ইসলামী বসন্ত (২)
শায়খ আইমান আজ জাওয়াহিরি (হাফিজাহুল্লাহ)

 
অনলাইনে পড়ুন-

পিডিএফ ডাউনলোড করুন [৩৮৭ কেবি]

https://alfirdawsweb.files.wordpress.com/2017/10/islami_boshonto_porbo_2-desktop_view1.pdf
https://archive.org/download/IslamiBoshontoPorbo2DesktopView/Islami_boshonto_porbo_2-Desktop_view.pdf

https://archive.org/details/Islami_boshonto_porbo_2_bangla

http://www.mediafire.com/file/d9f1lz8mh66t913/Islami_boshonto_porbo_2-Desktop_view.pdf/file
https://archive.org/download/IslamiBosonto8_201906/Islami_boshonto_porbo_2-Desktop_view.pdf

https://mega.nz/file/JMpHxRQT#WauOziHaE7ZX-Vr8QNJQuJLpJXtwxnTj_yG_1WpS4fM 

 

——————–  ——————– ——————– ——————– ——————– ——————– ——————– 

 

ইসলামী বসন্ত – শাইখ আইমান আল জাওয়াহিরী (হাফিযাহুল্লাহ)

[পর্ব – ২]

 

জুমাদাল উখরা ১৪৩৬ হিজরী এটি ইসলামী বসন্ত শিরোনামে সিরিজ আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব। উক্ত ধারাবাহিকতায় ইসলামের আশুবিজয় সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। কারণ, মুসলিম উম্মাহ আজ খুঁজতে শুরু করেছে অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে মুক্তির পথ। যাতে বদলে দেয়া যায় পরাজয়ের দীর্ঘ ইতিহাস। ছুড়ে ফেলা যায় দাসত্বের শৃঙ্খল। নিষ্কৃতি লাভ হয় চারিত্রিক, সামাজিক অবক্ষয় থেকে, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক অধঃপতন থেকে। আরব বসন্তের চাকচিক্যে যারা প্রবঞ্চিত হয়েছিল তাদের আর বুঝতে বাকী নেই যে, এই বসন্ত নির্যাতন, নিপীড়ন ও গোলযোগের নতুন দ্বার উন্মুক্ত করেছে। যার গতি-প্রকৃতি পূর্বের চেয়ে বহুগুণে তীব্র ও কুৎসিত। অশুভ শক্তির বিজয়কে ত্বরান্বিত করে এই বসন্তের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। অথচ উম্মাহ এই আপদ থেকে মুক্তিই কামনা করেছিল। মুসলিম জাতি আজ চরম বাস্তবতার মুখোমুখি। তারা দেখতে পাচ্ছে যে, যে সকল ইসলামী দল মুক্তির আশায় সেকুলারিজম, প্রজাতন্ত্র ও স্বৈরাতন্ত্রকে আদরশরূপে গ্রহণ করেছিল, যারা আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের সাথে নিজেদের ভাগ্য জুড়ে দিয়েছিল তারা দ্বীন ও দুনিয়া দুটোই হারিয়েছে।উম্মাহর কাছে আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সত্যিকার মুজাহিদ ও দাঈগণ যে সতর্ক বার্তা উচ্চারিত করেছিলেন তা যথার্থই ছিল। তারা বলেছিলেন যে, দাওয়াত ও জিহাদের পথই হচ্ছে মুক্তির পথ। কোরআন-সুন্নাহ বর্ণিত পথ। বাস্তবতা ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বীকৃত পথ। তাই সত্যিকার মুজাহিদ ও দাঈগণের কর্তব্য হচ্ছে, উম্মাহর সামনে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে বিষয়টি যথাযথভাবে বর্ণনা করা। যাতে মানুষ পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে মুক্তির পথে পরিচালিত হতে পারে।কর্তব্যের তাগিদেই মুজাহিদ ও দাঈগণকে আরো দুটি বিষয় উম্মতের সামনে বর্ণনা করতে হবে।

১। যেসকল তানযীম দাওয়াত ও জিহাদের মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করতে চায় তারা সর্বসাধারণকে নির্বিচারে তাকফীর করে না এবং তাকফীর করার জন্য অজুহাত খুঁজে বেড়ায় না।

২। জিহাদী তানযীম সর্বদা নবুয়্যতের আদলে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। এমন কোন শাসককে ক্ষমতায় বসানোর জন্য কাজ করে না, যিনি মুসলমানদের রক্তের বন্যা বইয়ে তাদের লাশের উপর দাড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, যিনি যে কোন মূল্যে ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে থাকতে চান।আমার বক্তব্য পরিষ্কার, আমরা আমরা খুলাফায়ে রাশেদার অনুরূপ শাসন চাই। যাকে আঁকড়ে থাকার আদেশ করেছেন স্বয়ং নবী করীম সা.।

তিনি বলেন,“আমি তোমাদেরকে তাকওয়ার উপদেশ দিচ্ছি এবং ইসলামী নেতৃত্বের শ্রবন ও আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদি কোন হাবশী গোলামও (তোমাদের আমীর নিযুক্ত) হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা (ভবিষ্যতে) জীবিত থাকবে তারা অসংখ্য ব্যাপারে মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের যে কেউ সেই যুগ পাবে সে যেন আমার সুন্নাহ ও হেদায়াতের দিশারী খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাহ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে।”(মুসনাদে আহমদ- ১৭১৮৫)

আমরা খোলাফায়ে রাশেদার আদলে হুকুমত চাই। কারণ, খোলাফায়ে রাশেদার উপর সন্তুষ্ট থেকে রাসুল সা. দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও আবু মুসলিম খোরাসানীকে আদর্শরূপে গ্রহণ করতে চাই না।আমরা এমন শাসক চাই না যার অনুসারীরা ঝকঝকে তরবারী উঁচু করে বলে ইনি আমীরুল মু’মিনিন। তার মৃত্যুর পর আমীরুল মু’মিনিন হবে জনাব অমুক সাহেব। যে ব্যক্তি মানবে না তার জন্য রয়েছে এই তরবারী। আমরা এমন শাসক চাই না যার অনুসারীরা বলে, যে ব্যক্তি এই জামা’আহ (শাসনক্ষমতা) নিয়ে আমাদের সাথে দ্বন্দ্ব করবে তাকে তরবারীর আঘাতে দ্বিখণ্ডিত করা হবে। আমরা এমন শাসক চাই না যিনি বলেন, বিচক্ষণতা ও সাহসিকতা আমার হাতের চাবুক ছিনিয়ে নিয়েছে। বিনিময়ে দিয়ে গেছে ধারালো তরবারী। যার বাঁট আমার হস্তে, ফিতা আমার স্কন্ধে, আর ধারালো অংশ বিরুদ্ধাচারীর গলে।আমরা এমন শাসকও চাই না, যিনি বলবেন, আমরা এই খিলাফাহ অধিকার করেছি শক্তির মাধ্যমে, জ্বালাও-পোড়াও ও ভাঙচুরের মাধ্যমে।

দাঈগণের কর্তব্য হচ্ছে, উম্মাহকে বুঝানো যে, ইসলামী শরিয়াহ শুরা ভিত্তিক হুকুমত প্রতিষ্ঠার পক্ষপাতি। পাশাপাশি উম্মাহর এই অধিকার রয়েছে যে, তারা নিজেদের খলিফা নির্বাচন করবেন এবং খলিফার কাছে জবাবদিহিতা তলব করবেন।দাঈগণের আরো একটি কর্তব্য হচ্ছে, বাড়াবাড়ি ও শৈথিল্য প্রদর্শন; এই দুই প্রান্তিকতা সম্পর্কে সতর্ক করা।

