AllahrNamBishoyokMulniti.jpg

আল্লাহর নাম বিষয়ক কিছু মূলনীতি

মাওলানা শরিফুল আলম হাফিজাহুল্লাহ

***********************

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين. أما بعد..

فقد قال الله تبارك و تعالى  : وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ .

 

প্রথম মূলনীতিঃ আল্লাহর প্রত্যেকটি নামই অতি নান্দনিক।

আল্লাহ তাআলার যত নাম রয়েছে তার প্রত্যেকটাই সৌন্দর্যে সর্বশীর্ষে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

 

﴿وَلِلَّهِ ٱلۡأَسۡمَآءُ ٱلۡحُسۡنَىٰ فَٱدۡعُوهُ بِهَاۖ﴾

আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামের মাধ্যমে ডাক। (সূরা আল আরাফ: ৭ : ১৮০)

আল্লাহর প্রত্যেকটি নামই পূর্ণাঙ্গ গুনাবলীসম্পন্ন। তাতে কোনও ধরণের অপূর্ণতা নেই। না সম্ভাব্য কোনো অপূর্ণতা, না অব্যক্ত কোনো অপূর্ণতা।

কটি উদাহরণ

 الحي - ‘চিরঞ্জীব’। এটি আল্লাহর একটি নাম। এ নামটি আল্লাহর জন্য এমন পূর্ণাঙ্গ একটি জীবন বুঝায় যা অস্তিত্বহীনতার পর্ব পেরিয়ে আসেনি এবং যাকে কখনো অস্তিত্বহীনতা স্পর্শ করবে না। পাশাপাশি সে জীবন সকল প্রকার পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীর ধারক। যেমন, জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ইত্যাদি।

আরেকটি উদাহর

العليم - ‘সর্বজ্ঞ’। এটিও আল্লাহর একটি নাম। এ নামটি আল্লাহর জন্য এমন পরিপূর্ণ জ্ঞানকে নির্দেশ করে, যে জ্ঞান অজ্ঞতার পর্ব পেরিয়ে আসেনি এবং যে জ্ঞানকে কখনো বিস্মৃতি স্পর্শ করে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

 

﴿ قَالَ عِلۡمُهَا عِندَ رَبِّي فِي كِتَٰبٖۖ لَّا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنسَى﴾

মূসা বলল, এর জ্ঞান আমার রবের নিকট কিতাবে আছে। আমার রব বিভ্রান্ত হন না এবং ভুলেও যান না। (সূরা তাহা: ২০: ৫২)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অসীম জ্ঞান তার ছোট বড় সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। তার প্রতিটি সৃষ্টির সকল অবস্থা তার অসীম জ্ঞানের আওতার ভিতরে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

 

﴿ وَعِندَهُۥ مَفَاتِحُ ٱلۡغَيۡبِ لَا يَعۡلَمُهَآ إِلَّا هُوَۚ وَيَعۡلَمُ مَا فِي ٱلۡبَرِّ وَٱلۡبَحۡرِۚ وَمَا تَسۡقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعۡلَمُهَا وَلَا حَبَّةٖ فِي ظُلُمَٰتِ ٱلۡأَرۡضِ وَلَا رَطۡبٖ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَٰبٖ مُّبِينٖ

তাঁর কাছেই রয়েছে গায়েবের চাবিকাঠি, তিনি ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জানে না। জলে ও স্থলে যা কিছু আছে তা সম্পর্কে তিনি পূর্ণ অবগত আছেন। এমন একটা পাতাও ঝরে না যা তিনি জানেন না এবং যমীনের গহীন অন্ধকারে এমন কোন শস্য দানা নেই, নেই কোন ভেজা ও শুষ্ক জিনিস যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লিপিবদ্ধ) নেই।(সূরা আনআম:: ৫৯)

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেছেন-

 

﴿ وَمَا مِن دَآبَّةٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِ رِزۡقُهَا وَيَعۡلَمُ مُسۡتَقَرَّهَا وَمُسۡتَوۡدَعَهَاۚ كُلّٞ فِي كِتَٰبٖ مُّبِينٖ

যমীনে বিচরণশীল প্রতিটি প্রাণীর রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর। তিনি জানেন তাদের আবাসস্থল ও সমাধিস্থল[1]। সব কিছু সুস্পষ্ট কিতাবে[2] (লিপিবদ্ধ) রয়েছে।

