“আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত ‘আচরণবিধি’ নিয়ে খারিজী আইএস সমর্থকদের মূর্খতা ও গোমরাহীপূর্ণ আপত্তির জবাব।”

  (আইএসের মতবাদের আলোকে তাদের কুফরের বিবরণসহ)

 

সম্প্রতি (জুন,২০১৭) আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার পক্ষ থেকে ৪ ভাষায় প্রকাশিত ‘আচরণবিধি’ মূলতঃ ভারত উপমহাদেশে জিহাদের কাজকে বেগবান করার লক্ষ্যে প্রকাশিত আকীদা ও কর্মসূচীর এক অনবদ্য দলীল। আল-কায়েদা গোটা দুনিয়াব্যাপী যে গ্লোবাল জিহাদ পরিচালনা করছে, উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি স্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা জরুরি হয়ে পড়েছিলো,যাতে ভ্রান্ত মতবাদ ও মনগড়া কর্মপদ্ধতি থেকে আল-কায়েদার বিশুদ্ধ মানহাজ এই অঞ্চলের সাধারণ মুসলিমদের কাছে স্পষ্ট হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই এই ‘আচরণবিধি’ প্রকাশ করা হয়েছে।

 ‘আচরণবিধি’র ডাউনলোড লিংক… http://tinyurl.com/aqis-guideline

 

এই সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশিত হওয়ার পর নিঃশেষ হতে যাওয়া খারিজী আইএসের কতিপয় সমর্থক তা নিয়ে তাদের নিরেট মূর্খতা ও নীচতম ভ্রষ্টতা প্রকাশ করে। খারিজী সমর্থক ‘বাক্বিয়্যাহ… নামক পেইজে উক্ত ‘আচরণবিধি’র বাংলা অনুবাদের ১৩ পৃষ্ঠায় একাদশ অনুচ্ছেদের শিরোনাম নিয়ে তাদের ঐতিহাসিক মূর্খতা প্রকাশ করে।

একাদশ অনুচ্ছেদের শিরোনাম হচ্ছে, //দ্বীনি গণতান্ত্রিক দলগুলোর ব্যাপারে আমাদের স্ট্র্যাটেজি//

খারিজী সমর্থক ‘বাক্বিয়্যাহ… নামক পেইজে ২৮ জুন একটি পোস্টে লিখেছে, // দ্বীনি গণতন্ত্র ! মুরতাদ আল কায়েদার নতুন আবিষ্কার...//

উক্ত পোস্টের স্ক্রিনশট দেখুন..... https://justpaste.it/18zgw

আসুন এবার “দ্বীনি গণতান্ত্রিক দলগুলোর ব্যাপারে আমাদের স্ট্র্যাটেজি” এই শিরোনামে উল্লিখিত দ্বীনি গণতান্ত্রিক শব্দের বিশ্লেষণে যাই ……  

আচরণবিধির এই শিরোনামের ইংরেজি ভার্শনে লেখা হয়েছে,

“Our Strategy towards Religious Democtratic Parties”

আচরণবিধির আরবী ভার্শনে লেখা হয়েছে, “منهجنا العملي فيما يتعلق بالجماعات الديموقراطية الدينية”

মূর্খদের মূর্খতা দূরীকরণার্থে শিরোনামটির আমি বাংলা অনুবাদ করছি…..

“ধর্মীয় গণতান্ত্রিক দলগুলোর ব্যাপারে আমাদের স্ট্র্যাটেজি”।

খারিজী সমর্থকদের বলতে চাই, আমার অনুবাদটি কী ঠিক আছে ?? তারা অবশ্যই বলতে বাধ্য হবে যে, এটা ঠিক আছে !!