শৈথিল্যবাদীরা শরীয়ত বিরোধী পন্থায় ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার দিবাস্বপ্ন দেখে। যেমন- মুসলিম ব্রাদারহুড এবং সিসির আশীর্বাদধন্য সালাফী আন্দোলন। আর যারা বাড়াবাড়িতে লিপ্ত তারা কতক অপরিচিত ব্যক্তির গোপন বাইয়াতের মাধ্যমে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার দাবী করেছে। তারা খলিফা বানিয়েছে এমন একজনকে যাকে উম্মাহ নির্বাচন করেনি এবং তিনি তাদের সন্তুষ্টিভাজনও নন।

তারা আকস্মিকভাবে একজন খলিফা আবির্ভাবের সংবাদ পরিবেশন করল। তারা বলল তিনি আত্মপ্রকাশ করেছেন এমন লোকদের মাধ্যমে যাদের তোমরা জান না এবং কল্পনাও করতে পার না। তোমাদের দায়িত্ব হল তাদেরকে মেনে নেয়া এবং আনুগত্য করা। আনুগত্য করতে ব্যর্থদের- সে যেই হোক- প্রাপ্য হচ্ছে- একঝাঁক তাজা বুলেট, যা বিদ্ধ হবে তার মস্তকে। এমন কথা কেবল ঐ সকল লোকের মুখেই শোভা পায় যারা ক্ষমতা দখল করেছে বুলেটের মাধ্যমে। জ্বালাও-পোড়াও ও ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে।

মুজাহিদ, দাঈ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নির্বিশেষে প্রত্যেকের দায়িত্ব হল, প্রচার মাধ্যমের প্রতি লক্ষ্য রাখা। এর মাধ্যমে তারা তাদের আমীরকে চিনে নিবেন। তার আদেশ নিষেধ জেনে নিবেন। তার পক্ষ থেকে নিযুক্ত গভর্নরের পরিচয় লাভ করবেন। আর যারা প্রচার মাধ্যমের প্রতি সার্বক্ষনিক দৃষ্টি রাখল না- ফলে করনীয় বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ থাকল শাস্তির মুখোমুখি হলে তারা যেনপ অন্যকে দোষারোপ না করে। এর জন্য সে নিজেই দায়ী।দাঈগণের দায়িত্ব হল তারা নবুয়্যতের আদলে প্রতিষ্ঠিত খিলাফাহ এবং বংশীয় শাসনের মধ্যকার পার্থক্য সর্বসাধারণকে ভালভাবে বুঝিয়ে দিবেন। বংশীয় শাসন সম্পর্কে রাসুল সা. বলেন,“সর্বপ্রথম যে আমার সুন্নাহকে বিকৃত করবে সে উমাইয়্যার লোক।”(শায়েখ আলবানী রহ.। তিনি এই হাদিসটিকে হাসান আখ্যা দিয়েছেন। ছিলছিলাতুস সাহীহাহ; খণ্ড- ৪, পৃষ্ঠা- ৬৪৮)

প্রখ্যাত এক আলিম বলেন, সম্ভবত হাদিসের উদ্দেশ্য হচ্ছে খলিফা নির্বাচনের পদ্ধতিগত পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করা এবং উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে খলিফা নির্বাচন করা।হাদিসটিতে রাসুল সা. বলপূর্বক খলিফা হওয়ার দাবীদারকে সুন্নাহ বিকৃতকারী আখ্যা দিয়েছেন। সুতরাং ঐ ব্যক্তির জন্য কি গর্ব করা সাজে যিনি জোরপূর্বক নিজেকে খলিফা দাবী করেছেন? প্রভাব বিস্তার ও জবরদখল- আল মুলকুল আদূদ তথা বংশীয় শাসনের বৈশিষ্ট্য। আর এই ব্যবস্থা ‘খিলাফাহ আ’লা মিনহাজুন নুবুয়্যাহ’ ভেঙ্গে পড়ার কারণ। আল্লাহ যদি চান তাহলে পরবর্তী কোন পর্বে খিলাফাতুন নুবুয়্যাহ সম্পর্কে কিছু মৌলিক আলোচনা করব। আমাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে কি কারণে খিলাফাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছিল।

খিলাফাহ ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত দেখার প্রত্যাশায় আমরা এই মাত্র ধড়ফড় করে ঘুম থেকে জেগে উঠিনি। অথচ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জোট সেনাদের হামলার মুখে খিলাফতের পতন ঘটেছিল। এটি ছিল বংশীয় শাসনের কুফল। যা উইপোকার ন্যায় উম্মাহর হাড়-মাংস খেয়ে ফেলেছিল এবং একসময় তা বিধ্বস্ত হয়েছিল। যদি আলিম ও আল্লাহ ওয়ালাগণ না থাকতেন, মুজাহিদ ও নেককারগণ না থাকতেন তাহলে অল্প সময়ের ব্যবধানে এই উম্মাহ পরাজিত হত এবং কিছুতেই চৌদ্দশত বছর টিকে থাকতে পারত না।

ইতোপূর্বে খিলাফাহ বড় বড় শক্তির মুখোমুখি হয়েছে। সেই শক্তি বর্তমান কুফরি শক্তির তুলনায় নিতান্তই দুর্বল ছিল। কিন্তু আমরা ইতিহাসের কঠিনতম ক্রুসেডীয় আক্রমণের শিকার। আজ আমরা যাদের মোকাবেলা করছি তারা অস্ত্রে-শস্ত্রে আমাদের চেয়ে হাজারগুণ বেশি শক্তিশালী। এমনিভাবে ঈমান আমল ও জিহাদের ময়দানে আমরা পূর্ববর্তীগণের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। সুতরাং যে সকল কারণে পূর্ব খিলাফাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছিল যদি সেগুলোর প্রতিকারে আমরা সচেষ্ট না হই তাহলে পূর্বের চেয়ে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হবে।‘আলমুলকুল আদূদ’ তথা বংশীয় শাসনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মতামত গ্রহণ না করা। স্বেচ্ছার, জুলুম ও মুসলমানদের সম্ভ্রমে আঘাত করা। নেক কাজে আদেশ ও অন্যায় কাজে বাধা প্রদান নিষিদ্ধ করা। রাসুল সা. বলেছেন,“ইসলামের বিধানগুলোকে একটি একটি করে ধংস করা হবে। যখনই একটি বিধান ভেঙ্গে দেয়া হবে মানুষ অন্যটি ধরে রাখার চেষ্টা করবে। এভাবে প্রথম যে বিধানটি ভেঙ্গে দেয়া হবে তা হচ্ছে কোরানী শাসনব্যবস্থা এবং সর্বশেষ বিধানটি হচ্ছে নামাজ।”(আল জামেউ সাগীর- ৯২০৬)

নবুয়্যতের আদলে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সুসংবাদ শুনাতে এবং জুলুম ও ফাসাদ নির্ভর রাজত্বের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করতে একে একে ইনশাআল্লাহ জেনে নিব মুসলিম বিশ্বের হালচাল।মুসলিম উম্মাহ আজ এমন একটি যুগ পার করছে যখন দ্রুত গতিতে জিহাদের উত্থান ঘটছে। সুযোগ পেলেই তাতে ফুঁকে দেয়া হচ্ছে নতুন প্রাণ, ভিন্ন জীবন। উম্মাহ মুছে ফেলছে লাঞ্ছনা-বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস- রচনা করছে ইনসাফ ও শুরা ভিত্তিক শরিয়াহ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। মুসলিম ভূখণ্ডগুলোকে স্বাধীন করারা ইতিহাস।

