ইয়েমেনের হাযরামাউত প্রদেশের রাজধানী মুকাল্লা শহরে আল-কায়েদার শাখা AQAP’র শরী’আহ কায়েম এবং আইএসের জঘন্য মিথ্যাচারের স্বরুপ................

 

আল-কায়েদার শাখা AQAP ইয়েমেনের হাযরামাউত প্রদেশের রাজধানী মুকাল্লা শহরে যে শাসন কায়েম করেছিলো ! দেখুনতো এটি ইসলামী শাসন হয় কি না !! ইরাক-সিরিয়ায় থাকা তাকফীরী দল আইএস/দাওলার দাবী আল-কায়েদা নাকি মুকাল্লায় শরী’আহ কায়েম করেনি !!!

 

আইএস/দাওলা তাদের অফিসিয়াল ম্যাগাজিন দাবিক্ব-১০ এর ৬৭ পৃষ্ঠায় প্রায় ১ বছর আল-কায়েদার মুজাহিদদের নিয়ন্ত্রণে থাকা মুকাল্লা শহরের ছবি দিয়ে তাতে লিখেছে, "The City of Al-Mukalla in Yemen, where al-Qāi’dah made no effort to implement the Sharī’ah after taking over অর্থাৎ ইয়েমেনের মুকাল্লা, আল-কায়েদা দখল করার পর যেখানে শরী’আহ কায়েমের কোনো চেষ্টা করেনি।”

(আল-কায়েদা মুকাল্লা থেকে কৌশলগত কারণে সরে যাওয়ার পর উক্ত শহরের অধিবাসীদের মুখের বক্তব্য থেকে...... AFP অবলম্বনে)

১। AQAP মুকাল্লা শহরে শরী’আহ পুলিশ বাহিনী গঠন করে কঠোর ইসলামী শাসন কায়েম করেছিলো।

২। AQAP নারীদেরকে আপাদমস্তক ঢেকে রাখার পর্দার বিধান বাস্তবায়ন করেছিলো এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ করেছিলো।

৩। মুজাহিদরা মুকাল্লায় সব ধরণের হারাম গাণ-বাজনা নিষিদ্ধ করেছিলো এবং গাণ ও সিনেমার সিডি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিলো ।

৪। এমনকি বিয়েতে পর্যন্ত নাচ-গান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলো।

৫। আল-কায়েদার মুজাহিদরা মুকাল্লার মাজার ও স্মৃতিস্তম্ভগুলোকে গুড়িয়ে দিয়েছিলো,যা বিদ’আতীদেরকে ক্ষুব্ধ করেছিলো। 

৬। AQAP এর শরী’আহ পুলিশ বাহিনী মুকাল্লা শহরে একসাথে চলাফেরা করা নারী-পুরুষের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলো।

৭। শরী’আহর বিধান লংঘনকারীদেরকে পাকড়াও করা হতো এবং প্রায়শঃই প্রকাশ্যে শাস্তি দেয়া হতো।

৮। গত ৪ জানুয়ারি ব্যাভিচার করার কারণে একজন  (বিবাহিতা) নারীকে পাথর  নিক্ষেপের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো মুজাহিদরা ।

৯। আল-কায়েদা মুকাল্লায় উপরোক্ত কঠোর শাসন  কায়েম করা সত্ত্বেও পানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করেছিলো।

উপরোক্ত বক্তব্য সম্বলিত নিউজের লিংক...... https://www.yahoo.com/news/relief-yemens-mukalla-qaeda-rule-112438019.html 

http://www.dailymail.co.uk/wires/afp/article-3573023/Relief-Yemens-Mukalla-year-Qaeda-rule.html

 

উপরোক্ত কাজগুলোর মাধ্যমে যদি  শরী’আহ কায়েম না হয়ে থাকে,তাহলে আইএস এবং তার সমর্থকদের কাছে আমার প্রশ্ন, শরী’আহ কায়েম বলতে কী বুঝায় ??

 

বিস্ময়ের বিষয় কী জানেন ! আল-কায়েদার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাতে দাবিক্বের উক্ত আর্টিকেলে “নিউইয়র্ক টাইমস” পত্রিকার বক্তব্য উল্লেখ করেছে ! মুসলিমদের বিরুদ্ধে কুফফার মিডিয়ার বক্তব্য !! ইন্না লিল্লাহ !

 

কোন সে শরী’আহ দাওলাহ তার এলাকায় কায়েম করেছে এটাও জানতে চাই !!

আর আল্লাহর শরী’আকে শরী’আহ কায়েম নয় বলার মাধ্যমে আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করা হয় কি না !! আর ইসলামে আল্লাহর বিধানকে অস্বীকার করার হুকুম কী তাও জানা দরকার !!!

 

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে আল-কায়েদার মুজাহিদরা হাজরামাউত প্রদেশের রাজধানী গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। প্রায় ১ বছর নিয়ন্ত্রণে রাখার পর গত কয়েকদিন আগে(২০১৬ সালের এপ্রিলের শেষের দিকে) ত্বগুত সউদি আরব এবং তার ত্বগুত মিত্রদের নির্বিচার বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে তুমুল লড়াইয়ের পর মুজাহিদরা সামরিক কৌশলগত কারণে শহরটি ছেড়ে দেন।

 

আইএস নামক দলটি তাদের নিজেদের দলের সমর্থক ছাড়া দুনিয়ার সকল মুজাহিদদেরকে তাকফীর করে থাকে। আল-কায়েদার অধীনে শরী’আহর বিধান দিয়ে পরিচালিত মুকাল্লা শহর নিয়ে তাদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার প্রমাণ করে,তারা আল্লাহর শরী’আহ দিয়ে কোনো কিছু বিচার করে না বরং তাদের ভ্রান্ত দলীয় মতবাদ দিয়ে বিচার করে, ইন্নালিল্লাহ।

 আশা করি সকলেই হক্বকে মেনে নিবেন এবং বাতিলকে পরিত্যাগ করবেন।

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সর্বদা সত্যের উপর অটল থাকার তাউফীক্ব দান করুন।

 

বিঃদ্রঃ  জিহাদ ও আইএস সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু লেখা পড়তে মূল পেইজে যেতে পারেন। 

লিংক....   https://justpaste.it/Abdullah_Hasan