননি, কারণ সে খেলাফাতের হকদার ছিলনা। সে জয়ের মাধ্যমে খিলাফাতের অধিকারী হয়েছে। মজলিসে শুরার মাধ্যমে হয়নি। হুছাইন রা. মুআবিয়া রা. এর বিরুদ্ধে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত বাদ দেয়াটা সঠিক ছিল। ইয়াযিদের বাইয়াত প্রত্যাখ্যান ও তার বিরুদ্ধে বের হওয়াটা ছিল যুক্তিসংগত। উভয় পক্ষই হক্বের ইচ্ছায় ছিল। প্রথম অবস্থায় তিনি ভীত ছিলেন না। আর দ্বিতীয় অবস্থায় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীও ছিলেন না।

যখন তিনি মুআবিয়া রা. এর বিরুদ্ধে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, তখন অনেক সাহাবী তাঁকে এর বিপক্ষে পরামর্শ দিয়েছেন এবং ইরাকবাসীর বাইয়াতে যেন আস্থাবান না হয় অথচ তাদের মতামত ছিল সঠিক। হযরত হুসাইন রা. এর নিকট যখন কুফাবাসির অবস্থা জনতে চাওয়া হয়, তখন তাঁর ব্যাপারে মানুষের অবস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ কবি ফারাযদাক এভাবে তুলে ধরে- আমাদের অন্তরসমুহ আপনার সাথে অথচ আমাদের তরবারিগুলো বনি উমাইয়ার কাছে। অতএব আমরা তাঁর পবিত্র সিরাত থেকে জানতে পারি যে, খিলাফাত মজলিসে শুরার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। কোরাইশের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য হতে পারে এবং হযরত মুআবিয়া রা. এর যোগ্য। আমরা আরো জানতে পারি, অঙ্গীকার ও বাইয়াত পূরণের আবশ্যকতা এবং তা ভঙ্গ না করা। আমরা আরো জানতে পারি যে, খিলাফাতের উপযুক্ত নয় এমন ব্যক্তির খিলাফাতের প্রতি কেউ অসন্তুষ্ট থাকলে সে গুনাহগার হবেনা এবং যে অস্ত্র বলে মুসলিমদের ক্ষমতা গ্রহণ করে, তার ব্যাপারে কেউ অসন্তুষ্ট থাকলেও এতে কোন পাপ হবেনা। ইমাম হুসাইন রা. ইয়াযিদের নেতৃত্ব শুধু বর্জনই করেননি, বরং তার বিরুদ্ধে তিনি বেরও হয়েছেন। আমরা তাঁর ইতিহাস থেকে আরো একটি বড় শিক্ষা লাভ করতে পারি। তা হল, পদপ্রার্থী ব্যক্তি খিলাফাতের যোগ্য হতে হলে কিছু বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা আছে। যথা, পরিস্থিতি অনুকূলে হতে হবে এবং পর্যাপ্ত উপকরণ থাকতে হবে। খিলাফাত আলা মিনহাজিন নবুওয়্যাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য শুধু মাত্র সৈন্যবল কিংবা এমন ব্যক্তির বাইয়াতই যথেষ্ট নয়, যে কঠিন মুহূর্তে দৃঢ়পদ থাকতে পারবেনা। এজন্য শাইখ উসামা রা. এই ব্যাপারে খুব সতর্ক করতেন। ইমারাতে ইসলামী’র কথা প্রকাশ করার জন্য পরিস্থিতি এখন মোটেই অনুকূলে নয়। তিনি অপর এক বর্ণনায় আরব বিপ্লবকে সুদৃঢ় ও প্রশংসা করে চুক্তি ও সমাধানকারী দলের নিকট পরমাণু তৈরির আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। জাতির পরিণতি সংক্রান্ত যেকোন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে যেন বিবেচনা করা যায়। এর দ্বারা সাহাবাদের খিলাফাহ বিরোধীদের উপর সামান্য পরিমাণ হলেও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়।