মানব জাতির বিকাশ ও উন্নতির পথে এবং একটি সুস্থ মানবসমাজ বিনির্মাণে রয়েছে অনেক বাধা-বিপত্তি। এ বাধাগুলোর রূপ ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নিকট অতীতে আমরা অর্জন করেছি কিছু নৈরাশ্যকর অভিজ্ঞতা। মুসলিম উম্মাহর পরামর্শ ছাড়া খিলাফতের অযৌক্তিক দাবীর কারণে শামে সংঘটিত হয়েছে ভ্রাত্রিঘাতি যুদ্ধ। এত কিছু সত্বেও সার্বিক বিবেচনায় মুসলিম উম্মাহর উন্নতি ও অগ্রগতির পাল্লা আজ অনেক ভারী।

ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে, মুসলিম উম্মাহ যখনই হোঁচট খেয়েছে তখনই নব উদ্দমে জেগে উঠেছে। আর তাইতো গৃহযুদ্ধের পর আফগানিস্তানে ইসলামী ইমারাহ কায়েম হয়েছিল। আলজেরিয়ায় সশস্ত্র ইসলামী দল অস্ত্র ত্যাগের পর জামা’আতে সালাফিয়্যাহ দা’ওয়াহ ও কিতালের ঝাণ্ডা উঁচু করেছে এবং মুজাহিদগণের বরকতময় কাফেলার সাথে একীভূত হয়েছে। যা আজ তানযীম আল-কায়েদা বিলাদিল মাগরিব নামে পরিচিত। আল্লাহর ইচ্ছায় শামের ফিতনা নির্মূল হওয়ার পর শামের জিহাদ নতুন মাত্রা লাভ করবে। সঠিক চিন্তা-চেতনা ও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে শুরা ও ইনসাফ ভিত্তিক খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।বিভিন্ন দেশে ইসলামের উত্থান প্রসঙ্গে আলোচনার পূর্বে ইরাক ও শামের উপর ক্রুসেডীয় বাহিনীর হামলা সম্পর্কে কয়েকটি কথা না বলে পারছি না।

আমার প্রাণপ্রিয় ভাইয়েরা! ইরাক ও শামের উপর খৃষ্টানদের চলমান হামলা তদের ধারাবাহিক হামলারই অংশ। যার পরিধি ফিলিপাইন থেকে পশ্চিম আফ্রিকা, চেচনিয়া থেকে সোমালিয়া ও মধ্য-আফ্রিকা পর্যন্ত এবং পূর্ব-তুর্কিস্তান থেকে ওয়াজিরিস্তান ও আফগানিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি হচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, যাকে নাম দেয়া হয়েছে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’। এমনকি আজ শাম ও ইরাকে খৃষ্টানরা যেই হামলা শুরু করেছে তা নির্দিষ্ট কোন দলের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে না। তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে- জিহাদের উত্থানকে ব্যর্থ করে দেয়া। উক্ত হামলাকে এই দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখতে হবে এবং এর মোকাবেলা করতে হবে। এই হামলাকে সফল করতে শত্রুরা মতবিরোধ দূরে ঠেলে দিয়েছে। তাই এই হামলা মোকাবেলা করার জন্য আমদেরকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ইরাক ও শামের মুজাহিদগণকে পরস্পর সহযোগিতা বিনিময়ের একটি প্রস্তাব আমি পেশ করব। তবে তার আগে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই। যদিও আমরা বাগদাদীর খিলাফাহকে স্বীকৃতি দেই না এবং তাকে খিলাফতের উপযুক্ত মনে করি না তবুও তার বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি। তাই যদি তারা ইসলামী বিচার ব্যবস্থা কায়েম করে তাহলে আমরা তাদের এই সিদ্ধান্ত ও কাজের সমর্থন করব; কিন্তু যদি তারা তাদের এবং অপরাপর জিহাদী তানযীমসমূহের মাঝে বিরোধ নিরসনে শরীয়তের দ্বারস্থ হতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে আমরা তাদেরকে সমর্থন করি না।

যখন তারা কাফির নেতৃবৃন্দকে হত্যা করবে তখন আমরা তাদের পক্ষে। কিন্তু যখন তারা আবু খালেদ আস-সূরীকে হত্যা করে তখন আমরা তাদের বিপক্ষে। যখন তারা খৃষ্টান, রাফেযী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তখন তাদের যুদ্ধকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু যখন তারা মুজাহিদগণের ঘাঁটি দখলের নামে বা বোমা মেরে উড়িয়ে দেয় তখন আমরা তাদেরকে সমর্থন করি না। এমনিভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি দখলে নিতে চাইলে আমরা তাদেরকে সমর্থন করি না। যখন তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে অথবা আমর বিল মা’রুফ ও নাহি আনিল মুনকারের জন্য সংগঠিত হবে তখন আমরা তদের পক্ষে; কিন্তু তারা যখন মুজাহিদ ভাইদের উপর অপবাদ আরোপ করবে এবং দুর্নাম রটাবে তখন আমরা তদের বিপক্ষে।

এমনিভাবে যখন তারা আমাদেরকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বলে সাইকস পিকস এগ্রিমেন্টের সাথে সমঝোতাকারী বলে আখ্যা দেয় এবং আমাদেরকে সেই ব্যভিচারিণীর সাথে তুলনা করে যে নয় মাসের গর্ভ লুকিয়ে রাখতে চায় তখন আমরা তাদের বিপক্ষে।যখন তারা মুসলিম বন্দীগণকে মুক্ত করে এবং জেল থেকে বের করে আনে তখন আমরা তাদের পক্ষে। কিন্তু যখন কোন কাফির বন্দীকে ইসলাম গ্রহণের পরও হত্যা করে তখন আমরা তাদের বিপক্ষে।যখন তারা আমীরুল মু’মিনিন মোল্লা মোহাম্মাদ ওমর মুজাহিদকে মান্য করে তখন আমরা তাদের পক্ষে; কিন্তু যখন তারা তানযীম আল-কায়েদা ও মোল্লা মোহাম্মাদ ওমর মুজাহিদের বাইয়াত ভংগ করে, আবু হামযা মুহাজির রহ. এর উপর মিথ্যা আরোপ করে এবং বলে যে, আল-কায়েদা এবং মোল্লা মোহাম্মাদ ওমর মুজাহিদের বাইয়াত গ্রহণের মত কোন ঘটনা পূর্বে ঘটেনি তখন আমরা তাদের বিপক্ষে।

যখন তারা কোন ভূখণ্ডে মুসলিম ভাইদের দিকে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে তখন আমরা তাদের পক্ষে। কিন্তু যখন তারা শরীয়ত বহির্ভূত পন্থায় খিলাফা ঘোষণার মাধ্যমে মুজাহিদগণের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির পাঁয়তারা করে তখন আমরা তাদের বিপক্ষে। যদি তারা শুরা ভিত্তিক খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে আমরা তাদের পক্ষে। কিন্তু যদি নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যার মাধ্যমে জোরপূর্বক কোন খিলাফাহ মুসলিম উম্মাহর ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চায় তাহলে আমরা তাদের বিপক্ষে। আমরা তাদের সাথে ইনসাফ পূর্ণ আচরণ করব যদিও তারা জুলুম করে। আমরা আল্লাহর আনুগত্য করব, যদিও তারা আমাদের সাথে চাল-চলন ও আচরনে আল্লাহর নাফরমানী করে।

