গণবিপ্লব:

স্বৈরশাসনের পতন কি এ পথ ধরেই…?

 

মূল

শাইখ আবু উবাইদা আব্দুল্লাহ আল-আদম রহিমাহুল্লাহ

 

অনুবাদ

মুহাম্মাদ সালমান বাঙ্গালী

 

 

 

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وصحبه ومن والاه.

وبعد ...

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। রহমত এবং শান্তি বর্ষিত হোক রাসুলুল্লাহ , তাঁর পরিবার-পরিজন, সাথীবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নবী-প্রেমিকদের ওপর।

হামদ ও সালাতের পর…

গেরিলা যুদ্ধের গঠন প্রকৃতি ও পরিচালনা পদ্ধতি কেমন হতে পারে এবিষয়ে বিভিন্ন সেমিনারে বেশ কয়েকজন ভাইয়ের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। এসকল আলোচনায় বলেছিলাম যে, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে এমন কিছু রাষ্ট্র রয়েছে - যেসব রাষ্ট্রের কোথাও একটি সফল গেরিলাযুদ্ধ প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং তা স্থায়িত্ব লাভ করা খুবই দুষ্কর। এসব রাষ্ট্রের ভৌগলিক অবস্থান এবং আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটই - মূলত জিহাদি গ্রুপগুলোর মাঝে এবং তাদের বিজয় ও ক্ষমতা লাভের পথে সুবিশাল বাধার প্রাচীর তৈরি করে রেখেছে। এসব রাষ্ট্রের মধ্যে উপসাগরীয় কয়েকটি অঞ্চল, মিশর, তিউনিশিয়া ও লিবিয়া অন্যতম। দেশ ও জাতির মাঝে অনর্থ সৃষ্টিকারী এ সমস্ত দেশের তাগুতি শাসন ব্যবস্থার কেমন করে পতন ঘটবে, সে চিন্তা করে অধিকাংশ সময় আমি দিশেহারা হয়ে পড়তাম। এতদাঞ্চলে বিজয়ের জন্য এবং আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আফগানিস্তান থেকে ঈমানদীপ্ত মুজাহিদ দলের আগমন ছাড়া অন্য কোনো সমাধানের কথা আমি চিন্তা করতে পারতাম না।

আমার এমন চিন্তা ভাবনা ঠিক সে সময়কার, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা কমে আসছে। আমেরিকা এখন পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও এতটাই দুর্বল ও পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে যে, এখন সে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। নতুন করে কোন মুসলিম দেশে অনুপ্রবেশ করে সেখানকার বিষয়াদিতে অযথা নাক গলানোর মত শক্তি বা সামর্থ্য কোনটাই তার অবশিষ্ট নেই। একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনের সময়টাতে আমেরিকার এমন ন্যাক্কারজনক পরিণতি খুব দরকার ছিল।

একদিন আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েক দশক সময় প্রয়োজন। এমনকি আমাদের শাইখ আবু মুসআব সূরী (ফাক্কাল্লাহু আসরাহু - আল্লাহ তাঁকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করুন!) তো বলেছেন, মুসলিম জাতি ঘরের এবং বাইরের শত্রুর দ্বারা যে দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা পার করছে, তার বিবেচনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কম করে হলেও পঞ্চাশ বছর প্রয়োজন।

গভীর পর্যবেক্ষণের পর আমি আবিষ্কার করলাম যে, ৯/১১ এবং তৎপরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ - যার মাঝে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হল আফগানিস্তান এবং ইরাকে ক্রুসেডারদের আগ্রাসন - আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের জন্য অপেক্ষার সে বছরগুলোকে অনেকটা কমিয়ে এনেছে। ইসলামী জাগরণের স্বপ্ন দেখা কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল অসম্ভব, আজ সে স্বপ্নই জীবন্ত, বাস্তবতায় আমাদের কাছে ধরা দিয়েছে।

এখন আমি মনে করি, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাদের দুর্বলতা, অক্ষমতা এবং কৌশলহীনতা দেখে নিজের পক্ষ থেকে বিশেষ এক বাহিনীর সাহায্যে আমাদের অবস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। অথচ কিছুদিন আগে কেউ স্বপ্নেও ভাবার অবস্থায় ছিল না যে, বিপদ-আঁধারে আচ্ছন্ন এ বছরগুলো পার হলেই উম্মাহ আবার ঘুরে দাঁড়াবে!!!