ইংরেজি শব্দ Religious, এর বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘ধর্মীয়’ এবং আরবী প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘দ্বীনি’, এই ৩ টি পরিভাষাই ব্যবহৃত হয় এবং যথারীতি এই আচরণবিধিতেও তাই ব্যবহৃত হয়েছে।

বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রে ‘আচরণবিধি’তে ধর্মীয় শব্দ না লিখে তার আরবী পরিভাষা ‘দ্বীনি’ লেখায় তাদের এই আপত্তি। কারণ, তাদের বুদ্ধি-জ্ঞান এখানে আটকে আছে !!

তাদের বুদ্ধি ও জ্ঞানের লেভেল কোন পর্যায়ে আছে,এটি এবার পরিমাপ করুন।

গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের কথা বলা এসব দল যেহেতু নিজেদেরকে ইসলামী দল বলে দাবি করে তাই তাদেরকে দুনিয়ার সবাই ধর্মীয় রাজনৈতিক দল বলে থাকে। আর তারা যেহেতু গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের কথা বলে,তাই তাদেরকে গণতান্ত্রিক দল বলা হয়েছে। দুনিয়ার হাজার হাজার পত্র-পত্রিকা কিংবা মিডিয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার বার এই শব্দগুলো লেখা হয় এবং উচ্চারিত হয়।

 অথচ খারিজী সমর্থকদের মতে এটি নাকি আল-কায়েদার আবিষ্কার !!!

 

এবার আরেকটু সামনে আসুন ! তাদের জাহালাত ও তাকিয়া সমৃদ্ধ পেইজ বাক্বিয়্যাতে এই শিরোনামের ব্যাপারে এক বিরাট পোস্টের একস্থানে লিখেছে, // গণতন্ত্র যদি শিরক হয়ে থাকলে তাহেল তাদের এই শিরোনামের প্রকৃত অর্থ হবে “দ্বীনি মুশরিক দলগুলো ব্যাপারে আমাদের স্ট্রেটেজি”।//

উক্ত পোস্টের স্ক্রিনশটের লিংক.... https://justpaste.it/18zh5

 

*** খারিজী আইএসের দাবিক্ব ম্যাগাজিনে কুফুরী শব্দের ব্যবহারঃ

 

খারিজী আইএসের দীনহীন সমর্থকেরা গণতান্ত্রিক শব্দের পূর্বে দ্বীন শব্দের ব্যবহার নিয়ে হইচই করে। যদি আচরণবিধিতে ‘ইসলামী গণতান্ত্রিক’ কিংবা ‘সংসদীয় ইসলামপন্থী’  তাহলে শব্দগতভাবে আপত্তি করতে পারতো !

আল-কায়েদা তার আচরণবিধিতে এধরণের শব্দ উল্লেখ না করলে কী হয়েছে, নব্য খারিজীদের মতবাদ অনুযায়ী তাদের নিজেদের ম্যাগাজিনেই এই কুফুরী শব্দ রয়েছে !!

 

চোখ খুলে দেখুন………… আইএসের ম্যাগাজিন দাবিক্ব-06 এর 20 পৃষ্ঠায় ৫ নং টীকায় বলা হয়েছে.................

  1. Adh-Dhawāhirī does not make takfīr of the parliamentary “Islamists”

অর্থঃ ৫.আয-যাওয়াহিরী পার্লামেন্টারি “ইসলামপন্থীদের”কে তাকফীর করে না !

 

আচ্ছা, নব্য খারিজী আইএসের বক্তব্য হচ্ছে, গণতন্ত্রে কিংবা পার্লামেন্টারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেই মুরতাদ/কাফির/মুশরিক। এমনকি তারা প্রত্যেক ভোটারকে পর্যন্ত কাফির/মুশরিক আখ্যা দিয়েছে।

 আচ্ছা, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সেসব দলকে কীভাবে তাদের ম্যাগাজিনে “পার্লামেন্টারি ইসলামপন্থী” বললো !!!

