JustPaste.it

08 Jini-prrithibike-tawhid-sikhalen

পৃথিবী ধ্বংস হোক, ধ্বংস হোক আমাদের সংগঠন, দল এবং অস্তিত্ব; কিন্তু আমাদের হাত যেন বেআইনীভাবে মুসলমানের রক্ত ঝরার কারণ না হয়।”

শায়েখ আতিয়াতুল্লাহ আল লীবি রহ.

  الله أكبر         

 যিনি পৃথিবীকে তাওহীদ শেখালেন

শাইখ আতিয়্যাতুল্লাহ আল লীবি রহ.

 

তাওহীদের এ পাঠ এখনও চলমান..... তবে, তাওহীদের এসকল পাঠের সাথে প্রচলিত পাঠের যে একদমই মিল নেই....

আরব শায়েখগণ যখন আমাদের সিরিয়াসভাবে দরস দিচ্ছিলেন: আশআরী, মাতুরিদীগণ বিদআতী, ভন্ড; ঠিক সে সময় শায়েখ উসামা বিন লাদেন তাঁর অনুসারীদের শেখাচ্ছিলেন— ব্যবসা-বাণিজ্য! তবে এ ব্যবসা সাহাবী আব্দুর রহমান বিন আউফ রাযি. উদ্ভাবিত–সাধারণ কোন ব্যবসা নয়। এ সওদা মহান রবের সাথে! ক্রেতা যেখানে আল্লাহ; কতো মহান সে ব্যবসা! অন্যদিকে আমীরুল মুমিনীন মোল্লা মোহাম্মদ ওমর এক দীর্ঘ ও উন্মুক্ত সেমিনারে ভাষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। যার শুভ সূচনা ঘটতে যাচ্ছে ৯/১১-এ। চলবে কতক্ষণ পর্যন্ত তার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। হতে পারে এর পরিসমাপ্তিই ঘটবে না! ভাষণের বিষয়— তাওহীদ: মর্ম ও বাস্তব জীবনে এর প্রায়োগিক সমন্বয়। বছরের পর বছর আমরা গলদঘর্ম হয়েছি— মাতুরিদী আর আশায়েরাদের বেদআত ও ভ্রান্তি অন্বেষণে। শুদ্ধ আকীদা-বিশ্বাসের ফেরী করেছি। এর মধ্যেই ঘটল ১১ সেপ্টেম্বর উপাখ্যান। যা আমাদের ‘পূর্বপাঠ’কেই যেন বুড়ো আঙ্গুল দেখাল। বিবেককে প্রচন্ড ঝাঁকুনি দিয়ে বলল–যা পড়েছো; তা পুনঃপাঠ কর! আচ্ছন্ন কাটতেই আমরা আবিষ্কার করলাম— ‘আরে! যাদের এতদিন ‘মাতুরিদী’ বলে ঘৃণায় রি রি করেছি, এরাই দেখছি ‘তাওহীদ’ আমাদের চে’ ঢের ভালো বুঝেন! ৯/১১ ট্র্যাজেডি আমাদের চিন্তার জগৎটাই যে উন্মুক্ত করে দিল। মন বলে উঠল যাকে এতদিন ইসলাম হিসেবে জেনে তুষ্ট ছিলে; ইসলামের সীমানা আরো বিস্তৃত!! এ ঘটনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল ‘তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত’ নিয়ে যে দ্বন্দ্বে পড়ে আছো, প্রকৃত অর্থে এর মর্ম আরো গভীর ও বাস্তববাদী। জানতে পারলাম, ‘তাওহীদুল ইবাদাহ’ই হচ্ছে মূল বিষয়—বাস্তব জীবনের সাথে যার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বুঝতে পারলাম ‘তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত’ উপলব্ধির সঠিক পথ ও পন্থা কী হওয়া উচিৎ!

