JustPaste.it
User avatar
Ishrak Abid @Ishrak_Abid · Mar 23, 2023

মাহে রমযানের ব্যাপারে দুটি কথা

 

এক. মাহে রমযানের প্রস্তুতি

যে কাজ যত গুরুত্বপূর্ণ তার প্রস্তুতিটাও হয় তত গুরুত্বপূর্ণ। আর একজনের মুমিনের জীবনে মাহে রমযান অতি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর একটি।
রমযানের প্রস্তুতি ও করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন প্রবন্ধ, অডিও-ভিডিও হয়তো আমাদের পড়া ও শোনা হয়েছে। নিম্নে সংক্ষেপে মূল মূল কিছু কথা আরজ করছি।  
মাহে রমযানের আগমনের পূর্বে তার জন্য প্রস্তুতিটা যত সুন্দর হবে আগমনের পর তার কদরও করা যাবে তত সুন্দর ভাবে। রমযানের প্রস্তুতির ধরণ বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন, আত্মিক ও মানসিক প্রস্তুতি, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি, পারিবারিক প্রস্তুতি, সামাজিক প্রস্তুতি ইত্যাদি।  
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আত্মিক ও মানসিক প্রস্তুতি। মনে প্রাণে একথা বদ্ধমূল করে নেওয়া যে, এ রমযানই হয়তো আমার জীবনের শেষ রমযান। আগামী রমযান হয়তো আমার ভাগ্য ঝুটবে না। তাই এ রমযানকে আমি আমার জীবনের সুন্দরতম রমযানে পরিণত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। 
প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি বলতে উদ্দেশ্য, সম্ভব হলে রমযানে প্রাতিষ্ঠানিক সকল দায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে নেওয়া, না হয় কমপক্ষে তার পরিমাণ কমিয়ে আনা। 
পারিবারিক প্রস্তুতি বলতে উদ্দেশ্য, রমযানে পরিবারের প্রয়োজন পূরণের জন্য বাজারে কিংবা মার্কেটে যেন খুব একটা যেতে না হয় আগ থেকেই সে চেষ্টা করা। পাশাপাশি পরিবারের সবাইকে নিয়ে রমযানের ফাযায়েল ও মাসায়েল আলোচনা করা। রমযানে বেশি বেশি আমল করার প্রতি পরিবারের সবাইকে উদ্ধুদ্ধ করা। পরিবারের ছোট বড় সবার কুরআন তিলাওয়াত, কিয়ামুল লাইল, দান সদকা, দোয়া-মুনাজাত ইত্যাদির পরিমাণ যেন বৃদ্ধি পায়, এখন থেকেই সেই চেষ্টা করতে থাকা।  
সামাজিক প্রস্তুতি বলতে উদ্দেশ্য, সমাজের কোনও মানুষই যেন রমযানের খায়ের ও বরকত থেকে মাহরূম না থাকে রমযানের আগ থেকেই সেই ফিকির করা। এ উদ্দেশ্য মসজিদ কিংবা ইসলামী পাঠাগার কেন্দ্রিক ছোটখাট আলোচনা সভার আয়োজন করা, যেখানে রমযানের ফাযায়েল-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা হবে। রমযানে বেশি বেশি আমল করার প্রতি উৎসাহমূলক কথাবার্তা হবে। বাজার কিংবা মার্কেট কেন্দ্রিক মসজিদগুলোতে এ জাতীয় আয়োজন খুবই উপকারী হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি রমযানে বয়স্কদের জন্য কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করা।  

 

রমযানের মূল্যবান মুহূর্তগুলো উত্তম উপায়ে কাটানোর জন্য এখন থেকেই আমরা নিম্নোক্ত আমলগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করি;

 

=> এখন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাত ও তাকবীরে উলার সাথে আদায় করার চেষ্টা করি।   

 

=> প্রত্যেক নামাযের আগে পরে মিলিয়ে কমপক্ষে চার পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করার চেষ্টা করি। এতে করে প্রতিদিন খুব সহজেই এক পারা তিলাওয়াত হয়ে যাবে। এটি অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলে রমযানে ইফতার ও সাহরির সময়কার তিলাওয়াত মিলে প্রতিদিন দুই পারা অনায়াসে হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

 

=> সাধারণ তিলাওয়াতের পাশাপাশি তাদাব্বুরসহ তিলাওয়াতের জন্য তাদাব্বুর বিষয়ক আরবি কিংবা বাংলা কিছু কিতাব পড়ে নিই। যেন রমযানে সাধারণ তিলাওয়াতের পাশাপাশি তাদাব্বুরসহ তিলাওয়াতের আমলটিও করতে পারি। 

