JustPaste.it

প্রশ্নোত্তর

 

হাফেজ মোঃ আব্দুল্লাহ

প্রশ্নঃ নামাযের মধ্যে ইমাম সাহেবের অজু ভেঙ্গে গেছে। এই অবস্থায় কোন 'মাসবুক' ব্যাক্তিকে-যে এক বা দু' রাকাত নামায হয়ে যাওয়ার পর জামাতে শরীক হয়েছে- ইমাম বানান যাবে কি? যদি এমন ব্যক্তিকে ইমাম বানান বৈধ হয়, তবে সে নিজে কোন্‌ নিয়মে বাকী নামায আদায় করবে।

উত্তরঃ হ্যাঁ, মাসবুককেও ইমামের স্থলাভিষিক্ত করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মাসবুক ব্যক্তি ইমামের অবশিষ্ট নামায শেষ করতঃ সালামের পূর্বে অন্য একজনকে তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবে, যিনি সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবেন ও মুক্তাদীর নামায শেষ করাবেন, অতঃপর ঐ মাসবুক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তার অবশিষ্ট নামায শেষ করবেন।

উল্লেখ্য, ইমামের প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরো নামায পেয়েছে এমন ব্যক্তিকেই খলীফা নিয়োগ করা উত্তম।

১। ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/৯৬

২। আদ্দুররুল মুখতার-১/৬১০

 

মুহিবুল্লাহ

প্রশ্নঃ  যদি কোন ব্যাক্তি রমজানে ফিৎরা না দেয়, তবে রমজানের পরে ফিৎরা দিলে তা আদায় হবে কি?

উত্তরঃ  ঈদগাহে যাবার পূর্বেই ফিৎরা আদায় করে দিতে হয়। কেউ যদি ঐ সময়ের মধ্যে আদায় না করে, তবে পরে আদায় করলেও তা আদায় হয়ে যাবে।

১। ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/১৯২

২। আদ্দুররুল মুখতার-২/৩৫৮

 

মোঃ সিরাজুল ইসলাম

প্রশ্নঃ নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাকি নামাজে ভুল করার পর সাহু সেজদা দিয়েছেন। নামাজের মধ্যে আমাদের ভুল হলেও নাকি এ কারণে সাহু সেজদা দিতে হয়। আসলে বিষয়টা কি?

উত্তরঃ রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেই একটি ভুলের কারণে এক নামাযে সিজদায়ে সাহু করেছিলেন একথা হাদীসের কিতাবে উল্লেখ আছে। হয়তো বা আল্লাহ্‌ তা'আলা বান্দাদের সিজদায়ে সাহুর তরীকা শেখানোর জন্যেই তাঁর প্রিয় রাসূলের দ্বারা এমনটি করিয়েছেন।

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঐ আমল এবং আরো দু' একটি হাদীসের ভিত্তিতে উম্মতে মুহাম্মদীকে নামাযে ভুল করার কারণে সেজদায়ে সাহু দিতে হয়।

সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১০৩৪,৩৫

 

মোঃ আব্দুল মান্নান পলাশ

প্রশ্নঃ এক লোক একবার বন্ধুদের সাথে তামাশা করে বলে ফেলেছে, ‘আমি যে সময় যে মেয়েকে বিবাহ করব, ঐ সময় ঐ মেয়েকে তালাক।' এখন জিজ্ঞাসা হচ্ছে, এই লোক বিবাহ করলে তার বিবাহবন্ধন অটুট থাকবে না বিচ্ছিন হয়ে যাবে?

উত্তরঃ লোকটি বিবাহ করলেই তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। যদি সে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ চায়, তবে বিবাহের পূর্বের কোন নির্ভরযোগ্য ফাতাওয়া বিভাগে গিয়ে তার নিয়ম জেনে নিবে।

(ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/৪১৫)

 

মোঃ মাহমুদ করীম

প্রশ্নঃ কোন ব্যক্তি সেহরী খাওয়ার পর ঘুমিয়ে গেলে তার স্বপ্নদোষ হয়। উঠে দেখে সোবহে সাদেক হয়ে গেছে। এখন সে কিভাবে গোসল করবে? গোসল করার সময় কিভাবে গলায় গড়গড়া করবে? গড়গড়া করার সময় যদি গলার মধ্যে পানি ঢুকে যায়? আর গলায় পানি ঢুকে যাওয়ার আশংকায় সে যাদি গড়গড়া না করে তবে তার গোসল সম্পূর্ণ হবে কি?