হ্যাঁ, তালেবানই আমাদের নতুন করে সে শিক্ষা দিলেন; যা ইতোপূর্বে আমাদের মাথায় আসেনি। তালেবান যখন বামিয়ানমূর্তি অপসারণ করল তখনও অনেকে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দিহান ছিল! কারণ (তাদের ভাষায়) এরাতো মাতুরিদী! অনেকের বুঝে আসেনি যে— তালেবান বৌদ্ধমূর্তি ভেঙ্গেছে তাওহীদের পর্বতপুরুষ শায়েখ হামূদ বিন শা’বী রহ.-র পদাঙ্ক অনুসরণ করেই। তাওহীদ অন্বেষী প্রাথমিক স্তরের কেউ পূর্ব বিশ্বাস পরিত্যাগ করতে বড়সড় ধাক্কার মুাখোমুখি হবে—এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাটি সত্যিই বিরাট এক পরীক্ষা ছিল! ইমামুল মুজাহিদীন, আমীরুল মুমিনীন মোল্লা মোহাম্মদ ওমর রহ.-র ‘তাওহীদুল আমালী’র দরস শুরু হয়ে গেল।

উদ্বোধনী ভাষণ: ‘পৃথিবীর বুকে আকাশ আছড়ে পড়লেও কোন মুসলিমকে আমরা কাফেরদের হাতে তুলে দেব না’.. ‘আল্লাহ আমেরিকার চে’ বড়, শক্তিমান; তিনিই আমাদের সহযোগী’.. ‘আমেরিকা যা ইচ্ছে করুক, আমরা আল্লাহর রজ্জুকেই আঁকড়ে থাকবো..’ ‘আল্লাহই সাহায্যকর্তা–এ বিশ্বাস থেকে কেউ আমাদের টলাতে পারবে না।’ এরপর তাঁর সেই যুগান্তকারী হিরকতুল্য উক্তি সব কিছু আলোতে ভাসিয়ে দিল। —‘আমি দুটি প্রতিশ্রুতির দিকে তাকিয়ে আছি: আল্লাহর প্রতিশ্রুতি; বুশের ভবিষ্যদ্বানী। নিঃসন্দেহে আল্লাহর প্রতিশ্রুতিই চিরসত্য, আর বুশের প্রতিশ্রুতি হওয়ায় মিলিয়ে যাবে। আল্লাহ যা চান তার ভিন্ন কিছু ঘটানোর সাধ্য কারো নেই।’ আল্লাহু আকবার! এ কি মোল্লা ওমর ভাষণ দিচ্ছেন, না আবু বকর সিদ্দীক রাযি.? এ ভাবেই আমীরুল মুমিনীন মোল্লা ওমর আমাদের তওহীদের মর্ম বুঝাতে লাগলেন; বরং ‘তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের’ মর্মও ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন। ‘তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতে’র দরসগুলো থেকে আমরা এমনটাই বুঝতাম যে, আকীদাগত মাসআলাগুলো ভালোভাবে শেখা ও তোতাপাখির মতো বলতে পারাই হল এর উদ্দেশ্য। ‘আমরা ঈমান আনি আল্লাহর ওপর সে-ভাবেই যেভাবে স্বয়ং আল্লাহ নিজের পরিচয় দিয়েছেন; কোন রকম ব্যাখ্যা, সামঞ্জস্যবিধান বা কর্মহীন করা ব্যতীত’–এটাকে আমরা বাধাগৎ-এর মতই মুখস্ত করতাম। তবে প্রকৃত অর্থে আমরা ‘তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের মূল উদ্দেশ্য বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা বুঝিনি আল্লাহ নিজেকে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা বলে আমাদের থেকে কীসের স্বীকারোক্তি নিতে চাচ্ছেন।