এতসব সমস্যা সত্বেও ইরাক ও শামের মুজাহিদগণকে বলব, যেন তারা পরস্পরের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন এবং সমন্বিতভাবে চলমান ক্রুসেডীয় হামলার মোকাবেলা করেন। যদিও বাগদাদীর সাথে তাদের মতপার্থক্য রয়েছে এবং যদিও তারা বাগদাদীর খিলাফাহকে স্বীকৃতি দেয়নি। খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার দাবী করা এবং একে স্বীকৃতি না দেয়ার বিতর্ক এখানে মুখ্য নয়। কারণ, মুসলিম উম্মাহ এখন খৃষ্টানদের আক্রমণের শিকার। তাই এই হামলা রুখে দিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলতে চাই, যখন খৃষ্টান, সাফাবী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা মুজাহিদগণের যে কোন দলের বিরুদ্ধে- যার মধ্যে বাগদাদীর দলও আছে- যুদ্ধ ঘোষণা করে তাহলে আমরা মুজাহিদগণের সাথে থাকব। যদি তারা আমাদের উপর জুলুম করে, আমদের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, খলীফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহ ও মুজাহিদগণের মতামত না নেয় এবং এ ক্ষেত্রে শরয়ী ফয়সালা মেনে নিতে প্রস্তুত না থাকে তবুও আমাদের অবস্থান ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে না। আল্লাহার মেহেরবানীতে আমরা মুসলিমগণকে এবং মুজাহিদগণকে সহযোগিতার কথা পূর্বেও বলেছি, এখনো বলছি। ক্রুসেডার, সাফাবী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের বিরুদ্ধে যখন বাগদাদী ও তার অনুসারীদেরকে সহযোগিতা করতে বলি তখন এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলি না যে, তিনি খলিফাতুল মুসলিমিন বা তিনি এবং তার অনুসারীগণ খেলাফতে রাশেদার প্রতিনিধিত্ব করছেন। কারণ, এই দাবী অবাস্তব। প্রমাণিত নয়। মূলত ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুকে প্রতিহত করার স্বার্থে আমরা তাদেরকে সাহায্য করার পক্ষপাতি।

আমরা যখন জাবহাতুন নুসরার ভাইদেরকে সাহায্য করি তখন এই দৃষ্টিকোণ থেকে সাহায্য করি না যে, তারা আমাদের ভাই এবং তানযীম আল-কায়েদার বাইয়াত গ্রহণকারী; বরং তাদেরকে সাহায্য করি; কারণ তারা মুসলমান, তারা মুজাহিদ।

যখন শাম ও ইরাকে মুজাহিদগণকে সাহায্য করারা আহ্বান জানাই তখন তার উদ্দেশ্য এই হয় না যে, তাদের সাথে আমাদের মতের মিল রয়েছে বা মতবিরোধ রয়েছে। বরং তাদেরকে সাহায্য করারা আহ্বান জানাই শরীয়তের বাধ্যবাধকতার কারণে। আল্লাহ তা’আ’লা বলেন,“আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ করা সমবেতভাবে, যে মন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখ আল্লাহ মুত্তাকিন্দের সাথে রয়েছেন।”(সূরা তাওবা- ৩৬)

আমাদের অবস্থানে কোন অস্পষ্টতা নেই। আমরা ইরাক ও শামের সকল মুজাহিদের পাশে আছি। ইসলামের শত্রুদের মোকাবেলায় তুর্কিস্তান থেকে মালি পর্যন্ত, ককেশাসের পর্বতচূড়া থেকে আফ্রিকার বনভূমি পর্যন্ত এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে নাইজেরিয়া পর্যন্ত বসবাসকারী প্রত্যেক মুসলিম ও মুজাহিদের পাশে আছি। আমরা তাদেরকে সাহায্য করব, তাদের শক্তি যোগাব। তাতে আমাদের সাথে তাদের আচরণ ভাল হোক বা মন্দ। তারা আমাদের সাথে জুলুম করুক বা ইনসাফপূর্ণ আচরণ করুক। মোটকথা, কোন অবস্থাতেই আমাদের এই অবস্থান পরিবর্তন হবে না। কিন্তু শরয়ী ফয়সালাকে পাশ কাটানো, মুসলমানদের নির্বিচারে তাকফীর করা, তাদের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়া, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, মুজাহিদগণের ঐক্য বিনষ্ট করা এবং মুসলমানদের পবিত্রতা এবং মান-সম্ভ্রমে আঘাত করার ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে সমর্থন দেব না।

শাম ও ইরাকে অধিকাংশ মুজাহিদ এবং সাড়া বিশ্বের মুজাহিদগণের ব্যাপারে আমরা ভালো ধারণা পোষণ করি। আমাদের বিশ্বাস তারা ঘর থেকে বের হয়েছেন আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে, শরিয়াহ ও খিলাফাহ আ’লা মিনহাজুন নুবুয়্যাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। দো’আ করি আল্লাহ তা’আ’লা তাদের নেক আমলসমূহ কবুল করুন। তাদের গুনাহ মাফ করুন এবং তাদেরকে দান করুন দুনিয়ার মর্যাদা এবং আখিরাতের সফলতা।এমনিভাবে আমরা মনে করি যে, যে সকল জিহাদী তানযীমের মাধ্যমে ফাসাদ সৃষ্টি হচ্ছে তাদের সকলেই এর জন্য দায়ী নয়। বরং গুটিকতক মানুষ এর জন্য দায়ী, যারা সত্য-মিথ্যাকে গুলিয়ে ফেলেছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এবং তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন। সরলপথে পরিচালিত করেন এবং ঐক্যবদ্ধ করে দেন।

শাম ও ইরাকের ভাইদেরকে খৃষ্টান, সাফাবী ও ধর্মনিরেপেক্ষতাবাদীদের বিরুদ্ধে সাহায্য করারা জন্য সারা দুনিয়ার মুসলমান এবং মুজাহিদ ভাইদের সামনে কয়েকটি কর্মপন্থা পেশ করব। এগুলো দুই ধরনের। কিছু কর্মপন্থা শাম ও ইরাকী ভাইদের জন্য আর কিছু কর্মপন্থা অন্যান্য ভাইদের জন্য। শাম ও ইরাকের বাহিরের ভাইদের কর্মপদ্ধতিঃযে সকল মুসলিম শাম ও ইরাকের বাইরে আছেন আমি তাদের বলব, আপনারা খৃষ্টানদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানুন। এটি করতে বিন্দুমাত্রও দ্বিধাগ্রস্থ হবেন না।

এই আঘাত কেন করবেন? কারণ, পশ্চিমা খৃষ্টান রাষ্ট্রগুলো ইরাক ও আহামের আগ্রাসনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অন্যরা তাদের আদেশ পালন করছে। আমরা যদি মাথায় আঘাত হানতে পারি তাহলে ডানা ও দেহ দুটোই ধরাশয়ী হবে। এ যুদ্ধ যদি তাদের ঘরে সংক্রমিত করা যায় তবে অবশ্যই তারা লেজ গুটাতে বাধ্য হবে এবং তাদের সমরনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবে।আমরা মনে করি এখন পশ্চিমা খৃষ্টানদের বিভিন্ন স্বার্থে আঘাত হানা উচিৎ এবং যুদ্ধকে তাদের দেশে স্থানান্তর করা উচিৎ। তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া দরকার যে, তারা যেভাবে বোমা বর্ষণ করছে সেভাবে নিজেরাও বোমা বর্ষণের শিকার হবে। যেভাবে তারা অন্যদেরকে হত্যা করছে সেভাবে তাদেরকেও হত্যা করা হবে। তারা যেভাবে অন্যদের ক্ষত-বিক্ষত করছে তাদেরকেও সেভাবে ক্ষত-বিক্ষত করা হবে। তারা যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ, জ্বালাও-পোড়াও করছে তারা সেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের শিকার হবে। তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবে- পরাজয়ের স্বাদ কতটা তিক্ত হতে পারে। অনেক মুসলিম যুবক যুদ্ধের ময়দানে যেতে পারছে না বলে আক্ষেপ করছে। আফগানিস্তান, ওয়াজিরিস্তান, ইরাক, শাম, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সোমালিয়া, কাশ্মীর, চেচনিয়া এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখে দেখে তাদের অন্তর ক্ষোভে ফুঁসছে। আবার অনেকে ইস্তেশহাদী হামলার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। তাদের করণীয় হচ্ছে পশ্চিমা দেশসমূহে আক্রমণ করা। তাদের অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং শিল্প কারখানায় আক্রমণ করা।

