JustPaste.it

UM-9-dangser muke amiricar ortoniti

um9.jpg

ধ্বংসের মুখে আমেরিকান অর্থনীতি

(প্রথম পর্ব)

 

 

 মুহসিন রুমী

 

(উম্মাতুন ওয়াহিদাহ ম্যাগাজিনের ১ম সংখ্যা থেকে অনূদিত)

 

 

 

 

 

 

 

 

সম্প্রতি‘সিএনএন’ মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জে ১৯৮১ থেকে বর্তমান ২০১৯ সাল পর্যন্ত শেয়ার ও বন্ড মূল্যের উন্নতি নিয়ে একটি ‘অর্থনৈতিক সারসংক্ষেপ’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর শিরোনাম ছিল, ‘রিগ্যান থেকে ট্রাম্প; প্রেসিডেন্টদের শাসনামলে শেয়ার বাজারের স্বরূপ’। আমরা এই প্রবন্ধেসেই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ।

প্রতিবেদনটির শুরুতে প্রত্যেক প্রেসিডেন্টের শাসনামলে শেয়ার মূল্যের উন্নতির একটি গ্রাফ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন বিন্যস্ত করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট রিগ্যান থেকে শুরু করে প্রত্যেক প্রেসিডেন্টের শাসনামলের আলাদা আলাদা বিশ্লেষণ দিয়ে। তা ছিল এই-

রিগ্যানের শাসনামল:

এ সময় আমেরিকান শেয়ার সূচক ১১৮% এ উন্নীত হয়। শেয়ার সূচকের এইউন্নতিরকারণ ছিল - সামরিক খাতের অধিক ব্যয় সামাল দেবার জন্য ট্যাক্স কমানোএবং সুদের হার বৃদ্ধি করা। যার টার্গেট ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটানো। রিগ্যান এক্ষেত্রে সফলও হয়েছিল।

বুশ (সিনিয়র) এর শাসনামল:

বুশ (সিনিয়র) মাত্র একবার ক্ষমতায় ছিল। সে সময় আমেরিকান শেয়ার সূচক ৫০% এ উন্নীত হয়। এটা হয়েছিল সঞ্চয় সংকট, ঋণ ও উপসাগরীয় যুদ্ধগুলোর কারণে। ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের ফলে পেট্রোলের মূল্য দিগুণের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। আমেরিকান অর্থনীতির উন্নতির ধীরগতির কারণেই বুশ(সিনিয়র) দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হয়। তার উপর বিজয়ী হয়ে যায় ক্লিনটন।

ক্লিনটনের শাসনামল:

ক্লিনটনের শাসনামলে আমেরিকান শেয়ার সূচক২১০% এ উন্নীত হয়। এ বিশাল প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধান কারণ ছিল ইন্টারনেট ভিত্তিক অর্থনীতির উত্থান ও দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিক উন্নতি। এ সময় আমেরিকা তার আধুনিক ইতিহাসে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক দীর্ঘ ধাপ উপভোগ করে। যার ফলে দেশীয় উৎপাদন ৪% ছাড়িয়ে যায় এবং বেকারত্বের হার ৪% এ নেমে আসে। তেমনিভাবে ‘ন্যাসড্যাক[1]’সূচকও ১৯৯৩ ও ২০০০ সালের মাঝামাঝিতে সাত গুণ উন্নতি লাভ করে। এ অবিশ্বাস্য প্রবৃদ্ধির ফলে ব্যাপক সমৃদ্ধি অর্জন হয়। যদিও এই সমৃদ্ধির ভিত্তিমূল শক্ত নয়। যার ফলে এর অনেকগুলো অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

জর্জ ডব্লিউ বুশের (জুনিয়র) শাসনামল:

বিনিয়োগকারীরা বিরাট আশা রাখত কীর্তিমান পুরুষ জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রতি! তারা ধারণা করেছিল খুব শীঘ্রই সে আমেরিকান অর্থনীতিকে আপন শক্তিতে ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু তাদেরকে নিদারুণ আশাহত হতে হল। কারণ তার শাসনামলেই আমেরিকান শেয়ার সূচক চলমান শতাব্দীর আমেরিকান সরকারের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক পতনের মুখ দেখল। শেয়ার সূচক ৪০% এর নিচে নেমে আসলো। কারণ বুশ ইন্টারনেট শিল্পের অসাড় ফলগুলোর উত্তরাধিকার লাভ করেছিল, যার কারণে ২০০১ সালে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। তারপর ১১-ই সেপ্টেম্বরের ঘটনা ঘটল। যা এই পতনকে আরও গভীরতর করল।

