JustPaste.it

বিশ্বব্যাপী মুজাহিদদের তৎপরতা

===================================================================

 

সারায়েভােয় সার্বদের মর্টার হামলায় ৬৭ জন নিহত

        বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভাের এক জনবহুল বাজারে সার্বদের মর্টারের একটি গােলা এসে পড়লে ঘটনাস্থলে ৬৭ জন মুসলমান শহীদ হন। আহত হয় আরও তিনশ জন। ঘটনার পর এলাকা রক্তে ভেসে যায়। চারিদিকে বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে লাশ আর লাশ। কোন লাশের হাত আছে তাে পা খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন মর্মান্তিক অবস্থা। চারিদিকে দোকানপাটের ধ্বংসস্তুপ, উদ্ধারকর্মীদের ছােটাছুটি, আহত-নিহতদের বিলাপ সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ শােকের ছায়া নেমে আসে। এ ঘটনার একদিন আগে মুসলমানরা লাইন ধরে। ত্রাণ সামগ্রী নেয়ার সময় লাইনে একটি মর্টার সেল এসে পড়লে তাতেও ১০ জন মুসলমান শহীদ হন।

 

মসজিদে ইব্রাহিমে (আঃ) সেজদারত অবস্থায় মুসুল্লীদের ওপর ইহুদীদের গুলিতে ৬৩ জন মুসলমান শহীদ

         ইসরাঈল অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে উগ্র ইহুদীরা মসজিদে ইব্রাহিম (আঃ)-এ ফজরের নামাজের সময় যখন মুসল্লীরা সেজদারত ছিলেন তখন গুলী চালালে ৬৩ জন ফিলিস্তিনী মুসলমান ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনশয়েরও বেশী মুসল্লীকে হাসপাতালে নেয়া হয়। আহতদের রক্ত দেয়ার জন্য, ফিলিস্তিনীরা হাসপাতালে ছুটে গেলে ইসরাঈলী সৈন্যরা লাইনের ওপর গুলী ছুড়ে তাতেও নিহত হন তিনজন। ঘটনার পূর্বের দিন রাতে মসজিদে নামাজ পড়ার অধিকার নিয়ে মুসলমানদের সাথে ইহুদীদের তর্ক ঐ দিন ফজরের নামাজের সময় যখন প্রায় ৮০০ মুসল্লী নামাজ আদায় করছিলেন ঠিক তখনই ২০/২৫ জনের একটি উগ্র ইহুদীদের দল স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, পিস্তল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার নায়ক ছিল বসতি স্থাপনকারী একজন মার্কিন ইহুদী এবং ইসরাঈলী সেনাবাহিনীর রিজার্ভ বাহিনীর অফিসার। পেশায় ডাক্তার, নাম বারুখ গােল্ডস্টেইন।

 

        এক পর্যায়ে তার গুলী ফুরিয়ে গেলে ক্রুদ্ধ মুসল্লীরা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এ ঘটনায় ফিলিস্তিনীরা ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। তারা রাস্তায় রাস্তায় সেনা ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সৈন্যদের গুলীতে নিহত হন আরও প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী। বিভিন্ন গেরিলা গ্রুপ এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশােধ গ্রহণের শপথ ব্যক্ত করে। ইসলামী প্রতিরােধ আন্দোলন (হামাস) গত ৭ ই মার্চ এ ঘটনার প্রতিশােধ স্বরূপ এক চরমপত্রে অধিকৃত এলাকায় বসতি স্থাপনকারী সকল ইহুদীদের এক সপ্তাহের মধ্যে অধিকৃত এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। প্রচারপত্রে বলা হয় ১৫ ই মার্চের মধ্যে তারা (ইহুদীরা) এলাকা ত্যাগ না করলে তাদের ঘুম হারাম করে দেয়া হবে।

 

আলজেরিয়ায় দুইজন ইসলামপন্থী নেতার মুক্তিলাভ

        আলজেরীয় সরকার ২৪ শে ফেব্রুয়ারী নিষিদ্ধ ঘােষিত ইসলামী সালভেশন ফ্রন্টের দুজন কারারুদ্ধ নেতাকে মুক্তি দিয়েছে। এরা হচ্ছেন আলী ডিজ্জেদ্দী ও আব্দুল কাদের বুখারাঘাম। রাজধানী আলজিয়াসের ৫০ কিঃ মিঃ দক্ষিণে অবস্থিত সামরিক কারাগার ব্লিদা থেকে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। ১৯৯১-এর জুনে তাদের আটক করা হয় এবং বিভিন্ন নাশকতামূলক অভিযােগ এনে তার চার বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

 

জর্ডানে ২৩ জন আফগান মুজাহিদের বিচার হচ্ছে

         জর্ডানে বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযােগ এনে ২৩ জন আফগান মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। দীর্ঘদিন আফগান জিহাদে কাটিয়ে এরা দেশে ফিরলে জর্ডান সরকার ইসলামী আন্দোলন ঠেকানাের জন্য তাদের গ্রেফতার করে।

 

