17aeb95a3c91d1ab3ff559050026b12f.jpg

 

 

 

অত্যাচারীকে

‘না’ বলুন!

 

 

শাইখ ওমর আব্দুর রহমান রহ.

 

 

মাওলানা ইসমাইল সিরাজ অনূদিত

 

 

 

2eb596cf60537e1184e4889b5cbd9912.png

 

********************

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ রা. হতে বর্ণিত- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া বলেন; “সায়্যিদুশ শুহাদা হযরত হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রা. এবং এক ব্যক্তি এক জালিম শাসকের সামনে উপস্থিত হলে ঐ ব্যক্তি সে জালিমকে আমর বিল মা’রুফ ও নাহি আনিল মুনকার করে, ফলে সে জালিম তাকে হত্যা করে। (জামিউস সহীহ্-৩৬৭৫)

হে মিশরে বসবাসরত মুসলিম জনতা! আমার মনে হচ্ছে সময় শেষ এবং আল্লাহর সান্নিধ্যের অতি নিকটে পদার্পণ করছি, তাই আমার নিকট নসীহাতের বিকল্প কিছুই নেই।

হে আমার হৃদয়ের গভীরে অবস্থানরত বন্ধুগণ!

হে আমার পরিবার পরিজন ও নিকটতম সকল আত্বীয়-স্বজন!

হে আমার হৃদয়ের গভীরে অবস্থানরত বন্ধুগণ যাদেরকে আমি কেবলমাত্র আমার রবের জন্যই ভালোবাসি!

হে আমার ঐ সকল বন্ধুবর! যাদের অশ্রুর সাথে আমার অশ্রু মিশ্রিত এবং যাদের জন্য আমি রক্ত ঝরাতে চাই; তোমরা যালিমকে বলো “না”।

হে মিশরের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদরা ... বলো, “না”।

একমাত্র ব্যক্তি, একমাত্র দল, একমাত্র মতামতের একনায়কতন্ত্রের নেতাকে বলে দাও, “না”।

আন্তর্জাতিক অপমানকর অহংকারী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বলো “না”। এখনতো একমাত্র সঠিক উপাস্যের জীবনব্যবস্থা বাস্তবায়নের সময়।

যারা আমাদের উপর জরুরী আইন আর সন্ত্রাসের বারোটি বছর এনে দিয়েছে, তাদেরকে বলো- “না”।

“না” বলে দাও, তাদেরকে যারা মিথ্যা সামরিক ট্রায়াল এবং অনুপযুক্ত নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে।

যারা সর্বদা মুসলমানদের অধিকার লঙ্ঘনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগিয়েছে, তাদের বলো- হে অত্যাচারী আর “না”

মিশরের বিচারকবৃন্দ! বলো... “না”।

না ... আমরা এমন বিচারক হবোনা যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়, বরং এমন বিচারক হতে চাই, যাতে করে আল্লাহর অনুগ্রহে জান্নাতে যেতে পারি।

না ... আমরা মিশরের উত্তম যুবকদের বিচার করবো না, তবে আল্লাহর নাযিলকৃত (এবং আপনি যখন লোকদের মধ্যে বিচার করবেন তখন ন্যায় পরায়ণতার সাথে বিচার করুন। সূরা নিসা-৫৮) (এবং তাদের মধ্যে আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দ্বারা বিচার করুন। সূরা মায়িদা-৪৯) দ্বারা বিচার করবো... ।

যারা এই যুবকদের উপর অত্যাচার করেছে সেই যালিমরা আমাদের কেউ না... যারা মানবরচিত বিধান দিয়ে তাদের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে সেই তাগুতরাও আমাদের কেউ না... তারাও আমাদের কেউ নয় যারা তাদের তাগুত শাসকের বিচারে আত্মতৃপ্ত হয়, যেন তাদের নেতা আর প্রভূরা গোস্বা বা নাখোশ না হয়।

বলো, হে পৃথিবীর উন্নত সেনাবাহিনী! “না”

“না”... আমরা কেবল আল্লাহর জন্যই যুদ্ধ করবো... (যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে। সূরা নিসা-৭৬)

“না”... আমরা আমেরিকা ও তার মিত্রদের জন্য যুদ্ধ করবো না... (এবং যারা কাফের তারা তাগুতের পক্ষে যুদ্ধ করে। সূরা নিসা-৭৬)

আর “না”... ইরাক ধ্বংসই আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছে!