তবে বুশ, ২০০৪ ও ২০০৫ সালে প্রবৃদ্ধি শক্তি অর্জন করেছিল।যার কারণ ছিল আংশিকভাবে কম সুদের হার এবং আবাসন শিল্পের উত্থান। কিন্তু খুব শীঘ্রই এই অবস্থার পরিবর্তনহল। এর কারণে প্রজন্মের সেরা অর্থনৈতিক ট্র্যাজেডি ও অচলাবস্থা সৃষ্টি হল। বুশের চার বছর শাসনামলের শেষ বছরে দেশীয় সামগ্রিক উৎপাদন বাৎসরিক হার হিসাবে ৮.৪% এ নেমে আসল। দ্রুত বেকারত্ব বাড়তে লাগল। ২০০৮ সালে আমেরিকান শেয়ার সূচক ৩৮% নিচে নেমে আসল। মহা মন্দার সময়গুলোর মধ্যে এ বছরই ছিল সবচেয়ে খারাপ বছর।

ওবামার শাসনামল:

ওবামার শাসনামলের প্রথম কয়েক মাস ‘ভোল স্টেট’এর পতন অব্যাহত ছিল। আর্থিকশিল্প ও যন্ত্রশিল্প একেবারে ধ্বংসের কিনারায় এসে উপনীত হয়েছিল, যতক্ষণ না উত্তরণের কতগুলো সরকারী পদক্ষেপ তাকে উদ্ধার করল। ২০০৯ সালে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ মাত্রায় গিয়ে ১০% এ পৌঁছল।

মার্চ ২০০৯ এ শেয়ার বাজার সর্বনিম্ন স্তরে গিয়ে পৌঁছল। কিন্তু তারপর অর্থনীতি ধীরে ধীরে ভালো হতে লাগল এবং সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে চলতে লাগল, যা অচিরেই আমেরিকান ইতিহাসে দীর্ঘ ঊর্ধ্বগামী অর্থবাজারে পরিণত হবে।ভয়ংকর অচলাবস্থার গভীর থেকে উঠার পদক্ষেপগুলো ছিল দীর্ঘ ও মন্থর গতির। কারণ ওবামার শাসনামলে দেশীয় সামগ্রিক উৎপাদন বছরে ৩% কে অতিক্রম করতে পারেনি।

অর্থনীতিকে উদ্দীপিত করার আশায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অর্থব্যবস্থায় সহজ অর্থসমূহকে তরল করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে, যা আমেরিকান শেয়ার সূচককে তিনগুণ উঠে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু এর সাথে সাথেই এটি আমেরিকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির অনুপাতে সম্পদের সম-বণ্টন নিশ্চিত করা ব্যাহত করে।

ট্রাম্পের শাসনামল:

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে শেয়ারবাজারে তীব্র উত্থান ঘটেছিল। কারণ শুল্কহ্রাস, প্রাতিষ্ঠানিক বিধি-নিষেধ দূরীকরণ ও ভৌত অবকাঠামোতে ব্যয়ের বিশেষ কাজসমূহের জন্য পরিচালিত বিলিয়নিয়ার প্ল্যানটি ‘ডাউ জোন্স’সূচককে অনেক ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়েছিল। যেখানে ২০১৬ সালে নির্বাচনের দিন তা ১৮,৩৩২ পয়েন্ট ছিল, সেখানে ২০১৭ সালের মার্চ নাগাদ তা ২১,০০০ পয়েন্টে উন্নীত হয়। প্রবৃদ্ধি ৪% এর চেয়েও অধিক হয়ে গেল এবং তা দ্রুত অগ্রসর হতে লাগল।শেয়ারমূল্য বেড়ে গেল এবং বেকারত্বের হার ৩.৭% এ নেমে আসলো। কিন্তু ট্রাম্পেরই প্রজ্বলিত বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে ও শুল্কহ্রাসের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে তার অর্থনৈতিক যুদ্ধ; শক্তি হারালো এবং ২০১৮ সালে আমেরিকান শেয়ার সূচক দশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মন্দ অবস্থা প্রত্যক্ষ করল।