আমরা ভুলে থাকলাম, আমাদের প্রকৃত সমস্যাগুলো কী?—অবশ্যই যার মধ্যে জিহাদই ছিল সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আমরা জিহাদ ছেড়ে দিলাম; কিন্তু আশআরী ও মাতুরিদীদের সাথে ইবনে তাইমিয়ার ইলমী বিতর্ক ধরে থাকলাম না শুধু একেবারে এতে মজে গেলাম! সব বাদ দিয়ে একেই দীনি কাজ বানালাম। অথচ, আমাদের বোঝা উচিৎ ছিল, উম্মাহর সবচে’ বড় সমস্যাটি হল—পুরো মুসলিম উম্মাহ আজ পশ্চিমাদের আগ্রাসনের শিকার। আমাদের প্রথম কাজ হবে আগ্রাসী শত্রুর বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করা। সে কালে আল্লাহ তাআলার ‘জাত ও সিফাত’ নিয়ে নানা মহল ‘তা’তিল বা তাভীল’ অপব্যাখ্যা ও অক্ষমতা’ আকীদা পোষণ করলে এবং বিষয়টি মারাত্মক আকার ধারণ করলে

ইবনে তাইমিয়া রহ. তার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। তবে এও কিন্তু ঐতিহাসিক সত্য যে, তিনি এতে ধ্যানমান এক করে পড়ে থাকেন নি; বরং যখন তাতারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার ডাক পড়ল, তখন তিনি মুসলিম ফৌজের সামনে সামনেই ছিলেন। হ্যাঁ, এটাই ধ্রুব সত্য কথা। একালের স্বঘোষিত ইবনে তাইময়ার শিষ্যরা কোথায়? তারা তো উল্টো ‘জিহাদ’কে ‘কথিত মাসলাহাতের’ দোহাই দিয়ে পরিত্যাগ করে বসে আছে। এমনকি যারা আকীদা সংক্রান্ত বিষয়কে প্রথম কাজ বিবেচনা করেন, তারাও জানেন না ‘আকীদা’ কি ভাবে অর্জন ও ধারণ করতে হয়। এরা মনে করেন, আশায়েরা বা অন্যান্যদের সাথে রীতিমত তর্কযুদ্ধে জড়ানোই জীবনের মূল কাজ! অথচ ‘আসমা ওয়াস সিফাত’ নিয়ে তাদের সাথে এ বিরোধ নিস্পত্তির সঠিক সুন্দর পন্থা কী হবে তা ভাবারও আমাদের সদিচ্ছা নেই। তেতো শোনালেও বলি, আমাদের ‘তাওহীদ শিক্ষা’ প্রাচ্যবিদদের কুরআন-সুন্নাহ গবেষণারচে’ বেশি কিছু নয়। তাদের অনেকে আমাদেরচে’ ভালো জ্ঞান রাখে হাদীস সম্পর্কে। এর চর্চাও করে; তবে ইসলাম গ্রহণ করে না। আপনি যখন বলবেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ তাঁর শান-মান৷  অনুযায়ী সর্বশ্রোতা’ এ বলাই কি যথেষ্ট? কিছুতেই নয়! এ বিশ্বাস বদ্ধমূল হতে হবে; আর এটা তখনই হবে— যদি আপনার চলন-বলনে তার প্রভাব বিরাজ থাকে! আপনার কথা কাজ আল্লাহ প্রত্যক্ষ করছেন;এ উপলব্ধি সক্রিয় থাকে।