(সূরা হূদ: ১১ : )

কুরআনের অন্যত্র আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন-

 

﴿ يَعۡلَمُ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَيَعۡلَمُ مَا تُسِرُّونَ وَمَا تُعۡلِنُونَۚ وَٱللَّهُ عَلِيمُۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ﴾

আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন এবং তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর সবই তিনি জানেন। আল্লাহ অন্তরসমূহে যা কিছু আছে সে বিষয়েও সম্যক অবগত। (সূরা আত-তাগাবুন: ৬৪ : ৪)

আল্লাহ তা‘আলার সকল গুণাবলী পূর্ণাঙ্গ, বিন্দু পরিমাণও কোনো অপূর্ণতা তাতে নেই। যেমন, হায়াত(জীবন), ইলম(জ্ঞান), কুদরত(ক্ষমতা), শ্রবণ, দর্শন, রহমত, হিকমত(প্রজ্ঞা), আযমত(মহত্ব) ইত্যাদি।  

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

 

﴿لِلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِ مَثَلُ ٱلسَّوۡءِۖ وَلِلَّهِ ٱلۡمَثَلُ ٱلۡأَعۡلَىٰۚ وَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ﴾

যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে না, খারাপ উপমা তাদেরই জন্য এবং আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উপমা। আর তিনিই পরাক্রমশালী, মহাজ্ঞানী।

(সূরা নাহল : ১৬ : ৬০)

আয়াতে ‘সর্বোচ্চ উপমা’ বলে উদ্দেশ্য, সর্বোচ্চ গুণ।

দ্বিতীয় মূলনীতিঃ আল্লাহর নামগুলো একই সাথে তাঁর নামও, গুণও।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার যতগুলো নাম রয়েছে তার প্রত্যেকটি একই সাথে তাঁর নামও, আবার তাঁর গুণও। নাম এ হিসেবে যে তা আল্লাহর সত্তাকে বুঝায়। এর পাশাপাশি প্রতিটি নাম যে অর্থ ও ভাবকে নির্দেশ করে, তার নিরিখে প্রতিটি নাম গুণ হিসেবেও বিবেচিত। প্রথমোক্ত বিষয়টির বিবেচনায় যেহেতু প্রতিটি নাম অভিন্ন সত্তা অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলাকে নির্দেশ করছে তাই সবগুলো নামই সমার্থবোধক। আর দ্বিতীয়োক্ত বিষয়টি বিবেচনায় যেহেতু প্রতিটি নাম সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক তাই একটি অপরটি থেকে আলাদা।  

অতএব الحي চিরঞ্জীব,   العليم সর্বজ্ঞ,  القدير সর্বশক্তিমান,  السميع সর্বশ্রোতা, البصير সর্বদ্রষ্টা, الرحمن পরম করুণাময়,  الرحيم পরম দয়ালু, العزير সর্বশক্তিমান, الحكيم প্রজ্ঞাময় ইত্যাদি সবগুলো একই সত্তার নাম। আর সে সত্তা হলেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তবে الحي এর অর্থ العليم এর অর্থ থেকে আলাদা এবং السميع এর القدير  এর অর্থ থেকে আলাদা। প্রত্যেকটি নাম ভিন্ন ভিন্ন গুণ বুঝাচ্ছে।

আল্লাহ তা‘আলার নামগুলো যে একই সাথে তাঁর নাম এবং গুণ দুটোই, এর স্বপক্ষে কুরআনে কারীমে বহু আয়াত রয়েছে। এখানে মাত্র দুটি আয়াত উল্লেখ করছি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

 

﴿وَهُوَ ٱلۡغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ﴾

তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। (সূরা ইউনুস: ১০ : ১০৭)

অন্যত্র বলেন,

 

﴿وَرَبُّكَ ٱلۡغَفُورُ ذُو ٱلرَّحۡمَةِۖ﴾

আপনার রব ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সূরা আল কাহাফ: ১৮ : ৫৮)

দেখুন, এখানে প্রথম আয়াতে বলা হচ্ছে, আল্লাহ হলেন, ٱلرَّحِيمُ আর দ্বিতীয় আয়াতে বলা হচ্ছে, তিনি হলেন, ذُو ٱلرَّحۡمَةِۖ  

