JustPaste.it

বিশ্বব্যাপী মুজাহিদদের তৎপরতা ও মুসলিম বিশ্ব সংবাদ

 

তালেবান সরকারের গভর্নর মোল্লা মুহাম্মাদ হাসান রাহমানির

ঐতিহাসিক ও বীরোচিত সিদ্ধান্তঃ গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি নাকচঃ

আমলাদের বহিষ্কারের নির্দেশ

আফগানিস্তানের কান্দাহার  প্রদেশের গভর্ণর তার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে তথাকথিত উন্নয়ন সংস্থা 'গ্রামীণ ব্যংকের’ সঙ্গে কৃত সকল চুক্তি বাতিল করেন এবং সংস্থার আমলাদেরকে দেশ ত্যাগ করার আদেশ জারী করেছেন। জানা গেছে, তালেবানের একটি গোয়েন্দা সংস্থার নির্ভরযোগ্য রিপোর্টের ভিত্তিতে গভর্নর এই যুগান্তকারী ও বীরোচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, 'গ্রামীণ ব্যাংক' মূলতঃ খৃষ্টান মিশনারী তৎপরতার অর্থনৈতিক অঙ্গ। এই সংস্থাকে আমেরিকা কানাডা ও বৃটেন সহ আরো বেশ কয়েকটি পশ্চিমা রাষ্ট্র ফান্ড সরবরাহ করে থাকে। তালেবানের গোয়েন্দা গ্রুপের রিপোর্ট মোতাবেক এ সংস্থার উদ্দেশ্য প্রথমতঃ সেবার নামে মুলমানদের ধর্মচ্যূত করা এবং দ্বিতীয়তঃ মুসলিম মহিলাদের বে-পর্দায় ঘর থেকে বের করে সমাজে অশ্লীলতার প্রসার ঘটানো

তালেবান গোয়েন্দা গ্রুপের রিপোর্টে বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমকে দলীল হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে , গ্রামীণ ব্যাংকের তৎপরতার ফলে বাংলাদেশে এ যাবত হাজার মুসলমান মুরতাদ হয়ে গেছে। তালেবানের প্রাপ্ত তথা অনুযায়ী ১৯৭০ সাল থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে খৃষ্টানের সংখা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দ্বিগুণ হয়েছে।

কান্দাহার গভর্ণর মোল্লা মুহাম্মাদ হাসান রহমানী বলেন, ইসলাম আফগান মুসলমানদের সর্বাপেক্ষা প্রিয় ও মূল্যবান বস্তু। এই ইসলামের স্বার্থেই আমাদের এতসব ত্যাগ করছি। ইসলামের প্রশ্নে আমরা এ যাবত কারো সঙ্গে কোনো আপোস করিনি। মোল্লা মুহাম্মাদ হাসান বলেন, জাগতিক ভোগ-বিলাসই যদি আমাদের লক্ষ্য হতো, তা হলে আফগানিস্তানের ইতিহাস আজ অন্যরকম হতো, আফগানবাসী ডলারের মাঝে জীবন কাটাতো।

 

কাবুলের ত্রিশ হাজার মহিলাকে তালেবান ঘরে বসিয়ে বেতন দিচ্ছে

কাবুলের ত্রিশ হাজার মহিলাকে ঘরে বসিয়ে বেতন দিচ্ছে তালেবান। এরা সে সব মহিলা, যারা প্রথমে কম্যুনিষ্ট সরকার ও পরে রব্বানীর শাসনামলে সরকারী অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরুষদের সঙ্গে বে-পর্দায় চাকুরী করত। তালেবান কাবুল দখলের পর বর্তমান ইসলামী সরকার পরবর্তী ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে কর্মে যোগ দিতে নিষেধ করে দিয়েছিল। তালেবান সরকারের অর্থমন্ত্রী মৌলভী ইহসানুল্লাহ ইহসান এ তথ্য জানিয়ে দেন।