পার্লামেন্টে অংশগ্রহণ করলেই যেহেতু তাদের মতে কাফির ও মুশরিক হয়ে যায়, তাহলে দাবিক্বের এই লাইনের অর্থ দাঁড়ায়........... “পার্লামেন্টারি কাফির/মুশরিক”  ! কীভাবে তারা তাদেরকে ইসলামপন্থী বললো ???   

জাহেল-ধোঁকাবাজ-দ্বিমুখী নীতির অধিকারী এসব নাদানদের বলতে চাই, তোমাদের নব্য খারিজী আইএসের বাতিল মতবাদ অনুযায়ী আইএস নিজেই কাফির/মুশরিক হয়ে গেছে !!

কারণ, তারা পার্লামেন্টারি কাফির/মুশরিকদের ক্ষেত্রে ইসলামপন্থী শব্দ ব্যবহার করেছে !!!

এবার দেখবেন কীভাবে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড তথা দ্বিমুখী চরিত্র প্রকাশ করে !!!

 

 আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল-কায়েদার ‘আচরণবিধি’ নিয়ে বানোয়াট ও নিরেট মূর্খতাসূলভ অভিযোগ করে তোমাদের বাতিল মতবাদ অনুযায়ী নিজেরাই যে কাফির/মুশরিক হয়ে গেছো,তা বের করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তোমরা ধন্যবাদ পেতে পারো !!

 

>>>> নব্য খারিজী আইএসের মতবাদের আলোকে যেসব কারণে আইএস নিজেই ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়, তা জানতে এই লেখাটি ভালোভাবে পড়ুন.....  

 লিংক….. https://justpaste.it/batil_motobad

 

 ***

আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার পক্ষ থেকে প্রকাশিত আচরণবিধি নিয়ে খারিজী আইএসের সমর্থক বাক্বিয়্যাহ….পেইজ দুটি মৌলিক আপত্তি তুলেছেএই দু’টি আপত্তি যে শুধু তাদের এদেশীয় সমর্থকদের পেইজ বাক্বিয়্যাহ....করেছে তাই নয় বরং এই দু’টি অভিযোগ খারিজী আইএসের সাবেক মুখপাত্র আবু মুহাম্মদ আদনানীও করেছিলো।

আদনানী তার..... “এটি আমাদের মানহাজ ছিলো না এবং কখনো হবে না” শিরোনামে দেওয়া অডিও বক্তব্যে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছে যে, এখনকার আল-কায়েদা আর পূর্বের আল-কায়েদা এক নয়। এখনকার আল-কায়েদা অহিংসতার কথা বলে, কুফফারদের প্রতি নমনীয়তা দেখায়, গণতান্ত্রিক ইসলামী দলগুলোকে তাকফীর করে না ইত্যাদি ইত্যাদি।

আইএসের মুখপাত্র আদনানীর উক্ত বক্তব্যের ইংরেজি অনুবাদ..... https://justpaste-it/f5oc  

মূল আরবী বক্তব্যের টেক্সট......  https://justpaste-it/makan   

 

সুতরাং তাদের উক্ত দু’টি মৌলিক বাতিল অভিযোগের জবাবের মাধ্যমে খারিজী আইএসের মুখপাত্রের জবাবও হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্‌। 

১। যারা গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের দাবি করে এমন দলগুলোর প্রত্যেককে আল-কায়েদা তাকফীর করে না। তবে যারা কুফফারদের সাথে মিলে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, তাদের কথা ভিন্ন অর্থাৎ তাদের উপর তাকফীরের হুকুম প্রযোজ্য হবে।