বিস্ফোরক ছাড়াও কখনো কখনো ইস্তেশহাদী হামলা সম্ভব। আর যদি বিস্ফোরকের প্রয়োজন হয়ও তাহলে তা প্রচলিত বিস্ফোরক হতে হবে এমন কোন কথা নেই। বিস্ফোরক ছাড়া বা প্রচলিত বিস্ফোরক ছাড়া হামলার যেসকল উপায় রয়েছে সেগুলো বিবেচনায় রাখা যেতে পারে এবং চিন্তাভাবনা ও গবেষণার মাধ্যমে আরো অনেক পন্থা উদ্ভাবন করা যেতে পারে। এ ময়দানে নিকট অতীতে অনেক জানবাজ স্থাপন করে গেছেন অসংখ্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাদের কয়েকজন হলেন, রমজী ইউসুফ ও তার সঙ্গীগণ, মোহাম্মাদ আতা এবং তার সঙ্গীগণ, মোহাম্মাদ সিদ্দিক খান, শেহজাদ তানভীর, নিদাল হাসান, ওমর ফারুক, তামারলার ও তার ভাই যোখার সারনায়েত, মুহাম্মাদ মারাহ ও প্যারিস হামলার রূপকারগণ। সুতরাং কেন আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি না এবং যুদ্ধের একাধিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছি না? এই পন্থায় যারা কিছু করতে আগ্রহী তাদের জন্য ময়দানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনও হতে পারে যে, আপনার দুকদম সামনেই জিহাদের ক্ষেত্র তৈরি হয়ে আছে। তাছাড়া জিহাদের ময়দানে পৌঁছতে গেলে শত্রুদের প্রযুক্তির চোখে ধরা পড়তে পারেন। সুতরাং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন। দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দেবেন না। এ ধরনে আক্রমন পরিচালনা করতে আস-সাহাম মিডিয়া পরিবেশিত ‘ফা ক্বতিল ফী সাবিলিল্লাহ লা’ অডিও/ভিডিও বার্তা এবং আল-মালাহীম মিডিয়া পরেবেশিত ‘হাররিদ’ বা Inspire সাময়িকী থেকে আপনারা কৌশলগুলো এর সমৃদ্ধ করে নিতে পারেন।

খৃষ্টান দেশে বসবাসকারী হে মুসলিম ভাইয়েরা! আপনারা কিতালের শরীত নীতিমালা শিক্ষা করুন। তারপর শরীয়ত অনুমোদিত টার্গেট খুঁজে বের করুন। উপযুক্ত উপকরণ সংগ্রহ করুন এবং ই’দাদ গ্রহণ করুন। আর সাবধান, কাছের মানুষটিকেও আপনার সংকল্প সম্পর্কে অবহিত হতে দিবেন না। মুসলমানদের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা গুপ্তচরদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। তারপর দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সামনে অগ্রসর হোন। আল্লাহর হুকুমে বিজয় আপনারই হবে। মোবারকবাদ জানাই বাইতুল মাকদিসের ভাইদেরকে! তারা অতি সাধারণ অস্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের ফারীজা পালন করে যাচ্ছেন। নিজেদের ভঙ্গুরদশা ও দুর্বলতা সত্বেও তারা মুসলিম উম্মাহর সামনে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।শাম ও ইরাকী ভাইদের কর্মপদ্ধতিঃশাম ও ইরাকের মুজাহিদ ভাইদেরকে পরস্পর সহযোগিতা বিনিময়ের আহ্বান জানাচ্ছি। যেন অঞ্চল দুটি একটিমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। যেখানে মুজাহিদগণ অবাধ বিচরণের সুবিধা ভোগ করবে এবং পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিবে। নিজেদের অস্ত্র-শস্ত্র ও বিবিধ উপকরণ সংরক্ষণের যৌথ ব্যবস্থাপনা থাকবে। সেই অঞ্চলে উভয় দেশের যুদ্ধাহত মুজাহিদগণকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে। মুজাহিদগণের পরিবারের থাকার ব্যবস্থা করা এবং তাদের জীবিকা নির্বাহেরও ব্যবস্থা করা হবে। এসকল দিক থেকে খৃষ্টান, সাফাবী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়টি অনেক জটিল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদেরকে বাস্তববাদী হতে হবে। বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে উদভ্রান্তের ন্যায় ঘুরপাক খাওয়া চলবে না। তাই আমদেরকে মানতে হবে যে, এই মুহূর্তে এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন। কারণ, শাম ও ইরাকের ফিতনা মুজাহিদদের মাঝে আস্থার বিরাট এক সংকট সৃষ্টি করেছে। এই ফিতনায় নিহত হয়েছে সাত হাজার মানুষ। আহত হয়েছে এর কয়েকগুণ। ফিতনা তখনো অব্যাহত ছিল। এরই মাঝে গুটিকতক অজ্ঞাত ব্যক্তির বাইয়াতের মাধ্যমে খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা আসল। উক্ত খিলাফতের প্রতি সাধারন মুসলমান তো দুরের কথা অধিকাংশ মুজাহিদই সমর্থন ব্যক্ত করেননি। যখন কয়িপয় অতি উৎসাহী ব্যক্তির পক্ষ থেকে ইসলামী ইমারাহ ও ইসলামী দলসমূহের বৈধতা রহিত হওয়ার এবং সকলের উপর কথিত খলিফার বাইয়াত ওয়াজিব হওয়ার ঘোষণা আস্ল এবং অনুগত সৈনিকদের বিরোধীদের খুলি উড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করা হল; তখন সংকট আরো ঘনীভূত হল। এই দুঃখজনক ঘটনা পারস্পারিক সহযোগিতার দ্বার অনেকটা রুদ্ধ করে দিয়েছে। কারণ, মুজাহিদগণের রয়েছে নিজেদের মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনাসমূহের তিক্ত অভিজ্ঞতা। এখন এক পক্ষের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে অন্য পক্ষের যুদ্ধাস্ত্র এবং বিভিন্ন উপকরণ প্রেরণকে ভীতির চোখে দেখা হয়। তাই মুজাহিদগণের মাঝে পারস্পারিক আস্থা ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যাতে ইরাক ও শামে যুদ্ধরত খৃষ্টান, সাফাবী ও সেকুলারদের মোকাবেলায় পারস্পারিক সহযোগিতার পথ সুগম হয়।

শাম ও ইরাকে মুজাহিদগণের পারস্পারিক আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার উপায়ঃ

১। অনতিবিলম্বে মুজাহিদগণের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধ রাখা।

২। বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ বা এধরনের অন্য কোন অজুহাতে বিরোধীদের মস্তক ঝাঁঝরা করে দেয়ার মানসিকতা এখনই পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ, জোটবদ্ধ শত্রুসেনাদের মোকাবেলায় মুজাহিদিনদের প্রচেষ্টা ও শক্তিসমূহকে সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ করা এখন সময়ের দাবী। ইরাক ও শামে ফিতনার আগুন উস্কে দেয়া এবং মুজাহিদিনকে বিভক্ত করা জিহাদের জন্য এক চরম আঘাত। এর পুরো ফায়দা লুটবে ইসলামের শত্রুরা।