জি হ্যাঁ, মুসলিম উম্মাহ শত্রুদের বিরুদ্ধে আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারা আজ জেগে উঠেছে। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা মাজলুম এই যোদ্ধা জাতির জন্য এক আলোকময় প্রভাতের উজ্জ্বল স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন অচিরেই। এই উম্মাহকেই এতদিন গোটা বিজাতীয় শক্তি কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে। প্রশস্ত হয়েও পৃথিবী তাদের জন্য সঙ্কুচিত ছিল এতকাল। জাগরণের এই আলোকরশ্মি যদিও আজ অনেকটাই ম্লান, কিন্তু অচিরেই তা ন্যায়ের রবি হয়ে গোটা বিশ্বকে করে তুলবে উদ্ভাসিত। পৃথিবী ভুলে যাবে, তার সর্বত্র ছেয়ে ছিল অসত্যের ঘোর অমানিশায়।

আরব অঞ্চলে আসমানী ইশারায় হওয়া বর্তমান পরিবর্তন - জনমানুষের জাগরণের ফলে সম্ভবপর হয়েছে। এ পরিবর্তন বিগত কয়েক দশক ধরে মুসলমানদের ওপর চেপে থাকা অন্যায় শাসনের পতনের সূচনা। আমরা আশা করছি, আল্লাহর সাহায্যে এখান থেকেই শুরু হলো নবুওতের আদলে খিলাফাহ্ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার শুভ-যাত্রা। হাবিবে মোস্তফা আমাদেরকে এমনই সুসংবাদ দিয়েছেন। সহীহ হাদীসটি ইমাম আহমদ সহ অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ ও বিদগ্ধ আলেমগণ - হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন:

“আল্লাহ যতদিন চান ততদিন তোমাদের মধ্যে নবুওয়াত থাকবে (অর্থাৎ তিনি স্বয়ং)। তারপর আল্লাহ তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর হবে নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত; যতদিন আল্লাহ চান ততদিন তা থাকবে, তারপর আল্লাহ যখন চান তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর আসবে মুলকান (রাজতন্ত্র); যতদিন আল্লাহ চান ততদিন থাকবে, তারপর আল্লাহ যখন চান তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর আসবে জাবারিয়াত (শক্তি প্রয়োগ, জোর-জবরদস্তিমূলক শাসন); যতদিন আল্লাহ চান ততদিন তা থাকবে, তারপর আল্লাহ যখন চান তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর আসবে নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত।”

এই নববী সুসংবাদ থেকে সুস্পষ্ট যে, আল্লাহর সাহায্যে পুণ্যময় খেলাফত ব্যবস্থা অত্যাসন্ন। আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যাবে না। তবে মুসলিম বিশ্বকে খেলাফতের আগে তার প্রসব বেদনা সহ্য করতে হবে। আমার জানা নেই কতদিন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হবে এই বেদনা। তবে চলমান গণবিপ্লবগুলোর ফলাফল হিসেবে যে বিষয়গুলো আমার সামনে ফুটে উঠেছে, তা আমি নিম্নে তুলে ধরছি:—

প্রথম বিষয়: অন্যায়ভাবে আল্লাহর বান্দাদের উপর চেপে বসা তাগুতি শক্তিগুলো এবং তাদের গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনের সুদীর্ঘকালের নির্যাতন-নিপীড়ন, ঠাট্টা-বিদ্রূপ, জুলুম ও অত্যাচারের পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তা স্থায়ীভাবেই।

দ্বিতীয় বিষয়: মুসলমানদের ভীতির প্রাচীর ভেঙ্গে গেছে। তারা সংস্কারের পথ চিনে নিয়েছে। তারা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে যে, এ সমস্ত তাগুতের মসনদ মাকড়সার জালের চাইতেও দুর্বল। তাদের হম্বিতম্বি নিতান্তই মিছে; কেবল মিথ্যাচারী মিডিয়ার প্রচারণার সাহায্যে নিজেদের ধ্বংসশীল কর্তৃত্বের ব্যাপারে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা নিজেদেরকে টিকিয়ে রেখেছে।