অতএব বুঝা গেল, প্রথম আয়াতে উল্লেখিত ‘আর রাহীম’ (পরম দয়ালু) হলেন তিনি যিনি দয়ার গুণে গুণান্বিত।

তাছাড়া আরবী ভাষাবিদগণ সবাই এ ব্যাপারে একমত যে, যার জ্ঞান রয়েছে কেবল তাকেই জ্ঞানী বলা হয়। যার শ্রবনশক্তি রয়েছে কেবল তাকেই শ্রোতা বলা হয়। যার দৃষ্টিশক্তি রয়েছে কেবল তাকেই দ্রষ্টা বলা হয়। এ বিষয়টি একদমই স্পষ্ট, এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।  

সারকথা হল, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামগুলোর মধ্যে প্রত্যেকটি একই সাথে তাঁর নামও, আবার তাঁর গুণও। তবে হ্যাঁ, আল্লাহর গুণগুলোর পরিধি নামের পরিধি অপেক্ষা অনেক বিস্তৃত। কারণ, আল্লাহর গুণগুলো তাঁর কর্মের সাথে সম্পৃক্ত আর আল্লাহর কর্মের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। ঠিক যেমন তার বাণীর কোনো সীমা পরিসীমা নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন,

 

﴿وَلَوۡ أَنَّمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ مِن شَجَرَةٍ أَقۡلَٰمٞ وَٱلۡبَحۡرُ يَمُدُّهُۥ مِنۢ بَعۡدِهِۦ سَبۡعَةُ أَبۡحُرٖ مَّا نَفِدَتۡ كَلِمَٰتُ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٞ﴾

জমিনে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয়, আর সমস্ত সমুদ্র (কালি হয়), তার সাথে আরও সাত সমুদ্র কালিতে পরিণত হয় তবুও আল্লাহর বাণীসমূহ শেষ হবে না। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা লুকমান: ৩১ : ২৭)

কোরআনে উল্লেখিত আল্লাহর কিছু গুণ   

কোরআনে উল্লেখিত আল্লাহর কিছু গুণ, الإتيان আগমণ করা,  الأخذ পাকড়াও করা, الإمساكধরা,  البطش পাকড়াও করা।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

 

﴿وَجَآءَ رَبُّكَ﴾

আপনার রব আসবেন(সূরা ফজর: ৮৯ : ২২)

 

﴿هَلۡ يَنظُرُونَ إِلَّآ أَن يَأۡتِيَهُمُ ٱللَّهُ فِي ظُلَلٖ مِّنَ ٱلۡغَمَامِ﴾

তারা কি এরই অপেক্ষা করছে যে, মেঘের ছায়ায় আল্লাহ তাদের নিকট আগমন করবেন। (সূরা বাকারা: ২ : ২১০)

 

﴿فَأَخَذَهُمُ ٱللَّهُ بِذُنُوبِهِمۡۗ﴾

ফলে তাদের পাপের কারণে আল্লাহ তাদরকে পাকড়াও করেছেন।

(সূরা আলে ইমরান: ৩ : ১১)

 

﴿َيُمۡسِكُ ٱلسَّمَآءَ أَن تَقَعَ عَلَى ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦٓۚ﴾

আর তিনিই আসমানকে আটকিয়ে রেখেছেন, যেন তাঁর   অনুমতি ছাড়া তা জমিনের উপর পড়ে না যায়। (সূরা হজ : ২২ : ৬৫)

 

﴿إِنَّ بَطۡشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ﴾

নিশ্চয়ই আপনার রবের পাকড়াও বড়ই কঠিন। (সূরা বুরুজ : ৮৫ : ১২)

 

﴿يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلۡيُسۡرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ﴾

আল্লা­হ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান। কঠিন করতে চান না।

(সূরা বাকারা : ২ : ১৮৫)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

 

«ينزل ربنا كل ليلة إلى السماء الدنيا»

আমাদের রব প্রতি রাতেই একদম নিচের আকাশে নেমে আসেন।

(সহী বুখারী : ১১৪৫; সহী মুসলিম : ৭৫৮)

