আরাকান, কাশ্মির ও বিশ্বের অন্যান্য ভূখণ্ডের

মাজলুমদের সাহায্য করার পথ ও পদ্ধতি

 

উস্তাদ উসামা মাহমুদ হাফিজাহুল্লাহ

মুখপাত্র, আল কায়েদা উপমহাদেশ

 

আস সাহাব উপমহাদেশ কর্তৃক পরিবেশিত ও আন নাসর মিডিয়া কর্তৃক বাংলায় অনূদিত

রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরি / ডিসেম্বর ২০১৭ ইংরেজি

 

بسم اللہ  الرحمٰن الرحیم۔  الحمد للہ ربّ العالمین و الصلاۃ و السلام علی رسولہ الکریم

উপমহাদেশের প্রিয়তম মুসলমান ভাইয়েরা!

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ!

মজলুমদের সাহায্য কিভাবে করা হবে? তাহলে (জেনে রাখুন!) সাহায্যের দুটি প্রকার রয়েছে- প্রথমত মজলুমদের জরুরত পূরণ করা, দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে জালেমকে বাঁধা প্রদান করা। রোহিঙ্গা মুহাজিরদের অবস্থা আমাদের সামনে রয়েছে। দেখুন কিভাবে এই অসহায় লোকগুলো খাদ্য, একটু মাথার গোঁজার ঠিকানা ও অন্যান্য জরুরতের জন্য বিভিন্ন দরজায় গিয়ে ঠোকর খাচ্ছে। তাঁদের এই জরুরত পূরণ করা আমরা আমাদের দীনী জিম্মাদারি মনে করি। এই জন্য আমরা এককভাবে ও সামগ্রিকভাবে যতটুকু পারি, তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে যাবো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

مَنْ نَفَّس عن مؤمن كرْبَةً من كُرَب الدُّنيا، نَفَّسَ الله عنه كرْبةً مِن كرَب يوم القيامة، ومن ستر مسلمًا سَتَره الله في الدنيا والآخرة، ومن يَسَّرَ على مُعْسرٍ يَسَّرَ الله عليه في الدنيا والآخرة، والله في عَوْن العَبْد ما كان العبد في عون أخيه

অর্থঃ “যে ব্যক্তি কোন মুমিন থেকে দুনিয়ার কোন কষ্ট দূর করে দিবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিয়ামতের দিনের কষ্ট দূর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর দোষ গোপন রাখবেন। যে ব্যক্তি কোন বিপদগ্রস্ত লোকের কষ্টকে সহজ করে দিবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর কষ্টকে সহজ করে দিবেন। আল্লাহ তাআলা বান্দার সাহায্যে ততক্ষণ থাকেন, যতক্ষন বান্দা তাঁর ভাইয়ের সাহায্যে থাকে”

এখানে আমি এটাও উল্লেখ করবো যে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এই মুহাজিরদের সাহায্য করবে। এই সংস্থাগুলো ও শাসকবর্গ আপনাদের সাহায্যকর্মকেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইবে, কিন্তু বাস্তবতা হল এই যে তাদের এই সাহায্য যতটুকু না সাহায্য, তাঁর চাইতে বরং বেশি হচ্ছে ক্ষতিকর। এই জন্য এটাও দ্বীনদারদের জিম্মাদারি যে, তাঁরা এই অসহায় লোকগুলোর জীবনের পাশাপাশি দ্বীন বাঁচানোরও চেষ্টা করবেন। দ্বীনের ক্ষতি তো স্পষ্ট। আখেরাতের বরবাদি সবচে’ বড় ক্ষতি এবং দ্বীন তখনই বাঁচবে, যখন দ্বীনদার শ্রেণী সাহায্য একত্রিত করা এবং তা হকদারের কাছে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত শাসকবর্গ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনুপ্রবেশ থেকে নিজেদের যথাসম্ভব নিরাপদ রাখবেন। বাংলাদেশের জনগণ তাঁদের ভাইদের যে মদদ ও সাহায্য করেছেন, আল্লাহ তাঁদেরকে এর উত্তম প্রতিদান দিন। আল্লাহ তাঁদের রিজিকের মধ্যে বরকত দিন এবং তাঁদের আরও সহযোগিতা করার তাওফিক দান করুন। কাশ্মীরের জনগণ নিজেরা বিপদ্গ্রস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন। তাঁরা আরও একবার প্রমাণ করলেন যে, তাঁরা হচ্ছেন জিন্দা ও মুজাহিদ জাতি। উপমহাদেশের যারা যারা এই কল্যাণের কাজে অংশ নিয়েছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন।

