এক ভাই গণতন্ত্র নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন। সেটাতে তিনি তাওহিদ ও জিহাদের নববী মানহাজের অনুসরণকারী ভাইদের প্রতি চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং ইসলামপন্থীদের গণতন্ত্র করার ব্যাপারে কিছু যৌক্তিকতা দাড় করিয়েছেন! আজ আপনাদের সামনে সেই ভাইয়ের বিশ্লেষণধর্মী লেখাটির উপর আমার ব্যক্তিগত পর্যালোচনা পেশ করার নিয়ত করেছি , ওয়ামা তাওফিকী ইল্লা বিল্লাহ।

প্রথমে ঐ ভাই প্রচলিত গণতন্ত্রকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন-

‘‘প্রচলিত গণতন্ত্র কমপক্ষে দুই প্রকার:

১. সরাসরি ধর্মের বিরুদ্ধে সেক্যুলারীয় এন্ড কামালীয় গণতন্ত্র। পশ্চিমা গণতন্ত্র মূলত এটিই।

২. কনজারভেটিভ বা রক্ষণশীল গণতন্ত্র। অর্থাৎ ইসলামের সাথে আকীদাগত সাংঘর্ষিক জায়গুলোতে ব্যাখ্যায় যাওয়া এবং ইসলামের সাথে সংঘর্ষ দুর করার চেষ্টা করা। বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বেশ অনেকগুলোতে এধরনের গণতন্ত্র চর্চিত হয়। যেমন পাকিস্তানের সংবিধানের শুরুতেই আছে, সবকিছুর বিধানদাতা একমাত্র অাল্লাহ। বাংলাদেশের বড় দলগুলোর নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে থাকে যে, ইসলামবিরোধী কোন আইন করা হবে না।

এই দ্বিতীয় প্রকারটি মূলত গড়ে উঠেছে মুসলিম কমিউনিটির চাপে। দ্বিতীয় প্রকারটির কুফর এত সুস্পষ্ট না যে, এক্ষেত্রে দলগত তাকফীর করা যায়। বরং এখানে প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যাপারে আলাদা বিবেচনা করতে হবে। তবে দ্বিতীয় প্রকারটিও আসলে ইসলামসম্মত না। অনেকগুলো কারণে। এবং দ্বিতীয় প্রকারটি মেনে নেওয়া এবং গ্রহণ করা ইসলামী গায়রত ও আত্মমর্যাদাবিরোধী।’’




তাঁর এই প্রকারভেদের সাথে আমি ব্যক্তিগতভাবে একমত নই। প্রকৃতপক্ষে, প্রচলিত গণতন্ত্রের কোন প্রকারভেদ নেই, বরং গণতান্ত্রিকদের মাঝে প্রকারভেদ আছে। তিনি কনজারভেটিভ বা রক্ষণশীল গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন ইসলামের সাথে আক্বিদাগত সাংঘর্ষিক জায়গাগুলোতে ব্যাখ্যায় যাওয়া এবং ইসলামের সাথে সংঘর্ষ দূর করার চেষ্টা করা। তাঁর এই প্রকারভেদটা আমার কাছে অস্পষ্ট মনে হয়েছে। আসলে গণতন্ত্রের ইসলামী ব্যাখ্যা গণতন্ত্র করে না, বরং গণতান্ত্রিকরা করে। তাই, এখানে গণতন্ত্রকে প্রকারভেদ করার দ্বারা একটি অঞ্চলের গণতন্ত্রে অংশগ্রহণকারী স্বঘোষিত সেক্যুলারদেরও এই প্রকারভেদে ফেলা হয়। যাইহোক, গণতন্ত্রকে দুইভাগ না করে গণতান্ত্রিকদের প্রকারভেদ করাই সঙ্গত মনে হয়েছে আমার দৃষ্টিতে! আর, ঐ ভাইয়ের বলা তাওহিদ ও জিহাদের নববী মানহাজের অনুসরণকারী ভাইয়েরাও মূলত গণতান্ত্রিকদের মাঝে প্রকারভেদ করে থাকেন, গণতন্ত্রের মাঝে না। অর্থাৎ, এখানে মূল বিষয়টা হলো ঐ ভাইয়ের করা গণতন্ত্রের প্রকারভেদে কোন মৌলিক প্রায়োগিক পার্থক্য নেই। পার্থক্য হল ব্যাখ্যায়। এটা একটা কৃত্রিম পার্থক্য। এটার অস্তিত্ব হল ব্যাখ্যাদানকারীদের মনোজগতে। বাস্তবতা হলো উভয় প্রকারের ধরণ একই – সংসদ আইন পাশ করবে, সেই আইন দিয়ে বিচার হবে। শাসন হবে। বাকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে জনমত ও সেই অঞ্চলের অবস্থা বিবেচনায় কিছু ছোট-খাটো বাহ্যিক পরিবর্তন থাকে। যেমন- সংবিধানে বিসমিল্লাহ বা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উল্লেখ থাকা!