আমরা আল্লাহ তাআলার এ গুণগুলোকে তাঁর সঙ্গে ঠিক ওভাবেই সম্পৃক্ত করব যেভাবে আয়াত ও হাদিসে এসেছে। এগুলো থেকে আল্লাহর কোনো নাম তৈরি করব না। এভাবে বলব না যে, আল্লাহর একটি নাম হল الجائي আগন্তক, الآتي আগন্তক, الآخذ পাকড়াও কারী, الممسك ধারক, الباطش পাকড়াও কারী, المريد ইচ্ছুক, النازل অবতরণকারী ইত্যাদি। এটাই আল্লাহর গুণগুলোর পরিধি নামের পরিধি অপেক্ষা বিস্তৃত হওয়ার অর্থ।

তৃতীয় মূলনীতিঃ আল্লাহর কোনো নাম যদি এমন গুণের নির্দেশকারী হয় যা তাঁর মাখলুকের সাথে সম্পৃক্ত তাহলে সেখানে তিনটি বিষয় সাব্যস্ত হবে। এক : ওই নামটি আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হবে। দুই : নামটি যে গুণ বুঝাবে সে গুণটিও আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হবে। তিন : উক্ত গুণের যে হুকুম ও দাবি তাও প্রমাণিত হবে।

আর যদি এমন গুণের নির্দেশকারী হয় যা তাঁর মাখলুকের সাথে সম্পৃক্ত নয় বরং তাঁর সত্তার মাঝে সীমাবদ্ধ তাহলে সেখানে মাত্র দুটি বিষয় সাব্যস্ত হবে। এক : ওই নামটি আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হবে। দুই : নামটি যে গুণ বুঝাবে সে গুণটিও আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হবে।

প্রথমটির উদাহরণ

 السميع ‘সর্বশ্রোতা’ : এটি একদিকে যেমন এ শব্দটিকে আল্লাহর নাম হিসেবে সাব্যস্ত করছে অপর দিকে তা السمع ‘শ্রবণশক্তি’ কে আল্লাহর গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করছে। পাশাপাশি শ্রবণের যে হুকুম ও দাবি তাও আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করছে। আর তা হল, আল্লাহ সব ধরনের আওয়াজ শোনেন। সবার প্রকাশ্য-গোপন সব কথা শোনেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

 

﴿وَٱللَّهُ يَسۡمَعُ تَحَاوُرَكُمَآۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعُۢ بَصِيرٌ﴾

আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শোনেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। সূরা (সূরা মুজাদালা: ৫৮ : ১)

দ্বিতীয়টির উদাহরণ 

الحي ‘চিরঞ্জীব’ : এটি একদিকে যেমন এ শব্দটিকে আল্লাহর নাম হিসেবে সাব্যস্ত করছে। অন্যদিকে ‘আল হায়াত’ তথা ‘জীবন’ কে আল্লাহ তা‘আলার একটি গুণ হিসেবে সাব্যস্ত করছে।

চতুর্থ মূলনীতিঃ আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ তাঁর সত্তা ও গুণাবলী তিনভাবে প্রমাণ করে। সর্বদিক থেকে প্রমাণ করে, অন্তর্ভুক্তি হিসেবে প্রমাণ করে এবং দাবি হিসেবে প্রমাণ করে।

কটি উদাহরণ

 الخالق  ‘স্রষ্টা’ নামটি আল্লাহ তা‘আলার সত্তা এবং সৃষ্টি করার গুণকে  সরাসরি বুঝায়। আবার শুধু আল্লাহর সত্তা এবং শুধু সৃষ্টি করার গুণ এ দুয়ের যে কোনো একটিকে অন্তর্ভুক্তি হিসেবে বুঝায়। অর্থাৎ খালিক শব্দটি দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে আছে। একটি আল্লাহর নাম, অপরটি আল্লাহর গুণ। অতএব যেকোনো একটিকে অন্তর্ভুক্তি হিসেবে বুঝায়। এর পাশাপাশি খালিক শব্দটি দাবি হিসেবে ‘ইলম’ ও ‘কুদরত’ এ দুটি গুণকে সাব্যস্ত করছে।

এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা যখন আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন তখন বলেছেন,

 

﴿لِتَعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ وَأَنَّ ٱللَّهَ قَدۡ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيۡءٍ عِلۡمَۢا﴾

যেন তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহর জ্ঞান সব কিছুকে বেষ্টন করে আছে। (সূরা তালাক: ৬৫ : ১২)

পঞ্চম মূলনীতিঃ আল্লাহর নামসমূহ সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।

আল্লাহর নামসমূহ সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। কারণ, প্রসিদ্ধ একটি দোয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

