JustPaste.it

Gongi natok

জণ গী নাটকের অবসান হোক 

আসিফ আদনান 

 

লেখাটা লেখা হয়েছিল ২০২৪ এর আগষ্ট মাসের শুরুতে

 

.

হাসিনা রিজিম দানব হয়ে উঠেছিল কয়েকটা ন্যারেটিভের ওপর ভিত্তি করে:

.

- ৭১ কেন্দ্রিক চেতনা 

- মুজিবকাল্ট

- উন্নয়ন, অর্থনীতি

- জণ গী দমন

.

এর মধ্যে শেষেরটা নিয়ে আলোচনা হয় সবচেয়ে কম, যদিও কিছু কিছু মেট্রিকে এটাই হাসিনার ব্যবহৃত সফলতম ন্যারেটিভ। হাসিনার ঘোরতর বিরোধীদের অনেকেও এই ন্যারেটিভ গ্রহণ করে নিয়েছে পুরোপুরি। 

একারণেই ৪/৫ অগাস্টে শেষ চেষ্টা হিসেবে হাসিনা রিজিম প্রচার করছিল, "জণ গী হামলা চলছে, সবাই ঘরে থাকুন"।

.

০৮ এ ক্ষমতায় আসার আগ থেকেই আওয়ামী লীগ জণ গী দমনের এই ন্যারেটিভকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। পশ্চিমা এক অ্যানালিস্টের সাথে মিলে জয় গাজাখুরি একটা 'রিসার্চ পেইপার' ফাঁদে। দাবি করে সেনাবাহিনীর কতো % নাকি, জণ গী হয়ে গেছে। 

.

ক্ষমতায় আসার পর পুরোদমে শুরু হয় নাটক। জণ গী খেতাব নিয়ে গ্রেফতার করা হয় হাজার হাজার মানুষ। প্রিন্স নামে কলেজ ছাত্রসহ অনেক ছাপোষা স্বামীস্ত্রী-কে জণ গী আস্তানার নাটক সাজিয়ে হত্যা করে খুনে বাহিনীগুলো। নিয়মিত গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকিশোরীদের।

.

গুম, ক্রসফায়ার, তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি হয়েছে তথাকথিত জণ গী-দের ওপরে। বিএনপি কিংবা জামাআতের পলিটিকাল অ্যাক্টিভিস্টদের মানবাধিকার নিয়ে দেরিতে হলেও অনেকে কথা বলেছেন। কিন্তু জণ গী খেতাব দিয়ে যাদের মারা হয়েছে, টর্চার করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে তা নিয়ে কেউই কথা বলেনি, এখনো বলছে না। জণ গী নামে কতোজনকে মারা হয়েছে তার সঠিক হিসেবেও সম্ভবত কেউ জানে না। 

.

জণ গী নাটক সাজিয়ে ফাসি, যাবজ্জীবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে শত শত মানুষকে। কোন দল কিংবা সংগঠনের সাথে যুক্ত না এমন মানুষকে অমুক তমুক দলের আমীর বানিয়ে দিয়েছে। স্রেফ কোন ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেয়ার কারনে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ১৬ বছরের কিশোর কিংবা কলেজে পড়া কিশোরীদের ধরে এনে নানা সংগঠনের অমুক শাখার নেতা বানিয়েছে দেদারসে। 

.

বাসা থেকে রাতে তুলে নিয়ে যাবার ১০/২০/৩০ দিন কিংবা কয়েক মাস পর কেইস সাজিয়েছে- গোপন আস্তানায় অস্ত্র, গোলাবারুদ আর *হাদি বই নিয়ে মিটিং করার সময় অমুককে গ্রেফতার করেছে। 

.

স্রেফ পিটিয়ে আধমরা করে জোর করে ১৬৪-তে জবানবন্দী নিয়েছে। তারপরএই জবানবন্দীর ভিত্তিতে ফাসি আর যাবজ্জীবনের আদেশ দিয়েছে। আলোচিত অনেক জণ গী মামলায় এভিডেন্স বলতে আছে শুধু এই জবানবন্দী আর কিচ্ছু না। 

.