হে ইয়েমেনবাসী!!! আপনাদের এই বিপ্লব, যা অপহরণ করা হয়েছে। তা শুধুমাত্র হুথিরা ও আলী আব্দুল্লাহ সালেহ চুরি করেনি বরং এতে আব্দু রাব্বি আল-আমরিকিও ছিল। ইয়েমেনের দলসমুহ, যারা দুনিয়ার কিছু গনিমত গ্রহণ করেছে। উপসাগরীয় শাসকরা তোমাদের বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ নিভিয়ে দিতে উদ্যত হয়েছিল, যেন তাদের প্রাসাদগুলো জালিয়ে দিতে না পারে। বিপ্লবচোরারা যেই মূল্য ঘোষণা করেছে কিংবা গোপন রেখেছে তা হল, আমেরিকার সহায়তা অথবা ইয়েমেনে মুজাহিদদের বিরুদ্ধে তার ধ্বংসলীলাও অপরাধ থেকে চোখ বন্ধ করে রাখা। তা হতে পারে হাত দ্বারা, কলম দ্বারা, জবান দ্বারা, এজেন্টদের দ্বারা। কর্মের দ্বারাও হতে পারে। যেমন, আলী আব্দুল্লাহ সালেহ ও আব্দু রাব্বি আল-আমরিকি এবং হুথিরা। যারা সানা’য় স্থায়িত্বের সাথে আছে। আর কথার দ্বারা যেমন, ধর্মনিরপেক্ষরা আহ্বান করে। আরো হতে পারে যেমন, হুথিরা তাদের প্রচার মাধ্যমের দ্বারা বড় শয়তানের সেবার কথা পেশ করে থাকে। মুজাহিদদের যুদ্ধের কারণে তারা যার মৃত্যুর ধ্বনি দিচ্ছে। এখানে আরো কিছু লোক চুপ থেকে তাদের সমর্থন করেছে। আর হক থেকে চুপ থাকে যারা, তারা হল বোবা শয়তান। হুথিরা তাদের পূর্বের ও বর্তমান চুক্তির আলোকে আলী আব্দুল্লাহ সালেহ এর কাছে ইয়েমেনের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সাহায্য চেয়েছে। তারা দর কষাকষির মাধ্যমে আলী আব্দুল্লাহ এর অন্য মিত্রদের কাছেও সাহায্য চেয়েছে। যারা গণতন্ত্রের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে তাকে সাহায্য করে আসছে। যখন তাদের সাহায্যের বাজারে ধ্বস নামলো তখন তারা তার থেকে ফিরে গিয়েছে।

কিন্তু যখন আলী আব্দুল্লাহ সালেহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে, তখন তার অগ্রগামী মিত্ররা ও সকল রাজনীতিবিদরা উল্টো দিকে নষ্ট করে দিয়েছে এবং তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। তারা তার জন্য বাহ্যিকভাবে সরে যেতে চেয়েছে এবং অবৈধ শাসকের নায়েব হিসেবে তার অবস্থান নির্ণয় করেছে। তারা সকলে আমেরিকাকে ছেড়ে আসতে শুরু করল এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের সাথে আঁতাত করতে লাগল। যেমনটি তারা ছিল আলী আব্দুর রহমানের সাথে। হুথিদের সরে আসার পর আব্দু রাব্বি আল-আমরিকিও সরে এসেছে। অতঃপর যুদ্ধ তীব্রতা ধারণ করলে সে সৌদিতে পলায়ন করে। সে ইয়েমেনের মুসলিমদেরকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছিল, যে আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করবে। আমেরিকা ও সৌদী আরব কখনো ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করবেনা। আর সৌদীর মাতা আমেরিকা তার স্বার্থ ছাড়া সাহায্য করবেনা। আর সে তার স্বার্থ হাসিল করার জন্য শয়তানের সাথেও আঁতাত করতে প্রস্তুত। এখন সে উপসাগরীয় নেতৃবৃন্দ থেকে কেটে পড়ছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের থেকে সরে ইরানের সাথে চুক্তি করছে। সৌদী আরব তো বহুকাল ধরে আমেরিকার গোলামি করছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে বৃটেনমৈত্রী থেকে বেরিয়ে আমেরিকামৈত্রীতে আবদ্ধ হওয়ার পর রোজফালত এর সাথে তাদের বাবা আব্দুল আজিজ এই গোলামির ভিত্তি স্থাপন করে। সউদ বংশ আমেরিকার কারণে লাঞ্ছিত হয়েছে এবং তাদের কোলেই এরা বড় হয়েছে। সৌদী আরব তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছে। সৌদী প্রশাসনের শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী না থাকার জন্য তারা-ই দায়ী। অথচ তারা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশী খরচ করে। তারা তাদের এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাজেট ব্যয় করে অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে। ফলে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষায় পরনির্ভর হয়। আর ইহা হল পাকিস্তান, যাদের উপর ওরা আশা বেধেছিল। সে তাদেরকে চপেটাঘাত করেছে। তাদেরকে সহায়তার অনেক দাবি পেশ করার পরও তারা তা ছেড়ে নিজেদের উপকারিতা বেছে নিয়েছে।