হে মুজাহিদ ভাইয়েরা! ক্রুসেডারদের এই হামলা দীর্ঘদিন চলবে। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত বন্ধ করতে হবে। আল্লাহর মেহেরবানীতে ইতিপূর্বে সকল জিহাদী তানযীম মোল্লা মোহাম্মাদ ওমর মুজাহিদের বাইয়াত গ্রহণকারী ছিল অথবা তার মিত্র ও সমর্থক ছিল। তারপর বাগদাদী ও তার অনুসারীগণ আবির্ভূত হলেন। তারা শরয়ী বিচার ও ফয়সালাকে পিঠ দেখালেন এবং ফিতনা অনুপ্রবেশের জন্য দরজার উভয় কপাট উন্মুক্ত করে দিলেন। ফিতনার আগুন নির্বাপণের সকল প্রচেষ্টা মাটিচাপা দিলেন। আবু হামযা মুহাজির রহ. এর উপর মিথ্যা অপবাদ দিলেন। বললেন, তিনি নাকি শায়েখ উসামা রহ. এর জীবদ্দশায় আল-কায়েদার বাইয়াত ভঙ্গ করেছেন। এটি ছিল চরম অপবাদ। তারপর তারাই মিথ্যুক প্রমাণিত হলেন।

৭ই জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরীতে বাগদাদী আমার কাছে একটি পত্র প্রেরণ করে। হামদ, সালাতের পর পত্রটিতে লিখা হয়, আমাদের শায়েখ আইমান আয-যাওাহিরীর প্রতি- আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন- আসসালামু আ’লাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।তারপর তিনি এক প্রসঙ্গে লিখেনঃ‘হে আমার শায়েখ! আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, আমরা আপনাদেরই একটি শাখা। আমরা আপনাদের দলের অন্তর্ভুক্ত এবং অধীন। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, আপনি আমাদের কর্তৃত্বের অধিকারী। যতদিন বেঁচে থাকব আপনার আনুগত্য করা আমাদের কর্তব্য। আর আপনার কর্তব্য হচ্ছে আমাদেরকে পরামর্শ ও উপদেশ প্রদান করা। আপনার আদেশ পালন করা আমদের অপরিহার্য দায়িত্ব। তবে কখনো এখানে পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে কোন বিষয়ের ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। আশা করি উদার মানসিকতা নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি শুনবেন। এসব কিছু ছাড়িয়ে কর্তৃত্ব আপনারই। আমরা আপনার তূনীরের কয়েকটি তীর মাত্র।’পরিতাপের বিষয়! আল্লাহকে সাক্ষি রেখে আজীবন অনুগত থাকার শপথ করেছেন- তিনি ছয়টি মাসও স্থির থাকতে পারলেন না। নিজের আমীরকে না জানিয়ে শামকে অঙ্গীভূত করার ঘোষণা দিলেন। তারপর তিনি এবং তার অনুসারীগণ প্রকাশ্যে তাদের আমীরের অবাধ্যতা করলেন এবং চূড়ান্ত হঠকারিতা প্রদর্শন করে বললেন যে, শাম তাদের ইমারার অধীন। তারা আরো দাবী করলেন যে, তারা নাকি আমীরের সন্তুষ্টির উপর আল্লাহর সন্তুষ্টিকে স্থান দিয়েছেন। অপর দিকে শায়েখ আবু মোহাম্মাদ আল-জাওলানী যখন বিরোধিতা করলেন এবং নিজ আমীরের আনুগত্যে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন তখন তারা তাকে অত্যন্ত অশোভন অবিধায় অভিযুক্ত করলেন। তারপর তার নিজেদের আমীর, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং তানযীম আল-কায়েদার উপর মিত্থার অভিযোগ উত্থাপন করলেন এবং এমনসব অপবাদ আরোপ করলেন যা তাকফীরেরই নামান্তর। বললেন যে, তারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, ইখওয়ানতন্ত্র ও সাইকস পিক্টের ফিতনায় পড়েছে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিশ্বাসী। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও বিশ্বাসঘাতকরা তাদের মদদ দাতা ইত্যাদি ইত্যাদি। এমনকি তারা ভাব্যতার গণ্ডি পেরিয়ে গালমন্দও শুরু করলেন। বললেন, ‘এরা সেই ব্যাভিচারিনীর মত যে তার গর্ভধারণের নবম মাসে নিজেকে সতী-সাধ্বী দাবী করে।’ অতঃপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে গুটিকতক অপরিচিত ব্যক্তির বাইয়াতের মাধ্যমে বাগদাদীর খিলাফাহ ঘোষিত হল। যার প্রতি সাধারণ মানুষ তো দুরের কথা অধিকাংশ মুজাহিদের সমর্থন নেই। তারা দাবী করল যে, এখন থেকে সকল ইসলামী দল ও জামা’আহ বৈধতা হারিয়েছে। সকলের কর্তব্য হচ্ছে পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো। অথচ এই নির্দেশ যখন আসল তখন তাদের উপর প্রচন্ড বোম্বিং হচ্ছে। তারা খৃষ্টানদের সাথে মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘোষণাও করা হল- ‘যে ব্যক্তি বিরোধিতা করবে তাজা বুলেট তার মাথা গুড়িয়ে দিবে।’ এমন হুংকার তাদের মুখেই শোভা পায়, কারণ কথিত খিলাফাহ পর্যন্ত পৌঁছুতে তাদের অনেক বুলেট খরচ করতে হয়েছে। তারা বলেছে, এই সব কিছু তারা করেছে বিভক্ত মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে!! কষ্টের মাঝেও হাসি পায় যখন তাদের দলীয় মুখপাত্রকে বলতে শুনি (আরবি) ‘ওহে মাজলুম রাষ্ট্র! তোমার জন্য আল্লাহ আছেন!!’

৩। একটি স্বাধীন-স্বনির্ভর শরয়ী আদালত প্রতিষ্ঠা করা। ইরাক ও শামের মুজাহিদগণের মধ্যকার যে কোন সমস্যা সমাধানে এর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা সুদৃঢ় করা। এই আদালত প্রতিষ্ঠা ছাড়া পারস্পারিক সহযোগিতা বিনিময়ের বিষয়টি শূন্যে ঝুলতে থাকবে। বাতাসের সাথে মিলিয়ে যাবে। সর্বোপরি আত্মপূজারীদের তামাশার বস্তুতে পরিণত হবে ঐক্য ও আনুগত্যের বাধ্যবাধকতা।

শায়েখ আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসী হাফিযাহুল্লাহ শরয়ী আদালত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। আমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ও পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে তার কাছে বার্তা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি একরাশ হতাশা ছাড়া আর কিছুই পাননি। তার এই উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার কারণ তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন- যা কারো অজানা নয়। এ ধরনের মহতী উদ্যোগ পুনরায় গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের প্রচেষ্টাকে কেবল ঐ ব্যক্তি নিরুৎসাহিত করতে পারে যে কিনা বিভেদ জিইয়ে রাখতে চায়। তানযীম আল-কায়েদা সেই সকল শায়েখ ও আলিমগণের প্রকৃত পূর্ণ আস্থাশীল, যাদের সততা, জিহাদের প্রতি অনুরাগ ও মমতা সুপ্রমাণিত। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন- শায়েখ আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসী, শায়েখ আবু কাতাদাহ আল-ফিলিস্তিনী –হাফিযাহুল্লাহ- শায়েখ আবুল ওয়ালিদ ফিলিস্তিনী, শায়েখ আবু মুহাম্মাদ জাওয়াহিরী, শায়েখ সালেম মারজান, শায়েখ আহমদ আশূশ –আল্লাহ তাদের বন্দীদশা থেকে মুক্ত করুন- শায়েখ হানী আস-সিবায়ী, শায়েখ তারেক আব্দুল হালীম এবং তাদের মতা আরো যে সকল আমানতদার দায়ী রয়েছেন। এটি আমাদের ধারণা। আল্লাহর উপর আমরা কারো পবিত্রতা ঘোষণা করছি না। আরো আছেন একটি জিহাদী তানযীমের শায়েখ, উস্তাদ, অভিভাবক, কারারুদ্ধ কিংবদন্তী- শায়েখ ওমর আব্দুর রহমান। আল্লাহ তাকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করুন। এ যুগে এরাই আমদের সম্পদ, আমাদের মূল ধন, অফুরন্ত খনি ও অমূল্য রতন।