সাহায্য ও নুসরাতের দ্বিতীয় যে প্রকার রয়েছে অর্থাৎ জালেমকে বাঁধা প্রদান করা, আজকে তাঁর প্রচণ্ড জরুরত রয়েছে। এই জন্যই আজ এই মানবতা হা-পিত্যেশ করছে। কিন্তু এটাও আজ কে অস্বীকার করতে পারবে যে, সাহায্য প্রদান করার দাবীদার আন্তর্জাতিক শক্তি নিজেরাই সবচে’ বড় জালেম এবং তারা জালেমদের নিরাপত্তা দেয়? যে কেউ-ই জুলুমের বিরুদ্ধে জিহাদের ঝাণ্ডা উত্তোলন করে, তারা সবাই তাঁকে সন্ত্রাসী নাম দিয়ে দমন করা এবং খতম করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। ফলাফল এটা বের হয় যে, আজ জালেম পূর্বের চাইতে বেশি শক্তিশালী হচ্ছে এবং মজলুমের উপর জুলুম প্রতি নতুন দিনেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাস্তবতা হল এই যে, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জমিন থেকে জুলুম খতম করার জন্য ইসলামকে পাঠিয়েছেন। ইসলামের বিপরীত প্রতিটি শাসনব্যবস্থা, প্রতিটি বিধান, প্রতিটি মূলনীতি হচ্ছে জুলুম। কিন্তু আফসোস হল এই যে, আজ স্বয়ং আল্লাহর এই দ্বীন-ই হচ্ছে পরাজিত। যে দ্বীনকে দুনিয়াতে শাসন করার জন্য পাঠানো হয়েছিল, সে দ্বীন আজ পৃথিবীর কোথাও শাসক নয়। জমিনের কোন একটি টুকরাও এমন নেই, যেখানে সৎ কর্মের প্রচার এবং মন্দ কর্মের বাঁধা প্রদানের পিছনে কোন শাসকশক্তি বিদ্যমান রয়েছে। কোন একটি ভূখণ্ডও এমন নেই, যেখানে মানুষদেরকে মানুষদের গোলামী থেকে বের করা এবং মানুষদের রব আল্লাহর গোলামীতে প্রবেশ করানোর জন্য জিহাদি লস্কর প্রস্তুত করেছে। যদি আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী হতো, এই দ্বীন শাসক হতো, তাহলে আজ মজলুমরা এভাবে লাওয়ারিশ থাকতো না এবং ওই জালেমদের এই খোলাখুলি মিথ্যার শক্তি থাকতো না।

আজকের এই পুরো বিশ্বের ভূখণ্ডভিত্তিক সেনাবাহিনী, শাসকবর্গ এবং পুরা আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থা দণ্ডায়মান হয়েছে। আর এ কারণেই এই সব জালেমরা ইসলামের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। চাই তারা আমেরিকা, ভারত, রাশিয়া ও চীনের আকৃতিতে আন্তর্জাতিক কুফরের সর্দার হোক অথবা আমাদের উপর চেপে বসা কাফেরদের তৈরি করা তাদের এই গোলাম সেনাবাহিনী হোক। তারা মসজিদে তো ইসলাম সহ্য করে, যেন আল্লাহর এই মহান দ্বীন শুধুমাত্র মসজিদের চার দেয়ালে-ই আবদ্ধ থাকে। কিন্তু মসজিদের বাইরে সামাজিকতা ও অর্থনীতিতে এবং শাসনব্যবস্থা ও আদালতে এই দ্বীন বিজয়ী হোক এটা তাদের কিছুতেই সহ্য নয়। এমতাবস্থায় আল্লাহর এই দ্বীনকে পুরো দুনিয়াতে বিজয়ী করা সকল মুসলমানদের উপর ফরজ। এবং এই ফরজ ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের শক্তি চুরমার করা ব্যতিত কখনই পুরা হতে পারবে না। আল্লাহ তায়ালা বর্ণনা করেছে যে এর পথ হচ্ছে জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়া।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন-

و قاتلو ھم

“আর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই কর!, কিতাল কর!”

