JustPaste.it

পাঠকের কলাম
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সরকারের অনীহার কারণ কি?


শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা বলতে আমরা সেটাই বুঝি, যে শিক্ষায় নৈতিক মূল্যবোধ রয়েছে। নীতি জ্ঞানহীন শিক্ষা শিক্ষা নয়। শিক্ষাহীন জাতি পশুর সমান; কেননা এটাই পার্থক্য মানুষ ও পশুর মধ্যে। যখন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা বা মনুষ্যত্ব লোপ পায় তখন সে বর্বরতা ও পশুত্বের কাতারে এসে দাঁড়ায়। যেমনটি প্রমাণিত হচ্ছে পাশ্চাত্যের বেলায়। যেহেতু জ্ঞানই জাতির অন্যতম শক্তি, তাই প্রত্যেক জাতি চায় তারা ভবিষ্যত প্রজন্মকে লেখা-পড়ার মাধ্যমে ইতিহাস ও তাহজীব-তামাদ্দুন শিক্ষা দিবেন এবং তাদেরকে গড়ে তুলবেন জাতির ভবিষ্যৎ যোগ্য কর্ণধার হিসেবে। তাদের আশা, এরা হবে পুণ্যময় জীবনের অধিকারী, সফলকাম একটি জাতি, শিক্ষা সংস্কৃতি ও তাহজীব-তামুদ্দনের ধারক বাহক। এদের রীতি-নীতি. কুষ্টি-কালচার সবই হবে মুগ্ধকর। এক সময় এই মহান উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয় জনপদ সমূহে ছোট-বড় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মহা ও বিশ্ববিদ্যালয়। 
আমাদের ভেবে দেখা দরকার, শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা কতটুকু উন্নতির দিকে অগ্রসর হতে পেরেছি। সাধারণত জাতি, ধর্ম, স্থান, কাল তথা ভৌগোলিক সীমারেখায় গড়ে উঠা বিভিন্ন জনপদের তাহজীব-তামাদ্দুন, শিক্ষা-সংস্কৃতি ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তর ১টি মুসলিম দেশ হিসেবে এদেশের তাহজীব-তামাদ্দুন, শিক্ষা-সংস্কৃতি সবকিছু ইসলামী হওয়া উচিত কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা কতটুকু কামিয়াব? আমাদের নৈতিকতা, শিক্ষা-দীক্ষাই বা কতটুক ইসলামিক? এদেশের শিক্ষা নীতিই বা কিরকম? আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আদর্শ জাতি গঠনে কতটুকু অবদান রাখতে পারছে? সত্যিকার অর্থে যদি সরকার পালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আদর্শ মানুষ গঠনে সফল হতো তবে সর্বক্ষেত্রে আদর্শহীনতার সয়লাব কেন? কেন এত আকাল ভালো মানুষের? চিকিৎসার ক্ষেত্রে পারদর্শী চিকিৎসক আমাদের কয়জন আছে? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে যোগ্য মানুষ ক'জন তৈরী হল আমাদের। খনিজ সম্পদ সদ্ব্যবহারে এখনো বিদেশী প্রকৌশলী প্রয়োজন হয় কেন? রাষ্ট্র বিজ্ঞানে পারদর্শী ক'জন? অর্থনীতিতে দক্ষ ব্যক্তির সংখ্যা কত? 