খারিজী আইএস সমর্থকদের আপত্তি হচ্ছে, যেহেতু তারা ইসলামের নামে গণতন্ত্র করা দলগুলোর প্রত্যেককে মুরতাদ আখ্যা দেয়। ইতোমধ্যে তারা এটি তাদের অফিসিয়াল ম্যাগাজিন ও বক্তব্যে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে। যেমনঃ যেসব ইসলামী দল গণতান্ত্রিক ভোট/নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলাম কায়েমের কথা বলে তাদেরকে আল-কায়েদা/শাইখ আইমান আল-যাওয়াহিরী হাফিঃ তাকফীর করেন না। এজন্য শাইখ আইমান আল-যাওয়াহিরী হাফিঃ এর আকীদা সঠিক নয় এই দাবী করে দাবিক্ব-06 এর 20 পৃষ্ঠায় ৫ নং টীকায় বলা হয়েছে,

Adh-Dhawahiri does not make takfir of the parliamentary “Islamists”

অর্থঃ ৫.আয-যাওয়াহিরী পার্লামেন্টারি “ইসলামপন্থীদের”কে তাকফীর করে না !

আইএস যেসব ইসলামপন্থী দল ভোট/নির্বাচনে অংশ নেয় এমন সকল দলের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে তাকফীর করে অর্থাৎ তাদের প্রত্যেককে মুরতাদ বলে আখ্যা দেয়। 

 

নিচের লেখা দু’টিতে আইএসের বিভিন্ন বাতিল আকীদার বিস্তারিত প্রমাণাদি উল্লেখ করা হয়েছে.....

১। https://justpaste-it/takfir_all

https://justpaste-it/batil_motobad

 

তাদের দাবি হচ্ছে, এই ‘আচরণবিধি’তে যেহেতু ইসলামের নামে গণতান্ত্রিক পন্থায় দ্বীন কায়েমের দাবি করে এমন দলগুলোর সকলকে তাকফীর করা হয়নি,তাই এটি নাকি জাহমিয়া আকীদা !!!!!!! 

 

*** আমাদের জবাবঃ-

আমরা খারিজী আইএসের নেতা থেকে শুরু করে সমর্থক পর্যন্ত প্রত্যেকের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, শাইখ উসামা বিন লাদেন রাহঃ সহ আল-কায়েদার শহীদ হওয়া যেসব নেতাদেরকে তারা সঠিক বলে মনে করে, সেধরণের কোনো একজন আলিম কিংবা আমীরের পক্ষ থেকে এমন একটি বাক্য দেখানোর জন্য যেখানে উনারা গণতান্ত্রিক পন্থায় ইসলাম কায়েমের দাবি করা দল ও ব্যক্তিদের প্রত্যেককে মুরতাদ আখ্যা দিয়েছে। কিংবা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত নয় অথবা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাফিরদের সহযোগী নয় এমন গণতান্ত্রিক ইসলামী দলকে ‘আমভাবে কাফির/মুরতাদ দল হিসেবে অভিহিত করেছে।

আমরা বহুবার তাদের কাছে এর প্রমাণ চেয়েছি, কিন্তু পাইনি এবং কস্মিনকালেও তারা এধরণের কোনো স্পষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারবে না। কারণ, এটি গ্লোবাল জিহাদের উলামা-উমারাদের আকীদা নয় বরং এটি তাদের বানানো নিজস্ব আকীদা। 

২। কুফফারদের যেসব দল ও ব্যক্তি ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত নয় এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের যুলুমের সাথে সম্পৃক্ত নয়,তাদেরকে তানযীম আল-কায়েদা আপাততঃ আক্রমণের নিশানা বানাবে না; বরং ইসলাম বিজয়ী হয়ে যাওয়ার পর উলামাদের পরামর্শ অনুযায়ী শরী’আহর আলোকে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ, আল-কায়েদা কুফফারদের মধ্যে যারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত নয় তাদেরকে টার্গেট করে আক্রমণ করার মাধ্যমে শত্রু বৃদ্ধি করতে চায় না।

 

‘আচরণবিধি’র ডাউনলোড লিংক… http://tinyurl.com/aqis-guideline

 

খারিজী আইএসের এদেশীয় সমর্থকদের দ্বারা পরিচালিত বাক্বিয়্যাহ….পেইজ আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার পক্ষ থেকে প্রকাশিত আচরণবিধি নিয়ে এক পোস্টে লিখেছে...............