উত্তরঃ রোযাদার ব্যক্তির জন্য ফরয গোসলেও গড়গড়া করা জরুরী নয়, সুতরাং এসব ক্ষেত্রে গড়গড়া ছাড়া কুলি করেই গোসল সেরে নিবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/১৯৯৯

 

মোঃ কেফায়েত উল্লাহ এলহামী

প্রশ্নঃ কোন কোন এলাকায় দেখা যায়, মানুষ মারা যাবার পূর্ব মুহুর্তে তাকে তাড়াতাড়ি মাটিতে নামান হয়। মরণাপন্ন ব্যক্তিদের সাথে এমন আচরণ করা উচিত কি? এসব কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোকদের সম্পর্কে আপনাদের ধারণা থাকলে দু' কলম লিখে জানালে উপকৃত হব। এ সম্পর্কে শরয়ী ফয়সালাও জানাবেন বলে আশা করি।

উত্তরঃ মুমূর্ষু ব্যক্তিকে মাটিতে নামিয়ে ফেলার কোন নির্দেশ শরীয়তে নেই, এটি নিতান্তই মনগড়া কুসংস্কার, সুতরাং তা অবশ্যই বর্জনীয়।

 

মোঃ আমীরুল ইসলাম

প্রশ্নঃ দাড়ি ঘন ও মোটা হয়ে ওঠার নিয়তে দাড়ি গজানোর প্রথম দিকে তা কামান জায়েজ হবে কি?

উত্তরঃ না, কোন অবস্থাতেই দাড়ি কামানো জায়েয নেই। দাড়ি মোটা বা ঘন করা বান্দার দায়িত্ব নয়, সুতরাং এ অপ্রয়োজনীয় কাজ করতে গিয়ে দাড়ি কামানোর গুনাহ্‌ কাঁধে নেয়ার মানেই হয় না।

১। কিতাবুল আসার-পৃঃ ৩৭৯

২। আদ্দুররুল মুখতার-৬/৪০৭

 

মোঃ শাহজাহান সিরাজী

প্রশ্নঃ কোন ইমাম যদি গায়রে মাহরামের সাথে পর্দা না করেন, তবে তার পিছনে নামায পড়লে সহীহ হবে কি?

উত্তরঃ পর্দার বিধান মানা ফরয, যে ইমাম তা রক্ষা করেন না, তিনি শরীয়তের দৃষ্টিতে ফাসেক। আর ফাসেকের পিছনে নামাঘ পড়া মাকরুহে তাহরীমী।

১। সূরা নূর-৩০

২। ফাতাওয়া শামী-১/৫৫৯

 

মোঃ শফী উল্লাহ

প্রশ্নঃ পাগড়ির ঝুল কাঁধের উপর থেকে এনে বুকের কোন এক পাশে ঝুলিয়ে নামায পড়ায় কোন সমস্যা আছে কি? এবং ডবল পাগড়ি বাঁধার বিষয়ে শরীয়াতের হুকুম কি?

উত্তরঃ পাগড়ীর শিমলা পিছনের দিকেই রাখবে অথবা শিমলা ছাড়াই পাগড়ী বাঁধবে। সামনের দিকে বুকের উপর তা ঝুলিয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। (শরহুল মাওয়াহেব ৬/২৭৭)

একাধিক পাগড়ী এক সাথে পরিধান করার কোন বিধান শরীয়তে নেই।

 

মোঃ আদম ছফিউল্লাহ

প্রশ্নঃ দেশ ও সমাজের কোন্‌ পরিস্থিতিতে জিহাদ ফরজে আইন হয়?