«أسألك بكل اسم هو لك، سميت به نفسك، أو أنزلته في كتابك، أو علمته أحداً من خلقك، أو استأثرت به في علم الغيب عندك»

‘আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনার এমন প্রতিটি নামের ওসিলায়, যা আপনি নিজে রেখেছেন বা আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন বা আপনার সৃষ্টজীবের কাউকে শিখিয়েছেন বা আপনার গায়েবি ইলমের মধ্যে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

হাদীসটি ইমাম আহমদ, ইবনে হিববান এবং ইমাম হাকেম বর্ণনা করেছেন আর হাদীসটি সহীহ।[3]

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আল্লাহ তা‘আলা তার গায়েবি ইলমে যা একান্তভাবে রেখে দিয়েছেন তা কারও পক্ষেই জানা সম্ভব নয়।

অন্য এক হাদিসে এসেছে,

«إن لله تسعة وتسعين اسماً، مائة إلا واحداً، من أحصاها دخل الجنة»

আল্লাহর এমন নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি ওগুলোকে ইহসা[4] (তথা যথাযথভাবে কার্যে পরিণত) করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।[5]

এ হাদিসের উদ্দেশ্য হল, আল্লাহর নাম তো অনেক তবে তার মধ্যে নিরানব্বইটি নাম এমন যে, কেউ যদি এই নামগুলোর অর্থ ও দাবী  যথাযথভাবে কাজে পরিণত করে এবং নিজের জীবনের এর প্রতিফলন ঘটায় তাহলে সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। এ কথা উদ্দেশ্য নয় যে, তাঁর নাম কেবল এই নিরানব্বইটিই। কারণ, ওপরের হাদিস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, তাঁর নাম আরও আছে। 

এর উদাহরণ হল যেমন কেউ বলল, আমার কাছে এমন একশ টাকা আছে যা আমি দান করার জন্য আলাদা করে রেখেছি, তাহলে তার এ কথার অর্থ এটা নয় যে, তার কাছে এ ছাড়া আর কোনো টাকা নেই। বরং অর্থ হলো তার কাছে আরো টাকা আছে, তবে দান করার জন্য সে একশ টাকা আলাদা করে রেখেছে।  

ষষ্ঠ মূলনীতিঃ আল্লাহর নামসমূহ সম্পূর্ণ রূপে কুরআন-সুন্নাহ নির্ভর, এ ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধি বিবেচনার কোনও দখল নেই। 

আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নায় যতটুকু এসেছে আমরা ঠিক ততটুকুই বলবো, ততটুকুই বিশ্বাস করবো। তার ওপর কোনো কিছু বাড়াবোও না, কমাবোও না। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা যে সব ও গুণের উপযোগী তা মানুষের বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা নির্ধারণ করা একদমই অসম্ভব।  

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

 

﴿وَلَا تَقۡفُ مَا لَيۡسَ لَكَ بِهِۦ عِلۡمٌۚ إِنَّ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡبَصَرَ وَٱلۡفُؤَادَ كُلُّ أُوْلَٰٓئِكَ كَانَ عَنۡهُ مَسُۡٔولٗا﴾

যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই তার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর, এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। (সূরা বনি ইসরাইল: ১৭ : ৩৬)

আল্লাহ্‌ আরও বলেছেন-

 

﴿قُلۡ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ ٱلۡفَوَٰحِشَ مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَمَا بَطَنَ وَٱلۡإِثۡمَ وَٱلۡبَغۡيَ بِغَيۡرِ ٱلۡحَقِّ وَأَن تُشۡرِكُواْ بِٱللَّهِ مَا لَمۡ يُنَزِّلۡ بِهِۦ سُلۡطَٰنٗا وَأَن تَقُولُواْ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعۡلَمُونَ﴾

বলে দিন, ‘আমার রব তো কেবল হারাম করেছেন অশ্লীল  বিষয়সমূহ-যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য আর হারাম করেছেন পাপ  ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করা এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছু শরিক করা, যার ব্যাপারে আল্লাহ কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না।

(সূরা আরাফ: ৭ : ৩৩)

উপরোক্ত আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, আল্লাহ তা‘আলার ওপর এমন কোনো নাম আরোপ করা যা তিনি নিজের জন্য রাখেননি অথবা যে সব নাম তিনি নিজের জন্য রেখেছেন তার কোনোটা অস্বীকার করা, এ দুটোর কোনোটাই করা যাবে না। সারকথা হল, আল্লাহর নামসমূহের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নায় যতটুকু এসেছে আমাদেরকে ঠিক ততটুকুই বলতে হবে। তার বাইরে একদমই যাওয়া যাবে না।

সপ্তম মূলনীতিঃ আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে ইলহাদ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

ইলহাদের অর্থ

الإلحاد في اللغة هو : الميل.

