JustPaste.it

UM-8-nirapotta o dittobod

um8.jpg

 

নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধ

 

মুখতার

 

 

(উম্মাতুন ওয়াহিদাহ ম্যাগাজিনের ১ম সংখ্যা থেকে অনূদিত)

 

 

 

 

 

 

 

আল্লাহসুবহানাহুওয়াতায়ালাএরশাদকরেন,

 

وَقِفُوهُمْ إِنَّهُم مَّسْئُولُون

‘এবং তাদেরকে থামাও, তারা জিজ্ঞাসিত হবে’। [সুরা সাফফাত৩৭: ২৪]

 

ইমাম আলুসি বলেন,‘এই আয়াতের ব্যাপারে বলা হয়েছে -এতে এ বিষয়ে ইঙ্গিত রয়েছে যে, প্রতিটি স্থান অতিক্রমকারীকে সে স্থান সংশ্লিষ্ট জিজ্ঞাসার জবাব দেওয়ার জন্য থামতে হবে। ঐ স্থান সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। সে যদি সদুত্তর দিতে পারে, তবে তাকে সামনে চলার অনুমতি দেওয়া হবে। অন্যথায় দায়িত্ব পালনের আগ পর্যন্ত নিজ অবস্থায় তাকে আটকা পড়ে থাকতে হবে’।

তাফসীরে ইবনে কাসীরে এসেছে - এই আয়াত এবং এজাতীয় আরো যেসব আয়াত দায়িত্ববোধের অপরিহার্যতা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, সেগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে সহজেই বোঝা যায়, দায়িত্বজ্ঞান ও অনুভূতি বিদ্যমানথাকা দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সুদৃঢ় স্তম্ভ। এটি রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার সামনে দণ্ডায়মান হবার দিন, মুক্তি লাভের একটি মজবুত ভিত্তিহবে। হাবিবে মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব অনুভবের অনুশীলন করিয়েছেন।

তাই তো আমরা দেখতে পাই, ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই নিজের অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। পুরুষ ঘরের লোকদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল; তাকে তার অধীনস্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। নারীর দায়িত্ব স্বামীর ঘরের লোকদের ব্যাপারে; তাদের সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। ক্রীতদাস মনিবের সম্পদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল; এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে। অতএব হুঁশিয়ার! তোমরা প্রত্যেকেই নিজের অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে”।

সুহৃদ পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, দায়িত্ববোধের সঙ্গে নিরাপত্তার সম্পর্ক কী? এর জবাবে আল্লাহর তাওফিকে আমরা বলব- দায়িত্ববোধের সঙ্গে নিরাপত্তার সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ঠ যে, জিহাদি আন্দোলনগুলো ইতিপূর্বে যতগুলো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে এবং আজও হয়ে চলেছে, তার পেছনে সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো মুজাহিদদের একটি অংশের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। মুসলিমদের নিকট অতীতের ইতিহাস, যার ব্যাপ্তি প্রায় দুই দশক, তাতে নিরাপত্তামূলক যুদ্ধে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে এটাই প্রমাণিত হয়েছে। এটি স্পষ্ট বিষয় যে, সাধারণভাবে সামষ্টিক কার্যক্রম এবং বিশেষভাবে জিহাদী কার্যক্রম হচ্ছে- শক্তি ও দুর্বলতারভারসাম্যরক্ষাকরে পারস্পরিক সাহায্য ও একতার ভিত্তিতে সুশৃঙ্খল সুবিন্যস্ত কিছু পদক্ষেপ। এই পুরো চেইনের ভেতরে ছোট একটি অংশের মাঝে থাকা ত্রুটিও বাকি সব অংশের ওপর এক বিরাট প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আমরা একটি সরল দৃষ্টান্ত পেশ করতে চাই। এতে আসল চিত্র আমাদের সামনে ফুটে উঠবে ইনশাআল্লাহ। ধরে নেই, নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে একদল মুজাহিদ কাজ করেন। নানা বিভাগের অধীনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা নিয়োজিতআছেন। তাদের মাঝে প্রত্যেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট পরিষদ কর্তৃক প্রণীত জরুরী নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিগুলো পুরোপুরি অনুসরণ করে চলেন। বলাবাহুল্য, সেসব নীতি অনুসরণযোগ্য ও বাস্তবায়িত করার জন্য অনেক শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, মুজাহিদদের প্রাণের নিরাপত্তাএবং জিহাদী কার্যক্রমের চলমানতা নিশ্চিত করা। কিন্তু এই দলের ভেতরে এমন একজন সদস্য রয়েছে, যার মাঝে দায়িত্ববোধ নেই। নিরাপত্তার মূলনীতিগুলো লঙ্ঘন করতে সে পরোয়া করে না। অধিকাংশ সময় সে একটি মূলনীতিরও তোয়াক্কা করেনা। সে এমন এমন পন্থায় নিয়ম অমান্য করে যা মুজাহিদরা কখনও কল্পনাও করেনি।