অনেক হাইপ্রোফাইল কেইসে খোদ বাদী বলেছে, আসল অপরাধীর সাজা হয়নি। কিন্তু নির্দোষ মানুষকে মৃত্যুদন্ডের রায় শুনিয়ে দেয়া হয়েছে। বিচারের নামে এতো নির্লজ্জ তামাশা এই স্কেলে সম্ভবত আর কোনো ক্ষেত্রে হয়নি।

.

জণ গী নাটক সাজাতো খুনে বাহিনীগুলো আর এগুলোর মার্কেটিং ও পরিবেশনা করতো মিডিয়া। পুরো দুনিয়া বলে, ইনোসেন্ট আনটিল প্রুভেন গিল্টি - অপরাধ প্রমান হবার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ ধরা হবে। কিন্তু জণ গী-দের বেলায় উল্টোটা। 

.

র‍্যাব-ডিবি জাস্ট বলেছে "জণ গী ধরেছি", ব্যস, সব মিডিয়া-পত্রিকা এক যোগে তাদেরকে গল্পই প্রচার করে গেছে। কোন প্রমান, কোন বিচারের আগেই মিডিয়া ট্রায়ালে অগণিত মানুষকে দোষী বানিয়ে দেয়া হয়েছে। 

.

এমনও ঘটনা আছে, জণ গী বলে ধরে নিয়ে যাবার পর আদালত অনেককে বেকসুর খালাস দিয়েছে। বলা হয়েছে এই ব্যক্তির বিরুদ্বে আনা অভিযোগের ভিত্তি নেই, এই মামলায় তাকে রাখার গ্রাউন্ড নেই - কিন্তু এই খবর মিডিয়াতে আসেনি। কিন্তু খুনে বাহিনীর বলা গল্প মিডিয়া আগে প্রচার করেছে ব্যাপকভাবে। 

.

ফলে আদালত নির্দোষ বলে দেয়ার পর অনেক মানুষের গায়ে এই ডিহিউম্যানাইযিং ট্যাগ লেগে গেছে। এবং মজার বিষয় হাসিনার অনেল বিরোধী হাসিনাশাহীর এই নাটক গোগ্রাসে গিলেছে।  

.

কার্যত চার ধরণের আইন হয়ে গেছে। একটা আইন ক্ষমতাসীন ও তাদের কাছে লোকের জন্য, একটা আইন সাধারণ মানুষের জন্য, একটা আইন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জন্য আর আরেক সেট আইন জণ গীদের জন্য। এই বৈষম্য গ্রেফতার-রিমান্ড থেকে শুরু করে বিচার, মিডিয়াতে উপস্থাপনা এবং সামাজিক পারসেপশন। সব ক্ষেত্রে।  

.

অন্য ন্যারেটিভগুলোর মতো এই জণ গী ন্যারেটিভকে যদি প্রত্যাখ্যান করা না হয় তাহলে আওয়ামী জাহিলিয়াত, কোন না কোন ফর্মে, কারো না কারো মাধ্যমে, একই কিংবা ভিন্ন নামে আবারও ফিরে আসবে। 

.

যেসব নির্দোষ মানুষকে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে, গাজাখুরি অভিযোগে, কোন প্রমান ছাড়া স্রেফ টর্চার করে আদায় করা জবানবন্দীর ভিত্তিতে আজ সাজা দেয়া হয়েছে, সেগুলো পুনঃতদন্ত করে তাদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দেয়া দরকার। 

.

একটা সভ্য সমাজ তাই করতো। তবে আমরা এখনো সভ্য হয়ে উঠতে পারিনি। তাই এমন আশা আমি করি না। তবে অ্যাটলিস্ট এসব নির্দোষ মানুষের মুক্তির জন্য আমাদের আওয়াজ তোলা জরুরী। তা না হলে, কাল কিয়ামতের মাঠে এই হাজার হাজার মাযলুম আমাদের যালিমের সহযোগী হিসেবে হয়তো চিন্নিত করবে। 

.

জণ গী নাটক বন্ধ হোক

নির্দোষ মুসলিম বন্দীদের মুক্তি পাক

.

আল্লাহ্‌ সাক্ষী, আমি পৌছে দিয়েছি।