যাইহোক, ঐ ভাইয়ের আলোচনার উপর আমার পর্যালোচনার মূল বিষয় এটা না। মূল আলোচ্য বিষয় হলো তাঁর শেষের কিছু কথা নিয়ে, যেখানে তিনি ভোটে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বলেছেন-

‘‘যতদিন নিরেট ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না, ততদিন প্যারালাল বা বিকল্প পন্থায় ইসলামকে শক্তিশালী করার দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে ভোটে কিছু ভাল মানুষ ও আলেমের অংশগ্রহণ জরুরী। এর মাধ্যমে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার নিয়তে নয়, এবং এটাকে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে নয় বরং এই কঠিন পরিস্থিতিতে সরকারে অবস্থানের মাধ্যমে যতটা ইসলমাবিরোধিতাকে দমিয়ে রাখা যায় এই উদ্দেশ্যে ভোটের রাজনীতিতে অংশ নেওয়া জরুরী। এবং বিচক্ষণ আলেমরা মূলত এই নিয়তেই অংশ নেন। এই অংশ নেওয়া ইসলামের জিহাদ ও বিপ্লবের এন্টি হিসেবে নয়, বরং তার কাজকে সহজায়ন ও সহযোগিতার জন্য।’’


আমি তাঁর এই আলোচনার সাথে একমত হতে পারলাম না! আর, বাস্তবতাও তাঁর কথার সম্পূর্ণ বিপরীত দেখতে পাচ্ছি! বাস্তবতা হলো-

১। তাঁরা কোন বাঁধা দিতে পারেন না । বাঁধা দেয়ার অর্থ হল, কোন আইন বা পলিসি পাশ করতে যাওয়া হচ্ছে সেটাকে থামিয়ে দেয়া। শুধু বিরোধিতা করা না। ইসলামপন্থীদের যে অবস্থা তাতে তারা সংসদে এমন শক্তিশালী বিরোধিতাও তৈরি করতে পারে না। আর যেসব দেশে ইসলামী সেন্টিমেন্টের কথা সংসদ আমলে নেয়, সেসব দেশে আমলে নেয়ার কারণ সংসদে বা শাসন ক্ষমতায় ইসলামপন্থীদের অবস্থান না, বরং দেশের মানুষের মধ্যে ইসলামী চেতনা। যেমন:- পাকিস্তান বা সৌদি আরব। আর এসব দেশে শক্তিশালী ইসলামী চেতনার কারণ হল সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে আলেম ঊলামার দৃঢ় দাওয়াহ ও সোচ্চার অবস্থান।