তিনি বলেন, নারীর অধিকার লংঘনের প্রশ্নে যারা তালেবানের দুর্নাম রটাচ্ছে এবং নানা রকম প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে কাবুলের মহিলাদেরকে তালেবানের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অপতৎপরতা চালাচ্ছে, ঘরে বসিয়ে বিনা কর্মে বেতন পৌঁছে দেওয়ার মত তালেবানের এই যুগান্তকারী ও নজীরবিহীন সিদ্ধান্ত তাদের মুখে চুনকালী মেখে দিয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে মৌলভী ইহসান বলেন, কাবুলের নারী অধিকার সংক্রান্ত তালেবানের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে জাতিসংঘ, এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের মাথা হেট হয়ে গেছে। বিশ্ববাসীর এবার বুঝা উচিত যে, জাতিসংঘ সহ  অন্যান্য আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা নারী অধিকারের নামে যা কিছু করছে, তার একমাত্র উদ্দেশ্য সমাজকে ধ্বংস, মুসলিম নারীদের বে-আব্রু করে তাদের নারীত্ব হরণ করা এবং সমাজ থেকে ইসলামী চিন্তা চেতনা বিলুপ্ত করা

কাবুলের নারী সমাজ বিশেষ করে ছাত্রীদের ইহুদী-খৃষ্টানদের এসব অপপ্রচারণা সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তালেবা মুখপাত্র বলেন, ইসলামের শত্রুরা ভাই-বোন ও নারী-পুরুষের মাঝে বিভেদ ও তিক্ততার বীবপন করে আমাদেরকে ইসলামের সুমহান আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে চায়। তিনি বলেন, তালেবান সমস্ত মুসলিম বোনদের মর্যাদা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। তিনি আরো ববেন- আন্তর্জাতিক দাবি সত্ত্বেও জাতিসংঘ আফগানিস্তানের বেকার মহিলাদের বিন্দুমাত্র সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। এতেই জাতিসংঘের আসল উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।

মৌলভী ইইসানুল্লাহ মহিলাদের স্বরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, তালেবান সরকার পর্দার যে'আইন জারি করেছে, তা তাদের মনগড়া কিছু নয়, এটা কুরআন সুন্নাহর অকাট্য বিধান। কাজেই এ আইনের বিরোধিতা করা সুস্পষ্ট কুফরির শামিল।

 

তালেবান ইসলামী সরকারের দাড়ি রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ

তালেবান ইসলামী সরকার সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী সহ দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি দাড়ি রাখার আদেশ দিয়েছে। তালেবানের বক্তব্য হলো, দাড়ি রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। দাড়ি রাখার বিন্দুমাত্র অবহেলা প্রদর্শনের সুযোগ ইসলামে নেই।

ইতিমধ্যে তালেবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে দাড়ি মুন্ডানোর অপরাধে গ্রেফতারী শুরু করেছে। খবরে জানাগেছে, সম্প্রতি খোস্ত শহরে কয়েক ডজন লোককে এ অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ঈদুল ফিতরের দু'তিনদিন পর টহল পুলিশ অভিযান চালিয়ে দাড়ি মুন্ডনকারী ২৬ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। রিপোর্টে জানা গেছে, গ্রেফতারের গর মারধর না করে এ ধরনের লোকদের দেড় দু'ঘন্টা আটক রেখে নসীহত করা হয় এবং অত্যন্ত হিকমতের সাথে এ কথা বুঝানো হয় যে, দাড়ি মুন্ডন করা আল্লাহ পাকের প্রকাশ্য নাফরমানীর শামিল। এ থেকে তাওবা করা কর্তব্য! অপরাধ স্বীকার করে তওবা করার প্রতিশ্রুতি দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হ়য়।

তালেবানের বিশেষ মুখপাত্র মৌলভী আবদুল কাদীর বলেছেন, দাড়ি রাখা ওয়াজিব,অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। তিনি বলেন, আমরা সকল সরকারী কর্মকর্তা  কর্মচারীর জন্য দাড়ি রাখা বাধ্যতামূলক করেছি। সকল নাগরিকের জন্য এ আইন কার্যকর হবে। এ আইনের বিরুদ্ধাচারণ দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