 

=> এখন থেকেই দোয়া-মুনাজাতের পরিমাণ বৃদ্ধি করি। বিশেষ করে নফল নামাযে সিজদারত অবস্থায়। কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দোয়া ও আযকারের কোনো পুস্তিকা (যেমন, মুনাজাতে মাকবুল, হিসনুস হাসীন) থেকে মুখস্থ কিংবা দেখে দেখে দোয়া করতে পারি। এখন থেকে করতে থাকলে রমযানে এটিকে আরও বৃদ্ধি করা যাবে ইনশাআল্লাহ। 

 

=> নফল রোযা রাখি। কমপক্ষে সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযাগুলো রাখি। পাশাপাশি অল্প আহারে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করি।

 

=> এখন থেকেই সব রকমের হারাম ও গুনাহ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে দূরে রাখি। বিশেষ করে অনলাইন-অফলাইনে নজরের গুনাহ ও জবানের গুনাহের ব্যাপারে সর্তক থাকি।  

 

=> দিন-রাতের একটি মুহূর্তও অহেতুক ও অনর্থক কাজে নষ্ট না করি। মুখে কোনও কোনও যিকির কিংবা দোয়ার বাক্য আওড়াতে থাকব। না হয় কমপক্ষে মনে মনে দোয়া করতে থাকব। সবসময় আল্লাহর কাছে কিছু না কিছু চাইতে থাকব।

 

দুই. মাহে রমযান কীভাবে কাটাবো? 

রমযানের মহা মূল্যবান সময়গুলোকে যথাযথ ভাবে কাজে লাগানোর জন্য আগ থেকেই পরিকল্পনা থাকা নেহায়েত জরুরি। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া কোনও ক্ষেত্রেই সফল হওয়া যায় না।
নিম্নে সংক্ষেপে কিছু পরিকল্পনা উল্লেখ করা হলো;

 

=> রমযানের প্রথম মুহূর্ত ও শেষ মুহূর্ত আমি এমনভাবে কাটাবো যে, আমি তখন মসজিদে কিংবা বাসায় নিজ মুসাল্লায় তিলাওয়াত বা যিকিরে মশগুল থাকব ইনশাআল্লাহ।

 

=> রমযানের কোনও একটি নামাযও জামাত ও তাকবীরে উলা ছাড়া আদায় করব না।

 

=> প্রতিদিন কমপক্ষে দুই পারা সাধারণ তিলাওয়াত এবং কমপক্ষে এক পৃষ্ঠা তাদাব্বুরসহ তিলাওয়াত করব।

 

=> ইফতার, সাহরি ও অন্য সময় মিলিয়ে দৈনিক কমপক্ষে ৩০ মিনিট দোয়া-মুনাজাতে কাটাবো। (মুনাজাতে মাকবুল, হিসনুস হাসীন বা এ ধরনের কোনো কিতাব দেখে দেখেও দোয়া করতে পারি।) 

 

=> ফরয নামাযের আগে পরের কোনও সুন্নত -মুয়াক্কাদা হোক বা গায়রে মুয়াক্কাদা- কোনোটাই ছাড়বো না। 

 

=> সালাতুদ দোহার দুই বা চার রাকাত এক দিনও বাদ দেবো না।

 

=> সাহরির সময় আট রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করবো। 

 

=> ছোট বড় সকল প্রকার গুনাহ, বিশেষ করে নজরের গুনাহ ও জবানের গুনাহ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে রাখবো।

 

=> রমযানে ফেসবুক ও ইউটিউব দেখা একদম বন্ধ রাখবো।

 

=> অহেতুক কথাবার্তা কমিয়ে যতটা পারি নিজেকে যিকিরে মশগুল রাখার চেষ্টা করবো। 

 

=> প্রতিদিন কমপক্ষে একজন রোযাদারকে ইফতার করাবো। হোক তা সামান্য কিছু দিয়ে।

 

=> প্রতিদিন অল্প করে হলেও কিছু না কিছু সদকা করবো। 

 

=> রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফে বসার চেষ্টা করবো। কারো একান্ত ওযর থাকলে শেষ দশকের রাতগুলো নফল ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে কাটানোর চেষ্টা করবো।

আল্লাহ তাআলা আমাদের শাবান মাসে বরকত দান করেন। আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত পৌঁছান এবং রমযানের পূর্ণ খায়ের ও বরকত আমাদের সবাইকে নসীব করেন, আমীন ইয়া আরহামার রাহীম