حتی لاتکون فتنۃ

“যতক্ষন না ফিতনা নির্মূল হয়। কুফরের বিজয় না থাকে”

و یکون الدین کلہ للہ

“এবং আল্লাহর দ্বীন-ই বিজয়ী হয়ে যায়”

সুতরাং যখন জিহাদ হবে, জিহাদি আন্দোলন শক্তিশালী হবে, তখন-ই দুশমনদের শক্তি ভেঙ্গে যাবে। এবং মজলুমরা ইনসাফ পেতে পারবে। সুতরাং জিহাদি আন্দোলনকে শক্তিশালী করা ব্যতিত জালেমদের প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এবং জিহাদি আন্দোলনকে শক্তিশালী করাটা আল্লাহর সাহায্যের পর মুসলমানদের জিহাদের ফরজ আদায়ের সাথে শর্তযুক্ত। এই জিহাদ প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। এমন নয় যে, যে অস্ত্র ধরতে সক্ষম তাঁর উপর-ই ফরজ। বরং প্রত্যেক মুসলমানের সাধ্য অনুযায়ী এই রনাঙ্গনে অংশগ্রহণ করা ফরজ। তাছাড়া এই রণাঙ্গন মিয়ানমার, কাশ্মির, আফগানিস্তান এবং ফিলিস্তিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয় যে, যে এখানে পৌঁছে যেতে পেরেছে, সে-ই জালেমদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। বিষয়টি আসলে এমন নয়। বরং এটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক রণাঙ্গন। আজ দ্বীনের শত্রুরা ইসলামের বিজয়কে প্রতিহত করার জন্য একটি নিয়মতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থা বানিয়েছে। এই শাসনব্যবস্থার প্রতিটি অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে। অতঃপর এই পুরো শাসনব্যবস্থা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতিটি দিক থেকে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাই আজ এই শাসনব্যবস্থার জুলুমের মোকাবেলা প্রতিটি ময়দান ও রনাঙ্গনে করা জরুরী।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন-

وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً

“আর তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমনভাবে যুদ্ধ কর, যেমন তারা তোমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করে”

وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ

“এবং জেনে রাখ! আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন”

ইমাম ইবনে হাজার রহঃ বলেন-

’’ حقیقت میں کفر کے خلاف جہاد ہر مسلمان پر ہر صورت میں فرض عین ہی رہتا ہے ،ہاتھ ،مال اور زبان سے جہاد ہو اور اس کی استطاعت نہ ہو تو دل سے، گویا یہ فرضیت کسی مسلمان سے بھی کسی صورت میں ساقط نہیں ہوتی ‘‘

অর্থঃ “বাস্তবে কুফরের বিরুদ্ধে জিহাদ প্রত্যেক মুসলমানের উপর প্রত্যেক সুরতে ফরজে আইন। হাত, মাল ও জবান দ্বারা জিহাদ হোক অথবা যদি তাঁর সক্ষমতা না থাকে, তাহলে অন্তর দ্বারা হোক। সুতরাং এই ফরজিয়ত কোন মুসলমান থেকে-ই কোন সুরতে দূর হয় না”।

এখন প্রত্যেক ব্যক্তির কতটুকু সক্ষমতা আছে তা আল্লাহ তাআলা জানেন এবং আল্লাহর দরবারে তাঁকে তাঁর সক্ষমতা অনুযায়ী জিজ্ঞাসা করা হবে। এখানে আমরা জিহাদি কাফেলাকে সাহায্য করার কয়েকটি সুরতের আলোচনা আপনাদের সামনে পেশ করবো। এই সবগুলো পয়েন্টে একই সময়ে আমল করা কাম্য, কিন্তু যদি শরঈ উজরের কারণে কিছু পয়েন্টে আমল করা সম্ভব না হয়, তাহলে বাকিগুলোর উপর আমল করা আবশ্যক।

  1. আল্লাহ তাআলার সাথে আমরা স্বীয় সম্পর্ক মজবুত করবো, অর্থাৎ তাক্বওয়া অবলম্বন করবো, মন্দ কাজ পরিহার করবো, শরীয়ত মেনে চলবো, দু’আ, যিকির এবং নফল আমলসমূহের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার কাজে সাহায্য কামনা করবো, আর যখন আমরা এমনটি করবো, তখন আল্লাহ তা’আলা আমাদের জন্য হক এবং বাতিলের মাঝ্য পার্থক্য করা সহজ করে দিবেন।

  2. হাত এবং অন্তর দ্বারা মন্দ কাজকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা ফরজ, সাধ্যানুযায়ী আমরা এই ফরজটিকে আদায় করবো, এবং এই ফরজ দায়িত্বটি আমরা নিজেদের এবং নিজেদের পরিবার এবং নিকবর্তীদের মাঝেও বাস্তবায়ন করবো, আল্লাহ তাআলা বলেছেন-