‘সি এন এন’ এর প্রবন্ধে উঠে আসা এই বিবরণের পর আমরা বলতে পারি, আমরা শুরুতে যে চিত্রলিখন দিয়ে এই প্রবন্ধ শুরু করলাম, তার প্রতি সামান্য দৃষ্টি দিলেই অর্থনীতির ব্যাপারে বিজ্ঞ-অজ্ঞ যে কারো নিকট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে আমেরিকান অর্থনীতির গভীর অধঃপতনের বিষয়টি লক্ষণীয় হবে। কারণ আমেরিকান শেয়ার সূচক ৪০% নেমে আসে, যা আমেরিকার ইতিহাসে মারাত্মক ট্র্যাজেডি।

আমেরিকা যে ধ্বংসাত্মক ফলাফলগুলোর সম্মুখীন হয়েছে একমাত্র আল্লাহর তাওফিকে ১১ই সেপ্টেম্বরের মোবারক হামলাগুলোর কারণেই তা হয়েছে। শেয়ার বাজারের এই ঘটনা তা-ই প্রমাণ করে। তাই, ক্রুসেডার আমেরিকা যে অর্থনৈতিক রক্তক্ষরণের সম্মুখীন হয়েছে, তার বড় কারণ ছিল মুসলিমদের সাথে দু’টি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া।

তেমনিভাবে এই চিত্রলিখন সুদৃঢ়ভাবে এটাও প্রমাণ করে যে, ৯/১১ এর পরের আমেরিকা এই বরকতময় দিনের পূর্বের আমেরিকা থেকে ভিন্ন। গত দুই দশকে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, অর্থনীতি বিশ্লেষকগণ সর্বদাই ৯/১১ হামলার অর্থনৈতিক ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ করা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু তারা মাঝে মাঝে লজ্জা ও সংকোচের সাথে এটা স্বীকার করতে বাধ্য হয়, যা এই প্রতিবেদনে এমন কতগুলো বর্ণের মাধ্যমে উঠে এসেছে, যার পরতে পরতে ছিল বেদনা। প্রবন্ধ লেখক পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছে যে, ৯/১১ এর ঘটনা আমেরিকান অর্থনৈতিক পতনকে গভীরতর করে। তাই সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহরই।

সম্ভবত এখানে আমেরিকান কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্য জাদ গ্রেগের(Judd Gregg)[2] বক্তব্যটি তুলে ধরা সমীচীন হবে।উক্ত বক্তব্যে সে একেবারে প্রকাশ্যে স্পষ্ট করে বলেছে যে, বুশের সময়ে আমেরিকান অর্থনীতির ধ্বংসাত্মক ট্র্যাজেডির প্রধান কারণ ছিল; ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও পেনসিলভানিয়া মোবারক হামলাসমূহ। তার বক্তব্যটি নিম্নরূপ:

‘আমরা আসলে শুল্কহ্রাসের কারণে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি হারায়নি। আমরা তা হারিয়েছিলাম ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলা ও অর্থনীতির উপর তার বিরাট প্রভাবের কারণে। আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে যে, ১১ই সেপ্টেম্বর আমাদের জাতির জন্য একটি দুর্ভাগ্যজনক ট্র্যাজেডি। এটি একাধিক দিক থেকে আমাদের জাতির শৃঙ্খলা ধ্বংস করে দিয়েছে। এ শৃঙ্খলা ধ্বংসের একটি বড় নিদর্শন হল, আমরা গভীর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছি’।

হয়ত আমার সাথে পাঠকগণ লক্ষ্য করে থাকবেন যে, ‘সিএনএন’ এর প্রতিবেদন লেখক ও কংগ্রেস সদস্য উভয়ে ১১ই সেপ্টেম্বরের অভিযানগুলোর গভীর প্রভাবের ব্যাপারে একমত হয়েছে। যার অর্থই হল অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব!

প্রবন্ধ লেখকের প্রধান লক্ষ্য ছিল ওবামার অবদানগুলো প্রচার করা এই বলে যে, তার পদক্ষেপগুলোই আমেরিকান অর্থনীতিকে গভীর দুর্দশা থেকে উদ্ধার করেছে আর ট্রাম্পের অর্থনৈতিক অবদানগুলো কম করে দেখানো। এটা হল ২০২০ সালের নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রাথমিক হামলা। কিন্তু এই প্রতিবেদনটি খুব গুরুত্বের সাথে ‘একটি বিষয়ে’ নাম্বার ও সংখ্যা উল্লেখ করা ব্যতীত সতর্কভাবে ইঙ্গিত দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। তা হল, ওবামার অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর জন্য রক্তচোষা মূল্য পরিশোধ করা। কারণ ওবামা প্রশাসন কয়েকটি বড় বড় কোম্পানিকে উদ্ধার করার জন্য আমেরিকান অর্থনীতিতে তারল্য হিসাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ প্রদান করেছিল।