এদিকে শত্রু তার জনবল, বস্তুতান্ত্রিক উপায়-উপকরণ ও টেকনোলজি ব্যবহার করে মুজাহিদদের জন্য ওঁত পেতে আছে। মুজাহিদদেরক্ষতি সাধনের জন্য,তাদের কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়ার জন্য, এমনকি তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য; যেকোনো প্রকার সুযোগের তারা সন্ধান করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ শূন্য ওই সদস্য এবং এ জাতীয় অন্যান্যরা যেন শত্রুর জন্য হারানো মানিক। একজন মুজাহিদ ও রিবাতের আমল পালনকারী হওয়া সত্ত্বেওএই সদস্য শত্রুর জন্য মোক্ষম একটি স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্র। শত্রু তাকে সুরক্ষা দিয়ে তার দ্বারা সর্বোচ্চ সুবিধা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সদস্যটি তখন শত্রুর হোয়াইট লিস্টে স্থান পায়। আর সেই লিস্টে নাম থাকা অন্যান্যদের মতোই ওই সদস্যকে টার্গেটে পরিণত করা শত্রুর কাছে নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হয়। এর কারণ হলো, এজাতীয় লোকগুলো শত্রুপক্ষকে এমন অসংখ্য অগণিত সেবা দিয়ে যাচ্ছে, শত্রু যা লাভ করার কথা স্বপ্নেও ভাবেনি।

সুপ্রিয় পাঠক! এমন মনে করার কোনো কারণ নেই যে, উপরের দৃষ্টান্তটি নিতান্তই কাল্পনিক। বরং এগুলো এমন বাস্তব ঘটনা যা বহুবার ঘটেছে এবং আজও ঘটে চলেছে। সেসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা ক্ষণজন্মা বহু নেতা ও শ্রেষ্ঠ সৈনিককে হারিয়েছি, যাদের কথা মনে হলেই অন্তর ব্যথিত হয়ে যায়। এগুলোর কারণে অসংখ্য সৃজনশীল নির্মাণ ও প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে; যেগুলোর পেছনে অনেক শ্রম ব্যয় হয়েছিল। অনেক ঘাম ঝরিয়ে যেসব কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছিল, এসব ঘটনায় এমন অনেক কাঠামো ধসে গেছে। যদি বলি, বহু ক্ষেত্রে এসব ঘটনার কারণে বিজয় বিলম্বিত হয়েছে, তাহলে অত্যুক্তি হবে না।

এ পর্যায়ে পাঠকদের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পত্রের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করা প্রাসঙ্গিক মনে করছি। বছর দশেক পূর্বে শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহর কাছে পত্রটি প্রেরণ করা হয়। সেখানে আমাদের এই আলোচ্য বিষয়টি আরও সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তাতে বলা হয়েছে-