২) যাঁরা ইসলামী গণতন্ত্র করেন – তাঁরা নিজেরাই এটাকে জিহাদের বিকল্প হিসাবে দাড় করান। যেমন-বাংলাদেশের চরমোনাই, জামাআতে ইসলামী, মিশরের ইখওয়ান; তাঁরা নিজেরাই বলেন- এটাই হল জিহাদ। বরং তাঁরা তো আসল জিহাদকে অস্বীকার করে এটাকেই জিহাদ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন! সুতরাং, বাস্তবতা বিবর্জিত ব্যাখ্যা মাথা থেকে বের করে এনে দিলে হবে না, সেটা বাস্তবতার সাথে মিলতে হবে।

৩) এই ইসলামপন্থিদের অনেকেই প্রায় সময় মুজাহিদীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

৪) এই ইসলামী গণতান্ত্রিকরা বলেন- আমরাও স্বীকার করি যে, পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহই হলো উত্তম কিন্তু না পারাতে আমরা এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছি। অথচ, যখন কেউ পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহ অনুযায়ী কোন কাজ করে, তখন এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে সেই উত্তম কাজটা দমনে এই ইসলামপন্থিদের কাজ করতে বাধ্য হতে হয়। এটার অনেক প্রমাণ আছে, আর আমীন শাহিনের ঘটনা একটা প্রমাণ।
এটা হল এমন ব্যাপার যে, আমি ফিরাউনের বাহিনীতে ঢুকে বনি ইসরাঈলের জন্য কিছু অর্জন করতে পারি কি না দেখি। কিন্তু চাইলেও অনেক সময় আমি ভালোটা করতে পারি না, আমাকে আল্লাহর হুকুমের বদলে ফিরাউনের হুকুমই মানতে হয়।

এই হলো ইসলামপন্থীদের গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের বাস্তবতা। এই বাস্তবতা ঐ ভাইয়ের ‘‘উলামায়ে কেরাম ও ভালো মানুষের প্রচলিত গণতন্ত্রে অংশ নেওয়া ইসলামের জিহাদ ও বিপ্লবের এন্টি হিসেবে নয়, বরং তার কাজকে সহজায়ন ও সহযোগিতার জন্য! ’’ এই কথার সম্পূর্ণ বিপরীত। অর্থাৎ, উলামায়ে কেরাম ও ভালো মানুষের প্রচলিত গণতন্ত্রে অংশ নেওয়া ইসলামের জিহাদ ও বিপ্লবের পথে অন্তরায়! এর কিছু কারণ আছে, যা আমার পূর্বোক্ত আলোচনায় মোটামুটি এসে গেছে। তারপরও, সেই কারণগুলো নির্দিষ্টভাবে আমি ইমাম ইবনুল জাওযী রহিমাহুল্লাহ-এর কথা থেকে দিচ্ছি-

ইবনুল জাওযী (মৃত্যু; ৫৯৭ হিজরি) (রহিমাহুল্লাহ) তার ‘তালবীস ইবলিস’ বইতে (পৃষ্ঠা ১২১-১২২) বলেছেন-“উলামাগণ যখন শাসকদের সাথে মেশা শুরু করেন ইবলিস তখন তাদেরকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করে। এই ধোঁকার ফলে আলেমগণ শাসকদের তোষামোদ করা শুরু করেন এবং সুযোগ থাকা স্বত্বেও তাদেরকে অন্যায় কাজে বাধা প্রদান থেকে বিরত থাকেন। তারা শাসকদের সে সকল ক্ষেত্রেও ছাড় দেয়া শুরু করেন যেখানে ইসলাম কোন ছাড় দেয়না এর ফলে তারা দুনিয়াবি কিছু স্বার্থ হাসিল করতে পারেন। আর এভেবেই অন্যায় ও দুর্নীতির রাস্তা তারা খুলে দেন।

প্রথমত, শাসকরা বলে থাকে- আমি যদি সঠিক না হতাম তাহলে এই সকল আলেমরা অবশ্যই আমাকে বাধা প্রধান করতেন। আর যেহেতু তারা আমার দেয়া সম্পদ-হাদিয়া গ্রহণ করছেন সেহেতু অবশ্যই আমার সম্পদ-হাদিয়া হালাল।