সুতরাং কার স্বার্থে আমরা তাদের দুর্নাম করব, তাদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাব! এমনটি করলে কারা লাভবান হবে? এই প্রশ্নের উত্তর আছে আমার কাছে। এর মাধ্যমে প্রথমত খৃষ্টান, সাফাবী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা লাভবান গবে। দ্বিতীয়ত লাভবান হবে ঐসকল লোক যারা শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে লালায়িত। তাদের রাজনৈতিক লালসা পূরণ করতে যারাই বিঘ্নতা সৃষ্টি করে তারা তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগন্ডা চালায় এবং দুর্নাম করে।

৪। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার উদ্যোগ নেয়া। যারা জিহাদকে ভালবাসেন, এর উন্নতি কামনা করেন এবং ইরাক ও শামের মুজাহিদ ভাইদের বিজয় প্রত্যাশা করেন আমি তাদেরকে আহ্বান জানাব যে, আপনারা স্বাধীন-স্বনির্ভর ইসলামী আদালত প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জিহাদী তানযীমগুলো যেন পরস্পরের ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে সে লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যান। যেন পূর্বতিক্ততা ভুলে পরস্পর সহযোগিতা বিনিময়ের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। যেই আদালাতে সকল পক্ষের জন্য শরয়ী ফয়সালা দাবী করার অধিকার সংরক্ষিত থাকবে।

৫। সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিনিময়ের উদ্যোগ গ্রহণ। যেমন, আহতদের চিকিৎসা করা। মুজাহিদ পরিবারকে আশ্রয় প্রদান। সরঞ্জামাদি সংরক্ষণ, রসদসামগ্রী সবরাহকরণ এবং যৌথ কার্যক্রম সম্পাদন। ঐক্যবদ্ধ শত্রুর মোকাবেলায় শাম ও ইরাকের মুজাহিদ ভাইদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবে এসকল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করলাম। কে প্রত্যাখ্যান করল, কে হেয় জ্ঞান করল আর কে এসব প্রস্তাবনাকে নিষ্প্রয়োজন বা গুরুত্বহীন মনে করল তা আমার দেখার বিষয় নয়। এতটুকু তো বলতে পারব যে, আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। রাসুল সা. বলেন,“দ্বীন কল্যাণকামিতার নাম। আমরা জিজ্ঞাস করলাম, কার জন্য? বললেন, আল্লাহ, তাঁর কিতাব, রাসুল, মুসলমানদের ইমামগণ এবং সাধারণ মুসলমানদের জন্য।”(সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান)

শেষ করার পূর্বে আমার দেখা একটি ভিডিও সম্পর্কে দুটো কথা বলতে চাই। শামের একটি দল অপর একটি দলের শরয়ী বোর্ড এর নেতৃবর্গের উপর অতর্কিত আক্রমণের বর্ণনা দেয়া হচ্ছিল। ভিডিওটির শেষের দিকে এক ভাইয়ের বক্তব্যে আমি হতবাক হয়ে গেলাম। সে বলছিল, (আরবি) ‘আল্লাহর কসম! আমরা এর প্রতিশোধ গ্রহণ করব।’ আমার সেই ভাইকে বলব, হে প্রিয় ভাই কিংবা বলতে পারি হে প্রিয় বৎস! আমার ছেলে বেঁচে থাকলে সে তোমার সমবয়সী বা তোমার কাছাকাছি বয়সের হত। তুমি কি তোমার সেই ভাইয়ের উপর প্রতিশোধ নিবে, যে কিনা শরিয়াহ প্রতিষ্ঠার জন্য এবং ইসলামী খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করছে? তুমি কি তার থেকে প্রতিশোধ নিবে? অতচ খৃষ্টানদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আমাকে, তোমাকে ও তাকে সবাইকে নিশানা বানাচ্ছে।আমি বলছি না যে তুমি জুলুম করছ বা জুলুমের শিকার হয়েছে। আমি বলছি হে আমার প্রিয় বৎস, যদি তুমি জুলুমের শিকার হয়ে থাক তাহলে তুমি সুযোগ্য আলিম, বীর মুজাহিদ আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসী প্রতিষ্ঠিত শরীয়তের আদালতের শরণাপন্ন হতে পার। এই আদালতকে সুসংহত ও সুবিন্যস্ত করেছেন সেই সকল মনিষীগণ, যারা জীবনভর তাগুতের সাথে লড়াই করেছেন, মানুষকে তাওহীদের মর্ম শিখিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ তারা এখনো নিজ কর্মে অবিচল আছেন। আল্লাহ তা’আ’লা তাদের হাতে এই মহৎ কাজ করিয়ে নেয়ার মাধ্যমে তাদের তাদের মর্যাদা বুলন্দ করুন। এই শরয়ী আদালত প্রতিষ্ঠা করেছেন তোমার মুরব্বীগণ। যেন এক ভাই অন্য ভাইয়ের প্রতিশোধ না নেয় এবং এক ভাই অন্য ভাইয়ের বুকে বন্দুক তাক না করে। ক্রুসেডাররা বোমা বর্ষণ করে যাচ্ছে বাছ-বিচার ছাড়া, এখন কি ভাইয়ের প্রতিশোধ নেবার সময়? শায়েখ আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসী কারো ক্ষতি করার জন্য এই আদালত প্রতিষ্ঠা করেননি; বরং তার ইচ্ছে হল মুসলমানদের মাঝে রক্তারক্তির ধারা বন্ধ করা। ফিতনার আগুন নির্বাপিত করা। যেন ঐক্যবদ্ধভাবে খৃষ্টান, সাফাবী ও সেকুলারদের মোকাবেলা করা যায়। আমার প্রিয় বৎস! তুমি নিজেকে প্রশ্ন কর; এ প্রশ্ন প্রত্যেকেরই নিজেকে করা উচিৎ যে, তারা কারা যাদের ব্যাপারে আবু মুহাম্মাদ মাকদিসী নিশ্চিত করেছেন যে, তারা সমস্যা সমাধানকল্পে শরিয়াহর দ্বারস্থ হতে গড়িমসি করছে?আমরা নিজেরা যদি একে অপরের দিকে বন্দুক তাক করি, অথবা তা না করে নিজেদের সমস্যাবলী শরয়ী আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিয়ে নিই তাহলে কোন পন্থাটি ইসলামের শত্রুদেরকে পীড়া দিবে আর কোনটি তাদের জন্য আনন্দদায়ক হবে- ভাবনার বিষয় রয়েছে বৈকি!