يا أيها الذين آمنوا قوا أنفسكم وأهليكم ناراً

  1. জিহাদী কাফেলায় নিজে যুক্ত হবো এবং অন্যকেও যুক্ত করবো, তবে সেটা এমন কাফেলা হতে হবে, যার উদ্দেশ্য শরীয়াহ বাস্তবায়ন এবং মাজলুমদের সহায়তা করা, যারা দ্বীনের দুশমনদের বিরুদ্ধে কঠোর, আর মুসলিমদের সাথে এবং মুসলিম জনসাধারণের সাথে বিনয়ী হয়, নিজে যুদ্ধের ময়দানে ঝাপিয়ে পড়ুন, আল্লাহর রাস্তায় কার্যকরী ভাবে লড়াই করা। আর শাহাদাত লাভের ফযিলত ও মহত্ব সবই আমাদের জানা বিষয়।

  2. সম্পদের মাধ্যমে মুজাহিদদের সাহায্য করবেন, জীবন দিয়ে জিহাদ করার পাশাপাশি মাল দ্বারাও জিহাদ করা ফরজ, আল্লাহ তাআলা কালামে পাকে মাল দ্বারা জিহাদ করা ব্যাপারেও উদ্ভুদ্ধ ও উৎসাহিত করেছেন। সব যুগের ন্যয় বর্তমানেও জিহাদের জন্য সম্পদ প্রয়োজন।

  3. ভারত এবং মায়ানমারের দূতাবাসসহ দ্বীনের অন্যান্য শত্রুদের বিরুদ্ধে সকল কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে যতটুকু জানেন, সুযোগ মতো এক্ষেত্রে মুজাহিদদের সহায়তা করবেন।

  4. যবান দ্বারা মুজাহিদীনদের সাহায্য করবেন, জিহাদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ বিষয়বস্তু হচ্ছে, আখেরাতের চিন্তা, আল্লাহ তাআলার রাজত্ব, আল্লাহ তাআলার জন্যই মুহাব্বত ও নফরত (অর্থাৎ বন্ধুত্ব ও শত্রুতা), ফরজ জিহাদ এবং শরীয়তের পরিপুর্ণ অনুসরণ, এই সকল বিষয়বস্তুকে নিজেদের দাওয়াতের মধ্যে চাবিকাঠি হিসেবে রাখবেন, দাওয়াত এবং জিহাদের নববী মানহাযের উপর আজ সকল দিক থেকে নানা ধরণের আক্রমন হচ্ছে, আর দাজ্জালী মিডিয়াগুলো হককে বাতিল আর বাতিলকে হক হিসেবে দেখাচ্ছে, এমতাবস্থায় হককে স্পষ্ট করার জন্য আপনারা চেষ্টা করবেন, এবং জনগণকে এর সহায়তায় নামিয়ে দিবেন, এইভাবে এই বাস্তবতাও আমরা ব্যাপক করে দিবো যে, শরীয়ত-ই একমাত্র বিধান, শরীয়ত ছাড়া অন্য সকল বিধান এবং রীতিনীতি এবং বর্ণনা সবই হচ্ছে অন্ধকার।

  5. আল্লাহ তাআলার প্রতি দাওয়াতের এই সফরে আমরা হেকমত এবং নম্রতার সাথে দিলসমুহের মধ্যে দ্বীনের ভালোবাসা বসিয়ে দিবো, তবে দুশমনদের অসন্তুষ্টি হতে বাঁচার জন্য দ্বীনের ব্যাপারে ওজর পেশ করা এটা দ্বীনের সাথে বাড়াবাড়ি, দ্বীনের প্রত্যেকটি আদেশ-নিষেধের ব্যাপারে আমরা গর্ব করি, আর এই সত্য আমরা অন্তর দিয়ে মানি যে, ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন মাধ্যমে যদি আমরা সম্মান তালাশ করি, তাহলে এর পরিণামে দুনিয়া ও আখেরাতে লাঞ্চনা-ই পাওয়া যাবে।