যিনি বলবেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ সর্বদ্রষ্টা তার মতো করে। সাদৃশ্যবাদী, অপব্যাখ্যাকারী ও কল্পবিলাসীদের আমি প্রত্যাখ্যান করি। অথচ, তার যাবতীয় কর্মকান্ডে আল্লাহর ভয়; তিনি সব কিছু দেখছেন, লিপিবদ্ধ করছেনে ও উপলব্ধি জগরুক থাকবে না, তাহলে কথা-কাজের গড়মিল কি হয় না? এমনি ভাবে, ‘আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিপতি–মুখে এ বুলি কপচালে কী হবে, যদি বাস্তবে আমেররিকাকে আল্লাহর চে’ শক্তিধর বিশ্বাস করে। ‘আল্লাহ সম্পদশালী/অভাবমুক্ত’ এটা বলে বলে মুখে ফেনা তুললে কী হবে; যদি মনে থাকে—রিজিকের ভান্ডার সাউদ বংশের হাতে। কিংবা, বিশ্ব সমস্যার সমাধান দাতা আমেরিকা। যিনি মনে করেন, ‘আল্লাহ তাআলা ‘সর্বজ্ঞানী’, অথচ সর্বক্ষণ নিজস্বার্থ সিদ্ধির ফন্দি-ফিকির করেন। তাগুত শাসকদের নেক নজর পাবার জন্য হেন কাজ নেই যা করেন না। সুতরাং যাদের ‘মাতুরিদীয়্যাহ’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে, তারাই যখন প্রকৃত অর্থে আল্লাহর আসমা ও সিফাতের রঙে নিজেরা যেমন রঙিন হয়েছে, এ বোধ বক্ষে ধারণ করেছে এবং এ আপ্তবাক্যের শিক্ষা অন্যদেরও দিয়েছে। সর্বোপরি, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বময় ক্ষমতাবান, শক্তিমান, পরাক্রমশালী, সম্পদশালী, রিজিক দাতা, প্রজ্ঞাময় ও তাঁরই দিকে সব কিছুর প্রত্যাবর্তন— এ অটুট বিশ্বাসের বাস্তবায়নে তারা নিরাপোষ; তাহলে তাঁরাই তো ‘তাওহীদবাদী’। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-র মর্ম তাদের মধ্যেই ফুটে ওঠে। হ্যাঁ, এটাই বাস্তবসত্য। এবার নিন্দুকেরা যা ইচ্ছে বলে বেড়াক। বরং তারাই তাওহীদের মর্মের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। কথিত সালাফীদের চাতুর্যতা এখানে মার খেয়েছে—যারা মুখে তাওহীদের কথা বলে আর কাজের বেলায় ঠনঠন তারা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন বৈকি! ঈমানের প্রশ্নে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচে’ কঠিন স্তর, যা পেরিয়েই তবে তাওহীদ সমহিমায় মূর্ত হয়; পক্ষান্তরে যে স্তরে এসে মুনাফেকের নেফাক প্রকাশ হয়ে পড়ে তা হল—প্রবৃত্তি ও সম্পদের মোহনীয় মায়া। কারণ, এক্ষেত্রে অপশন দুটি: হয় সম্পদ ও প্রবৃত্তির নগদ তুষ্টি, অথবা মহান রবের সন্তুষ্টি এ দুইয়ের যে কোন একটি বেছে নিতে হবে; তৃতীয় কোন পথ নেই। হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে অথবা ত্যাগ স্বীকারে ব্যর্থ হবে। আর বান্দা তখনই আল্লাহর পথে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সক্ষম হবে, যখন ঈমান ও বিশ্বাসের বলে সে বলীয়ান হবে। সে অনুভব করবে মৃত্যু নয়, প্রভূর সাথে মিলিত হওয়ার জন্যই সে দুনিয়া ছাড়ছে। এ ঈমানের ও বিশ্বাসের অলৌকিক ক্ষমতা বলেই সাহাবী উমাইর বিন হাম্মাম রাযি. বলতে পেরেছিলেন— ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার ও জান্নাতের মাঝে কি এ খেজুরগুলোই বাঁধা নয়? এগুলোই তো আমাকে পরকালের নেয়ামতরাজি লাভে বিলম্ব ঘটাচ্ছে। আল্লাহর শপথ! এ সময়ও আমার কাছে অতিদীর্ঘ!! যিনি নিজের জান-মাল বিত্ত-বৈভব সবকিছু আল্লাহর রাহে বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন তিনিই প্রকৃত তাওহীদের অনুসারী। আর যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পুরো রাজ্যই পরিত্যাগ করেন তার ‘একাত্ববাদের’ স্তরতো কল্পনার উর্ধ্বে। ইনিই হলেন আমীরুল মুমিনীন মোল্লা মোহাম্মদ ওমর, আর এ হল তাঁর তাওহীদের যুগান্তকারী দরস। সে দিনগুলো সত্যি অত্যন্ত জটিল ছিল, যখন আফগানিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচ হাজার আলেম একত্র হয়েছিলেন। আমীরুল মুমিনীন তাদের ডেকেছেন অতি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য।