কাশ্মীরীরা ভারতীয় পণ্য বর্জন করছে

        (নয়া দিল্লী) বিগত চার বছর যাবত ভারতীয় ফৌজ অধিকৃত কাশ্মীরে চরম ভাবে মানবাধিকার লুণ্ঠন করে চলছে। ২০ শে জানুয়ারী ১৯৯০ সনে গভর্নর জগমােহন অধিকৃত কাশ্মীরের প্রাদেশিক সরকার ভেঙ্গে দেয়। তখন সে দাবীও করেছিল যে, কাশ্মীরী জনগণের জিহাদী জযবাকে সে কঠোরভাবে দমন করবে, কিন্তু তার এ দাবী আর বাস্তব রূপ নিলনা। এ দাবী করার পর হতে স্বয়ং জগমােহন তার পরের গভর্নর গিরীশ সাক্সেনা ও বর্তমান গভর্নর জেনারেল পি কৃষ্ণরাও সহ সবাই পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়।

 

        বরং এ চার বছরে আযাদীর লড়াই আরাে সুগঠিত ও সংগবদ্ধ হয়। এছাড়াও, ইসলামী বিশ্ব বিশেষত পাকিস্তান এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে সমর্থন করে যাচ্ছে। ভারতের সরকার পন্থী দৈনিক ‘ দি হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক খবরে প্রকাশ কেন্দ্রীয় সরকারের দখলদারী অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতিতে আরা ঘােলাটে করে দিয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই কঠিন হবে। কারণ, হাওয়াল, ছােট বাজার, বিচ বাহার ও অনন্ত নাগ এলাকা সমূহে ভারতীয় ফৌজের নিপীড়ন এখনও তারা ভুলেনি। দি টাইমস আরাে লিখেছে যে, ভারতীয় পণ্যের প্রতি কাশ্মীরীদের ঘৃণা প্রবল এটা এখন পণ্য বর্জন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তাই তারা ভারতকে নিজ পলিসি পুনঃবিবেচনা করে দেখতে উপদেশ দিয়েছে।

 

সিয়াচেন ও অধিকৃত কাশ্মীর হতে পলায়নকারী ভারতীয় সেনাদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে

        ইসলামাবাদ (পি.টি.আই) সিয়াচেন, জম্মু-কাশ্মীর ও অন্যান্য অঞ্চল যেখানে বিরূপ আবহাওয়াসহ সর্বদা মৃত্যুর ঘন্টা ধ্বনী বাজছে, ভারতীয় সেনারা সেসব অঞ্চলে যেতে অত্যন্ত সংকিত। ভারতীয় সংবাদ মােতাবেক অত্র অঞ্চলে নিয়ােগকৃত ফৌজি ইউনিটগুলােতে পলায়নকারীর হার শতকরা ১৫ থেকে ২০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

        এমনকি উচ্চপদস্থ সেনা অফিসাররাও সেখানে অবস্থান থেকে প্রকাশ্যভাবে বেঁচে থাকতে চাইছে। এ অনীহার কারণ হলাে যে, উক্ত অঞ্চলে নিয়ােজিতদের অতিরিক্ত কোন বেতন-বােনাস দেয়া হয়না। এমনকি সৈন্যরা উক্ত এলাকায় স্বাধীনতাকামীদের কাছেও অস্ত্র পাচার করছে। এ অপরাধে সম্প্রতি চারজন সেনা অফিসারকে গ্রেফতার করা হয়।

 

ফ্রান্সে কাপড়ের নকশায় কোরআনের আয়াত

        জেদ্দা (এন, এন, আই) ফ্যাশনের নামে ফ্রান্সে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পরিণতিতে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সউদী গেজেট এর রিপাের্ট অনুযায়ী প্যারিসের এক নামকরা প্রতিষ্ঠান ‘চ্যানেল ফ্যাশন হাউজ’ তাদের এক বস্ত্রের প্রদর্শনীতে বস্ত্র গুলিতে কোরআনের আয়াতের নকশা ব্যবহার করে। মডেলের গায়ে কালাে রংয়ের স্কার্ট পরা ছিল যার বুক ও কোমরের অংশে সুতীর দ্বারা কুরআনের আয়াতের নকশা করা ছিল। ভারতীয় এক বইতে মডেল গার্ল সহ উক্ত পােষাকের ছবি ছাপা হয়। যার প্রচারে মুসলমানরা প্রচণ্ড বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

 

মিসরে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপারেশন

        কায়রাে (পি. টি. আই) সম্প্রতি মিসরে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপারেশন কালে ১৪ দিনে সমস্ত মিসরে ৩ শত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রকাশ থাকে যে দু'বছর যাবত সশস্ত্র মিশরীয় ফৌজ কায়রােতে ২৪০ জন মুজাহিদকে গ্রেফতার করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হাসান আলী মােস্তফার নির্দেশে ২৫০ জন মুজাহিদকে শহীদ করা হয়।

 

গ্রন্থনায়ঃ ফারুক হােসাইন, আসাদ উল্লাহ

 

 

═──────────────═