// দীর্ঘ দিন ধরে আমরা বাংলার সাহাওয়াতদের সমর্থকদের তাদের আক্বিদাহ প্রচার করার জন্য চাপ দিতে থাকলেও তারা কখনই তা প্রকাশ করে নি। আমরা যখনই তাদেরকে মুরসির মত মুরতাদকে তাকফির না করার জন্য সমালোচনা করেছি তখনই তারা বলেছে তারা মুরসির জন্য দোয়া করেছে, নসিহত দিয়েছে। এগুলো তাদের বোধশক্তি হারিয়ে বসার বড় হুজুরের বক্তব্যের কপি পেস্ট। তদুপরি তারা কখনই পরিষ্কার করে বলে নি, তথাকথিত ইসলামী নামধারী গণতান্ত্রিক মুরতাদের তাকফির করে কি না। সর্বশেষ তারা তাদের উপমহাদেশীয় ইন্টারনেটীয় শাখা থেকে তাদের জাহমী কুফরি আক্বিদাহকে জাহির করেছে যাতে কাফিররা তাদের প্রতি নমনীয় হয় এবং আশ্বস্ত হয় যে তাদের সাথে আল কায়দার কোন দুশমনি নেই। তারা তাদের আস-সাহাব উপমহাদেশ শাখা থেকে তাদের মূলনীতির ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে। সুন্দর করে নাম দিয়েছে “আচরণবিধি”, যার পুরোটাই কাফির মুশরিকদের সাথে সুন্দর আচরণ করার বিভিন্ন পন্থাকে বর্ণনা করে।//

 

বাক্বিয়্যাহপেইজের উক্ত পোস্টের শেষদিকে আল-কায়েদার এই নীতিকে কুফুরী আখ্যা দিয়ে লিখেছে..........

//আল কায়দার এই নির্লজ্জ কুফরি প্রকাশের পরও যখন কেউ সন্দিহান থাকে,তাহলে নিশ্চিতভাবে বলতে হবে এই ব্যক্তির সন্দেহ কায়েদাতুর রিদ্দাহ বা আল কায়দা আর দাওলাতুল ইসলাম নিয়ে নয়, বরং তার সন্দেহ তাওহীদ আর ইসলামের অতি মৌলিক বিষয়সমূহ নিয়ে।//

উক্ত পোস্টের স্ক্রিনশটের লিংক.... https://justpaste-it/18zh5   

 

**** যেসব কাফির-মুশরিকরা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত নয়, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ প্রদত্ত বিধানঃ 

যেসব কাফির-মুশরিকরা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত নয়,তাদের সাথে যুদ্ধ পরিহার করা, স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন প্রদত্ত একটি সুস্পষ্ট বিধান এর বৈধতা জানিয়ে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

“দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে বাড়িঘর থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন।” (সূরাহ মুমতাহিনা-৮)

 

উপরোক্ত আয়াতে যে কথাটি বলা হয়েছে, আল-কায়েদার আচরণবিধিতে ঠিক সেই কথাটিই বিস্তৃতভাবে বলা হয়েছে।

আল্লাহ তা’আলা যে বিষয়টি কুরআনের আয়াত নাযিল করার মাধ্যমে অকাট্যভাবে বৈধতা দান করলেন, সে বিষয়টি খারিজী আইএসের সমর্থকদের কাছে কুফুরী !! 