             উত্তরঃ  যখন কাফের গোষ্ঠি দ্বারা মুসলিম এলাকা আক্রান্ত হয় এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সকল মুসলমানকে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানানো হয়, তখন জিহাদ ফরযে আইন হয়।

১। আদ্দুররুল মুখতার ৪/১২৬-১২৭

২। ফাতাওয়া হিন্দিয়া-২/১৮৮

৩। আল বৰাহরুর রায়েক ৫/৭২

 

আব্দুল্লাহ আল-মমুন

 

প্রশ্নঃ অনেক আলেম মীলাদ ও কেয়াম করেন। অনেকে আবার একে বেদআত বলে এ থেকে বিরত থাকার উপদেশ দেন। কোনটি সঠিক। দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তরঃ রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনী আলোচন করা, সে মোতাবেক জীবন গড়া এং যথাসম্ভব বেশি বেশি তাঁর উপর দরুদ পড়া সকল মুসলমানের কর্তব্য। কিন্তু প্রচলিত মিলাদ ও কিয়ামের কোন ভিত্তি কুরআন হাদীসে নেই। সাহাবা, তাবেঈন তাবে তাবেঈন তথা স্বর্ণযুগে এর কোন অস্তিত্ব ছিল না। সুতরাং এটি একটি মনগড়া রুসম, যা বর্জনীন।

১। তারিখে মীলাদ

২। জাওয়াহিরুল ফিকহ্

 

অজিউল্লাহ

প্রশ্নঃ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত মসজিদের টাকা ব্যয় করার পর আবার তা জমা করে রাখার ব্যাপারে শরীয়াতের হুকুম কি?

উত্তরঃ মসজিদের টাকা এভাবে ব্যবহার করা জায়েয নেই। তবে জমা করে দেয়ার দ্বারা তার দায়িত্ব আদায় হয়েছে। এখন উক্ত কাজের জন্য আল্লাহ্‌ তা'আলার দরবারে ক্ষমা চাইবে।

ফাতওয়া শামী-৪/৩৫২

 

মোঃ আকবর খান জুয়েল

প্রশ্নঃ আমি দু'টি পত্রিকায় একটি প্রশ্ন পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশ্নের উত্তরে ভিন্নতার ফলে পাঠক মহলে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

 

আমার প্রশ্ন ছিলঃ

প্রশ্নঃ অমুসলিম রাষ্ট্রের কাফেরদের সাথে ইসলামী রাষ্ট্রের জিহাদ করার জন্য কারণবশতঃ পনের দিনের বেশী থেকে জিহাদ করলে নামাজ কসর করতে পারবে কি না।

আর তাবলীগ জামাতে যারা চিল্লা দিতে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় এবং এক মসজিদে তিন দিন করে থাকার নিয়ত করেন, তারা নামাজ কসর করবেন কি না? আরবী, বাংলা ও ইংরেজী, মাইলে তারতম্য আছে। এখন আমরা কত মাইল সফর করার পর কসর নামাজ পড়ব?

এর উত্তরে একটি পত্রিকা লিখেছেঃ ইসলামী রাষ্ট্রের সৈনিক বা মুজাহিদরা যদি কোন কাফের রাষ্ট্রে জিহাদ করার জন্য যায় অথবা নিজ দেশে কোন বিদ্রোহী এলাকাকে ঘেরাও করে রাখে, এমতাবস্থায় তারা যদি পনের দিন বা তার চেয়ে বেশী থাকার নিয়ত করে তবুও তারা মুসাফির থাকবে। কেননা তারা অবস্থান এবং পলায়নের মর্ধবর্তী অবস্থায় দিন অতিবাহিত করে।

(শামী ১/৫২৯ পৃঃ)

দ্বিতীয়তঃ ইসলামী শরীয়তের ভাষায় যে ব্যক্তি তিন মনজিল বা ৪৮ মাইল (আরবী) পথ অতিক্রম করার ইচ্ছায় ঘর থেকে বের হয়, তাকে মুসাফির বলা হয়। প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ফতোয়ায়ে হিন্দিয়াতে রয়েছে যে, আরবী মাইল হয় চার হাজার হাত বা দুই হাজার গজ, যা আমাদের দেশের ২ কিঃ মিঃ এর সমান। এর ৪৮ মাইল আমাদের দেশের হিসাবে ৯৬ কিঃ মিঃ। কোন অঞ্চলে ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশী থাকার নিয়ত না করলে নামাজ কসর পড়া ওয়াজিব। একথা দ্বারা বুঝা যায়, যদি তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা কোন একটি শহরের কয়েকটি মসজিদ মিলে মোট ১৫ দিন অথবা তার চেয়ে বেশী থাকার নিয়ত করে তবে তাদের নামাজ পরিপূর্ণ পড়তে হবে।