দ্বিতীয়ত, সাধারণ জনগণ বলে থাকে- এই শাসকের শাসন ব্যবস্থা, তার সম্পত্তি, তার কাজ কর্ম সবকিছুই ঠিক আছে। যদি ঠিক না থাকতো তাহলে অবশ্যই উলামাগণ তার সম্পর্কে সমালোচনা করতেন।

তৃতীয়ত, আলেমগণ বলে থাকেন- যেহেতু তারা তাদের দ্বীনকে কলুষিত করেছেন তাই শয়তান ইবলিস তাদের দ্বারা শাসকের উক্তির স্বপক্ষে যুক্তি প্রদান করায়। তারা বলে থাকেন আমরা শাসক ও সাধারণ মুসলিমদের মাঝে মধ্যস্থতা করার জন্য শাসকদের কাছে গিয়ে থাকি। তবে তাদের এই মিথ্যা ধোঁকা প্রকাশিত হয়ে যায় যখন অন্য কেউ শাসক ও মুসলিমদের মাঝে মধ্যস্থতা করার জন্য এগিয়ে আসে। তারা এই নতুন আগুন্তুককে নিয়ে খুশি হয় না। তারা শাসকের কাছে নতুন আগুন্তুককে নিয়ে আজে বাজে কথা বলে থাকে কারণ তারা শাসকদের একমাত্র মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকতে চায়।

তাই শাসকদের সাথে থাকা ঈমানদারদের জন্য খুব বিপদজনক। যখন আলেম উলামারা শাসকদের দরবারে যান তখন হয়ত সঠিক নিয়তেই যান, কিন্তু যখন শাসক তাদেরকে সম্মান করা শুরু করেন ও তাদের উপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া শুরু করেন তখন তাদের মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা চলে আসে। এরফলে তারা শাসকদের তোষামোদি করা শুরু করেন ও তাদেরকে তাদের অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করা থেকে বিরত থাকেন। আর এভাবেই তাদের নিয়তের মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। সুফিয়ান সাওরি বলতেন- “শাসকরা আমাকে অপমান করবে বা ছোট করে দেখবে এটাতে আমি ভয় পাই না। আমি ভয় পাই যে তারা আমাকে সম্মান করবে যার ফলে আমার অন্তর তাদের দিকে ঝুকে পড়বে ‘’




আলোচ্য বিষয়টিতে শাসক সম্পর্কে বলা আছে,আপনারা শাসকের জায়গায় গণতন্ত্র বসিয়ে একটু মিলিয়ে শুদ্ধ করে পড়ে নেন! তাহলেই আশা করি, উলামায়ে কেরাম ও ভালো মানুষের গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ যে কতটা ক্ষতিকর তা সুস্পষ্টভাবে বুঝে আসবে ইনশাআল্লাহ।



এখানে মুফতি হামিদুল্লাহ জান (রহিমাহুল্লাহ)-এর আলোচনাকে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি। তিনি বলেন- হারামকে হালাল সাব্যস্ত করে দেওয়া এবং হালালকে হারাম সাব্যস্ত করা, শরীয়ত প্রণয়নের হক, আইন প্রণয়ন, আইন তৈরির হক কেবল আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত।

إن الحكم إلا لله

বিধানদাতা একমাত্র আল্লাহ তাআলা। (সূরা ইউসুফ, ৪০)