খারিজী জাহেল নেতা ও সমর্থকগুলো নিজেদের অজ্ঞতা ও চরম বিদ্বেষবশতঃ আল্লাহ প্রদত্ত বৈধ বিষয়কে কুফুরী আখ্যায়িত করার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে কুফরে পতিত হয়েছে।

 

*** আদনানীর পূর্বের বক্তব্যঃ

২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আইএসের মুখপাত্র আবু মুহাম্মাদ আদনানী তার এক অডিও বক্তব্যে বলেন,

إنا لا نقاتل مَن ثبتت عندنا ردَّتُه إلا إذا بدأنا بحرب وقتال ، كما فعلنا مع قيادة ما يُعرَف بـ "حلف الفضول" في حزّان وريف إدلب ، التي وقّعت مع الصليبيين على قتالنا ، وتستبيح دماءنا ، وتحشِّد الناس ضدنا ، وتحرّضهم على حربنا ليل نهار ، وتجمع التواقيع على ذلك ؛ بزعم أننا خوارج ! .. ويعلم الله أننا ما قاتلنا في الشام أحداً غير النصيرية إلا مُكرَهين ، وعلاوة على هذا : فإن مِن الحكمة تحييد الأعداء وتقليل الجبهات ، ومن الحماقة فتح جبهات عدة ومقاتلة جميع الناس ، وكذلك ما أُطلِقت طلقة من أي فصيل على غير النصيرية : إلا حَزِنّا عليها لذهابها من وجه اليهود والصليبيين ، وإننا والله لن نعتدي على أحد ما لم يعتدِ علينا

 

অর্থঃ “নিশ্চয়ই যার রিদ্দাহ তথা মুরতাদ হওয়া আমাদের কাছে (প্রমাণের ভিত্তিতে) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে,তার সাথে যুদ্ধ করবো না, যতক্ষণ না তারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও লড়াই শুরু করবে। যেমনটি হাযযান এবং ইদলিবের পার্শ্ববর্তী এলাকায় আমরা ‘হিলফুল ফুযুল’ নামে পরিচিত দলের নেতাদের সাথে করেছি। তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ক্রুসেডারদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, আমাদের রক্তকে হালাল করেছে, আমাদের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং আমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য দিন-রাত মানুষকে প্ররোচিত করে, এর উপর তারা ঐক্যবদ্ধ হয়(স্বাক্ষরের মাধ্যমে) এই অভিযোগে যে, আমরা খাওয়ারিজ !

আর আল্লাহ ভালো জানেন যে, বাধ্য হওয়া ব্যতীত শামে নুসাইরী(আসাদ বাহিনী) ছাড়া অন্য কারো সাথে আমরা যুদ্ধ করিনি। 

এর উপরে আরো বলতে চাই, হিকমাহ বা প্রজ্ঞা হচ্ছে শত্রুকে নিরপেক্ষ রাখা এবং যুদ্ধের ফ্রন্ট কমিয়ে আনা। আর নির্বুদ্ধিতা হচ্ছে, যুদ্ধের অনেক ফ্রন্ট খোলা এবং সবার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া।    

অনুরুপভাবে যেকোনো দলের পক্ষ থেকে যেসব বুলেট নুসাইরী ব্যতীত অন্যদিকে নিক্ষিপ্ত হয়, সেগুলো ইয়াহুদী ও ক্রিস্টানদের পক্ষ থেকে যাওয়ার কারণে তা আমাদেরকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে ।

আল্লাহর কসম ! অবশ্যই আমরা কারো উপর হামলা বা সীমালঙ্ঘন করবো না,যে পর্যন্ত তারা আমাদের উপর হামলা বা সীমালঙ্ঘন না করে।”

...............................

আদনানীর অডিও বার্তার পুরো টেক্সটের লিংক....

https://justpaste-it/d8mn  

 

**** আদনানীর বক্তব্যের বিশ্লেষণ এবং আচরণবিধি নিয়ে খারিজী আইএস সমর্থকদের আপত্তির জবাবঃ   

১। আদনানীর উপরোক্ত বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে...........স্পষ্ট মুরতাদের বিরুদ্ধেও তারা আগে যুদ্ধ শুরু করেনি।

অথচ আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে, পরবর্তীতে এই আদনানী এবং তার অনুসারীরা আল-কায়েদার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছে যে, আল-কায়েদা কেনো সবার সাথে যুদ্ধ করে না !!! কেনো অমুকের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি !!!