 

জ্যোতিষ চর্চা ও তাবীজ কবজের ব্যবসা বন্ধ ঘোষণা

আফগান বানিজ্যিক শহর জালালাবাদের গভর্নর মৌঃ আদুল কবীর জ্যোতিষীদের ব্যবসা কেন্দ্রসমূহ বন্ধ করে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। খবরে জানা গেছে তালেবান ইসলামী সরকার জ্যোতিষবিদ্যা চর্চা এবং নাজায়েয তাবীজ ব্যবসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এ ব্যবসায় জড়িত বেশ কয়েকজন লোককে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে। তালেবানের বক্তব্য হলো জ্যোতিষবিদ্যা ইসলামের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও হারাম। একারণে এই অন্যায় কাজে জড়িতদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

 

তালেবান কারো হুমকির পরোয়া করে নাঃ

আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুতি-ই তাদের মূল সম্বল

- অর্থমন্ত্রী মৌলভী ইহসানুল্লাহ ইহসান

আফগানিস্তান হলো এশিয়ার হৃদপিন্ড। এ কারণে তালেবানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ সমগ্র এশিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের নামান্তর। বর্তমানে কাঁচা মাল ও অন্যান্য ব্যবসার জন্য প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য জগত মধ্য এশিয়ার মুখাপেক্ষী। আর আফগানিস্তান হলো মধ্য এশিয়ার দ্বার। তাই তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা আন্তর্জাতিক দিক থেকেও সম্ভব নয়।  তালেবানের বিশেষ মুখপত্র আফগান সরকারের অর্থমন্ত্রী মৌলভী ইহসানুল্লাহ ইহসান উপরিউক্ত মন্তব্য করেন।

মৌলভী ইহসানুল্লাহ বলেন, অর্থনৈতিক অবরোধ আসলে কোনো বিষয় ন়। এটা মূলতঃ শয়তানী হুমকী মাত্র। বাস্তবের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই! তিনি বলেন,আফগান জনগণ যদি ইসলাম ও তাকওয়ার উপর অটল থাকতে পারে তাহলে এমন কোনো শক্তি নেই, যারা আমাদের বিরদ্ধে কোনো অবরোধ আরোপ করতে পারে। আর যদি কেউ এমনটি করেই বসে, তাহলেও আমরা তার পরোয়া করিনা। তাতে আমাদের বিন্দু মাত্র ক্ষতি হবেনা-ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের অতি উর্বর ভূমি দান করেছেন। আমরা আমাদের কারখানায় উৎপাদিত কাপড়ের "পোষাক পরব আর নিজেদের জমিনে উৎপন্ন খাদ্য খাব। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি কোনো অবরোধ না আসে, তিনি যদি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন, তা হলে শপথ আল্লাহর! আন্তর্জাতিক কোনো অবরোধ আমাদের একটি চুলও বাকা করতে পারবেনা।

 

মন্ত্রীবর্গ কখনো জীপে চড়ে কখনো সাইকেলে করে কখনো বা পায়ে হেটে চলাচল করছেন

তালেবান সরকারের প্রধান মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর নিমিত্তে যে কটি মূলনীতি স্থির করেছেন, তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি হলো, তিনি এক ব্যক্তিকে একই পদে বেশী দিন রাখেন না। উচ্চপদের লোককে নিম্ন পদে আবার নিম্ন পদের লোককে উচ্চপদ দিয়ে পদমর্যাদার ভেদাভেদ দূর করার চেষ্টা করছেন। মন্ত্রীবর্গ পর্যন্ত কখনো পাজেরো জীপে কখনো সাইকেলে চড়ে কখানো বা পায়ে হেটে চলাচল করছেন। জনৈক সাংবাদিক বলেন, কান্দাহারে এক মন্ত্রীকে আমি সাইকেলে চড়ে কোথাও যেতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাচ্ছেন? জবাবে তিনি বললেন,মেহমানদের জন্য রুটি আনতে বাজারে যাচ্ছি। পঁচিশ লাখ টাকা দামের নতুন পাজেরো জীপ থাকতে সাইকেলে কেন,জানতে চাইলে তিনি বলেন,জীপে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে, মেরামতের প্রয়োজন তাই সাইকেলে করেই চললাম।

