JustPaste.it

UM-6-sapno muminer janno susangbad

 

um6.jpg

স্বপ্ন মমিনের জন্য সুসংবাদ

 

 

 

  শায়খ আবু ইয়াহইয়া আল-লিবি রহিমাহুল্লাহ

 

(উম্মাতুন ওয়াহিদাহ ম্যাগাজিনের ১ম সংখ্যা থেকে অনূদিত)

 

 

 

 

 

 

 

بسم الله الرحمٰن الرحيم

রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নকে সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন৷ বিশেষ করে শেষ জামানার জন্য এটা বেশি কার্যকর। হাদিসে এসেছে-

ان ابا هريرة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لم يبق من النبوة الا المبشرات قالوا و ما المبشرات قال الرويا الصالحة.

 আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘‘‘আমি রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “সুসংবাদবাহী বিষয়াদি ছাড়া নবুওয়তের আর কিছু অবশিষ্ট নেই”। সাহাবাগণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, “সুসংবাদবাহী বিষয়াদি কী?(উত্তরে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “ভালো স্বপ্ন’। [সহীহুল বুখারী,হাদিস নং :৬৭২১]

অপর এক হাদিসে এসেছে-

عن ابي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم اذا اقترب الزمان لم تكد رويا المومن تكذب و اصدقهم رويا اصدقهم حديثا و رويا المسلم جزء من ستة و اربعين جزء من النبوة.

হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যখন কিয়ামত নিকটবর্তী হবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে। যে ব্যক্তি অধিক সত্যবাদী, তার স্বপ্নও অধিক সত্য হবে। মুমিনের স্বপ্ন হলো,নবুওয়তের ৪৬ ভাগের ১ভাগ’। [সুনানে তিরমিজি,হাদিস নং :২২৭০]

স্বপ্ন হল আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। বিশেষ করে বিপদ এবং সঙ্কটপূর্ণ অবস্থায় যখন সাহায্যের সকল দরজা বন্ধ থাকে,তখন স্বপ্ন সাহায্যকারী হিসাবে কাছে আসে। মনোবল জোগায়। সান্তনার পরশ বুলিয়ে দেয়।মরুভূমিতে পানির অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরা ব্যক্তির জন্য পানি যেমনঠিক তেমন ভূমিকা পালন করে।

তবে সাবধান,স্বপ্নের দ্বারা শরিয়তের কোনো আহকাম প্রমাণিত বা রহিত হবে না। কেননা, শরিয়তের হুকুম কেবলমাত্র ওহীর দ্বারাই প্রমাণিত হয়, যেগুলো কোরআনে এবং হাদিসে লেখা আছে। তবে স্বপ্নের দ্বারা কোনো সন্দেহযুক্ত জিনিসের ব্যাখ্যা করা বা প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে।

স্বপ্ন বর্ণনার সময় খুব সতর্ক থাকতে হবে। এব্যাপারে হাদিসে স্পষ্ট সতর্কবাণী এসেছে-

عن ابن عباس رضي الله عنه عن النبي صلي الله عليه وسلم قال من تحلم بحلم لم يره كلف ان يعقد بين شعيرتين و لن يفعل.

হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন স্বপ্ন দেখার ভান করল যা সে দেখেনি,তাকে দুইটি যবের দানায় গিট লাগানোর জন্য বাধ্য করা হবে। কিন্ত সে কখনো তা করতেপারবে না’। [সহীহুল বুখারী,হাদিস নং:৬৭৬৭]

আরেক হাদিসে এসেছে,

عن ابن عمر رضي الله عنهما ان رسول الله صلي الله عليه وسلم قال ان افري الفرٰي ان يري عينيه ما لم تريا.

হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট মিথ্যা হলো আপন চক্ষুকে এমন কিছু দেখানো,যা চক্ষুদ্বয় দেখেনি (অর্থাৎ যা সে স্বপ্নে দেখেনি,এমন কিছু স্বপ্নে দেখেছে বলে দাবি করা অর্থাৎ একদম মিথ্যা বানোয়াট স্বপ্ন বর্ণনা করা)’।

এই হাদিসগুলো মাথায় রেখেই আমার দেখা কিছু স্বপ্নের কথা আজ আমাদের শুনাতে চাই। এই স্বপ্নগুলো আমি দেখেছিলাম কারাগারে থাকাকালীনসময়ে। এই স্বপ্নগুলোর মাধ্যমে মুজাহিদ ভাইদেরসাহস,উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আল্লাহর উপর ভরসা বেড়ে যাবেইনশাআল্লাহ।

 

 

প্রথম স্বপ্ন: আর এ স্বপ্নটা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। স্বপ্নে দেখলাম-

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদা পাগড়ি পরে মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছেন। আর আমি রাসুলুল্লাহসাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুতবার সবটুকু মুখস্থ করলাম। তিনি খুতবায় বর্তমান জামানার খারাপ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, “বর্তমানে যারা এই ফিতনার যুগে যুদ্ধ করছে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আমার উপর জরুরি”। এরপর রাসুলুল্লাহসাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত আমার কাঁধের উপর রাখলেন’।

দ্বিতীয় স্বপ্ন:এই স্বপ্নটা বেশ দীর্ঘ। তবে আমি স্বপ্নের সামান্য কিছু অংশ বর্ণনা করব-

‘আমি একদিন ঘুমের মধ্যে আসমান থেকে একটি আওয়াজ শুনলাম। আল্লাহর কসম, আমার কাছে এটি দাউদ আলাইহি ওয়াসাল্লামের আওয়াজের মত মনে হলো। তিনি মুজাহিদদেরকে বারবার এ কথাটা পুনরাবৃত্তি করছিলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ধারণ করো,তোমরাই হকের পথে আছ.....তোমরা ধৈর্যধারণ করো,তোমরাই হকের পথে আছ......তোমরা ধৈর্যধারণ করো,তোমরাই হকের পথে আছ....তোমরা ধৈর্যধারণ কর,কারণ তোমরাই হকের পথে আছ’।

এরপর আমি একটি কক্ষে প্রবেশ করলাম। সেখানে দেখলাম বুদ্ধিদীপ্ত চেহারারএকজন বৃদ্ধ আলেমকে। অত্যন্ত সুন্দর চেহারার অধিকারী ছিলেন তিনি। আর তাঁর দৃষ্টিশক্তি ছিল প্রখর। সম্ভবত, ওই আলেম আমাকে বললেন অথবা আমি একটি আওয়াজ শুনলাম, ‘আল্লাহ বলছেন, “মুজাহিদরা পেরেশানিতে আছে। তাঁরা অনেক দুয়া করে কিন্তু তা আল্লাহ তায়ালাকবুল করেন না”।

এরপর আমি বেশ স্পষ্ট আওয়াজ শুনলাম, “আমি মুজাহিদদের উপর সন্তুষ্ট আছি এবং পরে কখনো তাদের উপর নারাজ হব না; এতে কি তারা খুশি নয়?তাদের চাওয়া আমি অচিরেই ফিরিয়ে দিব, তাদেরকে বিজয় দান করব এবং আমি তাদেরকে ভরপুর প্রাচুর্য দিব’।

আমরা দুয়া করি,আল্লাহ যেন আমাদের উপর এবং মুসলিম উম্মাহর উপর রহম করেন। আমাদেরকে সঠিক পথের উপর রাখেন। তিনি যেন আমাদেরকে ফিতনার অন্ধকার এবং নফসের খায়েশ থেকে রক্ষা করেন। যখন আমরা শত্রুর মুখোমুখি হই তখন যেন আমাদেরকে দৃঢ়পদে রাখেন।আমীন।

আপনাদের নেক দুয়ায় আমাদেরকে ভুলবেন না।

 

**************