পরামর্শের বিষয়: উসামা বিন লাদেন। পুরো বিশ্বের সবচে’ আলোচিত ব্যক্তি। পশ্চিমারা যে কোন মূল্যে যাকে পেতে চায়! তবে, শীর্ষ আলেমদের এ বৈঠক এ উদ্দেশে ছিল না যে, তাঁকে পশ্চিমাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না? বরং পরামর্শের বিষয় ছিল তিনি কি এখানেই থাকবেন, না তাকে অনুরোধ করা হবে যেন তিনি আফগানিস্তান ত্যাগ করেন। সে দিনগুলো আপনাদের মনে আছে কিনা কে জানে! সে তিনদিন ছিল বিশ্বের কোটিপ্রাণ মুমিনের জন্য শ্বাসরুদ্ধকর! শঙ্কা ছিল না জানি এমন কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যা মুমিনদের মর্মপীড়ার কারণ হয়। তবে, আল্লাহর রহমতে দুশ্চিন্তার আঁধার কেটে প্রভাতরবি জ্বলে ওঠে। ওলামা পর্ষদ সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দেন যে, ‘আমীরুল মুমিনীন এ ক্ষেত্রে নির্ভার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে আমরা শরয়ীতবহির্ভূত কিছু দেখছি না। এ পরামর্শ পাবার পর আমীরুল মুমিনীন শায়েখ উসামার আফগানিস্তানে অবস্থানকেই প্রাধান্য দেন।

আমীরুল মুমিনীনের কাছে নানা কিসিমের দেশীয় বিদেশী লোকজন এসে আবেদন করত- যেন তিনি শায়েখ উসামাকে আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত করে দেন; তাহলেই ল্যাঠা চুকে যাবে। কিন্তু তিনি বড় আশ্চর্য জবাব দিতেন। কুরআনের বাণী শুনিয়ে দিতেন,

وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

‘আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না । যদি তোমরা মুমিন হও , তবে তোমরাই জয়ী হবে।’ (সুরা আল ইমরান : ১৩৯)