(হেদায়া ১ম খণ্ড ১৬৬ পৃঃ)

অপর পত্রিকাটি উত্তরে লিখেছেঃ “পনের দিনের উর্ধে এক স্থানে অবস্থান করলে মুসাফির হয় না।”

আর “ইংরেজী মাইল হল ১৭৬০ গজে। শরীয়তের মাইল হল ২০০০ গজে। এভাবে ৪৮ মাইল দূরে যাওয়ার নিয়ত করে আপন এলাকা ত্যাগ করলে এবং সেখানে ১৫ দিনের কমে অবস্থান করার নিয়ত করলে মানুষ মুসাফির হয়। মুসাফির অবস্থায় চার রাকাত ফরজের ২ রাকাত পড়তে হয়। তাবলীগ জামাতের লোকেরা এক স্থানে ১৫ দিন অবস্থান করে না বলে তারা মুসাফির থাকে।” পাঠকদেরকে এই বিভ্রান্তির কবল থেকে উদ্ধারের দায়িত্ব আপনাদের কাঁধে তুলে দিয়ে উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।

উত্তরঃ মাসআলাটি সম্পর্কে পাঠানো দু'টো উত্তরের কোনটির উপর কোন মন্তব্য না করেই নিম্নে এ মাসআলার জবাব লেখা হচ্ছেঃ

ইসলামী রাষ্ট্রের মুজহিদগণ অমুসলিম দেশে গিয়ে জিহাদ করতে থাকলে যদি সেখানে ১৫ দিনেরও বেশি অবস্থানের নিয়ত করেন, তবুও তারা মুসাফির গণ্য হবেন এবং কসর করতে থাকবেন।

-ফোতাওয়া শামী ২/১২,

-ফাতাওয়া আলমগীরী ১/১৪০

তাবলীগ জামাতের লোকজন যদি একই গ্রামের বিভিন্ন মসজিদে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করেন, তবে তারা পুরো নামায পড়বেন। পক্ষান্তরে যদি এক জেলা/থানা অথবা ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করেন, তাহলে পুরো নামায পড়বেন। 

(১) বাদায়েউস সানায়ে-১/২৭ (হিন্দ)

(২) ফাতাওয়া শামী-১/১২৬

(৩) আল বাহরুর রায়েক-২/১৩২

(৪) তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/২১৬)

আরবী মাইল ও ইংরেজী মাইলের মধ্যে পার্থক্য আছে। কিন্তু সফরের দূরত্বের জন্য যে ৪৮ মাইলের কথা বলা হয়, তা ইংরেজী মাইলের হিসাবেই বলা হয়। আরবী হিসবে তা হচ্ছে ৪৫ মাইল। ফিকহের কিতাবগুলোতে সফরের দূরত্বের ব্যাপারে যে ১৫ ফারসাখ এর কথা বলা হয়েছে, সে হিসাবেও শরয়ী ৪৫ মাইল হয়। কারণ এক ফারসাখ হয় ১৫ মাইলে।

সুতরাং বাংলাদেশ পাক-ভারত তথা উপমহাদেশের সমতলভূমির হিসাবে সফরের দূরত্ব হবে ৪৮ মাইল তথা ৭৭.২৪ কিঃমিঃ। হযরত মুফতী শফী সাহেব তাঁর আওযানে শরীয়া গ্রন্থে এবং মুফতী রশিদ আহমদ সাহেব আহসানুল ফাতাওয়ার ৪নং খণ্ডে সবিস্তার তাহকীকী আলোচনা করেছেন।

উত্তর প্রদানঃ মুফতী আব্দুল্লাহ