সুস্পষ্ট মুরতাদের বিরুদ্ধেও আদনানী কেনো যুদ্ধ করেনি এবং আগে যুদ্ধ করবে না, এটি কী তাদের বর্তমান মতবাদের আলোকে মুরতাদদের সাথে সুন্দর আচরণের বহিঃপ্রকাশ নয় ???  এটি কী মুরতাদদের পক্ষ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য মুরতাদদের প্রতি নমনীয়তা নয় ???  

তাহলে কী ২০১৩ সালে সালে তাদের আকীদা সঠিক ছিলো না ??? অর্থাৎ ২০১৪ সালে এসে সঠিক হয়েছে ???

তা নাহলে ২০১৩ সালের বক্তব্যের সাথে ২০১৪ সালের বক্তব্য আকাশ-পাতাল ব্যবধান কেনো ???

কিন্তু আদনানীতো বলেছে, আল-কায়েদা নাকি মানহাজ পরিবর্তন করেছে !

আদনানীর অনুসারী কেউ থাকলে যেনো আমার প্রশ্নগুলোর যথাযথ জবাব দেয় !!!

 

২। আদনানী বলেছে, তাদের উপর হামলা না হলে শামে তারা কোনো মুরতাদের সাথে যুদ্ধ করেনি।

ইয়া আল্লাহ ! আল-কায়েদার আচরণিবিধি ও শাইখ আইমান আল-যাওয়াহিরী হাফিঃ এর সাধারণ নির্দেশনায় একই কথা থাকায় সেটি নাকি কুফফারদের সাথে সুস্পম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ !!! তাহলে আদনানীর বক্তব্য কীসের বহিঃপ্রকাশ ছিলো ???    

জাতি জানতে চায়, কেনো তারা মুরতাদদের সাথে যুদ্ধ করতে চায় না ??? অথচ এখনতো তারা মুসলিমকে মুরতাদ বানিয়ে,যারা কখনো তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি তাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করছে কিংবা যুদ্ধে ঘোষণা দিচ্ছে !!!  

 

৩। আদনানী বলেছে, //প্রজ্ঞার পরিচয় হচ্ছে একসঙ্গে সব কাফিরদের সাথে লড়াই না করা এবং শত্রু সংখ্যা সীমিত রাখা।//

একবিংশ শতাব্দীর জিহাদের ময়দানের সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে,  ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে যেটি ছিলো প্রজ্ঞার পরিচয়, ঠিক ২০১৪ সালে এসে সেই একই বিষয় হয়ে গেলো বোকামী  !!!  

এরপরে ২০১৪ সালে আদনানী গলাবাজি করলো, আল-কায়েদা নাকি মানহাজ পরিবর্তন করেছে ! আর তারা নাকি আগের মতোই আছে !!!!  

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে “একসঙ্গে সব কাফিরদের সাথে লড়াই না করা এবং শত্রু সংখ্যা সীমিত রাখা” ছিলো হিকমাহ বা প্রজ্ঞার পরিচয়। আর পরবর্তীতে এবং বর্তমানে তাদের নতুন মতবাদ ও মানহাজের আলোকে দুনিয়ার সবার সাথে লড়াই করা এবং শত্রু সংখ্যা বৃদ্ধি করা এমনকি পৃথিবীর সবাইকে শত্রু বানানো তাদের মতবাদের মূল ভিত্তিতে পরিণত করেছে।

এমনকি খারিজী আইএস বর্তমানে পৃথিবীর সবার সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা দুনিয়ার প্রায় সকল মুজাহিদকে মুরতাদ আখ্যা দিয়েছে এবং তাদের জন্য “মগজ ভেদকারী একটি বুলেট অথবা ঘাড়ে একটি ধারালো ছুরি”র আয়োজন রেখেছে !  ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর আইএসের মুখপাত্র দুনিয়ার সকল মুজাহিদদের লক্ষ্য করে এই হুমকি দিয়েছিলো ! অথচ এই হুমকির এক বছরের আগেই সে দুনিয়া থেকে চলে গেছে !!