আমার বিশ্বাস! ইতিহাসের পাতায় এর নজির খুঁজে পাওয়া যাবেনা। ইসলামের প্রথম খলীফা আবু বকর রাযি. এর পর মোল্লা ওমরই প্রথম ব্যক্তি যিনি আবু বকরের মতো অকল্পনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। মোল্লা ওমর এ কঠিন পরীক্ষায় শুধু সফলভাবে উত্তীর্ণই হননি; বরং ঈর্ষণীয়ভাবে এ সংকট মোকাবেলা করেছেন। ইতিহাসে এমন ঘটনা খুঁজে পাওয়া যাবে না যে, একজন মাত্র ব্যক্তির কারণে পুরো রাষ্ট্র বা সাম্রাজ্য হাতছাড়া হয়েছে। বরং উল্টো বহু ঘটনা খুঁজে পাওয়া যায় যে, নানা ছুতোয় মুসলিম শাসকগণ শরয়ী শাসন প্রতিষ্ঠায় গড়িমসি করেছেন। দীনি ভ্রাতৃত্ববোধ রক্ষা করতে গিয়ে পুরো রাষ্ট্র হাতছাড়া করা—এর জুড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন, এ সত্য অস্বীকারের সুযোগ নেই। মোল্লা ওমর পুরো বিশ্বকে তাওহীদের এ বাস্তব শিক্ষাটাই দিলেন। একদম ফ্রী ফ্রী। আমরা একরত্তি খরচ করেও যা করতে পারলাম না মোল্লা ওমর পুরো দেশ অকাতরে কোরবান করে ঈমানের সে অনুপম শিক্ষাটুকুই স্থাপন করলেন। শুধু মোল্লা ওমরই নন, তালেবানের প্রতিজন সদস্যই যেন তাওহীদের, ঈমানের শীর্ষচূড়ায় আরোহী। তালেবানের পতনের পর মোল্লা আব্দুস সালাম জাইফকে যখন প্রশ্ন করা হল- ‘আপনাদের অবস্থানের/দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এখন কি আপনারা অনুতপ্ত? তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করে বললেন, ‘কখনোই নয়। আমরা যা করেছি, শরয়ী বিধান হিসেবেই করেছি। নিজেদের সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। এমন ঘটনার যদি পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে আমাদের অবস্থান এমনই হবে; সামান্য হেরফেরও হবে না।’ তাওহীদের কথিত ফেরিওয়ালাদের এর থেকে শেখার আছে। বৈকি! এদের নামের পাশেই ‘ইমাম’ উপাধিটি মানায়, এঁরাই এর প্রকৃত হকদার। কারণ ইমাম হওয়ার জন্য অবশ্যই ধৈর্য ও অটুট বিশ্বাস প্রয়োজন, আর এ সকল অতিমানবরা ধৈর্য ও শ্বাসের যে উপমা স্থাপন করেছেন—তার তুলনা হয় না! ইখতিলাফি/মতবিরোধপূর্ণ মাসআলায় ভূমিকা কেমন হবে তালেব নিরা। আমাদের সে শিক্ষা ভালোভাবেই দিলেন। নিজেদের জান - মাল, বসত - ভিটা উজাড় করে বুঝিয়ে দিলেন তাওহীদের অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘ওয়ালা বারা’ তথা বন্ধুত্ব ও শত্রুতার নীতি কী হওয়া চাই। এতোদিন যে সব মজলিসে আমরা আশায়েরা ও মাতুরিদিয়াদের বেদআতী বলে ঢেকুর তুলতাম, ৯/১১ এর পর সে আমরাই অকপটে বলতে শুরু করলাম — তালেবানদের ভালোবাসা ঈমানের অংশ; মুনাফেক, রাফেজী কিংবা কাফের ছাড়া অন্য কেউ তাদের প্রতি বিদ্বেষী হতে পারে না।

এ হল তাওহীদের কার্যকরী পাঠ; যার সূত্রে মহান আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের সামনে সুপ্রমাণিত করে তোলেন— কারা সত্য ও নিষ্ঠাবান আর কারা অসত্য ও স্বার্থান্ধ। ফলে আমরা দেখতে পাই সে সময়ে একদল জ্ঞানপাপী নিজেদের নামের পাশে লম্বা লম্বা ডিগ্রী ও অভিধা জুড়ে মহান পন্ডিতের পরিচয় জাহির করেন; তাদেরই আবার দেখতে পাই আল্লাহর শরীয়তকে পরিবর্তনকারী তাগুত শাসকদের সামনে জি হুজুর এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। অথচ, এ সকল তাগুতরা দীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অভিশপ্ত ইহুদী আর পশ্চিমা মোড়লদের গোলামী করা সৌভাগ্য মনে করে।