أما في الاصطلاح : فهو العدول عما يجب اعتقاده أو عمله.

والإلحاد في أسماء الله هو: العدول بها وبحقائقها ومعانيها عن الحق الثابت لها.

ইলহাদের আভিধানিক অর্থ হল, একদিকে ঝুঁকে পড়া। ধাবিত হওয়া।

আর পারিভাষিক অর্থ হল, যে বিশ্বাস পোষণ করা আমাদের ওপর আবশ্যক তা না করে ভিন্ন কোনো বিশ্বাস পোষণ করা।

আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে ইলহাদ হল, তাঁর কোনো  নাম বা গুণকে অস্বীকার করা বা ওটার নির্ধারিত অর্থকে অস্বীকার করা বা বিকৃতি করা। এ বিকৃতিকরণের ক্ষেত্রে শরীয়তের দলিলের নিরিখে কোনোটি শিরক আবার কোনোটি কুফর।     

ওপরের কথাটিকে এভাবেও বলা যায় যে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে ইলহাদ হল, তাঁর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে এমন কিছু বিশ্বাস করা বা বলা যার কারণে তাঁর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে তাওহীদ নষ্ট হয়ে যায়। 

আল্লাহ তাআলা বলেন,

 

وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাক এবং যারা তাঁর নামের মধ্যে বিকৃতি ঘটায় তাদেরকে পরিত্যাগ করো। তারা যা করছে তার ফল তারা শীঘ্রই পাবে। (সূরা আরাফ:: ১৮০)

এখানে উল্লেখিত يُلْحِدُونَ শব্দটি ইলহাদ থেকেই এসেছে।

ইলহাদের ধরন

ইলহাদের ধরন মোট ছয়টি।

এক : বাড়ানো। দুই : কমানো। তিন : পরিবর্তন করা।

চার : অকার্যকর করা। পাঁচ : সাদৃশ্য বানানো। ছয় : ব্যাখ্যা দেয়া যায় না এমন বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়। আরবীতে বললে হবে,

ازدياد وانكار وتحريف وتعطيل وتمثيل وتكييف .

এই ছয় ধরনের ইলহাদের ক্ষেত্র হল তিনটি।

এক. শাব্দিক ইলহাদ। আল্লাহর যত নাম ও গুণ রয়েছে তার মধ্যে আক্ষরিক কোনো ধরনের ইলহাদ করা।

দুই. অর্থগত ইলহাদ। আল্লাহর যত নাম ও গুণ রয়েছে এগুলোর মধ্যে অর্থগত কোনো ধরনের ইলহাদ করা।   

তিন. বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে ইলহাদ। আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর শব্দ ও অর্থ মেনে নেয়া কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ না মানা।

যেমন, কেউ বলল, আল্লাহর একটি নাম ‘রাযযাক’ আছে তা আমি মানি। তার অর্থ, তিনি রিযিকদাতা তাও মানি। কিন্তু তিনি এখনও আমাদেরকে রিযিক দেন, রিযিক দেয়ার কাজটি তিনি এখনও নিজের হাতে রেখেছেন, একথা আমি মানি না। নাউযুবিল্লাহ। এটা হল বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইলহাদ। 

সারকথা হল, তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের তিনটি পার্ট। শাব্দিক, আর্থিক ও বাস্তবিক। আসমা ওয়াস সিফাতের ক্ষেত্রে এই তিনটি বিষয়েই তাওহীদ থাকতে হবে। কারো যদি শাব্দিক ক্ষেত্রে তাওহীদ ঠিক থাকে কিন্তু অর্থগত ক্ষেত্রে ঠিক না থাকে তাহলে সে মুসলিম হবে না। তেমনিভাবে কারো শব্দগত ও অর্থগত ক্ষেত্রে তাওহীদ ঠিক আছে কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে ঠিক নেই তাহলে সেও মুসলিম হবে না।