  6. কুফরি শাসনব্যবস্থার সাথে শত্রুতা ব্যাপক করুন! আমেরিকা, ইসরাইল এবং ভারতের মত শক্তির বিরুদ্ধে চলমান জিহাদের গুরুত্ব ও জরুরত অবশ্যই বলবেন, কিন্তু সাথে সাথে মুসলমানদের উপর চেপে বসা এখানের তাগুতি সেনাবাহিনীর বাস্তবতাও বুঝাতে হবে। এরা হচ্ছে শরীয়তের দুশমন এবং কুফরি শাসনব্যবস্থার রক্ষক। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে অন্তরে ঘৃণা সৃষ্টি করা এবং তাদের সাথে শত্রুতা রাখা ঈমানের তাকাজা। অতঃপর তাদের মাঝে যাদের বিরুদ্ধে মুজাহিদিন জিহাদ চালিয়ে যাচ্ছেন, আমরা সেখানের মুজাহিদদের পরিপূর্ণ সমর্থন এবং সাহায্য করবো।

  7. দ্বীনের সাহায্য বদদীনী এবং আল্লাহকে অসন্তুষ্টকারী কাজসমূহের দ্বারা হতে পারে না। এমন পথসমুহ থেকে আমরা বেঁচে থাকবো এবং অন্যদের বাঁচিয়ে রাখবো, যা অবলম্বন করলে শরীয়তের বিধিবিধানের ব্যাপারে সমঝতা করতে হয়। গণতন্ত্র হচ্ছে তার একটি উদাহরণ, যার সূচনা-ই হয় আল্লাহর স্পষ্ট বিধিবিধানকে পশ্চাতে ফেলে দেওয়ার দ্বারা।

  8. সমাজে ছড়ানো কল্যাণ ও নেকীর শক্তিগুলোকে কাছে আনা... তাতে বিদ্যমান মন্দগুলোকে সংশোধন করা... তাঁদের জবান, কলম এবং তীরগুলোর নিশানা শরীয়তের শত্রুদের বিরুদ্ধে ফিরানো এবং তাঁদেরকে জিহাদের কাফেলার সাথে জুড়ে দেওয়া। এই সবগুলো-ই উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে নিজেদের হকগুলো আদায় করুন!

  1. মুজাহিদদেরকে নিজেদের দুয়াসমূহে স্মরণ রাখবেন! যেন আল্লাহ তাঁদের পথপ্রদর্শন করেন এবং হেদায়াতের উপর রাখেন। তাঁদের জিহাদ মুসলমানদের হেদায়াত, তাঁদেরকে হেফাজত করা এবং তাঁদের গৌরবের কারণ সাব্যস্ত হয়। এমনিভাবে মজলুম মানুষগুলো, দ্বীনের দায়ীগণ, সকল দ্বীনদার মুসলমান এবং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য দুয়া করুন!

এই হচ্ছে কতিপয় সুরত, যদি আমরা এগুলোর উপর আমল করি, তাহলে হয়তো আল্লাহ তাআলা আমাদের উজর কবুল গ্রহণ করবেন। অতঃপর এই আমলগুলো জিহাদের কাফেলার সাথে জুড়ে একটি সুশৃঙ্খল নিয়মের সাথে করা উচিত, কিন্তু যতক্ষন তা সম্ভবপর না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নিজের দ্বারা জিহাদি আন্দোলনের যে সাহায্য ও নুসরাত করা সম্ভব হয় তা অবশ্যই করা উচিত। আল্লাহ আমাদের তার দ্বীনের সাহায্যের জন্য কবুল করুন!

وآخر دعوانا ان الحمد للہ رب العالمین

 

____________

 

ডাউনলোড করুন

pdf
https://annasrblog.files.wordpress.com/2017/11/arakan-poth-o-poddhoti.pdf
https://archive.org/download/ArakanPothOPoddhoti/arakan%20poth%20o%20poddhoti.pdf
https://my.pcloud.com/publink/show?code=XZ6rl57ZoJ6ThSqz4TQpKs7JP867MQfAKoSk
https://mega.nz/#!kPQ2xYbA!5kNoAXv56R9aZEJiiMRw7Duh0PYi2zs4P6dOrGw8jjw

word
https://annasrblog.files.wordpress.com/2017/11/arakan-poth-o-poddhoti.docx
https://archive.org/download/ArakanPothOPoddhoti/arakan%20poth%20o%20poddhoti.docx 

https://my.pcloud.com/publink/show?code=XZ3rl57ZJ3wvIYoqEuBpcKMMJseydmLrggMX

https://mega.nz/#!NCQ3BTYZ!RdXanNsArkpM3YFCJiHl70rWku40sqzGO5IfrKJP83s



Created: 10 days ago
Views: 39
Online: 0