বসনিয়ার মুসলমানদের নির্যাতন যথেষ্ট হয়েছে আমাদের জন্য, আর “না”

“না”... আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সংকেত দিতে ইচ্ছুক নই যে, ইরান ও সুদান সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে!

না... আমরা শত্রুদের জন্য "রবিন" হতে পারব না, যে মিথ্যাবাদী প্রচার করে যে আসল বিপদ মৌলবাদীদের কাছ থেকে আসছে! তাহলে অভিশপ্ত ইহুদিরা কোথায়? কোথায় ‘সার্ব’ অপরাধীরা? যারা বসনিয়াতে মুসলিম গণহত্যা চালিয়েছিল! শান্তির পায়রা আর রাসূল প্রেম কি এদের থেকেও বেশি ক্ষতিকর?!!

হে মিসরের লোকেরা! মান্যবর পিতৃগণ! বলুন... ‘না’

না... আমরা নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ নই... বরং আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা বিপ্লবী। এডোকো, আবু হাম্মাদ ও কালয়ূব, কায়রো, আসুয়াত এবং আসওয়ানের বিপ্লবী। হে শাসকেরা আমাদের দারিদ্র্য ও ক্ষুধা তোমাদেরকে কাঁদায় না? আপনার আর্থিক দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন... বলুনতো যদি আপনি সৎ হন, তবে আপনার কাছে শত কোটি ডলারের কীইবা বাকি আছে?

বলুন... আমরা তাওহীদবাদীদের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সম্পৃক্ত হবো না, তাই আমরা আপনাদেরকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করেছি যে, আপনারা নিরস্ত্র মুসল্লিদেরকে আল্লাহর ঘরের মধ্যেই হত্যা করেছেন!

বলুন... আমরা বিদ্রোহী, হত্যাকারীদের জানাযায় শোকপ্রকাশ করছি না, বরং ঐ সকল যুবকদের জন্য করি যাদের জীবনের শেষ কাজ ছিল সালাত, রোযা এবং তাদের শেষ কথা ছিলো, "আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই"।

না... আমরা আজ থেকে আর বসে থাকবো না, যেহেতু (বোমার আঘাতে) কবরের নীরবতা নেমে এসেছে...।

বলুন, হে মুজাহিদীনে মিশর... “না”।

আল্লাহর পথে চলতে গিয়ে তোমাদের প্রতি যা ঘটছে তার জন্যে দুঃখ করোনা এবং তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং নিরব ও নিথর হয়ো না, (“তোমরা যদি কষ্টভোগ কর, তাহলে তারাও তোমাদের মতো কষ্টভোগ করবে, আর এই কষ্টের কারণে তোমরা আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা রাখ, যা তারা রাখে না” সূরা নিসা-১০৪) তোমরা জুলুমের প্রতিশোধ নাও ঐ পরিমাণ, যতটুকু তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। অতঃপর তারা যদি পুনরায় নিপীড়ন করে তবে জেনে রাখ! নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের সাহায্য করবেন; যেমন আল্লাহ্ তায়ালার বাণী (এ তো শুনলে, যে ব্যক্তি নিপীড়িত হয়ে নিপীড়ন পরিমাণে প্রতিশোধ গ্রহণ করে এবং যদি পুনরায় সে নিপীড়িত হয়, আল্লাহ্ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন। সূরা হাজ্জ্ব-৬০)

তারা বিচার বিভাগীয় প্লাটফর্মে প্রহসনের জোশ তুলছে; (তুমি যা ইচ্ছা করতে পারো, তুমিতো কেবল এই নশ্বর দুনিয়াতেই করতে পারবে। সূরা ত্ব-হা- ৭২)