এখানে একটি বিষয়  লক্ষনীয়, পূর্বে উল্লেখিত ইলহাদের ছয় পদ্ধতির প্রত্যেকটির মধ্যেই এই তিনটি ক্ষেত্র (শাব্দিক, আর্থিক, ও বাস্তবিক বা প্রায়োগিক) প্রযোজ্য হবে ব্যাপারটি এমন নয়। বরং কোনোটাতে তিনোটি হবে। কোনোটাতে দুটি হবে। কোনোটাতে শুধু একটি হবে। যেমন, প্রথমটি হল, বাড়ানো। এটি শাব্দিক, আর্থিক, ও বাস্তবিক তিনো ক্ষেত্রে হবে। অর্থাৎ শব্দের মধ্যে বাড়ানো, অর্থের মধ্যে বাড়ানো এবং বাস্তবতার ক্ষেত্রে বাড়ানো। এই তিনোটিই ইলহাদ ও কুফর।

দ্বিতীয়টি হল, কমানো। এটিও তিনো ক্ষেত্রে হবে।

তৃতীয়টি হল, বদলানো। পরিবর্তন করা। এটিও তিনো ক্ষেত্রে হবে।

চতুর্থটি হল, তা’তীল বা অকার্যকর করা। এটি কেবল একটি ক্ষেত্রে হবে। তা হল, বাস্তবিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে। বাকি দুটো ক্ষেত্রে হবে না। কারণ, তা’তীল বা অকার্যকর করা বলা হয়, শব্দ ও তার অর্থ মানা কিন্তু তার বাস্তবরূপটা না মানা।

পঞ্চমটি হল, তামসীল বা সাদৃশ্য বানানো। এটি কেবল দুটি ক্ষেত্রে হবে। অর্থগত ও বাস্তবিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে। শব্দগত ক্ষেত্রে হবে না।

এখানে একটি মূলনীতি হচ্ছে, কুরআন ও হাদিসে যে সকল শব্দ আল্লাহর জন্য ব্যবহার হয়েছে, পাশাপাশি মাখলূকের জন্যও ব্যবহার হয়েছে সে সব শব্দের শাব্দিক সাদৃশ্য বৈধ। যেমন ধরুণ, ‘আলেম’ শব্দটি। এটি কুরআনে কারীমে আল্লাহর জন্য ব্যবহার হয়েছে, বান্দার জন্যও ব্যবহার হয়েছে। এ কারণেই এ শব্দের ক্ষেত্রে শাব্দিক তামসীল বা সাদৃশ্য করা বৈধ। একে আরবিতে ইশতিরাকে লাফযি বা ইশতিরাকুল লাফয বলা হয়ে থাকে।

কিছু কিছু নামের ক্ষেত্রে এই শাব্দিক সাদৃশ্যও বৈধ নয়। তা হল, আল্লাহ তাআলার যাতি নাম অর্থাৎ আল্লাহ শব্দের ক্ষেত্রে এবং তাঁর ওই সব নামের ক্ষেত্রে যা তিনি অন্য কারও জন্য ব্যবহার করেননি।

সারকথা হল, আল্লাহ তাআলার যে সকল গুণ বা গুণবাচক নাম  কুরআন-হাদিসে অন্যদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে শুধু সে সব গুণ বা গুণবাচক নামের ক্ষেত্রে শাব্দিক সাদৃশ্য বৈধ। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে বৈধ নয়। 

ষষ্টটি হল, তাকয়ীফ-ব্যাখ্যা হীন বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়া। এটিও কেবল দুটি ক্ষেত্রে হবে। তা হল, অর্থগত ও বাস্তবিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে। শব্দগত ক্ষেত্রে হবে না।

তাকয়িফের ব্যাপারে মূলনীতি হল, কুরআন-হাদিসে আল্লাহ তাআলার যে সকল অঙ্গের কথা উল্লেখ রয়েছে ওগুলোর ক্ষেত্রে শব্দগুলোকে তার হাকীকী বা আসল অর্থে বিশ্বাস করা। অর্থাৎ যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে হুবহু ওভাবেই বিশ্বাস করা। মাযাজী বা রূপক অর্থে নয়। যেমন, আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জন্য يد -‘ইয়াদ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। যার বাংলা অর্থ, হাত। এখন আমাদের কর্তব্য হল, এ কথা বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তাআলার ‘ইয়াদ’ বা হাত আছে। তবে তার আকার আকৃতি কেমন, তা আমাদের জানা নেই। আল্লাহ তাআলার শান অনুযায়ী যেমন হওয়ার কথা তেমনই। সে সম্পর্কে আমাদের ইলম নেই। অতএব আল্লাহর হাত অর্থ আল্লাহর কুদরত বা শক্তি ইত্যাদি বলা যাবে না।