 

সিকুরিটি ফোর্স থেকে অনৈসলামী চরিত্রের লোকদের অপসারণ অভিযান শুরু

আফগানিস্তানে তালেবান সরকার সিকুরিটি ফোর্স অনৈসলামী চরিত্রের লোকদের থেকে মুক্ত করার অভিযান শুরু করেছে। কাবুল থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে যে,আমীরুল মুমিনীন মোল্লা মুহাম্মদ ওমর-এরনির্দশনা মোতাবেক একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে, যে কমিশন এমন লোকদের খুঁজে বের করবে, যারা ইসলামী আচার-আচরণের পাবন্দ নয়!

মোল্লা আমীন খান মোত্তাকী বলেন, এ অভিযানের উদ্দেশ্য হলো, এমন লোকদের চিহ্নিত করা, যারা তালেবান আন্দোলনের সাথে জড়িত হলেও তাদের আচার-আচরণ খাঁটি ইসলামী নয়, ছোট-খাট অপরাধের সঙ্গেও জড়িত এবং উপদেশ দেওয়া সত্বেও তারা নিজেদেরকে ইসলামী চরিত্রে সুমণ্ডিত করতে আগ্রহী নয়। এখনও তারা ধূমপান করছে,অনৈসলামী পোষাক ব্যবহার করছে। এ পর্যন্ত এ ধরনের ২০০ ব্যক্তিকে প্রশাসন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তালেবানের নির্মল ইসলামী আন্দোলন কারো! দ্বারা মলীন না হয়।

 

তালেবানের নুরিস্তানে বিদ্রোহী বাহিনীর অস্ত্রের ডিপো দখল!

১০০ সৈন্য গ্রেফতার

আফগানিস্তানের লাগমান প্রদেশের পার্শ্ববর্তী এলাকা নুরিস্তানে অবস্থিত বিদ্রোহীদের গুরুতর ও বৃহৎ একটি অস্ত্রের ডিপো দখল করে তালেবান একশত সৈন্যকে গ্রেফতার করেছে। খবরে জানা গেছে, এ অস্ত্র ডিপোটি মাসখানেক আগে জরুরী ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এবং এখান থেকেই চারিকার ও কারাবাগ ইত্যাদি এলাকার যুদ্ধে তালেবানের বিরুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহ হতো। তালেবানের দুর্ধর্ষ মুজাহিদরা বিশেষ অভিযানের মাধামে তা দখল করে বড় রকমের সফলতা অর্জন করে।

 

কান্দাহারঃ বেলজিয়ামের ইংরেজ অফিসার বহিষ্কার ॥ শিয়া মহিলা গ্রেফতার

কান্দাহার থেকে পাওয়া খবর মোতাবেক তালেবান দাবি করেছে যে, তারা জাতিসংঘের দফতরের এক উধ্বর্তন অফিসারকে ইসলামী সরকারের আইন অমান্য করার অভিযোগে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে এবং সন্দেহজনকভাবে তার ঘরে যাতায়াতকারী এক শিয়া মহিলাকে গ্রেফতার করেছে।