প্রার্থনা করছি যেন আল্লাহ আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে দেন। আমাদের অন্তরসমূহের মাঝে ভালবাসার সেতুবন্ধন তৈরি করে দেন। সর্বাপেক্ষা আল্লাহভীরু ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে দেন এবং ফিতনা, অনৈক্য, বাদ-বিসংবাদ থেকে দূরে রাখেন। সকল মুজাহিদ ভাইয়ের প্রতি আমার সর্বশেষ উপদেশ হল, আপনারা অন্যায়ভাবে রক্ত ঝরানোর ফাঁদে পা দিবেন না। মনে রাখবেন, আপনার আমীর আপনার পাপ মোচন করতে পারবেন না। আপনাকে আল্লাহর দরবারে হাজির হতে হবে একাকী। আপনার পক্ষে দুটো কথা বলার জন্য তখন আমীরকে খুঁজে পাবেন না। এমনও হতে পারে যে, নিজের পক্ষে সুপারিশকারীর প্রতি আমীরের চেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী আর কেউ হবে না।প্রত্যেক মুজাহিদের স্মরণ রাখা উচিৎ যে, তিনি ঘর থেকে বের হয়েছেন আল্লাহর শত্রুদের সাথে লড়াই করার জন্য। তাই তিনি যেন আমীরগণের রাজনৈতিক লালসা পূরণের হাতিয়ারে পরিণত না হন। যদি তার আমীর কোন মুসলিমকে হত্যা করার আদেশ করে অথবা এমন কোন কাফিরকে যে ইসলাম গ্রহণ করেছে অথবা এমন ব্যক্তিকে যার হত্যাযোগ্য হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ আছে। যেমন, কোন মুসলিমকে কাফির বলা হল, অথবা বলা হল সে বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিয়েছে বা সে মুরতাদদের অন্তরঙ্গ বন্ধু বা মুরতাদদের মদদদাতা ইত্যাদি তাহলে সে আমীরের আদেশ পালন করবে না যতক্ষণ না অভিযোগ প্রমাণিত হয়। কারণ, ফিতনা ব্যাপকতা লাভ করেছে। আমীরগণের এবং তাদের দলসমূহের মাঝে সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে। একজন মুজাহিদ কাউকে হত্যা করতে কেবল তখনই অগ্রসর হবেন যখন তাকে হত্যা করার বৈধতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে। যদি সামান্য সন্দেহও থাকে তাহলে আমীরের আনুগত্য করবে না। নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিবে। কারণ, মুসলমানকে হত্যা করা অনেক বড় গুনাহের কাজ। আল্লাহ তা’আ’লা বলেন,“যে ব্যাক্তি স্বেচ্ছায় মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।”(সূরা নিসা- ৯৩)

প্রত্যেক মুজাহিদকে স্মরণ রাখতে হবে যে, সে ঘর থেকে বের হয়েছে মুসলমানদের নিরাপত্তা-বিধান ,মান মর্যাদা রক্ষা করার জন্য। এসকল ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনের জন্য বের হয়নি। তার আমির যদি তাকে আদেশ করে মুজাহিদগণের কোন দলের উপর আক্রমন করতে, তাদের মালামাল ছিনিয়ে নিতে, ক্যাম্প দখল করতে , অথবা মুসলমানদের ধন সম্পদ অধিকার করতে- এই যুক্তিতে যে তারা বিদ্রোহী বা এই সম্পদের হকদার আমীর এবং তার ইমারাহ, অথবা এই যুক্তিতে যে, বিরোধীদের সম্পদ দখলের অধিকার তাদের আছে- তাহলে এই সকল আদেশ পালন করা বৈধ হবেনা। কারণ, এসব শুধু মৌখিক দাবি। মুসলমানদের সহায় সম্বল দখল করে নেয়ার জন্য এসকল দাবি যথেষ্ট নয়। রাসুল সা. বলেন,“এক মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের জন্য হারাম করা হল তার রক্ত, তার মাল ও তার ইজ্জত।”

প্রার্থনা করি আল্লাহ তাআ’লা মুজাহিদগণকে এবং মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করে দিন। শরীয়তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রেখে শুরাভিত্তিক খেলাফতে রাশেদা প্রতিষ্ঠার তাওফিক দান করুন।শাম ও ইরাকের পর ওয়াজিরিস্তানের ভাইদের উপর নীরবে যে সকল অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলতে চাই।

বিশ্বাসঘাতক পাকিস্তানী বাহিনী আমেরিকার সাথে মিলে ওয়াজিরিস্তানের সাধারণ জনগণ, মুজাহিদ ও মুহাজিরগণের উপর হামলা করেছে। আমেরিকার ড্রোন গুলো মুজাহিদদের অবস্থানে উপর্যুপরি বোমা ফেলছে। আর পাকিস্তান বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল সেনাও প্রেরণ করেছে। ট্যাংক ও কামানের সাহায্যে গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। ফলে নিহত হয়েছে কয়েক হাজার যুবক, বৃদ্ধ, নারী ও শিশু। আর উদ্বাস্তু হয়েছে আনুমানিক দশ লাখ মানুষ। তারা সাহায্যের জন্য হাহাকার করছেঃ মাথা গোজার ঠাই পায়নি কোথাও। প্রচন্ড শীত ও গরমের তোয়াক্কা না করে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর থেকে খাবার ও ঔষধ সংগ্রহের জন্য অবর্ণনীয় কষ্ট করেছে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃবৃন্দ তাদের সাথে জীব-জানোয়ারের মত আচরণ করেছে; যাতে মোড়ল আমেরিকা খুশি হয় ও হারাম ডলারের মাধ্যমে নিজেদের পকেট স্ফীত হয়। এসবকিছুই আফগানিস্তান থেকে দখলদার মার্কিন বাহিনীকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার ব্যর্থ প্রয়াস। তাদের অপরাধ আড়াল করার জন্য প্রচারমাধ্যম সব রকমের সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি এই মিডিয়া কভারেজের কল্যানেই ‘সন্ত্রাসের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ পূর্ণতা! লাভ করেছে। আল্লাহ তাআ’লা যথার্থই বলেছেন,“নিঃসন্দেহে যেসব লোক কাফির, তারা ব্যয় করে নিজেদের ধন-সম্পদ, যাতে করে বাধাদান করতে পারে আল্লাহর পথে। বস্তুত এখন তারা আরো ব্যয় করবে। তারপর তাই তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যাবে। আর যারা কাফির তাদের দোযখের দিকে তাড়িয়ে নেওয়া হবে।”(সূরা আনফাল- ৩৬)

এতসবকিছু সত্ত্বেও আপনাদের মুহাজির ও মুজাহিদগণ সুদৃঢ় পর্বতের ন্যায় অনঢ় আছেন এবং আল্লাহর মেহেরবানীতে শত্রুদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে যাচ্ছেন। জিহাদ ও মুজাহিদগণের অবস্থানকে যারা নড়বড়ে করে দেওয়ার জন্য সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা অচিরেই মুজাহিদগণের বিজয় দেখতে পাবে। ইতিমধ্যে বিজয় রবির স্নিগ্ধ আলো পূর্ব দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে। অবিশ্বাসীরা যতই মর্মাহত হোক।

অনমনীয় ওয়াজিরিস্তান ইসলামি ইতিহাসে এক নতুন যুদ্ধের উপাখ্যান রচনা করছে। ইনশাআল্লাহ ইংরেজদের তল্পিবাহকরা তাদের মনিবদের মতই বিতাড়িত হবে। খৃষ্টান এবং তাদের মিত্রদের উপর হামলার ঘটনা দিনদিন বাড়ছে। আঘাতে আঘাতে কেঁপে উঠছে আফগানিস্তানের কাবুল। ইসলামের দুর্গ আফগানিস্তানে যে শৈল্পিকসূচিত হচ্ছে সেজন্য মুসলিম উম্মাহকে মোবারকবাদ জানাই। ইনশাআল্লাহ এই বিজয়ের মাধ্যমে মহা বিজয়ের নতুন ধারা শুরু হবে।

আজ এ পর্যন্তই। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী পর্বে খিলাফাহ আ’লা মিনহাজুন নুবুয়্যাহ প্রসঙ্গে মৌলিক আলচনা করা হবে।