সম্মানিত, অঙ্গীকার পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন মুসলিমরা ব্যতীত কেউ সৌদী আরবের প্রতিরক্ষা করতে পারবে না, যাদের অগ্রে রয়েছে মুজাহিদরা। আমেরিকা ও সৌদি আরব আমেরিকান ইসলাম চালু করতে চায়, যেই ইসলামে জিহাদ নেই, যা একক শাসকের প্রশংসা করে, উম্মাহ যাকে পছন্দ করেনা, যার বিশ্বাস হল সব ধরনের কবিরা গুনাহ ও ধ্বংসাত্মক কাজ করা বৈধ, মুসলিমদের ইজ্জত ও রক্তপাতে যার কাছে কেউ হিসাব চাবে না, যে দেশ ও জাতিকে পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া উত্তরাধিকারী সম্পদ মনে করে। যাকে সর্বদা পেশাদার মুনাফিক, সৈন্যবাহিনী, সাংবাদিক ও নিকৃষ্ট আলেমদের একটি দল ঘিরে রাখে। যারা লাঞ্ছনা ও অপদস্থতার জ্ঞান প্রচার করে বেড়ায় এটা এমন ইসলাম যাকে আমেরিকা আব্দুর রাব্বি আল-আমরিকি তার গুরুদের সাথে চুক্তির মধ্য দিয়ে ইয়েমেনে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের সাবেক এজেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহকে পরিত্যাগ করার পর। যে ইরানের কাছে নিজেকে পেশ করেছে ভাড়াটে তার মালিকের কাছে পেশ করার ন্যায়। আর সৌদীরা ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা করতে পারবেনা, কারণ তারা তো আমেরিকার পা চাটা গোলাম মাত্র। তাছাড়া তারা নিজের প্রতিরক্ষায় অক্ষম। তাহলে অন্যের প্রতিরক্ষা করবে কিভাবে? তাহলে কিসে সৌদীকে অধিক সম্পদশালী হওয়া ও সামরিক খাতে সব চেয়ে বেশী ব্যয় করা স্বত্বেও দুর্বল করে রেখেছে। সৌদী আরবের রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হল আমেরিকার হাতে। তারা চুরি ও আনন্দের মাঝে ডুবে আছে। তারা আমেরিকাকে যায়গা দিয়েছে এবং খনিজ সম্পদের ন্যায় তাদেরকে পাহারা দিচ্ছে ও সংবাদ বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদেরকে মুজাহিদদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। সকল বিষয়ে তারা আমেরিকা নির্ধারিত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে এবং তারা নিজস্ব কোন শক্তি প্রস্তুত করা থেকে বিরত থেকেছে। তারপরেও যদি সৌদী ইয়েমেনের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে যায়, তবে তারা তা করবে মার্কিনিদের যায়গা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আব্দে রাব্বি আল-আমরিকিকে ফিরিয়ে আনার জন্য। বর্তমানে যাদের প্রতি হুথিরা বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে এবং জিহাদকে সন্ত্রাস বলে তাদেরকে সেবা দিচ্ছে।

ইতিপূর্বে আফগান ও ইরাকের বিরুদ্ধে তাদের গুরুরা তেহরানে এমনই করেছে। সারকথা হল, আরব ও ইয়েমেনের পক্ষে একনিষ্ঠ, সম্মানিত মুসলিম ও মুজাহিদরা ছাড়া আর কেউ প্রতিরোধ করবেনা। তাই আমাদের উচিৎ আমেরিকা, আলী আব্দুল্লাহ সালেহ এবং তাদের গোলামদেরকে বর্জন করা, যারা আমেরিকাকে আমাদের ঘাড়ের উপর স্থান করে দিয়েছে। আরবের সম্মানিত ও স্বাধীন জনগণ এবং বিশেষ করে সেখানের গর্বিত গোত্রগুলোর উচিৎ জজিরাতুল আরব, ইয়েমেন ও হারামাইন শারিফাইন এর প্রতিরক্ষার জন্য ক্রুসেড শত্রুদের মোকাবেলায় প্রথম সারিতে অবস্থান নেয়া।

আজ এসকল গোত্রগুলোই তাদের গর্বিত ইতিহাসকে নতুন করে সাজাতে আহ্বানের অধিক উপযোগী। কারণ একদিন তারা-ই বিজয়ে শক্তি বৃদ্ধি করেছিল এবং জিহাদের পাথেয় যুগিয়েছিল। তাদের উচিৎ মুজাহিদদেরকে সাহায্য করা, তাদের নেতৃত্ব দেওয়া এবং তারা যেন মুনাফিকদের চুক্তির ব্যাপারে আমেরিকার পরিকল্পনার মোকাবেলা করে ও তাদের ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দেয়। সুতরাং হে মুসলিমরা, বিশেষ করে আরব ও ইয়ামেনের অধিবাসীরা!!! ক্রুসেড শত্রুদের বাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদেরকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে এবং বিচ্ছেদের বেড়াজাল ছিন্ন করতে হবে, যা বিরোধীদের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়। নিশ্চয়ই ক্রুসেড বাহিনী আমাদের নেতৃবর্গের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার কাজে ব্যস্ত। আজ এখানেই শেষ করছি। পরবর্তী আলোচনায় সাক্ষাত হবে ইনশাআল্লাহ।