তৃতীয় বিষয়: দীর্ঘ লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ও অপমান অবমাননার পর আরব জাতি তাদের হারানো মর্যাদা এবং হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। হয়তো এর সাহায্যেই তারা রোমানদের বিরুদ্ধে আসন্ন কয়েক যুগের মহাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

চতুর্থ বিষয়: এ বিপ্লব খ্রিস্টান পশ্চিমা বিশ্বের পদক্ষেপ ও সাজানো পরিকল্পনাগুলোকে ভেস্তে দিয়েছে। কয়েক যুগ ধরে মুসলিম উম্মাহকে নিয়ে করা তাদের ষড়যন্ত্রগুলোকে ভণ্ডুল করে দিয়েছে, যেগুলোকে জিইয়ে রেখে মুসলিম জাতিকে লাঞ্ছনা-গঞ্জনার গহ্বরে আরও বহুকাল ফেলে রাখতে চেয়েছিল। নিঃসন্দেহে এই গণজোয়ার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এতদাঞ্চলের প্রচলিত রাজনীতির পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। আর তাই এখন এই অঞ্চলের রাজনীতি এমন কতগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যেগুলো কখনোই রাজনীতির অভিধানে ছিলনা।

পঞ্চম বিষয়: আংশিকভাবে হলেও এ বিপ্লব আমেরিকা নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্বকে তাদের জড়িয়ে পড়া আফগানিস্তান এবং ইরাক যুদ্ধ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে। এ বিষয়টি সামনের দিনগুলোতে আল্লাহর ইচ্ছায় আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

ষষ্ঠ বিষয়: সুস্পষ্টভাবে এসকল গণঅভ্যুত্থান খ্রিস্টান বিশ্বের দুর্বলতা ফাঁস করে দিয়েছে। এদলের মূলে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এটি সম্ভব হয়েছে আফগানিস্তান, ইরাক ও বৈশ্বিক ক্রুসেডের অন্যান্য ফ্রন্টলাইনগুলোতে ব্যাপক হারে তাদের শক্তিক্ষয়ের কারণে। আল্লাহ তাআলা নিজের পক্ষ থেকে তাদের মাঝে এই দুর্বলতার সৃষ্টি করে আমাদেরকে যদি সাহায্য না করতেন, তবে তিউনিশিয়া এবং মিশরে তাদের আধিপত্য, স্বার্থ এবং সামগ্রিকভাবে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ এসকল বিপ্লবের সাফল্য প্রতিরোধের জন্য মাঝারী মেয়াদে হলেও ক্রুসেডারদের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাবমূলক কিছু কার্যক্রম আমরা দেখতে পেতাম।

সপ্তম বিষয়: চলমান এই গণআন্দোলন - বাস্তবে মুসলিম জাতির কল্যাণ কুক্ষিগত করে রাখা খ্রিস্টান পশ্চিমাদের দুর্বল করে দিয়েছে। তাদের শক্তি নিঃশেষ করে দিয়ে অতি নগণ্য মূল্যে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে তাদের আধিপত্য ছিনিয়ে নিচ্ছে। বৈশ্বিক জিহাদী আন্দোলন চলমান এই গণঅভ্যুত্থানের ফলাফলের অপেক্ষায় থেমে থাকবে না বা পূর্বে থেমে ছিলও না। বর্তমান এই গণ-আন্দোলনের শুরুতেই বৈশ্বিক জিহাদী আন্দোলন তার রক্ত উৎসর্গ করেছে।

জিহাদী আন্দোলনগুলো গত কয়েক দশক ধরেই আরব জাহানকে এ পথে ডেকে যাচ্ছে। তাগুতি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলমানদের অন্তরে প্রতিবাদের ইচ্ছা জাগাবার জন্য অব্যাহতভাবে তারা চেষ্টা করেছে। তাদের পাশাপাশি আমি পরাজিত এই আরব জনগোষ্ঠীর মন-মানসিকতা এবং চিন্তাধারা পরিশুদ্ধকরণে কতক মিডিয়া চ্যানেলের ভূমিকা শ্রদ্ধাভরে স্বীকার করছি।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, তাগুতি শক্তির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক জিহাদী আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষিত এবং শুভাকাঙ্ক্ষী মহলের প্রত্যাশিত এই গণবিপ্লবের ফলাফল দেখবার জন্য আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন। বাস্তবতা আল্লাহই ভাল জানেন!!