ওবামা তার এক ভাষণে উক্ত পদক্ষেপের যথার্থতা বুঝাতে গিয়ে বলে, “আমরা এমন এক অর্থনৈতিক দুর্যোগের উত্তরাধিকারী হয়েছি, যার দৃষ্টান্ত আমরা ইতিপূর্বে কখনো দেখিনি। এটা এমন দুর্যোগ, যা পূঁজিবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং অর্থব্যবস্থা ও মোটরযান খাত উদ্ধারের জন্য নতুন নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। আমাদেরকে বাধ্য করেছে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর বিরাট পরিমাণ শেয়ারের মালিক হতে। কারণ সহজ! আমরা চাই ওই সকল কোম্পানিগুলোকে চালু রাখতে। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি এগুলোর উপর নির্ভরশীল”

আসলে এই ব্যবস্থাগুলোর ফলে মার্কিন ঋণের পরিমাণ ভয়ংকর ও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখানে আমি বিগত ত্রিশ বছরে আমেরিকান সাধারণ ঋণের ভয়ংকর বৃদ্ধির চিত্রলিখনটি প্রদান করছি। বিশেষ করে ৯/১১ এর পরে এবং ওবামার দুই সময়ের শাসনামলে,

(চিত্র লিখন)

চিত্রলিখনটির প্রতি স্বল্প দৃষ্টি দিলেই আপনার নিকট ৯/১১ এর পরে আমেরিকার সাধারণ ঋণ বৃদ্ধির অবস্থাটি স্পষ্ট হয়ে যাবে। মার্কিন ঋণ ২০১৮ সালে ৫.৮ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ২৩ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

আর আমরা যদি ৯/১১ এর পূর্বের সাধারণ ঋণ ও এর পরের সাধারণ ঋণের তুলনা করতে চাই, তাহলে দেখতে পাব, ৯/১১ এর দশ বছর পূর্বে তা ২.৫ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল, সেখানে ৯/১১ এর পরের দশ বছরে প্রায় ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় চার গুণ বেশি। আর ওবামার ৮ বছরের শাসনামলেও তুলনামূলক ঊর্ধ্বগতি ছিল। কারণ তখন ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

এটাই আমেরিকান অর্থনীতির কৃত্রিম ভালো অবস্থার ব্যাখ্যা। এটা হল ঋণের বিশাল ঊর্ধ্বগতির মোকাবেলায় প্রবৃদ্ধির দৃশ্যমান অগ্রগতি। প্রকৃত অর্থনীতির দৃষ্টিতে এটা দেউলিয়া অবস্থা, যা ধ্বংসাত্মক প্রকৃতিদেখানোর জন্য যেকোনো একটি ঝাঁকুনির অপেক্ষায় আছে। যেমনটা অধিকাংশ অর্থনীতি বিশেষজ্ঞগণের আশঙ্কা। আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, এমনটাই যেন হয়।

নিশ্চয়ই সুদ ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা নিজের অভ্যন্তরেই ধ্বংসের উপাদান বহন করে। মুজাহিদগণের শুধু নিজেদের সামর্থ্য ব্যয় করা প্রয়োজন, যেন সুদ ও এর ভোক্তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর তরফ থেকে যুদ্ধ ঘোষণার উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়।

فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ

“তবে আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও”।

উস্তাদ সায়্যিদ কুতুব রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সুদের কুফলের নমুনা হল– সেইঅর্থব্যবস্থাবৃদ্ধি লাভ করে, কিন্তু সমহারে ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি লাভ করে না, যার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির কল্যাণ ও সুফলগুলো সমস্ত মানবজাতির মাঝে বণ্টিত হত। বরং তা ব্যাংকগুলোর বিশাল বিশাল অফিসের নিচে বিশ্রামরত বিনিয়োগকারী ও সুদি মহাজনদের মুষ্টির ভিতরে থেকে বৃদ্ধি লাভ করে, যারা শিল্প ও ব্যবসা খাতে নির্দিষ্ট সুদের জামানতে ঋণ দিয়ে শিল্প ও ব্যবসাকে এমন নির্দিষ্ট পথে হাটতে বাধ্য করে।এইব্যবস্থার প্রথম লক্ষ্য ‘জনস্বার্থ ও প্রয়োজন পূরণ’ নয়। অথচকথাছিলযে, এর মাধ্যমে সকল মানুষ সুখী হবে এবং সকলের জন্য সুশৃঙ্খল কর্মসংস্থান ও নিশ্চিত জীবিকার ব্যবস্থা হবে। এইব্যবস্থা সকলের মানসিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করারকথাছিল। বর্তমানেতার লক্ষ্য হল, সর্বোচ্চ পরিমাণ লাভ করা। চাই তা লাখ লাখ মানুষকে ধ্বংস করে দিক কিংবা লাখ লাখমানুষকে বঞ্চিত করুক কিংবা লাখ লাখের জীবন নষ্ট করে দিক। এইব্যবস্থাসমস্ত মানবজাতির জীবনে সন্দেহ, অস্থিরতা ও ভয় সৃষ্টি করে দিচ্ছে”।