 

৪। আদনানী উপরোক্ত বক্তব্য আরো বলেছে, // আমরা কখনোই কারো উপর হামলা বা সীমালঙ্ঘন করবো না,যে পর্যন্ত তারা আমাদের উপর হামলা বা সীমালঙ্ঘন না করে।”//    

এতো নমনীয় কথা আল-কায়েদার আচরণবিধি কিংবা শাইখ আইমান আল-যাওয়াহিরী হাফিঃ এর “জিহাদের সাধারণ নির্দেশনা”তেও নেই।  আল-কায়েদা বলেছে, আমরা যেসব দল আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত নয়,আপাততঃ আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবো না। এক্ষেত্রে আদনানীর ২০১৩ সালের বক্তব্য বরং আল-কায়েদার বক্তব্য থেকে অধিক নমনীয় !!!

আইএসের সাবেক মুখপাত্র আদনানীর উপরোক্ত বক্তব্যের অডিও শুনুন নিচের লিংকে...

(১৬:০০ মিনিট থেকে পরের অংশটি শুনুন.....)  

https://archive.org/details/addwlamzlomah 

 

*** খারিজী সমর্থকদের মতে আল-কায়েদার আচরণবিধিতে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত নয় এমন কাফিরদের বিরুদ্ধে আপাততঃ যুদ্ধ না করার কথা বলা যদি কুফুরী হয়,তাহলে তাদের মুখপাত্র আদনানীর বক্তব্য এর চেয়ে আরো ভয়াবহ কুফুরী হবে নিশ্চয়ই !!! 

তাদের দ্বীন যদি ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা নির্ভর না হয়ে থাকে, তাহলে তারা যেনো উত্তর দেয়, তাদের নতুন মতবাদের আলোকে মুরতাদদের প্রতি আদনানীর এই এই চরম নমনীয় বক্তব্য কেনো কুফুরী হবে না !!!!!!!!

নাকি একই বক্তব্য আল-কায়েদা দিলে কুফুরী হয়, আর তাদের নেতারা দিলে সেটি সঠিক হয় ??? 

এখনো যাদের মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে যায়নি কিংবা ইসলাম ও ইনসাফ পরিত্যাগ করে কোনো বাতিল মতবাদ বা কোনো দলের কাছে নিজেদের ‘আকলকে বন্ধক রাখেনি,তাদের কাছে মধ্যাহ্নের সূর্যের আলোর চেয়েও পরিষ্কার হবে যে, কারা তাদের মানহাজ পরিবর্তন করেছে, কারা দ্বীনের মধ্যে নতুন উসুল বানিয়েছে !! কারা আল-ওয়ালা ওয়াল-বারার নতুন সংজ্ঞা ও শর্ত বানিয়েছে !!! কাদের গতকালের কথা আর আজকের কথা আকাশ-পাতাল ব্যবধান !!!

 

আলহামদুলিল্লাহ্‌, এই বাতিল দলটি কতটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড,মিথ্যাচার,ধোঁকাবাজি,প্রতারণা ও জাহালত ধারণ করে,তা পূর্বের ন্যায় এই লেখার মাধ্যমেও স্পষ্ট হয়েছে। তাদের ধোঁকাবাজি ও বাতিল মতবাদের ফিরিস্তি জানতে চাইলে আমার পেইজে বেশকিছু লেখা আছে, ধৈর্যসহকারে সেগুলো পড়তে পারেন।

লিংক..... https://justpaste-it/abdullah_hasan   

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকল বাতিল মতবাদ থেকে হিফাযত করুন।