কেউ বলবে ভোট আমানত, কেউ বলবে ভোট ওয়াকালত বা প্রতিনিধিত্ব। কেউ বলবে ভোট হচ্ছে সাক্ষ্য। ভোট যা কিছুই হোক, আমি একটি কথা জিজ্ঞাসা করছি — সাক্ষ্য দেওয়া হবে হকের ব্যাপারে। যে বাতিল শাসনব্যবস্থা রয়েছে, তার সমর্থনে ভোট দেওয়া হল সেই বাতিল নেজামকে মেনে নেওয়া, এই বলা যে এই বাতিল শাসনব্যবস্থা সঠিক! আপনি (ভোটকে) শাহাদাত বলছেন! তো আমি শাহাদাত মানছি, আপনি ওয়াকালত বলছেন! তো আমি ওয়াকালত মানছি, আপনি আমানত বলছেন! তো আমি আমানতও মেনে নিচ্ছি। আপনি যাই বলতে চান বলুন! কিন্তু আপনি এটা বলুন যে,
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, এই নাপাক শাসনব্যবস্থা, ইংরেজদের দেওয়া শাসনব্যবস্থা! এটাকে কার্যকরভাবে মেনে নিবেন কি, নিবেন না?

আমার মুহতারাম বুজুর্গ ভাই! কুরআন আইন প্রণয়ন ও বিধান প্রণয়নের ব্যাপারে ফায়সালা দিয়ে দিয়েছে।

মুসাল্লামুস সুবুত” এর ইবারত হচ্ছে-

أجمعت الأمة على أن الحاكم هو الله تعالى

উম্মাহ একমত হয়েছে যে, একমাত্র শাসক হচ্ছেন আল্লাহ তাআলা।

মুজতাহিদও আইন প্রণয়নকারী নন। তিনি হচ্ছেন শরঈ বিধিবিধানের ব্যাপারে পারদর্শী। তিনি শুধু বলে দেন, প্রণয়ন করেন না। আমরা বুজুর্গদের প্রতি সালাম পেশ করছি, আমরা বুজুর্গদের ইহতিরাম ও সম্মান করি। আমরা বুজুর্গদের প্রতি মন্দ ধারনা করি না। কিন্তু বুজুর্গদের এটাকে কিছু মৌলিক, কিছু অপরাগতা অথবা জরুরত বা ইজতিহাদি ভুল মনে করুন! যিনি যেই ব্যাখ্যা করুক, তিনি অংশ নিয়ে নিয়েছেন, কিন্তু অভিজ্ঞতা এটাই প্রমান করে দেয় যে, এই হযরতদের এই প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক পন্থায় কামিয়াব হতে পারবে না ।

সুতরাং

لا يلدغ المؤمن من جحر واحد مرتين

একজন মুমিন একই গর্তে দুইবার দংশিত হয়না।

পঞ্চাশ সালের চাইতে বেশি আমরা লোকদের কাছে ভোট চেয়েছি। লোকেরা আমাদের ভোট দিয়েছেন, কখনো এমনও হয়েছে যে, আমাদের ৮৫ মেম্বার (সংসদ সদস্য) অর্জন হয়েছে। জাতীয় এসেম্বলিতে যথেষ্ট আধিক্য অর্জন হয়েছে। কিন্তু আপনারা দেখেছেন — কোন ইসলামী বিধানটা এসেছে?

তারা বলে যে, আমরা (ভোট/নির্বাচনের মাধ্যমে) প্রতিরক্ষা করছি, প্রতিরক্ষা কাকে বলে? নারী অধিকার বিল পাস হয়েছে। কেউ এটাকে প্রতিহত করতে পেরেছে? জবাব দিন! বলুন!

আমি আরজ করবো, আল্লাহর ওয়াস্তে আগে বাস্তবতা বুঝুন! হে মৌলবিরা! তাওবা করুন! আমি বলছি, আমি গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশ নিয়েছি। ৭০ সালে আমি মেম্বার (সংসদ সদস্য) ছিলাম। মাওলানা সদর শহীদও পাস হয়েছিলেন। ৬০ হাজারের ভোটের লিড পেয়ে পাস হয়েছেন। কিন্তু আমি পরিস্কার ভাষায় বলছি- আমি এই গুনাহ থেকে তাওবা করে নিয়েছি। আল্লাহ আমার তাওবা কবুল করুন! আপনাদের কাছে দরখাস্ত করছি, আপনারাও তাওবা করুন!
আসুন! খেলাফত শাসনব্যবস্থার জন্য আন্দোলনের মূল ভিত্তি অনুসারে ময়দানে আসুন!