মহান আল্লাহ আল্লাহ সত্য বলেছেন,

الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ

“যারা সুদ খায় (কিয়ামতের দিন)তারা সেই ব্যক্তির মত উঠবে, শয়তান যাকে স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দিয়েছে”।

আমরা আমাদের বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই তত্ত্বের বাস্তবতা দেখছি।

শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহছিলেন প্রথম স্তরের একজন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ও কীর্তিমান পরিবারের অন্তর্গত। একারণে তিনি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন কোন দিক থেকে আমেরিকার কাঁধে চড়া যায়। তাই তিনি আল্লাহর তাওফিকে ও নিজ সাথীদের সহযোগিতায় আমেরিকাকে তার শক্তির গুরুত্বপূর্ণ দু’টি স্থানে আঘাত হানলেন। একটি হল; আন্তর্জাতিক অর্থনীতিরকেন্দ্রটুইনটাওয়ার।এটি আমেরিকান অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং এর মধ্যে অধিকাংশ আমেরিকান বড় বড় কোম্পানি ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অফিস অবস্থিতছিল।আর দ্বিতীয় স্থানটি হল, আমেরিকান শক্তির কেন্দ্রবিন্দু পেন্টাগন। তারপর আমেরিকাকে দু’টি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে টেনে আনেন, যে দু’টির চোরাবালিতে এখনো আমেরিকা ডুবন্ত।

শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহ, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন হামলাসমূহের পর সব সময় অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। নিহতের সংখ্যার প্রতি বেশি মনোযোগ দিতেন না। কিন্তু তার কতক সাথীর অবস্থা ছিল ভিন্ন। তারা শুধু অভিযানে নিহতের সংখ্যা জানতে চাইতেন।

নিশ্চয়ই মুজাহিদগণ আমেরিকার সাথে চলমান যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পেরেছিলেন। তাই, তারা তাদের সুদৃঢ় টার্গেটের মধ্যে রাখেন আমেরিকান অর্থনীতিকে, যার মাধ্যমে আমেরিকা সারা বিশ্বে তার সামরিক কর্তৃত্ব বজায় রাখে।

তাই এ প্রসঙ্গে আমরা সাধারণভাবে সমস্ত মুসলিমদেরকে, বিশেষত; প্রতিভাবান ও বিশেষ নির্বাচিতদেরকে আহবান জানাই, আপনারা সকলে আপন আপন স্থান থেকে নিজেদের সময় ও চিন্তা ব্যয় করে আমেরিকান অর্থনীতির নতুন নতুন ছিদ্রপথগুলো অনুসন্ধান ও আবিষ্কার করুন, যা শায়খ উসামা রহিমাহুল্লাহ সূচনা করে গেছেন, যেন তাকে পূর্ণতা দেওয়া যায়। আশা করি, আমরা আগামী সংখ্যায় এ বিষয়েনতুন কিছু দিগন্ত উন্মোচন করবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহই একমাত্র তাওফিক দাতা।

চলবে ইনশা আল্লাহ...

 

**************

 

[1]ন্যাসড্যাকস্টকমার্কেটহলএকটিমার্কিনশেয়ারবাজারন্যাসড্যাকএরপূর্ণরূপন্যাশনালএ্যাসোসিয়েশনঅফসিকিউরিটিডিলারস্অটোমেটেডকোটেশনস', তবেপ্রতিষ্ঠানটিএইপূর্ণনামেরচাইতেনামেরআদ্যাক্ষরইবেশিব্যবহারকরেথাকে

[2]নিউ হ্যাম্পশায়ার প্রদেশের রিপাবলিকান গভর্নর।