“দায়িত্বের অনুভূতি না থাকাটা মুজাহিদকে, এমনকি শত্রুদের গুপ্তচরের চাইতেও ভয়ংকর চরিত্রে পরিণত করে।যেমনটা আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি এবং বিষয়টি কারো অজানা নয়। গুপ্তচরবৃত্তিতে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যের সমাবেশ ঘটানো। আর অত্র অঞ্চলে এমন এক তথ্য ভাণ্ডার রয়েছে যা কখনো শেষ হবার নয়। উপরোক্ত তথ্য ভাণ্ডার থেকে শত্রু অব্যাহতভাবে উপকৃত হয়েআসছে। আর তা হচ্ছে ওয়াজিরিস্তান অঞ্চল থেকে ফোনে অথবা ইন্টারনেটের সাহায্যে বাহিরে যোগাযোগ। এর চাইতে ভয়ানক বিষয় হলো, ময়দানে এমন কিছু সাথী রয়েছেন, যাদের সঙ্গে কাজ করা খুবই কঠিন। ফোনে অথবা ইন্টারনেটে কোনো কথা বলতে তারা ভয় পান না। যদি আমি বলি, এসব সাথী কখনো কখনো এমনকি গোয়েন্দাদের চাইতেও ভয়ানক চরিত্রে পরিণত হন; তবে এটা অত্যুক্তি হবে না।

যোগাযোগের ক্ষেত্রে অসতর্কতাকে যদিও অনেকেই টার্গেট বোম্বিংয়ের কার্যকারণ মনে করেন না, কিন্তু জিহাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি, আফগানিস্তান থেকে বের হওয়ার পর এখন পর্যন্ত আমাদের নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার পেছনে এটাই প্রধান কারণ”।

দায়িত্বের অনুভূতি না থাকা, উদাসীনতা ও বেপরোয়াভাব - জিহাদী আন্দোলনগুলোর টিকে থাকার পক্ষে এক বিরাট ঝুঁকি। আধুনিক জাহিলিয়াতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ানো ইসলামী দলগুলোর পতনের অন্যতম কারণ হলো এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। এতে করে বহু বছরের শ্রম, পরিশ্রম, কষ্ট ও রক্ত-ঘামের অপচয় ঘটে। অতএব, এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। বিষয়টি কোনমতেই অবহেলার নয়। বিজ্ঞ মুজাহিদ নেতৃবৃন্দের জন্য উচিত হলো, এই মরণব্যাধির প্রতিকারের জন্য সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এই বিষয়ে এগিয়ে আসা। আর তাই শরীয়তসম্মত সকল পন্থায় এবং প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিজাত সকল উপায় প্রয়োগ করে দায়িত্বজ্ঞানহীন সদস্যদেরকে নিবৃত্ত করা তাঁদের কর্তব্য। যদি এমন না করা হয় তবে তরী সকলকে নিয়ে ডুবে যাবে।

ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ তাঁর সহীহ গ্রন্থে একটি হাদিস সংকলন করেছেন। তিনি বলেন, “আবু নু'আইম আমাদের কাছে যাকারিয়া সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আমেরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নোমান ইবনে বশীর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি এরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত সীমারেখাসমূহ লঙ্ঘনকারী এবং তা লঙ্ঘিত হতে দেখেও নিঃস্পৃহতা অবলম্বনকারী, এই দুই ব্যক্তির উদাহরণ হলো- যেমন একদল লোক জাহাজে অবস্থানের ব্যাপারে লটারি করল। তাদের কতক লোক জাহাজের উপর তলায় আর কতক লোক নিচতলায় স্থান পেল। নীচতলার লোকেরা পানির জন্য উপরতলার লোকদের সামনে দিয়ে যাতায়াত করত। তখন নিচতলার লোকেরা চিন্তা করল, আমরা যদি আমাদের এখানে একটি ছিদ্র করে ফেলি তাহলে উপরতলার লোকেরা আর বিরক্ত হবে না। এই অবস্থায় উপর তলার লোকেরা যদি নিচতলার লোকদেরকে বাধা না দেয়; বরং তাদের ইচ্ছের ওপর ছেড়ে দেয় তবে জাহাজের সকলেই ধ্বংস হবে। আর যদি তারা বাধা প্রদান করে তবে জাহাজের সকলেই বেঁচে যাবে’।

 

**************