তারপর সে দরবারী আলেমদেরই আমরা যখন দেখি- তালেবানদের আকীদা-বিশ্বাস নিয়ে বড় গলায় কথা বলতে; বেদআতী, বেদআতী বলে মুখে ফেনা তুলতে। তখন সঙ্গত কারণেই তাদেরকে প্রশ্ন করার ইচ্ছা জাগে-তারা যদি একমাত্র আল্লাহর জন্য, তার দীনের জন্য সর্বস্ব বিলিয়েও পরিশুদ্ধ বিশ্বাসী হতে না পারে; তাহলে আপনাদের মতো তাগুতের পদলেহীদের ঈমান কী করে এতো উত্তঙ্গে নিবাস করে? যারা এ যুগেও ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নজিরবিহীন উপমা স্থাপন করে; তাদের গালমন্দ করে ইহুদী-খ্রিষ্টানদের বাহবা। কুড়ানোই বুঝি খাটি তাওহীদ। ঠিক এর বিপরীত চিত্র আমরা দেখতে পাই যাদের মাতুরিদী, বেদআতী বলে নাক সিঁটকানো হত তাদের মধ্যে। আশ্চর্য! দেশীয় তাগুতদের সম্মুখে সত্য কথা বলতে যার আত্মা কাঁপে, সেখানে আল্লাহর আশ্চর্য সৃষ্টি তালেবানরা এ সকল পুঁচকি তাগুততো ছাই; বিশ্বমোড়ল আমেরিকার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বলে ওঠে-‘কখনোই আমরা একজন মুসলিমকে তোমাদের হাতে তুলে দিব না; আকাশ ভেঙ্গে পড়লেও না।’ সুবহানাল্লাহ! বলুন, এটাইকি প্রকৃত তাওহীদ নয়? যা আমাদের বুঝতে সহযোগিতা করে—কারা তাওহীদবাদী আর কারা ভাওতাবাজ! কারা মিল্লাতে ইবরাহীমের উপর অবিচল, আর কারা ‘বালআম বিন বাউরা’র আদর্শে অনুপ্রাণিত!, তাওহীদের এ যুগান্তকারী দরস শেষ হয়নি..! শায়েখ উসামা ও তার সহযোদ্ধাগণ আমাদের বিস্ময়করভাবে শেখালেন- তাওহীদের মর্মবাণী কীভাবে বক্ষে ধারণ করতে হয়; তার রঙে জীবনকে রাঙাতে হয়! বীর আহমদ হাযনভীর কথাই ধরুন না! তাকে তো ইমামই বলতে হয়।আল্লাহর পথে কীভাবে উৎসর্গ হতে হয় তা তিনি উম্মাহকে শেখালেন নিজে উৎসর্গীত হয়ে। কুরআনের বর্ণনার সাথে এঁদের কী চমৎকার মিল! আল্লাহ মুমিনদের অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন

مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عٰهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ ۖ فَمِنْهُم مَّن قَضٰى نَحْبَهُۥ وَمِنْهُم مَّن يَنتَظِرُ ۖ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا

“মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃতওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউতো মৃত্যুবরণ করেছে আর কেউ প্রতীক্ষায় আছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি। (সুরা আহযাব: ২৩)

আপনার অনুভূতি তখন কেমন হল, যখন আপনি আহমদ হাযনভী রহ. কে শুনলেন ৯/১১ এর মাস কয়েক পূর্বে আবেগমথিত হৃদয়ে, নির্ভিক চিত্তে বলছে—‘ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন!’ এরপর দেখলেন, তিনি আল্লাহর রাহে নিজেকে উৎসর্গ করে দিলেন। কুফরের গর্বের প্রতীক আকাশছোঁয়া ভবনগুলো ধূলোর ঢিবিতে পরিণত করার লক্ষ্যে উড়ে চললেন সাথীদের নিয়ে। এরচে' সততা ও তাওহীদ আর কী হতে পারে? আমরা তাদের ব্যাপারে এরূপ বিশ্বাসই রাখি; তবে আল্লাহই সর্বজ্ঞাত। হে আল্লাহ! আপনার মুজাহিদ বান্দারা নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে যাচ্ছেন; শুধু আপনার সন্তুষ্টি অর্জন ও আপনার প্রতি, আপনার রাসূলের প্রতি অগাধ বিশ্বাস থেকেই। হে আল্লাহ! আপনি তাদের প্রচেষ্টায় পূর্ণতা দিন, তাদের ওপর ধৈর্যের ছায়া বিস্তৃত করুন। তাদের ওপর স্বীয় করুণা বর্ষণ করুন। তাদের শত্রুদের ব্যর্থ করুন। ওদের ওপর আপনার অপ্রতিরোধ্য শাস্তি ও ক্রোধ বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! আমৃত্যু তাদের নূসরত করুন। আপনার ও তাদের শত্রুদের ধ্বংস নিশ্চিত করে তাদের আত্মাকে সুশীতল করুন। আমীন।

 আল বালাগ

ম্যাগাজিন ইস্যু-১