সে সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের আধিপত্য তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। অতঃপর আল্লাহর সাহায্যে বিজয় তো মুমিনদেরই হবে।

নবুওয়্যাতের আদলে প্রতিশ্রুত সেই খেলাফত ব্যবস্থার পূর্বে হয়তো আরব অঞ্চলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, অস্থিতিশীলতা এবং অরাজকতা সৃষ্টি হবে। আর এর ফলে প্রাক বিপ্লব যুগের প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও কাঠামো ধ্বসে যাবে। আবার রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে ছায়া সরকারও দেখা দিতে পারে। কিংবা এ-ও হতে পারে, এসব অঞ্চল পারস্পরিক গোত্রীয় কোন্দল কিংবা গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন কোন বিশেষ গোষ্ঠী, বিশেষ দল অথবা বিশেষ সম্প্রদায় আধিপত্যের অধিকারী হবে। সর্ববিষয়ে আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত।

কিছুদিন পূর্বে আমি পূণ্যবান এক ব্যক্তির পাশে বসা ছিলাম। তিনি এমন ব্যক্তি, জিহাদের ময়দানে যার দাড়ি সাদা হয়ে গেছে। মিশরের অত্যাচারী অপশক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের জীবনে বার্ধক্যের কারণে যার চুল পেকে গেছে। তাঁকে আমি বললাম: "শাইখ মোস্তফা আবুল ইয়াজিদ এবং খালেদ হাবিব প্রমুখ মিশরীয় ভাইয়েরা তো নিহত হয়ে গেছেন। তারা আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নিজেদের গোটা জীবন ব্যয় করে দিয়েছেন। অথচ আল্লাহ তাআলা তাদের শত্রু হোসনি মোবারককে লাঞ্ছিত করার এই দিনটি তারা দেখতে পেলেন না…?!"

এমন সময় আমার মানসপটে আব্দুর রহমান ইবনে 'আউফ রাযিয়াল্লাহু আনহু -এর স্মৃতি ভেসে উঠলো। মনে পড়ে গেল তাঁর সেই বিখ্যাত ঘটনা। একবার তাঁর কাছে কিছু খাবার নিয়ে আসা হল যখন তিনি রোজা ছিলেন। তখন তিনি বললেন—"আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মুসআব ইবনে উমায়ের এমন অবস্থায় নিহত হয়েছেন যে, তাঁর কাফনের জন্য ছিল কেবল মাত্র একটি চাদর। মাথা ঢাকা গেলে তার পা ঢাকা যেত না, আবার পা ঢাকা গেলে মাথা ঢাকা যেত না।'' বর্ণনাকারী বলেন—আমার মনে হচ্ছে, তিনি আরও বলেছেন—"আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হযরত হামজাও নিহত হয়েছেন। আর এখন আমাদের জন্য দুনিয়াকে বিছিয়ে দেয়া হয়েছে”—কিংবা তিনি অন্য বাক্যে বলেছেন—“আমাদেরকে দুনিয়ার অঢেল অর্থ-সম্পদ দেয়া হয়েছে। আমাদের ভয় হচ্ছে, আমাদের প্রতিদান বুঝি দুনিয়াতেই আমাদেরকে দিয়ে দেয়া হলো!!" অতঃপর তিনি ক্রন্দন করতে আরম্ভ করলেন এবং খাবার সরিয়ে দিলেন।

হে পাঠক! আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না আল্লাহর আদেশকে সামনে রেখে সংগ্রামী জীবন গ্রহণকারী মুষ্টিমেয় মুমিন বান্দাদের সঙ্গে সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে?

সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্য!

 

আবু উবায়দা আব্দুল্লাহ আল আদম

২০শে রবিউস সানি, ১৪৩২

মুজাহিদ ভাইদের জন্য দোয়ার প্রত্যাশা!!

প্রকাশনায়—

মারকাযুল ফজর লিল ই'লাম

১৪৩২ হিজরী মোতাবেক ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

 

 

**************************************