তারা নিরাপধীদেরকে নির্যাতনের পরাকাষ্ট্রে শাস্তি দেয়ঃ (যারা এই জগতে মানুষকে নির্যাতন করে, আল্লাহ্ তাদেরকে শাস্তি দিবেন। সহীহ মুসলিমঃ ৪র্থ খন্ড, ২০১৮ পৃষ্ঠা)

তারা অত্যাচারীর হুমকি দ্বারা বিস্মিত হয়। আল্লাহর শপথ! এ বিস্মিত হওয়াটা হতাশার শেষ লক্ষণ এবং বৃষ্টির প্রথম ফোটা...। বর্বর শাসকদের ক্ষেত্রে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করো। মরণজয়ী শুহাদাদের রক্ত যদি বৃথা যায়, তাহলে এ জাতির সাহায্যের পথও রুদ্ধ হয়ে যাবে।

এখানে আমি আপনার (মুবারক) সাথে বলছি... আর ‘না’।

‘না’, হে মুবারক, আপনার শাসন, আপনার সেনাবাহিনী, আপনার সরঞ্জাম, এবং আপনার অগ্নিগিরি... আপনার রাষ্ট্রীয় অত্যাচারে কখনো টিকে থাকবে না, কিন্তু কিয়ামত পর্যন্ত ঐসব ইসলামের জন্য টিকে থাকবে।

সাবধান! যদি আপনি আমাকে নির্বাসন দেন বা না দেন, বন্দী করেন বা না করেন। যদি আমি নির্বাসিত হই; তাহলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথ ছিলো হিজরত বা নির্বাসিত হওয়া, আর আমারও তাই হয়েছে। আর যদি বন্দী হই; তাহলে নিজেকে ইউসূফ আলাহিস সালামের মতো স্বজোরে কারাগারে নিক্ষেপ করার মতোই মনে করবো। পক্ষান্তরে যদি আমাকে হত্যা করা হয়; তবে মনে করবো ইতিমধ্যে হযরত ইয়াহ্ইয়া আলাইহিস সালামের নিহত হওয়ার ঘটনার পূনরাবৃত্তি।

এই আমার বিশ্বাস এবং আমার বার্তা বা অন্তিম মূহুর্তের অমূল্য নসীহাত। আর যদি আমি দুনিয়ার প্রলোভনে পরে বিশ্বাসঘাতকতা করি; দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী পণ্য-সামগ্রী কতই না নিকৃষ্ট। অথবা যদি আমি পরকালকে গ্রহণ করি; তাহলে সেটা হবে আল্লাহর অসীম কৃপায় ‘আমানত রক্ষা করা’। আর এ আমানত রক্ষা করা অনেক বড় পূণ্যের কাজ। সূতরাং নিজের জন্য উত্তম বস্তু সংগ্রহ করার এখনই সঠিক সময়।

হে মিশর... মহান আল্লাহ শপথ!

আমি চাই আমার লহু ফিনকী দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় বন্যা বয়ে যাক। আর আমার প্রতি বর্ষিত হোক আপনাদের পবিত্র সন্তানদের দু’ফোটা অশ্রু। অতঃপর আমাকে বহন করে সমাধিতে নিয়ে যাক আপনাদের উত্তম ও সম্ভ্রান্ত লোকেরা। তারপর আমি নিশ্চিন্তমনে থেকে যাব দয়াময় রবের কাছে।

হে মুজাহিদীনগণ! সময়ের চাকা অতিক্রম করে পেরিয়ে যাও বিশুদ্ধতম পথ।

সাবধান! আল্লাহ্ তায়াকে সত্য সত্য ভয় কর। এবং জিহাদ করতে থাকো দৃঢ়চিত্তে; তাহলে আমরা অতিসত্তর নিশ্চিভাবে ইসলামী রাষ্ট্রের শিখরের সাক্ষাত পাবো, অথবা অচিরেই আমরা চির শান্তির ঘর জান্নাতের কড়া নাড়তে একত্রিত হবো ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের ও আপনাদের (আমলসমূহ) কবুল করুন।

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ॥

 

 

দু’আ প্রার্থী

আপনাদের ভাই

ওমর আব্দুর রহমান

শাওয়াল ১৪১৩ হিজরী

 

 

 

279dda8f875c1351baec8b4b6a1f5f03.gif