এদেশের ছাত্রদের মেধা কি কম? তাদের ন্যায়-পরায়ণতা, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকরণ ও হালাল হারামের যাচাই বাছাই করার সুশিক্ষা ক'জনের আছে? এদেশে কি ইসলামী অর্থনীতি চলতে পারে না। এদেশের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের সাথে ইসলামের মিলই বা কতটুকু? মুসলমানদের অর্থে দালাল তৈরী হচ্ছে কেন? নিশ্চয় বলতে হবে, আমাদের শিক্ষা-পদ্ধতিতে ক্রটি রয়েছে। মনে হয় আমরা এদেশ থেকে ব্রিটিশ বেনিয়াদের শারীরিকভাবে বিতাড়িত করেছি কিন্তু ওদের আত্মা এখনো আমাদের সরকারের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে আছে। ইংরেজরা এদেশে এসে সর্ব প্রথমে ইসলামী শিক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিলো। বিলেতী মেধার মোল্লা তৈরী করার জন্য ওরা এক প্রকার মাদ্রাসাও কায়িম করেছিলো। দুখের সাথে বলতে হয়. বেনীয়াদের ষড়যন্ত্রের ফলে আজ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ত্রিধারায় বিভক্ত। 
আমরা বরাবর ইংরেজদেরকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করলেও তাদের দেয়া শিক্ষা পদ্ধতিতে আংশিক পরিবর্তন ছাড়া, আমূল পরিবর্তন সাধন করতে পারিনি। তাই আজ আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বের হচ্ছে তাদের সে অঘোষিত উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ক, স্বজাতির গাদ্দার তথা পাশ্চাত্যের দালাল। কখনো তসলিমার বেশে, আবার কখনো আহমদ শরীফের মুখোশ পরে, কখনো ডঃ কবিরের ছদ্মবরণে। আজ আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ দলাদলির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আমার দেশের রাজনীতির সার সংক্ষেপ হচ্ছে-মারামারী, হানাহানি, রাহাজানী, ছিনতাই ও অরাজকতা। একদল বসে তাদের রাজনৈতিক আলাপে আর হঠাৎ তাদের পাশে বিক্ষোরিত হয় ককটেল ও বোমা। অপরপ্রান্তে ধ্বনিত হয় গুলির আওয়াজে৷ দেখা যায় অন্য দলের কিছু ছাত্র, শুরু হয় এবার মারামারী, গোলাগুলি__ কেউ আহত কেউ নিহত। আবার শুরু হয় এদের নিয়ে টানাটানি, ঘোষিত হয় বন্ধ। এভাবে যত বড় প্রতিষ্ঠান তত জ্ঞানের ঝুকি নিয়ে কাটাতে হয় ২৪ ঘণ্টা। পুজি তার একটা কাটা বন্দুক, কয়েকটা ককটেল। এদিকে বাপ-চাচা, আস্তীয়-স্বজন চেয়ে আছে তার দিকে-আসবে সে একজন বড় শিক্ষিত হয়ে, চাকুরি করবে সে ১টা বড় পদে, হবে সে  ১টা বড় কিছু -প্রকৌশলী, আইনজীবি বা সাংবাদিক-সাহিতাক।
এভাবে সময় অতিক্রম করে বের হয়, কেউ পাস, কেউ বাস, কেউ সিকি পাস, কেউ আধা পাস, কেউ নকল পাস আবার কেউ চুরীপাস। এই হচ্ছে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবদান। এই সুর্বণ সুযোগের সৎ ব্যবহারে এগিয়ে আসছে পাশ্চাত্য কুচক্রী মহল __সাহায্যের নামে, শিক্ষা ও চিকিৎসার নামে তথা এনজিওর বেশে। বাড়ী-গাড়ি, নারী ও পয়সার লোভ দেখিয়ে ওরা মাথা ক্রয় করছে। একদল গাদ্দার মুনাফিক মীর জাফর ওদের পাশে ঘুর ঘুর করে। এদেরকে সাথে নিয়ে ওরা কুমতলব হাসিলের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। কাজে লাগায় আমাদের বেকার শিক্ষিতদের, তাদেরকে ইসলাম বিদ্বেষী রূপে গড়ে তুলে। শেখায় তাদের অমানবতা ও পশুত্বের আচরণ। ব্যক্তি স্বাধীনতার বুলি আওড়িয়ে এদের উৎসাহিত করে জেনা, বেভিচার তথা অবাধ যৌনাচার, অবৈধ যৌন ক্ষুধা নিবারণের প্রতি। একশ্রেনীর মহিলাদেরকে ব্যবহার করে এ সব বর্বরতার ঘাটি স্বরূপ। 
কিন্তু এরা বুঝতে পারেনি যে. বাংলাদেশে তাদের দালাল মহল ছাড়াও লক্ষ কোটি তাওহীদী জনতা ইসলামের জন্য বুকের তাজা রক্ত দিতে প্রস্তুত রয়েছে। জাতিসংঘ কায়রো সম্মেলনের প্রতি তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বাদ দিতে হয়েছে তাদের খসড়া দলিল থেকে বিকৃত অংশটুকু। বরণ করতে হয়েছে ছিঃ ছিঃ আর ধিক্কার বাণী। ছিঃ ছিঃ জাতি সংঘ! তোর কি লজ্জা নেই? এতঅপমানিত হস তুই, ছীঃ! 
অতএব, এরূপ করুণ মুহুর্তে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, জাতির উন্নতি যদি চান, ১টি হিতকর শিক্ষাবাবস্থা গ্রহণ করুন, জাতির মর্যাদা রক্ষা করুন। পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্রের শিকার না হউন এবং ছাত্র/ছাত্রীদের শিক্ষা ও ডিগ্রীকে সরকার কর্তৃক গ্রহণ করে তাদের যথাযোগ্য মর্যদা দান করুন। এদাবী সময়ের, এ দাবী জনতার।
(পত্র লেখক নাম ঠিকানা উল্লেখ করেননি)