খবরে প্রকাশ, ইংরেজ অফিসারকে বহিষ্কার করার কারণে বেলজিয়াম হুমকি দিয়েছে যে, যদি তালেবান এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করে, তা হলে তারা আফগানিস্তানে সেবামূলক কার্যক্রম বন্ধ করে দেবে। কিনতু তালেবান সরকার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ইসলামী সরকারের খোদায়ী বিধানের বিরুদ্ধাচারণকারী কাউকেই মুহূর্তের জন্যও ক্ষমা করতে পারেনা। তালেবান আরো বলেছে, ইংরেজ অফিসার শুধু ইসলামী আইনই নয় বরং জাতিসংঘ সনদেরও বিরুদ্ধাচারণ করেছে। তালেবান সরকারের ইসলামী আইন পালনের প্রশ্নে যদি কোনা বিদেশী সেবা সংস্থা আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে চায়, তাহলে তালেবান কখনো তাতে বাধা দেবেনা। আমরা মনে করি, এমন সংস্থা কাল নয় আজই বন্ধ করে দেওয়া হোক।

 

কাবুলে জাতিসংঘের দফতরে বিদেশীদের অনৈসলামী অনুষ্ঠানে তালেবানের অপারেশনঃ দু'জন ফরাসী সহ বেশ ক'জন নারী-পুরুষ গ্রেফতার

কাবুলে জাতিসংঘের দফতরে অনুষ্ঠিত অনৈসলামী অনুষ্ঠানে সফল অভিযান চালিয়ে তালেবান তাদের এক অশ্লীল ও আপত্তিকর অনুষ্ঠান বাঞ্চাল করে দিয়েছে। প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, কাবুলে অবস্থিত জাতিসংঘের দফতরে নারী-পুরষ সম্মিলিত একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে তালেবান তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। যথা সময়ে অনুষ্ঠান শুরু হওয়া মাত্র তালেবান পুলিশ সফল হানা দিয়ে দুজন ফরাসীসহ বেশ ক'জন নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করে।

তথ্যমন্ত্রী মোল্লা আমীর মুত্তাকী খান এতদংক্রান্ত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, বিদেশীদের এ অনুষ্ঠান ইসলামী বিধান ছাড়াও জাতিসংঘ সনদেরও পরিপন্থী। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রেফতারকৃত দু'ফরাসী তাদের ইসলামী আইনের বিরুদ্ধাচারণ করার কথা স্বীকার করেছে। শরয়ী আদালতে মামলা চলছে।

 

ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণার দাবী

জেরুজালেমে ইহুদী বসতি স্থাপনের প্রতিবাদে মিসরের শত শত মুসলমান ইসরাঈলের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগ দিয়েছেন। দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলো মিসরের অত্যন্ত খ্যাতিসম্পন্ন মসজিদ আল আজহার প্রাঙ্গণে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। ঐ সমাবেশে ইসরাঈলের প্রতি নীরব দৃষ্টির জন্য প্রেসিডেন্ট হোসনী মোবারকের সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করা হয়

উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে ইসরাঈলের তেলআবিবে একটি রেস্তঁরায় বোমা হামলায় ৪ ব্যক্তি নিহত হয়।

 

ফিলিস্তিনী জেল থেকে এক হামাস নেতার মুক্তি লাভ

ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ একজন হামাস নেতাকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছে। নিরাপত্তার ব্যাপারে আরও পর্যালোচনার পর জেলখানা থেকে ফিলিস্তিনীদের ইসরাইলের সাথে স্বশাসনের ব্যাপারে আপস করার নীতি বিরোধী চরমপন্থীদের মুক্তিদানের কথা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আল ব্রেইজ উদ্বাস্তু শিবিরে বসবাসকারী ইব্রাহিম আল মুগাদামেকে গাজা এলাকার জেলখানা থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

মুগাদামেকে হামাসের গুপ্ত বাহিনীর প্রধান বলে অভিযু্ক্ত করা হয়! গত বছর ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসে কয়েকটি বাসে পর পর হামলা ও ইসলামী জিহাদ গ্রুপের বোমা বর্ষণের ঘটনার পর ইসরাইলের চাপে বাধ্য হয়ে ফিলিস্তিনী নেতা ইয়াসির আরাফাত তাদের ব্যাপকভাবে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।

গ্রন্থনাঃ মহিউদ্দীন