পুরো আলোচনার সারাংশ

আজ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নাম বিষয়ক মোট সাতটি মূলনীতি আলোচনা করা হয়েছে,

প্রথম মূলনীতি: আল্লাহর প্রত্যেকটি নামই অতি নান্দনিক।

দ্বিতীয় মূলনীতি: আল্লাহর নামগুলো একই সাথে তাঁর নামও, আবার গুণও।

তৃতীয় মূলনীতিঃ আল্লাহর কোনো নাম যদি এমন গুণের নির্দেশকারী হয় যা তাঁর মাখলুকের সাথে সম্পৃক্ত তাহলে সেখানে তিনটি বিষয় সাব্যস্ত হবে। এক : ওই নামটি আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হবে। দুই : নামটি যে গুণ বুঝাবে সে গুণটিও আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হবে। তিন : উক্ত গুণের যে হুকুম ও দাবি তাও প্রমাণিত হবে।

আর যদি এমন গুণের নির্দেশকারী হয় যা তাঁর মাখলুকের সাথে সম্পৃক্ত নয় বরং তাঁর সত্তার মাঝে সীমাবদ্ধ তাহলে সেখানে মাত্র দুটি বিষয় সাব্যস্ত হবে। এক : ওই নামটি আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হবে। দুই : নামটি যে গুণ বুঝাবে সে গুণটিও আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হবে।

চতুর্থ মূলনীতিঃ আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ তাঁর সত্তা ও গুণাবলী তিনভাবে প্রমাণ করে। সর্বদিক থেকে প্রমাণ করে, অন্তর্ভুক্তি হিসেবে প্রমাণ করে এবং দাবি হিসেবে প্রমাণ করে।

পঞ্চম মূলনীতিঃ আল্লাহর নামসমূহ সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।

ষষ্ঠ মূলনীতিঃ আল্লাহর নামসমূহ সম্পূর্ণ রূপে কুরআন-সুন্নাহ নির্ভর, এ ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধি বিবেচনার কোনও দখল নেই। 

সপ্তম মূলনীতিঃ আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে ইলহাদ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সহী আকীদা ও সহী মানহাজ বুঝা এবং মৃত্যু পর্যন্ত তার ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করেন। আমীন।

 

[1] এখানে مستقر বা আবাসস্থল বলতে মাতৃগর্ভ মতান্তরে মৃত্যু পর্যন্ত দুনিয়ার আবাসস্থলকে বুঝানো হয়েছে। আর مستودع দ্বারা কবরস্থ করার স্থান মতান্তরে জন্মের পূর্বে পিতৃমেরুদন্ডে অবস্থান কিংবা মৃত্যুর সময় বা স্থান বুঝানো হয়েছে।

[2] অর্থাৎ লওহে মাহফুযে।

[3] মুসনাদে আহমদ (১/৩৯১, ৪৫২); সহী ইবনে হিববান হাদীস নং (২৩৭২); হাকেম (১/৫০৯), শাইখ আলবানী এটিকে ‘আল আহাদীসুস সাহীহা’তে উল্লেখ করেছেন।

[4]  নামগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর অর্থ, এ নামগুলোর শব্দ মুখস্ত করা, অর্থ বোঝা এবং ওগুলোর দাবি অনুযায়ী আমল করা (লেখক)

[5] সহী বুখারী, তাওহদী অধ্যায়, অনুচ্ছেদ : নিশ্চয় আল্লাহ তাআলার একটি কম একশটি নাম রয়েছে, হাদীস নং (৭৩৯২); মুসলিম, যিকির অধ্যায়, অনুচ্ছেদ : আল্লাহর নাম এবং যে তা গুণবে তার মর্যাদা, হাদীস নং (২৬৭৭)

 

AlFajr Logo.png



Created: 10/05/2019
Changed: 10/05/2019
Visits: 42
Online: 0