কেন ঘাবড়াচ্ছেন? আসুন ময়দানে আসুন! দেখুন ইসলামী শাসনব্যবস্থা আসে কিনা! তো আমি কেবল এটাই দরখাস্ত করবো এবং পাকিস্তান ইসলামী হবে কিন্তু কবে? যখন আপনারা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে ছুটি দিয়ে দিবেন। এবং এই নাপাক, এই মরা কুকুর আপনাদের কুপ থেকে তুলে ফেলতে হবে, তারপরেই আপনাদের পাক পানি ব্যবস্থা হবে।”

ভিডিও লিঙ্ক — https://youtu.be/Mx7E_2t4Qzg

সবশেষে, এই ভাইসহ অন্যান্য ভাইদের উদ্দেশ্য করে বলবো – 
যেহেতু তারা নিজেরাই স্বীকার করছেন যে সেক্যুলার গণতন্ত্র কুফর এবং তাদের কৃত্রিম ব্যাখ্যাজাত দ্বিতীয় প্রকারের গণতন্ত্র, অর্থাৎ রক্ষনশীল গণতন্ত্রও ‘আসলে ইসলামসম্মত না’ এবং ‘দ্বিতীয় প্রকারটি মেনে নেওয়া এবং গ্রহণ করা ইসলামী গায়রত ও আত্মমর্যাদাবিরোধী’’’ আর যেহেতু তারা বলছেন যেসব আলেমরা গণতন্ত্রে অংশ নেন তাদের উদ্দেশ্য হল “ইসলামের জিহাদ ও বিপ্লবের এন্টি হিসেবে নয়, বরং তার কাজকে সহজায়ন ও সহযোগিতার জন্য” ; তাই আপনাদের প্রতি মুসলিম ভাই হিসাবে আমাদের নসীহত হল, এই বাস্তবতা স্বীকার করা যে বর্তমানে এই ভূখণ্ডসহ পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম `সেক্যুলার গণতন্ত্র’ কুফর হবার ব্যাপারে এবং গণতন্ত্রের ইসলামবিরোধী হবার ব্যাপারে অবগত নয়। আর, বর্তমানে এ ভূখণ্ডসহ পৃথিবীর অধিকাংশ মুসলিম ফরয জিহাদের ব্যাপারে অজ্ঞ, উদাসীন কিংবা বিভ্রান্ত। অতএব, যদি কেউ জিহাদের সহজায়ন এবং সহযোগিতা করতে চানই, তবে তার উচিৎ আগে এ দুটি বিষয় (গণতন্ত্র ও জিহাদ)-এর ব্যাপারে মানুষের সামনে সত্য স্পষ্ট করা। এই সত্যের দাওয়াহকে ব্যাপক করা, একে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া। গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব না, বরং জিহাদের মাধ্যমেই দ্বীন কায়েম হবে, এই সত্য সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা এবং এ সংক্রান্ত ভুল ধারণা দূর করার চেষ্টা করা। দুঃখজনক বিষয় হল আমরা উক্ত ভাই ও তার মতো অন্যান্যদের মাঝে তাদের কথার প্রতিফলন দেখতে পাই না। যে পরিমাণ সময় তারা মুজাহিদিন, মুজাহিদিন উলামা, উমারাহ এবং মুজাহিদিনের সমর্থকদের খণ্ডনে ব্যয় করেন তার ১০ শতাংশ সময়ও তারা ব্যাপকভাবে প্রচলিত এই ভুল ধারণা দূর করার জন্য দেন না।



আমরা দুয়া করি মহান আল্লাহ্ তায়ালা যেন তাদেরকে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের আঞ্জাম দেয়ার তৌফিক দেন এবং বিভিন্ন ব্যাখ্যার ফাঁদে পড়ে গণতন্ত্রের পক্ষে ওকালতি ও মুজাহিদিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া থেকে হেফাজত করেন।